মেটেরিয়া মেডিকা (৩য় বর্ষ)

এব্রোটেনাম(Abrotanum)

প্রুভার-ডাঃ গ্যাটচেল ( Gatchell )
প্রাপ্তিস্থান— দক্ষিণ আমেরিকা
সমনাম— সাউদার্নউড/ আর্টিমিসিয়া এব্রোটেনাম ।
রোগের কারণ— কোন স্রাব বন্ধ হইয়া বাত প্রবণতা
অনুপূরক– ব্রাইয়ো, ব্যারা-কার্ব ।
উৎস- সাউদার্ন উড নামক গাঁদা জাতীয় এক প্রকার লতা জাতীয় গাছের অগ্রভাগ ও পাতা হইতে ঔষধ প্রস্তুত হয়।
ধাতুগত লক্ষণ– রোগী শীতকাতুরে, ক্ষয়দোষ প্রবণ, পর্যায়শীল লক্ষণ, সাইকোসিস ও সোরা মায়াজম । দেখতে বুড়োর মত, পেট ফোলা, নিম্নাংশ বিশেষত পা দুটো শুষ্ক।
ক্রিয়াস্থল– শারিরীক পুষ্টি সাধন, পরিপাক যন্ত্র, স্নায়ু ।
উপশম– নড়িলে চড়িলে, পাতলা দাস্ত হইলে।
বৃদ্ধি- ঠান্ডা বাতাসে, রাতে, কোন স্রাব বন্ধ হইয়া গেলে,কুয়াশায়, সেঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বা পরিবেশে ।
চরিত্রগত লক্ষণ/নির্দেশক লক্ষণ:

১। এব্রোটেনামের প্রসিদ্ধ লক্ষণ হল পর্যায়শীলতা (Metastasis) অর্থাৎ একটি লক্ষণের অবসান হয়ে অপর একটি লক্ষণের আবির্ভাব হয়,
যেমন-

(ক) বাতবেদনা কমে গিয়ে অর্শ হতে রক্তস্রাব আরম্ভ হয় । মামসের উপসর্গ চলে গিয়ে পুরুষদের টেসটিস বা মেয়েদের মামারী গ্লান্ড আক্রমণ করে ।
(গ) ডায়রিয়ার পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়ে বাত বেদনা শুরু হয় ।

(ঘ) বাত আক্রান্ত স্থানে মালিশ প্রয়োগ করিলে উহা অঙ্গ পরিবর্তন করে হৃদযন্ত্র আক্রমণ করে ।
(ঙ) আমাশয়ের উপশম হইয়া অৰ্শ বা বাত ।
(চ) ডায়রিয়া ভাল হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য ।

২। শিশুর রাক্ষুসে ক্ষুধার পরও দিন দিন শুকাইতে থাকে, এই শুষ্কতা নিম্ন দিক হতে শুরু হয় ৷
৩ । মলের সঙ্গে অজীর্ণ খাদ্য বস্তু (Lientery)।
৪ । মুখ মন্ডলের টিউমার (Angioma)।
৫। শিশু এত দুর্বল হয়ে পড়ে যে মাথার ভার বহন করতে পারে না, ফলে শুয়ে থাকে ।
৬। রাত্রিকালীন ঘর্ম ।
৭। ব্যথাযুক্ত প্রদাহ, বাতে ফুলে উঠার পূর্বেই আক্রান্ত স্থানে ব্যথা। গেঁটে বাতে সন্ধিগুলি ফোলে যায় ৷ 
৮। সদ্যজাত শিশুর নানা উপসর্গ ।
৯। বারবার মলবেগ কিন্তু মলের পরিবর্তনে সামান্য রক্ত বের হয় ।পাকস্থলীটি যেন ঝুলে আছে অথবা পানির উপর ভেসে আছে এমন অনুভূতি।

১০ । শিশুদের বাত রোগ, নাক হতে রক্তস্রাব, নাভি কাঁচা, শুকাইতে বিলম্ব ।

১১। পাউরুটি ও দুধ পছন্দ করে । মিষ্টিতে অনিচ্ছা ।

মানসিক লক্ষণ
কোনো বিষয়ে বুঝার ক্ষমতা কম, অত্যন্ত খিটখিটে , খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির, সব সময় নিষ্ঠুর আচরণ করে । যা অমানবিক অত্যন্ত বদরাগী, সহজে রেগে যায় ।

শীর্ণতায় এব্রোটেনাম: এব্রোটেনামের মূলে ক্ষয়দোষ বর্তমান থাকে । তাই প্রবল ক্ষুধা সত্ত্বেও দেহ শুকাইয়া যায়। পর্যায়ক্রমে উদারাময় ও বাত । উদরাময়ে মলের সাথে অজীর্ন মল । তাই রোগী দূর্বল হইয়া পড়ে । শরীরের নীচের দিকটা শুষ্ক বা শীর্ণ হইতে থাকে । শিশুদিগের পুঁয়ে পাওয়া রোগে ইহা একটি অতি মূল্যবান ঔষধ এবং অনেক ক্ষেত্রেই কাজে আসে। শিশুর শীর্ণতা নিম্ন অঙ্গে আরম্ভ হয় এবং ক্রমশঃ উপর দিকে বিস্তৃত হইতে থাকে, সুতরাং মুখমন্ডলটিই সৰ্বশেষে আক্রান্ত হয়; অর্থাৎ লাইকোপোডিয়াম’, ‘নেট্টাম মিউর’ ও ‘সোরিণামে’র ঠিক বিপরীত।

কোন কোন অবস্থায় এব্রোটেনামকে অমোঘ ঔষধ হিসোবে আখ্যায়িত করা যায়:  নিমোক্ত অবস্থায় এব্রোটেনামকে অমোঘ ঔষধ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় ৷

(ক) ক্ষয়দোষ বা রাক্ষুসে ক্ষুধা। রোগী প্রচুর খায় কিন্তু দিন দিন শুকাইতে থাকে । এই শুস্কতা শরীরে নিম্নাংশে বেশী এবং পা থেকে শুরু হয়ে ঘাড় পর্যন্ত উঠে।

(খ) পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রোগ বা রোগের রূপান্তর ঘটে। যেমন- উদরাময়ের উপশম হলে বাত দেখা দেয় । আবার বাতের উপশম হলে উদরাময় দেখা দেয় ।
(গ) পাতলা পায়খানা হলে উপশম ।
(ঘ) উদরাময়ে অজীর্ন মল নির্গত হয় ।
(ঙ) রোগী শীতকাতুরে, খিটখিটে মেজাজ ও রোগের সহিত বাচালতা থাকে ৷

এব্রোটেনামকে পর্যায়শীল ঔষধ বলা হয় কেন:
পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রোগ বা রোগের রূপান্তর এব্রোটেনামের একটি নির্দেশক লক্ষণ । তাই ইহাকে পর্যায়শীল ঔষধ বলা হয় । যেমন-

(ক) উদাময়ের উপশম হলে বাতরোগ দেখা যায় ।
(খ) বাত রোগের উপশম হলে উদারাময় দেখা দেয় ৷
(গ) বাত আক্রান্ত স্থানে মালিশ প্রয়োগ করিলে বাতের ব্যথার উপশম হইয়া হৃদযন্ত্র আক্রমন করে ।
(ঘ) আমাশয়ের উপশম হইয়া অৰ্শ ।
(ঙ) অর্শের উপশম হলে আমাশয় দেখা দেয় ।
(চ) কর্ণমূল গ্রন্থির প্রদাহ চাপা পড়িয়া অন্ডোকোষ বা স্তন আক্রান্ত হয় ।

প্রান্তদেশের পীড়ায় এব্রোটেনামের কার্যকারিতা:
পায়ের পাতা এবং হাতের আঙ্গুলে খোঁচামারার মত ঠান্ডা অনুভব ।

এগনাস ক্যাসটাস Agnus Castus

মর্মবাণী— Break down (কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা) after abuse of sex, drugs, alcohol,ইন্দ্রিয়ের অতিরিক্ত অত্যাচারের ফলে অকাল বার্ধক্য, সম্পূর্ণ ভাবে স্বাস্থ্য ধ্বংস হওয়ার ভয়। অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করার ফলে ধাতুদৌর্বল্য, অল্প সময় স্থায়ী লিঙ্গ উত্থান। সর্বদা বিষণ্ণ, রোগী মনে করে কাজকর্ম করে কোনো লাভ নেই, কারণ শীঘ্রই মৃত্যু হবে, মরে যাব, এ কথা বার বার বলে। ঘরের ভিতরের বাতাস ঘন ও ভারী অনুভূত হয়। অমনোযোগী, কোনো কাজে, বিষয়ে বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারেনা। কোনো বস্তুর দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকলে মাথাব্যথার উপশম।
ক্রিয়াস্থল– পুরুষ ও স্ত্রী জননেন্দ্রিয় স্নায়ুর উপর এগনাস ক্যাসটাসের প্রধান ক্রিয়া প্রকাশ প্রায়। তবে সাধারণতঃ স্ত্রী অপেক্ষা পুরুষের উপরই ইহার ক্রিয়া অধিক হইয়া থাকে। ইহার ক্রিয়া দ্বারা জননেন্দ্রিয়ের নিস্তেজভাব ও ধ্বজভঙ্গ আনিয়া থাকে। এই জন্যই ঐ সকল পীড়া ইহার দ্বারা আরোগ্য হইয়া থাকে। শুক্রক্ষয় হেতু অকাল বার্ধক্য আসিলে এবং বিষণ্নতা, উদাসীনতা, স্মরণশক্তির ক্ষীনতা, নিজেকে তুচ্ছ মনে করা, ইত্যাদি লক্ষণগুলি উপস্থিত হইলে এই ঔষধ বিশেষ ক্রিয়াশীল।
অনুপূরক ঔষধ: সেলিনিয়ম, লাইকোপোডিয়াম, এসিড-ফস।
ক্রিয়ানাশক– নেট্রাম মিউর, ক্যাম্ফর, লবণ মিশ্রিত পানি ।
উৎস— চেষ্ট ট্রি  /সতীগুল্ম নামক এক প্রকার ক্ষুদ্র গাছের সুপক্ক ছোট ছোট ফল হইতে ইহার মূল অরিষ্ট প্রস্তুত হয়। ইউরোপ খণ্ডের ভূমধ্যসাগরের তীরে এই গুলু গাছ জন্মিয়া থাকে।
ধাতুগত লক্ষণ— শীতকাতর, শ্লেষ্মাপ্রধান, কোষ্ঠবদ্ধতা, সিফিলিস মায়াজম ।

বৃদ্ধি— নড়াচড়ায়
উপশম– বিশ্রামে
রোগের কারণ— অতিরিক্ত যৌন সম্ভোগ, শুক্রক্ষয়, বারবার গনোরিয়ার আক্রমণ ।

এগনাস ক্যাসটাসের পরিচায়ক লক্ষণ নিম্নরূপ

(ক) স্ত্রী ও পুরুষদের জননঅঙ্গের অতিরিক্ত ব্যবহার করার ফলে যৌন দূর্বলতা, অকাল বার্ধক্য (senile decay), পুরুষদের বেলায়- ধ্বজভঙ্গ, ইন্দ্রিয় শিথিল, কাম ইচ্ছা লোপ পায় । স্ত্রীলোকদের বেলায় সঙ্গম ইচ্ছা লোপ, স্বামীসহবাসে সঙ্গমসুখের কোনরূপ আস্বাদন লাভ করে না। বন্ধ্যাত্ব, জরায়ূর শিথিলতা ।
(খ) রোগী শীতকাতর, শ্লেষ্মা প্রধান ধাতুবিশিষ্ট ব্যক্তি ।

(গ) যৌন জীবনের স্পন্দন নাই, কম্পন নাই, উত্তেজনা নাই, অনুভূতি নাই- আছে শুধু অনুশোচনা, আত্মগ্লানি ।

(ঘ) কোষ্ঠবদ্ধতা- মলত্যাগ করিতে জোরে কোঁথ দিতে হয়- মল একটু বাহির হইয়া আবার ঢুকিয়া যায়। মলত্যাগের জন্যে কোঁথ দিলে, হাটার সময়, কোন মহিলার সঙ্গে আলিঙ্গন করিলে প্রষ্টেট গ্রন্থির রস নির্গত হয় ।
(ঙ) মূত্রের ন্যায় গন্ধযুক্ত শব্দকারী ঢেকুর ও অধঃবায়ু- বহুক্ষণ কাপড়ে ঐ মূত্র গন্ধ থাকিয়া যায় ।
(চ) শ্লেষ্মাপ্রবণ রোগী
(ছ) ক্ষুধা আছে কিন্তু খেতে ইচ্ছা করে না ।
(জ) দুগ্ধদানকারী মাতার দুধ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় ।
(ঝ) বারবার গনোরিয়ার আক্রমণের ইতিহাস। .
(ঞ) মুখে ও মাড়ীতে ঘা, গরম খাদ্য বা পানীয়ে দত্তশূল ।
(ট) প্লীহা ফুলে শক্ত হয়ে যায় ৷
(ঠ) সন্ধিস্থানে বাতগুটি ।
(ড) অন্যমনস্ক, বোধশক্তি কমে যায়, কোন কিছু স্মরণ রাখিতে পারে না, সাহসের অভাব ।
(ঢ) মৃত্যু ভয়, মনে করে শীঘ্রই মরে যাবে, আত্মহত্যার ইচ্ছা জাগে ।

(ণ) মনে করে শীঘ্রই কোন বিপদ ঘটবে ।
(ত) বিষণ্ণতা- রতিক্রিয়ার অক্ষমতার জন্য ।

(থ) অলীক ঘ্রাণশক্তি ।

পুঃজননযন্ত্রের উপর এগনাস ক্যাসটাসের ব্যবহার

(ক) অতিরিক্ত হস্তমৈথুন এবং ইন্দ্রিয় সেবা জনিত যে সব পূরাতন পাপী ভগ্নস্বাস্থ্য হইয়া পড়িয়াছে । অকাল বার্ধক্য দেখা দিয়াছে তাদের পক্ষে বিশেষ উপকারী ।
(খ) জনন অঙ্গের দূর্বলতা, শিথিলতা, শীতলতা এবং মলত্যাগ কালে প্রষ্টেট গ্রন্থির রস নির্গত হয় ।
(গ) নিজ কৃতকর্মের জন্যে অনুশোচনা, আত্মগ্লানি, মৃত্যু ভয়, আত্মহত্যার চিন্তা করে ।

ধ্বজভঙ্গে এগনাস ক্যাসটাস:  যে সকল পুরাতন পাপী অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় সেবা এবং হস্তমৈথুন করিয়া ভগ্নস্বাস্থ্য হইয়া পড়িয়াছে তাহাদের জন্য এই ঔষধটি মনে করা উচিৎ। অকাল বার্ধক্য, পুনঃ পুনঃ প্রমেহ আক্রমণ এবং ধ্বজভঙ্গ ইত্যাদিতেই এই ঔষধ ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত শুক্রক্ষয় করিয়া যে সকল যুবক অল্প বয়সেই বৃদ্ধের মত অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছে তাহাদের পক্ষে এগনাস পরম বন্ধু। লিঙ্গ শিথিল, বক্র, ঠাণ্ডা ও আকারে ছোট হইয়া গিযাছে, কিংবা যাহাদের কামেচ্ছা একেবারেই হয় না, মলত্যাগ কালে প্রষ্টেট গ্রন্থির রস নির্গত হয়, অত্যন্ত কাম প্রভৃত্তি থাকা সত্বেও লিঙ্গ খাড়া হয় না, সুন্দরী ও যুবতী স্ত্রীও তাহার লিঙ্গোদ্রেক ঘটাইতে পারে না, যদিও বা কয়েকদিন পূর্বেও সে গোপন সহবাসে সমর্থ হইয়াছিল এবং ভোরবেলায় লিঙ্গোদ্রেক হইতেছিল কিন্তু এখন আর লিঙ্গোদ্রেক হয় না। নব বিবাহিত হইয়া দেখিল সে পুরুষত্বহীন হইয়া পড়িয়াছে। শরীর ক্ষীণ ও রক্তশূণ্য, মনের সুখ-শান্তি নাই, আত্মহত্যা করার ইচ্ছা, মেজাজ খিটখিটে, জননেন্দ্রিয় ঝুলিয়া পড়িয়াছে, সমস্ত যন্ত্রের কার্য উল্টাভাবে চলিতেছে এই সকল লক্ষণে এগনাস অমৃত তুল্য ফলদান করে।

স্ত্রীপীড়া– কোন স্ত্রীলোক অতিরিক্ত হস্তমৈথুন অভ্যস্ত ছিল, সে বিবাহের পর দেখিল যে সঙ্গমকার্যে আর জননেন্দ্রিয়ে শিহরণ অনুভব করে না। স্বামী সহবাস করার সময় তাহাদের জননেন্দ্রিয় শক্ত ও দপ দপানি বোধ হয় না, স্বামী সহবাসে ইচ্ছা নাই। স্ত্রীলোক বন্ধ্যা, ঋতুবন্ধ বা অতি সামান্য পরিমাণে স্রাব হয়। জরায়ুর স্ফীতি ও প্রদাহ ইত্যাদি স্ত্রী পীড়াতে ইহা বিশেষ ফলপ্রদ ।

এলুমিনা(Alumina)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
সমনাম– এলুমিনিয়াম অক্সাইড ।

রাসায়নিক সংকেত-Al(OH)3

উৎস- ইহার উৎস এলুমিনাম অক্সাইড (Al2O3) নামক বিশুদ্ধ মাটি । ট্রাইটুরেশন পদ্ধতিতে ইহার মূল আরক তৈরী হয় ।
রোগের কারণ– রক্ত সরবরাহের গতি কম এবং সমস্ত শরীরের শুষ্কতা । 
মর্মবাণী-(Confusion and Retention) ভয় বুঝি বুদ্ধি লোপ পাবে, সময় অতি ধীরে চলে বলে মনে হয়, যন্ত্রসমূহের নিষ্ক্রিয়তা। শারিরীক ও মানসিক দুর্বলতা ।
ক্রিয়াস্থল– শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, চর্ম, যে সব শিশু কৃত্রিম খাবার খেয়ে বড় হয়, সরলাস্ত্রে ইহা অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
হ্রাস–:গ্রীষ্মকালে, গরম পানি পানে, ঠান্ডা পানিতে গোছল করিলে, সন্ধ্যাকালে, খোলা বাতাসে, আর্দ্র ঋতুতে ।
বৃদ্ধি- শীতল বায়ুতে, শীতকালে, খাইলে, একদিন অন্তর, গরম ঘরে, আমাবশ্যায়, পূর্নিমায়, বৈকালে, গোল আলু খেলে, সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর ।
ধাতুগত লক্ষণ:

(ক) ইহা একটি এন্টিসোরিক ঔষধ ।
(খ) শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির শুষ্কতা ।
(গ) শীতকাতর রোগী ।
(ঘ) গন্ডমালা ধাতু ।
(ঙ) শরীরে স্বভাবিক উত্তাপের অভাব ।
(চ) শারিরীক ও মানসিক দূর্বলতা ।

বিশেষত্ব– শুষ্কতা এবং সংকোচন এলিউমিনার বিশেষ লক্ষণ। ইহা সেবনে নাক, চোখ ও আত্মিক প্রদেশে শুষ্ক ভাব উৎপাদিত হয়। মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং স্নায়ুমন্ডলীর পুরাতন উপসর্গ নিচয়ে এই ঔষধ অত্যন্ত গভীর কার্য করে। বিবিধ যন্ত্রের রক্ত বা মুখের সংকোচনও ইহার একটি প্রধান লক্ষণ। মেরুদণ্ডের দুর্বলতা। মেরুদণ্ডে জ্বলন এবং নিরন্তর ক্লেশদায়ক যন্ত্রণা। সর্বাঙ্গে ঝিন ঝিন, অসাড়তা ও বেদনা। যন্ত্রণার সময়ে শীত বোধ।

ক্রিয়ানশক-ইপিকাক, ক্যামো
ইহার ক্রিয়ানাশক– ব্রাইয়ো, ক্যাম্ফর, ক্যামোমিলা, ইপিকাক, পাল্‌স, অনুপূরক- ব্রাইয়ো, ফেরাম
মিউকাস মেমব্রেণের উপর এলুমিনার কার্যাবলী-

(ক) এলুমিনার রোগীদের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিীর শুষ্কতার জন্য চোখের পাতা, ঠোঁট, মলদ্বার ফাটিয়া যায় ৷
(খ) মলদ্বারের শুষ্কতার জন্য নরম মল ত্যাগ করিতেও প্রচন্ড কোঁথ না দিলে মলত্যাগ করিতে পারে না ।
(গ) গলনালীর শুষ্কতার জন্য খাদ্য গিলিতে খোঁচা মারা বেদনা বোধ হয় ।
(ঘ) অন্যদিকে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর শুষ্কতা সত্ত্বেও নাক হইতে প্রচুর সর্দি ঝড়ে, নাকের আগা ফাটিয়া যায় ।
(ঙ) স্ত্রীলোকদের প্রচুর জ্বালাকর প্রদর স্রাব, প্রদর স্রাব পরিমানে এতবেশী যে উহা হাঁটু বাহিয়া নীচের নামিয়া আসে ।

চরিত্রগত লক্ষণ-

(ক) শরীরে স্বাভাবিক তাপের অভাব, কারণ রক্ত সরবরাহ ক্ষমতা দুৰ্বল, দুর্বলতা বশতঃ অল্প বয়সে বৃদ্ধ হইয়া পড়ে। 
(খ) চামড়া শুষ্ক, খসখসে, ঘাম হয় না ।
(গ) রোগী শীতকাতর ।
(ঘ) কোনরূপ ধারাল বস্তু বা রক্ত দেখিলে আত্মহত্যার ইচ্ছা জাগে ।
(ঙ) রোগীর মনে হয় সময় অতি ধীরে চলে তাই সব বিষয়েই তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করে ।
চ) স্মৃতিশক্তি এত দূর্বল যে, চেনা পথেও পথ হারাইয়া ফেলে । কিছুই মনে থাকে না, নিজের নাম পর্যন্ত ভূলিয়া যায় ।
ছ) সাহস কমে যায় ৷
জ) মনে করে জ্ঞান বুদ্ধি হ্রাস পাইতেছে ।

ঝ) সকল বিষয়েই তাড়াতাড়ি করে- দ্রুত কথা বলে, দ্রুত কাজ করে ইত্যাদি ।
ঞ) মানসিক অবস্থা দিনের গতির সহিত উঠা-নামা করে— বেলা যত বাড়তে থাকে মন তত প্ৰফুল্ল হয় ।
ট) শ্লৈষ্মিক ঝিল্পীর শুস্কতার জন্য চোখের পাতা, নাকের ডগা, ঠোঁট ও মলদ্বার ফাটিয়া যায় ।
ঠ) অস্বাভাবিক কোষ্ঠবদ্ধতা, মলদ্বারের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির শুষ্কতার জন্য কোষ্ঠবদ্ধতা, নরম মলত্যাগ করিতেও প্রচন্ড কোথ দিতে হয়, দিনের পর দিন পায়খানার বেগ হয় না । যে পর্যন্ত না পেটে খুব বেশী ফল জমে, সে পর্যন্ত বাহ্য হই না। বাহ্যের সময় জোরে বেগ দিলে শক্ত ও গাঁট পাঁচ আমি মিশ্রিত বাহা হয়। সরলারের ক্রিয়াহীনতা হেতু নরম বাহ্য হইলেও অনেক জোরে তে শাড়িতে হয়। প্রস্রাব করিতে কোঁথ দিলে মলদ্বার হতে পাতলা মল বের হয় আসে ।

পুরাতন ঢেঁকুর উঠা এবং সন্ধ্যাকালে উহার বৃদ্ধি ।

যাহারা সীসা লইয়া কাজ কারবার করে তাহাদের শূল বেদনা।

ড) স্ত্রীলোকদের প্রচুর জ্বালাকর স্বচ্ছও প্রদর স্রাব, প্রদর স্রাব পরিমাণে এত বেশী যে উহা গড়াইয়া গোড়ালী পর্যন্ত নামিয়া আসে। প্রদরস্রাব দিনে বেশী এবং ঠান্ডা পানিতে গোছলে ভালবোধ করে ।  রজঃস্রাবের পর রোগিনীর শরীর তেমন অতিশয় দুর্বল হইয়া পড়ে। ঋতুকালে পেটে প্রসব বেদনার ন্যায় বেদনা-রোগিনী মনে করে যেন যোনীপথ দিয়া সব বাহির হইয়া পড়িবে।

ঢ) প্রত্যেকদিন সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গিবার পর কাশি, একটু শ্লেষ্মা বাহির হলে কাশি কমে যায় । কিছু কিছু উত্তেজক খাবার । যেমন- লবণ, গোল মরিচ, মদ, ভিনিগার ইত্যাদি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাশির উদ্ৰেক ।
ণ) চোখবন্ধ করিলে মাথা ঘোরে মাথাঘোরা শয়নে বৃদ্ধি ।
ত) রোগীর আলু সহ্য হয় না, যা খাওয়ার যোগ্য খাদ্য নয় তাহা খাইতে ইচ্ছা বা খায়, যেমন মাটির চাড়া, কয়লা, দেওয়ালের চুন, কাগজ ইত্যাদি ।
থ) শুস্ক চর্ম, উদ্ভেদহীন চর্মে বিছানার গরমে অসহ্য চুলকানি ।
দ) ঋতুকালে তলপেটে প্রসব বেদনার মত বেদনা, রোগিনীর মনে হয় যৌনি পথ দিয়া সব বের হয়ে যাবে ।
ধ) রজঃ স্রাবের পর শরীর ও মন এত দূর্বল হইয়া পড়ে যে অল্প পরিশ্রমেই রোগী ক্লান্তি বোধ করে ।
ন) রোগীনি রোগা, পাতলা, শুকনো দেহ ।
প) হাঁটার সময় পায়ের তলায় ব্যথা, গোড়ালীতে অবশ বোধ ।

প্রতিদিন প্রাতঃকালে থাকিয়া থাকিয়া অল্প অল্প শুষ্ক কাশি হয়। একটু সাদা শ্লেম্মা উঠিয়া গেলে কাশি কমিয়া যায়।

স্ত্রীরোগে এলুমিনা ও সিপিয়ার তুলনামূলক আলোচনা: 

এলুমিনা

সিপিয়া

রোগিনী রোগা, পাতলা, শুকনো দেহ ।

লম্বা, পাতলা, একহারা গঠন, নিতম্ব এত অপ্রশ্বস্ত যে পশ্চাৎভাগ হইতে লক্ষ্য করিলে অনেকটা পুরুষের মত দেখায় ৷

রোগীনী শীতকাতর

রোগীনী শীতকাতর

স্মৃতিশক্তি এত দূর্বল যে চেনা রাস্তা অচেনা মনে হয়, কিছুই মনে থাকে না, নিজের নামটি পর্যন্ত মনে থাকে না ।

সংসারের সকল বিষয়ে উদাসীনা, স্বামী বা সন্তানদের প্রতি স্নেহ মমতার অভাব ।

ঠান্ডা পানিতে গোছল করিলে উপশম ।

গোছলে অনিচ্ছা ।

ঋতুকালে তলপেটে প্রসব  বেদনার মত বেদনা, রোগীনীর মনে হয় যৌনী পথ দিয়া সব কিছু বাহির হইয়া আসিবে । ঋতু শীঘ্র শীঘ্র হয়। অল্পদিন থাকে, পরিমানে খুবই কম ।

বাম ওভারিতে টাটানি ব্যথা, জরায়ুতে প্রসব বেদনার মত বেদনা, যৌনিদ্বার ও তলপেট হতে যেন কিছু বাহির হইয়া আসিতেছে এইরূপ বোধ, সেই জন্য রোগিনী উরুর উপর উরু দিয়া চাপিয়া বসে ।

প্রচুর ক্ষতকারক প্রদর স্রাব, উহা পরিমানে এত বেশী যে পায়ের গোড়ালী’ পর্যন্ত নামিয়া আসে । দিনের বেলা বেশী ।

রজঃস্রাব খুব সামান্য পরিমানে হয়। স্বাভাবিক রজঃ লোপকালে মাঝে মাঝে শরীরে ঝলকা বাহির হয় এবং ঘাম হয় ।

কোষ্ঠাবদ্ধতায় এলুমিনা ও সাইলিসিয়ার পার্থক্য:

এলুমিনা

সাইলিসিয়া

রোগী ঘর্মহীন ।

মাথায় প্রচুর ঘাম হয় ।

গরম পানি পানে উপশম

গরম জিনিস খাইতে ইচ্ছা থাকে না ।

ধারাল ছুরি বা রক্ত দেখিলে আত্মহত্যা করার ইচ্ছা জাগে ।

আলপিনের কথা চিন্তা করে, আলপিন লইয়া খেলা করে, গণনায় ব্যস্ত হইয়া পড়ে ।

মলত্যাগের ইচ্ছা থাকে না, মল শক্ত, শুষ্ক, গাঁট গাঁট । নরম মল ও প্রচন্ড কোঁথ না দিলে নির্গত হয় না । নরম মল বাহির হইলেও মলদ্বারে অনেক মল রহিয়াছে বোধ হয় ।

সরলান্ত্রের দূর্বলতা বশতঃ সহজে মল নিঃসৃত হইতে চাহেনা-মল অনেক কষ্টে কতকটা নিঃসৃত হইয়া পুনরায় ভিতরে ঢুকিয়া যায়। ঋতুর পূর্বে বা পরে প্রায় সব ক্ষেত্রেই কোষ্ঠবদ্ধ থাকে। শুষ্ক মলত্যাগের পর মলদ্বারে জ্বালাবোধ ।

কোষ্ঠবদ্ধতায় এলুমিনা ও প্লাম্বাম এর তুলনা :

এলুমিনা

প্লাম্বাম

রোগী ঘর্মহীন |

দেহের কোন অংশের কঠিনতা প্রাপ্ত হয় ।

শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর শুষ্কতা |

 ক্রমিক মাংস পেশীর শুষ্কতা, দেহের দ্রুত শুষ্কতা |

কোষ্ঠবদ্ধ, মলত্যাগের ইচ্ছা থাকে না, মল শক্ত, শুষ্ক ও গাঁট গাঁট। তরল মলও প্রচন্ড কোঁথ না দিলে নির্গত হয় না ।

কোষ্ঠবদ্ধতায় শুষ্ক ও কঠিন মল, ছাগলের নাদির মত কালো ও গুটলে গুটলে মল । পেটে ব্যথা থাকে । পেট টিপলে শক্ত বোধ হয়, শরীর শীর্ণ হইয়া যায়, ক্ষুধা থাকে না ।

গোল আলু খেলে বৃদ্ধি ।

 জোরে চাপিলে ও শারীরিক শ্রমে উপশম|

এলুমিনাকে ব্রাইয়োনিয়ার ক্রনিক বলা হয় কেন ?

এলুমিনাকে ব্রাইয়োনিয়ার ক্রনিক বলা হয়- কারণ কিছু তরুণ পীড়ায় বার বার ব্রাইয়োনিয়ার সদৃশ্য লক্ষণ দেখা যায় । ব্রাইয়োনিয়া প্রয়োগের পর চলে যায়। আবার ফিরে আসে তখন স্থায়ী আরোগ্যের জন্য এলুমিনা প্রয়োগ করিলে আরোগ্য স্থায়ী হয়। এই জন্য এলুমিনাকে ব্রাইয়োনিয়ার ক্রনিক বলা হয় ।

কোষ্ঠবদ্ধতায় এলুমিনা একটি উত্তম ঔষধ:
এলুমিনার লক্ষণ পর্যালোচনা করিলে দেখা যায় ইহার মূল সূরই হল শারিরীক ও মানসিক দূর্বলতা। মানসিক ভাবে এত দূর্বল যে সে নিজের নাম পর্যন্ত ভুলিয়া যায় । মলদ্বারের পেশীর আংশিক পক্ষাঘাতের দরুণ মলভান্ডে মল জমা থাকা স্বত্বেও যথাসাধ্য কোঁথ দেওয়ার পরও মল ত্যাগ করিতে পারে না, কোঁথ দিতে দিতে সর্ব শরীর ঘেমে যায় । এমনকি নরম মলও প্রচন্ড কোথ না দিলে বের হয় না। যেহেতু দূর্বলতাই এলুমিনার ধাতুগত লক্ষণ, সুতরাং রেকটামের দূর্বলতার ফলে কোষ্ঠবদ্ধতায় এলুমিনা একটি উত্তম ঔষধ ।

এমোনিয়াম কার্বোনিকাম(Ammonium Carbonicum) স্মেলিং সল্ট

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
সমনাম- স্মেলিং সল্ট ।
রোগের কারণ— কয়লার ধূয়া, সাপ বা পোকা মাকড়ের কামড় দিনের অধিকাংশ সময় কোন কাজ-কর্ম না করে শুয়ে-বসে সময় কাটান, ঠান্ডা লাগিলে, ঝড়ো-আবহাওয়া ।
রাসায়নিক সংকেত – NH4HCO3

ক্রিয়ানাশক— আর্নিকা, ক্যাম্ফর, হিপার । 

প্রস্তুত প্রণালী- কার্বোনেট অব এমোনিয়া বা স্মেলিং সল্ট হইতে এই ঔষধটি প্রস্তুত হইয়া থাকে। প্রায় সমপরিমাণ চুন ও নিশাদল একত্রে মিশাইয়া লইলেই এমন কার্ব প্রস্তুত হয়।

শত্রুভাবাপন্ন– ল্যাকেসিস ।

ধাতুগত লক্ষণ:

(ক) এন্ট্রিসোরিক ঔষধ ।
(খ) শীতকাতুরে, শ্লেষ্মাপ্রবণ ।
(গ) রক্তস্রাব প্রবণ ৷

ক্রিয়াস্থল: রক্ত, হৃৎপিন্ড, পাকাশয়, ফুসফুস ।
উপশম: আক্রান্ত অঙ্গ চাপিয়া শয়নে, শুষ্ক আবহাওয়ায়
বৃদ্ধি: বৈকালে, ঠান্ডায়, স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায়, কাপড় কাচিলে, ঠান্ডা খোলা বাতাসে, রজঃস্রাবের সময়, রাত্রি ৩ টার সময় ।

এমোনিয়াম কার্বের উৎস– ইহা একটি রাসায়নিক পদার্থ যার রাসায়নিক সংকেত NH4HCO3 । সমপরিমাণ চূণ এবং নিশাদল একত্রে মিলিয়ে এমন কার্ব প্রস্তুত করা হয় । ইহার একভাগ এবং ডিসটিল্ড ওয়াটার নয় ভাগ মিশ্রিত করে মাদার সলিউশান প্রস্তুত করা হয় ।

শ্বাসযন্ত্রের উপর এমোনিয়াম কার্বের লক্ষণ:

(ক) ফুসফুসে ও শ্বাসনালীতে প্রচুর পরিশাণ শ্লেষ্মা জমিয়া, বুকে ঘড়ঘড় শব্দ হয় ৷
(খ) ভোর রাত্রি ৩ টার সময় কাশির উদ্রেক
(গ) শ্বাস প্রশ্বাসে অত্যন্ত কষ্ট-সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে বৃদ্ধি ।

(ঘ) প্রাতঃকালে মুখ ধুইবার সময় নাক দিয়া রক্তস্রাব । আহার বা গোছলের পর নাক দিয়া রক্ত স্রাব ।
(ঙ) পেটের উপর চাপ দিয়া শুইলে শ্বাস কষ্টের উপশম এবং যে কোনও প্রকার ঠান্ডায় বৃদ্ধি ।
(চ) রাত্রে নাক বন্ধ হইয়া যায় তাই হাঁ করে শ্বাস নেয় । নিদ্রার মধ্যে চমকাইয়া উঠে ।

এমোনিয়াম কার্বের চরিত্রগত লক্ষণ:

(ক) মোটাসোটা স্ত্রীলোক, অপরিষ্কার, অবসাদগ্রস্ত, অলস প্রকৃতির, ভুলোমন, বদ মেজাজী
(খ) ঝড়ো বৃষ্টির দিনে বিষণ্ন হয়ে পড়ে ।
(গ) অবিবেচক বা বিচারবুদ্ধিহীন- অন্যদের সঙ্গে কথা বলে বা শুনে যে তথ্য পায় তা তার মধ্যে দারুণ প্রভাব বিস্তার করে ।
(ঘ) কাঁদুনে স্বভাব ।
(ঞ) শীতকাতুরে, গোছলে অনিচ্ছা ।
(ট) রক্তস্রাব প্রবনতা, প্রাতঃকালে মুখ ধুইবার সময়ে নাক হইতে রক্তস্রাব । আহার বা গোছলের পর রক্তস্রাব
(ঠ) সমস্ত স্রাব হাজাকারক, দুর্গন্ধযুক্ত ।
(ড) বুকে ঘড়ঘড় শব্দ, শেষরাতে ৩ টায় কাশি বৃদ্ধি । সিড়ি বাহিয়া উপরে উঠিলে শ্বাস কষ্ট । উপুড় হইয়া শয়নে শ্বাস কষ্টের উপশম ।

(ঢ) রাত্রে নিদ্রায় নাক বন্ধ হইয়া যায় । নিদ্রার সময় নিঃশ্বাস বন্ধ হইয়া যায় বলিয়া রোগী চমকিয়া উঠে ।
(ণ) ঋতুস্রাব শীঘ্র শীঘ্র, পরিমাণে বেশী, রাতে বৃদ্ধি, বসিয়া থাকিলে বেশী, দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, হাজাকারক ।
(ট) রজঃ স্রাবের পূর্বে ও সময় উদরাময় দেখা দেয় ৷
(ঠ) রক্তস্রাব কাল বর্ণের ।
(ড) ঋতুস্রাব কালে বমি, পেটব্যথা, দত্তশূল ইত্যাদি পীড়ায় ভূগিতে থাকে ।

(ঢ) প্রদরস্রাব পানির মত পাতলা, প্রচুর পরিমাণ, হাজাকারক, জরায়ূ, থেকে ঝাঁকানি দিয়ে নির্গত হয় ।
(ণ) হাড়ের মধ্যে কনকনানি ব্যথা, আঙ্গুলের নখগুলি হলদে হয়ে যায় ।

(ত) ডানদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
(থ) নীচের ঠোঁটের মাঝখানে ফেটে যায় ।


 

সেনেগা Senega

সমনাম— স্নেক ওয়ার্ট বা সেনেকা রুট নামক এক প্রকার গাছের শুষ্ক শিকড় হইতে মূল অরিষ্ট প্রস্তুত হয়, যা দেখতে সর্পবৎ ।
মর্মবাণী- আভ্যন্তরীন অঙ্গ সমূহের, বায়ূনালী পথের ইত্যাদির শুষ্কতার ফলে চোখের নানা রকম রোগ ।
ক্রিয়াস্থল— শ্বাসযন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, চোখে, পাকস্থলী, অস্ত্র, পুরা, মূত্র নালীর শ্লৈষ্মিম ঝিল্লী, দেহের বাম পার্শ্বে ।
ক্রিয়ানাশক– ব্রাইয়োনিয়া, আর্ণিকা বেল, ক্যাম্ফর ।

বৃদ্ধি– খোলা বাতাসে, ঠান্ডা বাতাসে, নিঃশ্বাস নিলে বিশ্রামে, “চাপ দিলে, স্পর্শে, এক দৃষ্টে তাকাইলে ।
উপশম– মাথা পিছনে হেলাইলে, নড়াচড়ায়, ঘামে ৷
উৎস- পলিগেলা সেনেগা নামক এক প্রকার গাছের শিকড়।

চরিত্রগত লক্ষণ:

(ক) হঠাৎ বহুদিন আগে দেখা অপ্রয়োজনীয় স্থানের কথা মনে পড়ে, ঝগড়া করার ইচ্ছা
(খ) আভ্যন্তরীণ অঙ্গের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর শুষ্কতা যেমন বায়ূ নালীর শুষ্কতা, চোখের শুষ্কতা ইত্যাদি
(গ) বুকে শ্লেষ্মা জমে ঘড়ঘড় শব্দ হয়, বহুকষ্টে কাশতে কাশতে ডিমের সাদা অংশের ন্যায় কফ উঠে, কাশিতে কাশিতে হাঁচি হলে কষ্টের উপশম । ডানপাশে শয়নে ও সন্ধ্যাবেলা কাশি বাড়ে ।
(ঘ) চোখের শুষ্কতায় মনে হয় চক্ষুগোলক বড় হয়ে গিয়েছে । চোখ দপ দপ করে, মাথা পিছন দিকে বাঁকালে কম লাগে

শ্বাসযন্ত্রের উপর সেনেগার ব্যবহার লিখ:
সেনেগাকে শ্বাসযন্ত্রের একটি টনিক হিসাবে মনে করা হয় । বুকে শ্লেষ্মা জমে ঘড়ঘড় বা সাঁই সাঁই শব্দ হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধদের বহু কষ্টে কাশতে কাশতে ডিমের সাদা অংশের ন্যায় স্বচ্ছ, দড়ির ন্যায় কফ উঠে । কাশি মধ্য রাত্রির পর বৃদ্ধি পায়। কাশতে কাশতে হাঁচি হলে কষ্টের উপশম হয় । সেনেগার রোগী পাহাড়ে উঠিতে পারে না বা সিড়ি বাহিয়া উপরে উঠিলে বুকে চাপবোধ । সে বাতাসের বিরুদ্ধে হাঁটিতে পারে না, তাতে তার বক্ষ লক্ষণ বৃদ্ধি ও শ্বাসকষ্ট উপস্থিত হয়। ডানপাশে শয়নে কাশির বৃদ্ধি ।
চোখের উপর সেনেগার ব্যবহার:
চোখের শুষ্কতায় মনে হয় চক্ষু গোলক বড় হইয়া গিয়াছে, ঠেলিয়া বাহির হইয়া আসিবে। চোখে দপদপানি ব্যথা, মাথা পিছন দিকে বাঁকালে উপশম লাগে । চোখ হইতে পানি পড়ে । দ্বিত্ব দৃষ্টি ।

মূত্র যন্ত্রের উপর ক্রিয়া:
প্রস্রাব অত্যন্ত কমে যায় । পস্রাবে শ্লেষ্মা, প্রস্রাব ত্যাগের আগে ও পরে জ্বালা । প্রস্রাব গ্রন্থি স্থানে টেনে ধরার মত ব্যথা ।

মার্কসল (মার্কিউরিয়াস সলিউবিলিস)MERCURIUS

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
উৎস- পারদ
রাসায়নিক সংকেত – Hg
সমনাম— কুইক সিলভার ।
রোগের কারণ— পারদ ঘটিত ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহার। অতিরিক্ত চিনি খেলে, পোকা-মাকড়ের কামড়, ভয় পাওয়া, পায়ের পাতার ঘাম চাপা পড়িয়া, গনোরিয়া বা সিফিলিস চাপা পড়িলে ।
উপশম– প্রাতে, বিশ্রামের পর, শুইয়া থাকিলে ।
বৃদ্ধি- রাতে ও বিছানার গরমে, ভিজা স্যাঁতস্যাতে আবহাওয়ায় । ডান পাশে শয়নে, ঘামে, গরম ঘরে থাকিলে ।
অনূপুরক ঔষধ– ব্যাডিয়াগা, বেলেডোনা ।
শত্রুভাবাপন্ন ঔষধ– সাইলি
ইহা ক্রিয়ানশক– নাক্স ও মার্কসল পরস্পর পরস্পরের ক্রিয়ানাশক, হিপার, অরাম, নাইট্রক-এসিড, সার্সাপা, সালফার, থুজা ।
ইহার ক্রিয়ানশক– অরাম, হিপার, নাই-এ, চেলিডো, ল্যাকেসিস, মেজোরি ৷
মার্কসলের উৎসের বিবরণ
ইহার অপর নাম মার্কুরিয়াস সলিউবিলিস হ্যানিম্যানি । ডাঃ হ্যানিম্যান নিজে তাহার সুস্থ্য শরীরে ইহা পরীক্ষা করিয়া ছিলেন এবং ব্যবহার করিতেন  বলিয়া ইহার অপর নাম মার্কুরিয়াস সলিউবিলিস হ্যানিম্যানি । পারদকে শোধন করে নাইট্রিক এসিড ও এমোনিয়ার সহিত বিক্রিয়া করাইয়া মার্কুরিয়াস সলিউবিলিস তৈরি হয় ।

ক্রিয়াস্থল– শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, গ্রন্থিসমুহ, জননেন্দ্রিয়, অস্থি, শরীরের ভিতরের যন্ত্র ।

নির্দেশক লক্ষণ:

(ক) সকল উপসর্গ সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত বৃদ্ধি ।
(খ) অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরমে বৃদ্ধি, গরম-ঠান্ডা কোনটাই সহ্য হয় না ৷
(গ) রাত্রে ও বিছানার গরমে বৃদ্ধি
(ঘ) সকল প্রকার স্রাবে দুর্গন্ধ, বিশেষতঃ ঘাম ও নিঃশাস-প্রশ্বাসে অত্যন্ত দুৰ্গন্ধ ।
(ঙ) চামড়া সর্বদাই ভিজা থাকে; অনবরত প্রচুর ঘর্ম হয়, কিন্তু ঘামে কোনরুপ উপশম হয় না ।
(চ) রাতে নিদ্রাকালে মুখ হতে লালা পড়ে বালিশ ভিজে যায় ।
(ছ) ডানকাতে শুইলে অনেক রোগের বৃদ্ধি হয় ।
(জ) জিহবা সরস কিন্তু প্রচণ্ড পিপাসা, প্রচুর ঠাণ্ডা পানি পান করে ।
(ঝ) ক্ষত এবড়ো থেবড়ো, ধারগুলি অসম, প্রধান পুঁজবটীর চারদিকে ক্ষুদ্রক্ষুদ্র পুঁজ, ক্ষতের তলদেশে চর্বি মত পদাৰ্থ ।
(ঞ) ঠান্ডা পানীয়ের প্রবল পিপাসা, দুর্গন্ধযুক্ত ঢেকুর, ঢেকুরে ভুক্তদ্রব্যের গন্ধ ।
(ট) সকল প্রকার স্রাব হাজাকারক
(ঠ) জিভ ভারী, মোটা, সরস, থলথলে, দাঁতের ছাপযুক্ত, জিভ কাঁপে বলে পরিষ্কার কথা বলতে পারে না ।
(ড) স্তনদ্বয় ব্যথাযুক্ত; ঋতুকালে দুধেপুর্ণ
(ঢ) প্রদাহিত অঙ্গ ঠান্ডা
(ণ) প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরী হয় ।
(ত) স্মৃতিশক্তি ও ইচ্ছাশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে ।
(থ) জীবন সম্বন্ধে হতাশ ৷
(দ) কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না ।
(ধ) মনে হয় বুদ্ধি-বৃত্তি লোপ পাইতেছে ।

মার্ক সলের ধাতুগত লক্ষণ:

(ক) ইহা এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ।

(খ) ঠান্ডা বা গরম কিছুই সহ্য হয় না ।

(গ) পূঁজ জন্মিবার প্রবনতা ।
(ঘ) স্রাব হাজাকারক ।
(ঙ) প্রদাহিত অঙ্গ ঠান্ডা ।
(চ) স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ।
(ছ) তাপমাত্রা নির্দেশক যন্ত্রের সদৃশ্য ঔষধগুলির একটি ।

(জ) প্রদাহিত স্থান শক্ত হয়ে যায় পরে ক্ষতের সৃষ্টি হয় ।

চর্মপীড়ায় মার্কসল, নাইট্রিক এসিড ও বোরাক্সের পার্থক্য:

মার্কসল

নাইট্রিক এসিড

বোরাক্স

উদ্ভেদ সাধারণতঃ শুষ্ক

উদ্ভেদ সাধারণতঃ রসযুক্ত

সামান্য খোঁচা লাগিলেই বা কাটিলেই সেই স্থানে পূঁজ হয় ।

ক্ষত এবড়ো থেবড়ো, ধারগুলি অসম, প্রধান পূঁজ বটির চারদিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্ৰ পূজ বটি,ক্ষতের তলদেশে চর্বির মত পদার্থ দেখা যায় ।

ঘায়ের কিনারা উচু, সহজেই উহা হইতে প্রচুর রক্তস্রাব, ক্ষতের তলদেশ কাচা মাংসের মত দেখায় ৷

মুখের ভিতর ও জিহ্বার ভিতর সাদা ঘা । খাইবার সময় বা সামান্য স্পর্শে ক্ষত হইতে রক্ত ঝরে ।

স্রাব দূর্গন্ধযুক্ত ও হাজাকারক ।

ক্ষতের স্রাব হাজাকারক, স্পর্শকাতর, খোঁচা মারা ব্যথা

ক্ষত স্থান গরম, শিশুর মুখের ঘায়ে মাতা স্তনে গরম বোধ করে । নিঃ সৃত স্রাব গরম

ক্ষত ভাসা ভাসা (অগভীর) চারদিকে ছড়াইয়া পড়ে ।

ক্ষত নীচের দিকে গর্ত সৃষ্টি করে(Deep preading )

 

মার্কসলের মর্মবাণী:

(ক) গরম ঠান্ডা কোনটাই সহ্য হয় না-অতিরিক্ত ঠান্ডা ও পরনে বৃদ্ধি ।
(খ) রাতে ও বিছানার গরমে বৃদ্ধি ।
(গ) অনবরত ঘাম হয়, কিন্তু ঘামে উপশম না হইয়া উপসর্গের বৃদ্ধি হয় ।
(ঘ) জিহবা সরস কিন্তু প্রচুর পিপাসা ।
(ও) প্রদাহিত অঙ্গ ঠান্ডা ।

মুখ ও জিহ্বার পীড়ায় মার্কসল, নাইট্রিক এসিড ও বোরাক্সের তুলনা:

মার্কসল

নাইট্রিক এসিড

বোরাক্স

 জিহবা পুরু, শিথিল বা থলথলে, সরস বা ভিজা, জিহ্বার উপরি ভাগে লম্বালম্বি গভীর দাগ । জিহ্বায় দাঁতের দাগ ।

জিহ্বা পরিষ্কার লালবর্ণ, আর্দ্র, মধ্যস্থলে ফাটা দাগযুক্ত ।

 মুখ ও জিহ্বায় ক্ষত যা দেখতে সাদা ছত্রাকের মত ।

দাঁত আলগা ও লম্বা মনে হয়। মুখে দূর্গন্ধ । নিদ্রাকালে মুখের লালায় বালিশ ভিজে যায় ।

রক্তাক্ত লালা, মুখে দূর্গন্ধ, মুখের ঘায়ে খোঁচামারা ব্যথা ।

মুখ গহবর গরম সামান্য স্পর্শে বা খেতে গেলে রক্ত বের হয়। শিশু স্তন পান করার সময় রক্ত বের হয় এবং মাতা স্তনে গরম অনুভব করে ।

মার্কসলকে প্রাকৃতিক ব্যারোমিটার বলা হয় কেন:

মার্কসলকে প্রাকৃতিক ব্যারোমিটার বলা হয় কারণ মার্কসলের উৎস হল পারদ বা মার্ককারী । ইহা তাপমাত্রা নির্দেশক যন্ত্র থার্মোমিটারে ব্যবহৃত হয় কারণ অপমাত্রার সামান্য পরিবর্তন দ্রুত নির্দেশ করে। প্রাকৃতিক এই গুনের সদৃশ লক্ষণ মার্কসল দেহেও প্রকাশ করে। যেমন মার্কসলের রোগীরা আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন সহ্য করিতে পারে না— অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরমে রোগের বৃদ্ধি হয়। তাই মার্কসলকে প্রাকৃতিক ব্যারোমিটার বলে ।
যকৃত পীড়ায় মার্কসলের নির্দেশক লক্ষনাবলী:

(ক) লিভারের স্থানে সূচ ফোটান ব্যথা

(খ) ডানপাশে শুইলে এ ব্যথা বাড়ে

(গ) লিভার বড় ও ফোলা
(ঘ) মলের বর্ণ মেটে মেটে বা হরিদ্রাবর্ণ
(ঙ) ব্যাহ্যের সময় কোঁথানি থাকে, মলতাগের পরও কোঁথানি থাকে, মনে হয় আরো মল বের হবে ।
(চ) লিভারের স্থানে স্পর্শকাতর ।

মার্কসলের ভুল প্রয়োগে চিকিৎসকের কর্তব্য কি :
মার্কসলের ভুল প্রয়োগ হলে প্রথমে দেখিতে হইবে দেহে কোন মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে কিনা । যদি লক্ষণসমূহ ধ্বংসাত্মক না হয় বা রোগীর কষ্ট অতিরিক্ত না হয় তাহলে কোন ঔষধ না দিয়া অপেক্ষা করিলে কয়েক দিন পর ঔষধের ক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাবে । যদি দেখা যায় মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তাহলে বর্তমান লক্ষণ – অনুসারে একটি রোগ লিপি তৈরী করে সদৃশ লক্ষণ অনুযায়ী মার্কসলের ক্রিয়ানাশক কোন ঔষধ যেমন নাইট্রিক এসিড, থুজা, হিপার সালফার ইত্যাদি প্রয়োগ করিতে হইবে ।
রক্তামাশয়ে বা আমাশয়ে মার্কসলের প্রয়োগ:

(ক) যখন দিনে গরম রাতে ঠান্ডা সেই সময়ের আমাশয় ।
(খ) মলত্যাগের সময় অত্যন্ত কোঁথানি থাকে মনে হয় আরো মল বের হবে, তাই রোগী কোঁথ দিতে থাকে ।
(গ) মলে শুধু আম বা রক্ত মিশ্রিত আম । যদি মলে বিষ্ঠা থাকে তাহলে তা সবুজ বা হরিদ্রাভ বা ফেনাযুক্ত

(ঘ) পেটের ডানদিকে স্পর্শকাতর ব্যথা, চলাফেরা করিলে বৃদ্ধি ।
(ঙ) জিহ্বা সরস কিন্তু প্রচুর পিপাসা, জিহ্বা মোটা থলথলে, জিহ্বায় দাঁতের দাগ, জিহ্বার উপরিভাগে লম্বা লম্বি গভীর দাগ ।
(চ) পেটে হাত দিলে ঠান্ডা বোধ হয় ।

মার্কসলকে কেন গ্লান্ডডুলার বা গ্রন্থিজ পীড়ার ঔষধ বলা হয়: 
মার্কসল প্রধানতঃ একটি গ্রন্থি সম্বন্ধীয় ঔষধ । গ্লান্ড স্ফীতির প্রধান্যযুক্ত ঔষধ সমূহের অন্যতম । শরীরের নানা গ্লান্ডের উপর ইহা ক্রিয়া প্রকাশ করিলেও কুচকীর গ্ল্যান্ডদ্বয়ের উপর বেশী ক্রিয়া প্রকাশ করে। কুচকীর গ্রন্থি, জিহ্বার নিকটবর্তী গ্রন্থি, ঘাড়ের গ্রন্থি, বগলের লসিকা গ্রন্থিগুলি, স্তনদ্বয়ের স্ফীতি, যকৃতের স্ফীতি ইত্যাদি স্থানে ক্রিয়া প্রকাশ করিয়া স্ফীতি ও কঠিণতা প্রাপ্ত হয় বলিয়া মার্কসলকে গ্রন্থিজ পীড়ার ঔষধ বলা হয় ।
জ্বরে মার্কসলের বিশেষতঃ
জ্বরে মার্কসলের বিশেষতঃ হল-প্রচুর ঘাম হয় । কিন্তু তাতে উপশম না হইয়া উপসর্গের বৃদ্ধি ঘটে ।
মার্কসলকে কেন সিফিলিসের রাজা বলা হয়:
মার্কসল একটি অন্যতম প্রধান এন্টিসিফিলিটিক ঔষধ । সিফিলিস রোগ দ্বারা যে সকল লক্ষণ প্রকাশিত হয় তার অধিকাংশ মার্কসলে বিদ্যমান যেমন রাত্রে বৃদ্ধি, গ্ল্যান্ড ও লসিকাগ্রন্থি আক্রান্ত হয়, ডান দিকে রোগ লক্ষণ প্রকাশিত হয়, শীতকালে বৃদ্ধি, স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত, মুখ হতে লালা স্রাব, অস্থি বেদনা, ইত্যাদি. মার্কসলে বিদ্যমান বলিয়া ইহাকে সিফিলিসের রাজা বলা হয় ।
মার্কসলকে কেন ঠান্ডা ফোড়ার ঔষধ বলা হয়:
মার্কসলের ফোড়ায় জ্বালা ও ব্যথা থাকে কিন্তু উত্তাপ থাকে না, তাই মার্কসলকে ঠান্ডা ফোড়ার ঔষধ বলা হয় ।

নাইট্রিক এসিডাম(NITRIC ACID)

প্রভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
ক্রিয়াস্থল-রক্ত, শরীরের বিভিন্ন নির্গমন দ্বারের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী ও চামড়ার সংযোগ স্থল, চামড়া, অস্থি, গ্রন্থি, লিভার, প্রষ্টেট গ্রন্থি, অস্ত্র ইত্যাদি । রাসায়নিক সংকেত – HNO3
ধাতুগত লক্ষণ:

(ক) নাইট্রিক এসিড একটি এন্টিসোরিক, এন্টি-সিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ ।
(খ) শীতকাতর ও স্পর্শকাতর, সহজেই সর্দি লাগে ।

(গ) রক্তস্রাব প্রবণ ।
(ঘ) স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ও হাজাকারক ।

অনুপূরক– আর্স, ক্যালেডিয়াম, ল্যাক ক্যান, সিপিয়া, সাইলি ।

ক্রিয়ানাশক– ক্যালকে, হিপার, মার্ক, মেজোরি, সালফার ।

শত্রুভাবাপন্ন– ল্যাকেসিস ।
বৃদ্ধি– বৈকালে, রাতে, শীত প্রধান দেশে, গ্রীষ্মকালে ।

উপশম– গাড়ীতে চড়িলে ।

মুখের ক্ষতে নাইট্রিক এসিড:– কোমল তালুতে (Soft plate) ঘা, ঐ ঘায়ে তীক্ষ্ণ খোঁচা বিধার মত ব্যথা হয়, ঘা ও মাড়ী সাদা দেখায়, ঘা হতে রক্তপাত বা রক্তাক্ত লালা, মুখে দুর্গন্ধ
মুখের ক্ষতে মার্কসল– মুখের ভিতর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীতে স্পর্শকাতরতা, জ্বালা ও হুল ফোটান ব্যথা, মুখ হতে লালা পড়ে, দাঁতের গোড়া ফোলে, মুখে দূর্গন্ধ ।

নাইট্রিক এসিডের বৈশিষ্ট্য:

(ক) শরীরের বিভিন্ন নির্গমন দ্বারের যে স্থানে চর্ম ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর সংযোগ ঘটেছে সেই স্থানে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
(খ) আক্রান্ত অঙ্গে কোন কিছু বিধিয়া আছে বলে মনে হয় ।

(গ) যে সকল জিনিস খাদ্য হিসাবে স্বীকৃত নয় সেই সকল জিনিস খাওয়ার অভাস যেমন পোড়া মাটি, কয়লা, কাগজ ইত্যাদি । রুটি ও মাংসে অনীহা ।

(ঘ) মুখে, জিভে, জননেন্দ্রিয়ে ফোস্কা এবং ক্ষত, তাহা হইতে সহজেই রক্ত পাত ।
(ঙ) সমস্ত স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত, বিশেষতঃ প্রস্রাবে ঘোড়ার প্রস্রাবের ন্যায় দুৰ্গন্ধযুক্ত ।
(চ) মল দ্বার ফাটা, মলত্যাগের পরও বহুক্ষণ পর্যন্ত মল দ্বারে কর্তনবৎ ব্যথা ।

(ছ) হাত ও পায়ের তালু ঘামে-তাহা দুর্গন্ধযুক্ত ।
জ) কানে ভাল শুনেনা অথচ চলন্ত গাড়ীতে স্পষ্ট শব্দ শুনিতে পায় ।

(ঝ) স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ও হাজা কারক ।
(ঞ) রোগী শীতকাতর ও স্পর্শকাতর ।

(ট) প্রাতঃকালীন উদরাময় (বৃদ্ধদের) ।
(ঠ) শিরঃপীড়ায় মনে হয় মাথা কোন ফিতা দ্বারা বাধা আছে ।
মেজাজ অত্যন্ত ক্রদ্ধ ভাবাপন্ন, ক্রোধের সময় কাপিতে থাকে, প্রতিবাদ সহ্য করিতে পারে না, কাউকেই ক্ষমা করতে পারে না, নির্দয়, হিংসুক, একগুয়ে, অনবরত অভিশাপ দেয় ও কসম খায় বা প্রতিজ্ঞা করে । ক্রোধ ও হিংসার জীবন্ত প্রতীক, কাহারও সহিত সদভাবে বসবাস করা নাইট্রিক এসিডের পক্ষে একেবারে অসম্ভব । ক্ষমা, প্রীতি, মমতা বা ভালবাসা বলিয়া কোন বস্তু নাইট্রিক এসিডের অভিধানে নাই । একদিকে ভীরুতা অন্যদিকে ক্রোধে উম্মাদ হওয়া নাই-এসিডের বিশেষ মানসিক লক্ষণ ।
(ঢ) ঝাঁকি, স্পর্শ, ব্যথা, শব্দ ইত্যাদির প্রতি ভীষণ অনুভূতিশীল বা সহ্য করিতে পারে না ।

উপদংশ বা সিফিলিস পীড়ায় নাইট্রিক এসিডের লক্ষণাবলী:

(ক) উপদংশ পীড়ায় মুখে ক্ষত, ভগন্দর, গুহ্যদ্বারে ক্ষত, ঠোটে ও তাহার কোনদ্বয়ে ক্ষত, রক্তস্রাবী অর্শ ইত্যাদি ।
(খ) ক্ষতে যেন কেহ কাঠি দিয়া খোচাইতেছে বোধ, ক্ষতের ধারে মাসাক্কুর । তাহা ক্ষতের কিনারা হতে উচু, সামান্য স্পর্শে রক্ত পড়ে, ক্ষতের স্রাব হাজা কারক ও ক্ষত গভীর ।
(গ) মাথার চুল উঠিয়া যায় ।
(ঘ) অস্থি বেদনা, অস্থিক্ষয় ।

নাইট্রিক এসিড মেটেরিয়া মেডিকার একটি লজ্জাবর্তী পাতা বিশেষ: কারণ যে ঔষধই প্রয়োগ করা হউক না কেন, বিশেষ করিয়া ঔষধটি যদি উচ্চশক্তির হয় তাহা হইলে নাইট্রির এসিডের রোগীদেহে তাহা পরীক্ষিত হইয়া যায় অর্থ্যাৎ শরীরটি ইহার এতই অনুভূতি প্রবণ যে, ঔষধ প্রয়োগমাত্র রোগের বৃদ্ধি হয় ।

কেলি কার্বোনিকাম (কেলিয়াম কার্বোনিকাম:KALI CARBONICUM

প্রভার– ডাঃ হ্যানিম্যান
সমনাম— কেলিয়াম কার্বো নিকাম, পটাশিয়াম কার্বোনেট । রাসায়নিক সংকেত K2C03
রোগের কারণ— ঠান্ডা লাগিলে, অতিরিক্ত পরিশ্রমে, অতিরিক্ত যৌন সম্ভোগ, আইসক্রীম বা বরফ ঠান্ডা পানি
ক্রিয়ানাশক– ক্যাম্ফর, কফিয়া ।
ধাতুগত লক্ষণ—

(ক) এন্টিসোরিক ঔষধ
(খ) শীতকাতুরে অথচ প্রচুর ঘর্ম
(গ) স্পর্শকাতরতা

ক্রিয়াস্থল– ফুসফুসের শ্লিষ্মিক ঝিল্লী, পাকাশয় পথ, ডিম্বকোষ, জরায়ূর ও ডান দিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
অনূপূরক- (ক) কার্বোভেজ ; (খ) ফসফরাস ; (গ) সিপিয়া ;(ঘ) নাইট্রিক এসিড ।
বৃদ্ধি– রতিক্রিয়ার পর, শীতকালে, কফি পানে, শেষ রাতে ২-৪ টা পর্যন্ত, বাম পার্শ্বে, ব্যথাযুক্ত স্থান চাপিয়া শয়নে, প্রসবে পর, রজঃ স্রাবের পূর্বে, মৈথুনের পর ।
উপশম– গ্রীষ্মকালে, দিনের বেলায়, চলাফেরা করিলে, খোলা বাতাসে এবং দোল খেলে ।
শ্বাসযন্ত্রে কেলিকার্বের লক্ষণ সমূহ:

(ক) ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, পুরিসি ও যক্ষ্মারোগে ডান ফুসফুসে সূঁচ ফোটানোর মত ব্যথা, ডান পাশে চেপে শুলে বাড়ে ।

(খ) সামনের দিকে ঝুকে থাকলে বা পিছনে হেলে বসলে উপশম, সোজা ভাবে থাকতে পারে না ।
(গ) বুকে সাঁই সাঁই শব্দ, বুকে স্পর্শকাতরতা ।
(ঘ) গরম অথবা ভিজে অবহাওয়ায় কষ্টের উপশম ।

(ঙ) শেষ রাতে ২-৪ পর্যন্ত রোগের বৃদ্ধি ।
(ঙ) অজীর্ণ পীড়ায় আইসক্রীম বা বরফ ঠাণ্ডা পানি খেলে বৃদ্ধি, যা খায় তাই গ্যাসে পরিণত হয়, মনে হয় গ্যাসে পেট ফেটে যাবে।
(ঙ) অর্শ ফোলে যায়, রক্ত পড়ে, কাশি দিলে অর্শ স্থানে ব্যথা লাগে । সূচফোটান ও জ্বালাকর ব্যথা, স্পর্শকাতরতা ।
(চ) রোগী অত্যন্ত শীতকাতুরে অথচ প্রচুর ঘর্ম

কেলিকার্বের নির্দেশক লক্ষন বর্ণনা কর:

(ক) পিঠের ব্যথার সহিত অন্য কোন পীড়া ।
(খ) ডা.ফেরিংটনের মতে যে কোন পীড়ার সহিত ঘাম, পিঠে ব্যথা ও দুর্বলতা থাকিলে কেলি-কাৰ্ব প্ৰযোজ্য ।
(গ) ডান দিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
(ঘ) ফুসফুসের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, পাকাশয় পথ, ডিম্বকোষ ও জরায়ূর উপর বিশেষ ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
(ঙ) রোগীর পেশী নরম, শীতকাতুরে ও প্রচুর ঘর্ম হয় ।
(চ) সেরাম ও মিউকাস মেমব্রেনের অতিরিক্ত শুষ্কতার জন্য শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সূঁচ ফোটানোর মত ব্যথা ।
(ছ) হাঁপানি ও কাশির বেলায় শেষ রাতে ২ টা হতে ৪ টা পর্যন্ত রোগের বৃদ্ধি ।
(জ) সামনের দিকে ঝুঁকে বসে থাকলে অথবা দোল খেতে থাকলে বুকের উপসর্গ বিশেষতঃ হাঁপানির উপশম ।
(ঝ) রতিক্রিয়ার পর রোগের বৃদ্ধি ।
(ঞ) চোখের উপরের পাতা পানিপূর্ণ থলির মত ফোলা ।
(ট) আক্রান্ত অঙ্গে স্পর্শকাতরতা- পায়ের তলায়, উদরে অত্যন্ত সুড়সুড়ি বোধ ।
(ঠ) রোগী দেখিতে মোটা সোটা কিন্তু অত্যন্ত দুর্বল, প্রচুর ঘাম হয় ।
(ড) কোমরে অত্যন্ত বেদনা বিশেষতঃ ঋতুকালে বা প্রসবকালে “কোমর গেল”, “কোমর গেল” বলে চিৎকার করে, টিপে দিতে বলে ।
(ঢ) ঠান্ডা লাগিলে মাথা ব্যথা, মনে হয় মাথার ভিতর সবকিছু আলগা হইয়া গিয়াছে । গরম প্রয়োগে ও চলাফেরা করলে উপশম ।
(ণ) রোগী স্থূলদেহী
(ত) ভীতু কোন অবস্থাতেই একা থাকিতে পারে না, তাই কুকুর বিড়াল পোষে ৷
(থ) রোগী অত্যন্ত আদর্শবান, নিজ কর্তব্য ও সিদ্ধান্তে স্থির থাকে, কখনই আদর্শচ্যুত হয় না
(দ) হতাশ, মনের গতি পরিবর্তনশীল ।
(ধ) সহজে রেগে যায় ৷
(ন) নানা প্রকার ভয় ও কল্পনায় আচ্ছন্ন থাকে ।

(প) পাকাশয়ে অস্বস্থি (Anxiety) বোধ করে ।

(ফ) মনে হয় বিছানা নীচের দিকে পড়ে যাইতেছে ।
(ব) ব্যথা, স্পর্শ, গোলমালের প্রতি অত্যন্ত অনুভূতিশীল বা অসহ্য বোধ হয় ৷

নিউমোনিয়াতে কেলি-কার্বের লক্ষণ:

(ক) ভয়ানক শ্বাস কষ্ট, বুকে শ্লেষ্মা জমিয়া সাই সাই শব্দ হয় ।

(খ) বুকে সূচ ফোটান ব্যথা-সামনের দিকে ঝুঁকে থাকলে বা পিছনের দিকে হেলে বসলে উপশম । সোজা হয়ে বসলে বৃদ্ধি ।
(গ) কাশিতে কাশিতে দম আটকাইয়া যায়, শেষ রাতে ২-৪ টা পর্যন্ত বৃদ্ধি
(ঘ) ডান পাশে চাপিয়া শুইতে পারে না

ক্রিয়োজোটKREOSOTUM
(Beech Wood Tar)

প্রুভার– ১. ডাঃ সিরবিয়াস (Syrbius)
২. ডাঃ হোয়েল (Wahle )
উৎস– উদ্ভিজ ।
সমনাম— উডটার
রোগের কারণ— খোলা ঠান্ডা বাতাস ।
মর্মবাণী- সমস্ত স্রাব হাজাকারক ( Excoriation)
ধাতুগত লক্ষণ: (ক) শীতকাতুরে (খ) স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ও হাজাকারক (গ) রক্ত স্রাব প্রবণ (ঘ) সোরা ও সিফিলিস ধাতু
অনুপূরক– আর্সে, ফসফরাস, সালফার ।
ক্রিয়ানাশক- একোনাইট, াক্স ভম. ফেরাম মেট ।

শত্রুভাবাপন্ন– কার্বোভেজ
উপশম– গরমে, নড়াচড়ায়, উষ্ণ খাদ্যে
বৃদ্ধি– দাত উঠার সময়, গর্ভাবস্থায়, খোলা হাওয়ায়, ঠান্ডায়, বিশ্রামে, শুইয়া থাকিলে, ঋতুস্রাবের পর, বৈকাল ৬ টা হতে সকাল ৬ টা পর্যন্ত ।

উৎস– শুষ্ক সারযুক্ত বড়বড় কাঠ চোয়ান যন্ত্রের মধ্যে পুরে আগুনের উত্তাপে ড্রাই ডিষ্টিলেশন যোগে চোয়াইয়া নিলে আলকাতরার মত পদার্থ নির্গত হয় । ইহাই উৎকৃষ্ট ক্রিয়োজোট ।
ক্রিয়াস্থল

১। লিমফ্যাটিক গ্লান্ড
২ । পাকাশয়
৩। স্ত্রী যৌন অঙ্গের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী
৪। দাঁত ও রক্ত ইত্যাদি ।

শ্বেত প্রদরে ক্রিয়োজোটের লক্ষণ নিম্নরূপ:

(ক) রোগী শীতকাতুরে
(খ) ক্যামোমিলার মত মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে ও একগুয়ে

(গ) রোগিনী লম্বা, পাতলা, একহাড়া গড়নের
(ঘ) প্রদর স্রাব. দুর্গন্ধযুক্ত ও হাজাকারক, হাজিয়া যাওয়া অংশে জ্বালা ও চুলকানি । দুই ঋতুর মধ্যবর্তী সময়ে প্রদর স্রাব, উহা শুকিয়ে কাপড়ে মাড় দেওয়ার মত শক্ত হয়ে যায় । কাপড়ে হলদে দাগ লাগে ।

ক্রিয়োজোটের চরিত্রগত লক্ষণ নিম্নরূপ:

ক) রোগী শীতকাতুরে
খ) ক্যামোমিলার মত মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে ও একগুয়ে

গ) গান বাজনা শুনলে কান্না পায় এবং বুক ধড়পড় করে ।

ঘ) চিন্তা শক্তির ক্ষমতা লোপ, মানসিক শ্রম করতে পারে না ।

ঙ) বোকার মত, ভুলোমন, খিটখিটে মেজাজ ও সহজে রেগে যায় ৷

চ) শিশু এটা চায়, ওটা চায় কিন্তু দিলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়

ছ) রোগিনী লম্বা, পাতলা ও একহাড়া গড়নের ।
জ) দেহের বামদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ৷
ঝ) দেহের যে কোন দ্বার হইতে যে স্রাব নিঃসৃত হয় তাহাই দুর্গন্ধযুক্ত, হাজাকারক। হাজিয়া যাওয়া অঙ্গ গরম, জ্বালা ও চুলকানি । হাজিয়া যাওয়া অঙ্গে জ্বালাযুক্ত ব্যথা ।
ঞ) ইহার বিশেষ চরিত্রগত লক্ষণ হল মাসিক ধাতুর সময় যাবতীয় কষ্ট ও অস্বাচ্ছন্দতা বৃদ্ধি পায় ।
ট) ক্ষুদ্র ক্ষত হইতে অধিক রক্তস্রাব

ঠ) শিশুর দাঁত উঠার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয় হয়ে কালো হয়ে যায়, সহজেই রক্ত পড়ে ৷
ড) দাঁতের মাড়ি ফোলা, স্পঞ্জের মত, মাড়ি হতে সহজেই রক্ত পড়ে ।

ঢ) সর্বাঙ্গে দপদপানি অনুভুত হয় ।
ণ) স্বামী সহবাসের পর যৌনিদ্বার হতে রক্ত স্রাব
ত) রোগী প্রস্রাবের বেগ ধারণ করিতে পারে না, তাড়াতাড়ি না করিলে কাপড়েই প্রস্রাব করিয়া ফেলে ।
থ) শিশু বিছানায় প্রস্রাব করে ।
দ) পাকস্থলীর ক্যানসারের অন্যতম ঔষধ ।

স্ত্রীরোগে ক্রিয়োজোটের ব্যবহার:

ক) রোগীনি শীতকাতুরে
খ) রোগীনি লম্বা (বয়সের তুলনায়), পাতলা ও একহাড়া পড়নের

গ) ক্যামোমিলার মত মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে ও একগুয়ে ।
ঘ) দুই ঋতুর মধ্যবর্তী সময়ে প্রদর স্রাব। স্রাব অত্যন্ত দূর্গন্ধযুক্ত, হাজাকারক, হাজা অংশে ব্যথাযুক্ত জ্বালা ও চুলকানি । কাপড়ে হলদে দাগ পড়ে ৷
ঙ) ঋতুস্রাব শীঘ্র শ্রীঘ্র, বহুদিন স্থায়ী প্রচুর ঋতুস্রাব, স্রাবে ঝাঝাল দূর্গন্ধ থাকে ।
চ) প্রদর স্রাব ও ঋতুস্রাব বিশ্রামে বৃদ্ধি এবং নড়াচড়ায় উপশম ।
ছ) স্বামী সহবাসের পর যৌনি দ্বার হতে রক্ত স্রাব
জ) সকল লক্ষণ ঋতুকালে খারাপ হয় ।
ঝ) ঋতুস্রাবের পূর্বে ও সময় প্রচণ্ড মাথাব্যথা ।

দাঁতের ব্যথায় ক্রিয়োজোটের ব্যবহার:

ক) শিশুর দাঁত উঠিতে উঠিতে পোকায় ধরে কাল হয়ে ক্ষয় হয়ে ভেঙ্গে যেতে থাকে ।
খ) দাঁতের মাড়ি ফোলা, স্পঞ্জের মত, সহজেই রক্তস্রাব হয়। মাড়ি নীলচে লাল হয়ে যায় ৷
গ) গর্ভকালে দাতে ব্যথা ।

 

শ্বেত প্রদরে ক্রিয়োজোটের সহিত এলুমিনার তুলনা:

ক্রিয়োজোট

এলুমিনা

প্রদর স্রাব বিশ্রামে বৃদ্ধি এবং নড়াচড়ায় উপশম

দিনের বেলা বেশী, ঠান্ডা পানি  দ্বারা গোছল করিলে উপশম ।

দুই ঋতুর মধ্যবর্তী সময়ে প্রদর স্রাব

ঋতু স্রাবের পর প্রদর স্রাব বৃদ্ধি ।

রোগীনি শীত কাতুরে

শরীরের স্বাভাবিক তাপের অভাব ও শীতকাতুরে

রোগীনি লম্বা পাতলা ও একহাড়া গড়নের ।

রোগীনি রোগা পাতলা শুকনো দেহ ।

 

প্রদর স্রাব দূর্গন্ধযুক্ত ও হাজাকারক । হাজিয়া যাওয়া অংশে চুলকানি ও জ্বালা যুক্ত ব্যথা । স্রাব শুকিয়ে কাপড়ে মার দেওয়ার মত শক্ত হয়ে যায় । কাপড়ে হলদে দাগ লাগে ।

প্রচুর ক্ষতকর ও জ্বালাকর প্রদর স্রাব, পরিমাণে এত বেশী যে পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত নামিয়া আসে, প্রদর স্রাব হলুদ বর্ণ



প্লাটিনাম মেটালিকাম(PLATINUM METALLICUM)

গ্রুভার-ডাঃ স্টাপফ (Stapf) ও ডাঃ হ্যানিম্যানের নিয়োগকৃত প্রভারগণ

সমনাম- প্লাটিনা, ব্লাক লেটার মেডিসিন (Black letter medicine)।

রোগের কারণ— ভয়, দুঃখ, বিরক্তি, অহংকার, অতিরিক্ত যৌন সম্ভোগ এবং হস্তমৈথুন ।
রাসায়নিক সংকেত-Pt

ধাতুগত লক্ষণ: (ক) এন্টিসোরিক ঔষধ (খ) হিষ্টিরিয়া গ্রস্ত রোগীনি (গ) স্ত্রীজননযন্ত্রের স্পর্শকাতরতা (ঘ) গরম কাতর

মর্মবানী: রোগী অত্যন্ত গর্বিত, হামবড়া ভাব । ধরাকে সরা মনে করে । শুধু সেই উচ্চ বংশের বাকী সবাই নীচু বংশের বলিয়া তার ধারণা । এমনকি ঘরবাড়ী অন্য মানুষকে সে স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট দেখে । তার মনে হয় তার দেহ অন্যদের তুলনায় বড় ।
উৎস– ইহা একটি খনিজ পদার্থ যার রাসায়নিক সংকেত Pt,
বৃদ্ধি— বসিয়া বা দাঁড়াইয়া থাকিলে, বৈকালে/সন্ধ্যায় ।

উপশম— বেড়াইলে
ক্রিয়াহুল- স্নায়ুমন্ডল, হিষ্টিরিয়া ।
প্লাটিনাম মেটালিকামকে স্ত্রীলোকদের ঔষধ বলা হয়:
প্লাটিনাম মেটালিকামকে স্ত্রীলোকদের ঔষধ বলা হয় কারণ ঔষধটি পরীক্ষাকালে পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রী দেহেই অধিক সংখ্যাক লক্ষণ সমষ্টি সৃষ্টি করিতে সক্ষম হইয়াছে ।
ক্রিয়ানাশক ঔষধ– পালসেটিলা

অনূপূরক ঔষধ– প্যালেডিয়াম, আর্জে মেট
প্লাটিনামের প্রধান লক্ষণগুলি নিম্নরূপ:

(ক) রোগীনি অত্যন্ত গর্বিতা, নিজেকে অত্যন্ত বড় মনে করে। নিজে উচ্চবংশের আর বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজন নীচ বংশের বলিয়া মনে করেন । মানসিক ভ্রান্তি-একঘন্টা ভ্রমণের পর বাড়ীতে প্রবেশ করিয়া মনে হয় চারদিকের সবকিছুই ছোট, সকল ব্যক্তিই শারিরীক ও মানসিক গুনে তার চেয়ে নিকৃষ্ট। হিস্টিরিয়াগ্রস্ত স্ত্রীলোক ৷
(খ) পর্যায়ক্রমে শারিরীক ও মানসিক লক্ষণ প্রকাশ পায় । যেমন মেরুদন্ডের ব্যথা দেখা দিলে উন্মত্ততার উপশম হয় আবার উম্মত্ততা দেখা দিলে মেরুদন্ডের ব্যথার উপশম হয়।

(গ) শরীরের কোন কোন স্থানে পিপড়া বা পোকা হাটার অনুভুতি

(ঘ) স্ত্রীজননেন্দ্রিয়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতরতা ।
(ঙ) ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ে ও ধীরে ধীরে কমে । আক্রান্ত স্থান আসাড় বোধ ।
(চ) কোষ্ঠকাঠিনে নরম কাদার মত মল মলদ্বারে আটকে থাকে ।

(ছ) ঋতু স্রাবের রক্তের রঙ আলকাতরার মত কাল কাল, দলা দলা পিন্ডের ন্যায় । ঋতুস্রাব শীঘ্র শীঘ্র পরিমাণে বেশী এবং দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় ৷

প্লাটিনামের মানসিক লক্ষণ বর্ণনা কর:

ক) রোগীনি অত্যন্ত গর্বিত, নিজেকে অত্যন্ত বড় মনে করে । নিজে উচ্চ বংশের আর বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় স্বজন নীচ বংশের বলে মনে করেন, তাই সকলকে অবজ্ঞা করে ।
মানসিক ভ্রান্তি— একঘন্টা ভ্রমণের পর বাড়ীতে প্রবেশ করিয়া মনে হয় চারদিকের সব কিছু ছোট। সকল ব্যক্তিই শারীরিক ও মানসিক গুনে তার চেয়ে নিকৃষ্ট। প্রত্যেককেই সে ঘৃনার চোখে দেখে । মনে করে সব কিছু বদলে গেছে ।
খ) মানসিক লক্ষণগুলি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক লক্ষনগুলি অন্তর্হিত হয়। যেমন ঋতু লোপের সঙ্গে মানসিক লক্ষণ বৃদ্ধি পায় ।
গ) সহজেই কেদে ফেলে, জীবনে বিতৃষ্ণা, মৃত্যুভয়
ঘ) হিষ্টিরিয়া গ্রস্ত রোগী যারা একবার আনন্দে উৎফুল্ল হয় পরক্ষণেই বিষন্ন হইয়া পড়ে । ফলে ঋতুস্রাবের সময় ন্যাপকিন পড়তে পারে না, ভেলিভারীর সময় ডাক্তারকে যৌনাঙ্গ পরীক্ষা করতে দেয় না । যৌনাঙ্গে পুরুষের লিঙ্গ প্রবেশ কষ্টকর, কোনরূপ যৌনসুখ উপভোগ করে না বা কষ্ট অনুভব করে, কোন কোন সময় যৌনক্রিয়ার সময় অজ্ঞান হইয়া যায় ।
(ঙ) হাস্যকর ব্যাপারকে গুরুতর বলিয়া গণ্য করে ।
(চ) হত্যা করার প্রচণ্ড ইচ্ছা ।
(ছ) সব কিছু অপছন্দ করে
(জ) কোষ্ঠকাঠিন্যে নাক্স-ভম বিফলতায় প্লাটিনাম, প্লাটিনাম বিফলতায় প্লাম্বাম ।

স্ত্রীলোকদের কামউন্মাদনায় প্লাটিনাম:

ক) হিষ্টিরিয়াগ্রস্তা বালিকাদের, বিবাহিতা নারীদের, যুবতীদের, অল্প বয়সের বালিকাদের জননেন্দ্রিয় হইতে তলপেট পর্যন্ত ভয়ানক সুড়সুড় করিয়া কামোন্মাদ
খ) ঋতুস্রাবের সময় ও পরে সঙ্গমেচ্ছা অতিশয় বৃদ্ধি পায় ৷
গ) প্রসবের পর কামোন্মোদনা বাড়ে ।
ঘ) মস্তিষ্ক বিকৃতি অবস্থায় রোগী নানা রকম অশ্লীল অঙ্গ ভঙ্গি সহকারে উলঙ্গ হইবার অভিলাস প্রকাশ করে, এমনকি সে এতই নিলজ্জ হইয়া উঠে যে, যাহাকে কাছে পায় তাকেই চুম্বন করিয়া প্রকাশে সঙ্গম কার্যে আহবান করে ।

পাকস্থলীর পীড়ায় প্লাটিনাম:
পেটের মধ্যে সঙ্কোচন বোধ, রাক্ষুসে ক্ষুধা, ক্রমাগত গা-বমি বমি ভাব ৷ চিত্রকরদের উদরশুল। পেটের মধ্যে চাপবোধ এবং নিচের দিকে ঠেলামারা ব্যথা । ঐ ব্যথ্যা বস্তিদেশ পর্যন্ত প্রসারিত হয় । কোষ্ঠবদ্ধতা- গর্ভবর্তীর কোষ্ঠাবদ্ধ, পর্যটকদের কোষ্ঠবদ্ধ, নরম মল সহজে নির্গত হইতে চায় না, আঠাল মল মলদ্বারে লেগে থাকে ।

মেজোরিয়াম (MEZEREUM)

প্রুভার- ডাঃ হ্যানিম্যান
উৎস- স্পার্জ অলিভ গাছের বাকল, স্পার্জ অলিভ নামক শক্ত গুল্ম জাতীয় গাছের তাজা ছাল হতে মাদার টিংচার তৈরী হয় ।
প্রাপ্তিস্থান- উত্তর ও মধ্য ইউরোপ ।
সমনাম- স্পার্জ অলিভ ।
রোগের কারণ– রাগ, পারদের অতিরিক্ত ব্যবহার, মদ ও ভ্যাকসিন ।

ধাতুগত লক্ষণ: (ক) এন্টিসোরিক ও এন্টিসিফিলিটিক ঔষধ (খ) শ্লেষ্মা প্রধান ধাতুর রোগী (গ) শীতকাতুরে
ক্রিয়ানাশক— মেজোরিনাম ও মার্কসল পরস্পরের ক্রিয়ানাশক, একোনাইট, ব্রাইয়োনিয়া, মার্কসল, নাক্স ভমিকা
অনুপূরক– মার্ক-সল
উপশম— খোলা বাতাসে, ঠান্ডা পানি দ্বারা গোছলে, আহারে, গায়ে কাপড় জড়াইলে ।
বৃদ্ধি— ঠান্ডা বাতাসে; রাতে, গরম জিনিস আহারে, স্পর্শে, চলাফিরা করিলে, উদ্ভেদ বসিয়া গেলে, টীকার কুফলে ও পারদের অপব্যবহারে ।

ক্রিয়াস্থল— চামড়া, জননেন্দ্রিয়, মূত্রনালীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, অন্ননালী, দীর্ঘ হাড় যেমন টিবিয়া হাড়, দাঁত স্নায়ু ও মনের উপর অধিক ক্রিয়া প্রকাশ কের।
মর্মবানী:  শরীরস্থ চর্বিশূন্য চর্মের অংশে যেমন মাথা, কান ইত্যাদিতে উদ্ভেদ বা একজিমা এবং হাড়ের পীড়া বিশেষতঃ লম্বা হাড়ে যেমন টিবিয়া বোনের পীড়া ।
সিফিলিটিক দোষের লক্ষণাবলীর প্রায় সবগুলি মেজোরিয়ামে বিদ্যমান আছে বলিয়া মার্কজাতীয় ঔষধ শ্রেণীর বিষক্রিয়া নষ্ট করিতে পারে । শরীরের কোন উদ্ভেদ নাই অথচ ভীষন চুলকানি ।মেজোরিয়ামকে ভেজিটেবল মার্কারী বা উদ্ভিদ পারদ বলা হয় কেন:
কারণ ইহা স্পার্জ অলিভ নামক শক্ত গুল্ম জাতীয় গাছের তাজা ছাল হতে তৈরী হয় । কিন্তু উদ্ভিদ উৎসের হলেও ইহা দ্বারা সৃষ্ট লক্ষণাবলীর মধ্যে সিফিলিস রোগ লক্ষণের পরিচয় পাওয়া যায়, যার প্রধান ঔষধগুলির অন্যতম হল মার্কারী জাত ঔষধ । তাই ইহাকে ভেজিটেবল মার্কারী বলা হয় (S.K. Dubey)।
মেজোরিয়ামের চরিত্রগত লক্ষণ:

১। মেজোরিয়ামের প্রতিটি ক্রিয়া “প্রচণ্ড” বিশেষণ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেমন— প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, প্রচণ্ড দাঁত ব্যথা, প্রচণ্ড চুলকানি ইত্যাদি ।
২ । টিকার কুফলজনিত পীড়া ।
৩ । সকল প্রকার ব্যথার সহিত অস্বস্তিকর ঠান্ডা ।
৪ । রোগীর নিকট ঠান্ডা বাতাস অসহ্য।
৫ । ইহা একটি এন্টিসিফিলিটিক ঔষধ
৬। চর্মের উপর ইহার প্রধান ক্রিয়া

(ক) চুলকানি- কোন উদ্ভেদ নাই অথচ ভীষণ চুলকানী, যে স্থান চুলকায় সেই স্থান চুলকাইবার সময় চুলকানি অন্য স্থানে সরিয়া যায়।
(খ) চর্বিবিহীন ত্বক যেমন মাথা, কান ইত্যাদিতে একজিমা ।

(গ) পাঁচড়া বা উদ্ভেদ হতে প্রচুর পুঁজ বা পানির মত প্রচুর রস নির্গত হতে থাকে । উদ্ভেদে পুঁজ টল টল করিতে থাকে, একটু টিপিয়া দিতে না দিতে পচ করিয়া খানিকটা পূজ নির্গত হইয়া পড়ে ।
(ঘ) রোগী নিজে শীতকাতুরে কিন্তু খোস পাচড়ায় শয্যার গরমে আরও চুলকাইয়া উঠে ।
(ঙ) টিকাজনিত কুফল বা সিফিলিস ক্ষত বা চর্মরোগ চাপা পড়ার কুফল ।

৭। অস্থি পীড়াজনিত লক্ষণ রাত্রিতে বৃদ্ধি পায়- লম্বা হাড়ে বেদনা যেমন টিবিয়া হাড় আক্রান্ত হয়। পারদের অপব্যবহার বা যৌনরোগ চাপা পড়ে বাত বেদনা, ব্যথা উপর হতে নীচের দিকে যায় । ব্যথা রাতে, স্পর্শে ও বিছানার গরমে বৃদ্ধি ।
৮ । পীড়ার গতি—ক) ডান থেকে বাম দিকে খ) উপর থেকে নীচের দিকে গ) ভিতর থেকে বাহিরের দিকে
৯। দাঁতের আগা ঠিক থাকে কিন্তু গোড়া ক্ষয় হইয়া যায়, ঠান্ডা বাতাস মুখে টেনে নিলে দাঁতের ব্যথার উপশম ।
১০ । শিরঃপীড়া- সামান্য বিরক্তি বা ক্রোধের ফলে প্রচণ্ড শিরঃপীড়া, ডানদিকে, মনে হয় মাথা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে, সামান্য স্পর্শ বা নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, উপশম— খোলা বাতাসে, গরমেও মাথা ঢেকে
রাখলে ।
(১১)। সমস্ত উপশম রাতে বৃদ্ধি ।
১২। অতি সামান্য কারণে রাগিয়া উঠে কিন্তু একটু পরেই সেই জন্য অনুতপ্ত হয় ও দুঃখ প্রকাশ করে ।

চর্মরোগে মেজোরিয়ামের লক্ষণ লিখ :

(ক) চুলকানি- কোন উদ্ভেদ নাই অথচ ভীষণ চুলকানী, যে স্থান চুলকায় সেই স্থান চুলকাইবার সময় চুলকানি অন্য স্থানে সরিয়া যায়।
(খ) চর্বিবিহীন ত্বক যেমন মাথা, কান ইত্যাদিতে একজিমা ।

(গ) পাঁচড়া বা উদ্ভেদ হতে প্রচুর পুঁজ বা পানির মত প্রচুর রস নির্গত হতে থাকে । উদ্ভেদে পুঁজ টল টল করিতে থাকে, একটু টিপিয়া দিতে না দিতে পচ করিয়া খানিকটা পূজ নির্গত হইয়া পড়ে ।
(ঘ) রোগী নিজে শীতকাতুরে কিন্তু খোস পাচড়ায় শয্যার গরমে আরও চুলকাইয়া উঠে ।
(ঙ) টিকাজনিত কুফল বা সিফিলিস ক্ষত বা চর্মরোগ চাপা পড়ার কুফল ।

সেলিনিয়াম(Selenium Metallicum)

প্রুভার-ডাঃ কনসট্যানটাইন হেরিং
উৎস- ইচা একটি খনিজ পদার্থ যার
রাসয়নিক সংকেত – Se
ধাতুগত লক্ষণ– গরম কাতর, এন্টিসোরিক ও এন্টিসিফিলিটিক।
অনুপূরক– ক্যালাডিয়াম, নে-মি , স্টেফিসে, এসিড-ফস ।
রোগের কারণ– অতিরিক্ত সঙ্গমক্রিয়া, দীর্ঘকাল স্থায়ী জ্বর, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন, গ্রীষ্মকালে উত্তাপে দরুণ শারিরীক ও মানষিক দুর্বলতা, রাত্রি জাগরণ, মদ পানের কুফল, অতিরিক্ত চা পান ।
রাসায়নিক সংকেত – Se
বৃদ্ধি- গরমের দিনে, গান গাহিলে, দমকা হাওয়ায়, ঘুমের ঘোরে, চা ও লেনোনেড পানে, সঙ্গনে।
উপশম-সূর্যাস্তের পর, শীতল বাতাসে
সেলিনিয়ানের ক্রিয়া – জননেন্দ্রিয়, মূত্রযন্ত্র কণ্ঠনালী ও লিভারের উপর ক্রিয়া করে।
ক্রিয়ানাশক-ইরেসিয়া, পালন

নির্দেশক লক্ষণ :

ক) যাদের রঙ ফর্সা, সুন্দর চেহারা অথচ মুখ, হাত পা, পায়ের পাতা বা দেহের কোন একটি অঙ্গ বেশী রকম শুকিয়ে যায়। তাহাদের পক্ষে উপযোগী ।
খ) কাজ কর্মে অত্যন্ত ভুল হয়। বৈষয়িক বিষয়ে ভুলোমন অথচ যা ভুলে গেছে তাই স্বপ্নে দেখে ।
গ) মদ খাওয়ার দারুণ ইচ্ছা, না পেলে যেন পাগল হয়ে যাবে ।

গ) সেলিনিয়ন যৌন দুর্বলতার প্রধান প্রধান ঔষধগুলির অন্যতম ।

ঘ) অতিরিক্ত যৌন ইচ্ছা অথচ লিঙ্গ শক্ত হয় না, প্রাতে লিঙ্গ শক্ত হইলেও সঙ্গমের চেষ্টা করিলেই লিঙ্গ শিথিল হইয়া যায়। সহজেই পাতলা বীর্যপাত হয়, বীর্য গন্ধহীন ।

ঙ) বাহ্যের সময় কোঁথ দিলে পাতলা বীর্য বের হয় ।
ছ) অত্যন্ত শারিরীক ও মানসিক দুর্বলতা, শুয়ে ও ঘুমিয়ে পড়ার অদম্য ইচ্ছা ।
জ) মাথার চুল, দাঁড়ি, গোঁফ ও জননেন্দ্রিয়ের চুল পড়ে যায় ।

ঝ) কোষ্ঠবদ্ধতা- শক্ত মল, আঙ্গুল দিয়ে টেনে বের করতে হয় !
ঞ) আক্রান্ত অঙ্গ শুকাতে থাকে।
ট) রাতে ক্ষুধা লাগে ।
ঠ) রৌদ্র সহ্য করিতে পারে না, গ্রীষ্মকালে শারিরীক ও মানসিক ক্লান্তি

পুংজননেন্দ্রিয়ের উপর সেলিনিয়ামের ব্যবহার:
অতিরিক্ত সঙ্গম ক্রিয়া বা হস্ত মৈথুনের ফলে ধ্বজভঙ্গ। যৌন উচ্ছাস প্রবল কিন্তু যৌনশক্তি হীন। লিঙ্গ শক্ত হয় না, প্রাতে বিনা কারণে লিঙ্গ শক্ত হলেও রতিক্রিয়ার বাসনা জাগে না। যৌন মিলনে অতি শীঘ বীর্যপাত-বীর্যপাতলা ও গন্ধহীন । পায়খানার জন্য কোঁথ দিলে পাতলা বীর্য বের হয়ে আসে ৷
সেলিনিয়ামের মানসিক লক্ষণ:

ক) কাজ কর্মে অত্যন্ত ভুল হয় । বৈষয়িক বিষয়ে ভুলোমন অথচ যা ভুলে গেছে তাই স্বপ্নে দেখে ৷
খ) মানসিক পরিশ্রমের ফলে দুর্বলতা ।
গ) অত্যন্ত শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা, শুয়ে ও ঘুমিয়ে পড়ার অদম্য ইচ্ছা ।
ঘ) আসন্ন কোন রোগের ভয় ।
ঙ) কারও সঙ্গ পছন্দ করে না, এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বেলায়ও ।
চ) ধ্বজভঙ্গ সহ কাম বিষয়ক চিন্তা ।
ছ) অদমনীয় বিষণ্ণতা ।

স্পাইজেলিয়া(SPIGELIA)

প্রভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
প্রাপ্তিস্থান- আমেরিকা ।

সমনাম– পিঙ্করুট
অনুপূরক- স্পঞ্জিয়া
বৃদ্ধি– ছুইলে, শব্দ হইলে, নড়াচড়ায়, কাপড় কাচিলে, সূর্যের গতির সঙ্গে, তামাক সেবনে, মৈথুনে ।
উপশম-ডান পাশ চেপে মাথা উচু করে ঘুমালে ।
উৎস-ওয়ার্ন গ্রাস নামক শুষ্ক গাছড়া
ক্রিয়াস্থল-চোখ, হৃৎপিন্ড ও স্নায়ূমন্ডল
ক্রিয়ানশক– মার্ক, কলচিকাম
ধাতুগত লক্ষণ: (ক) সোরা মায়াজম, বাত প্রবণতা । (খ) গন্ডমালা ধাতুবিশিষ্টি রোগী (গ) স্পর্শকাতরতা (ঘ) শীতকাতর, খোলা বাতাস ও সহ্য হয় না ।

স্পাইজেলিয়ার নির্দেশক লক্ষণ:

ক) সূর্য উঠা ও নামার সহিত ব্যথা উঠা নামা করে ।
খ) বামদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে
গ) প্রচণ্ড হৃদস্পন্দনের শব্দ শুনা যায় ও দেখা যায় । হৃৎপিন্ডের পীড়ার সহিত বাম চোখের যন্ত্রনা, আক্রান্ত চোখ হতে পানি পড়ে ।
ঘ) নড়াচড়ায় বৃদ্ধি— শরীরের যে কোন অঙ্গ নড়াচড়ায় বৃদ্ধিসহ মানসিক কাজে যেমন চিন্তা করিতে গেলেও যন্ত্রনা বৃদ্ধি পায় ।

ঙ) শিরঃপীড়া সূর্যোদয় হইতে আরম্ভ হইয়া সূযান্ত পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং উহা বাম পাশে প্ৰকাশ পায় ।
চ) উঁচু বালিশে মাথা রাখিয়া ডান পাশে চাপিয়া শয়নে উপশম ।

ছ) কোন একটি বিশেষ ইন্দ্রিয়ের অসাধারণ প্রখরতা যেমন শ্রবণ শক্তি বাড়ে ।

জ) আলপিন সূচ ইত্যাদি সূচাল জিনিসকে অত্যন্ত ভয় পায় ।
ঝ) চোখ বড় হইয়া গিয়াছে বোধ, চোখে এত ব্যথা যে, সমস্ত দেহ না ঘুরিয়ে চোখ ঘুরাতে পারে না ।
ঞ) আক্রান্ত অংশে শীতলতা বোধ ও স্পর্শকাতরতা

ট) কৃমির কার্যকরী ঔষধ ।
 

শিরঃপীড়ায় স্পাইজেলিয়া ও স্যাঙ্গুনেরিয়ার পার্থক্য:

স্পাইজেলিয়া

স্যাঙ্গুনেরিয়া

ব্যথা পিছন দিক থেকে শুরু হয়ে বাম চোখের উপর স্থির হয় ৷

ব্যথা মাথার পিছন দিক থেকে শুরু হয়ে ডান চোখের উপর স্থির হয় ।

চোখ ঘোরালে ও গোলমালে বৃদ্দি

উপবাসে মাথা যন্ত্রনা বাড়ে ।

 উচু বালিশে ডান পাশে চাপিয়া শয়নে উপশম

উদরাময়ে, উর্ধ বা অধঃ বায়ূ নিঃসরণে উপশম

সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বৃদ্ধি

সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বৃদ্ধি

নির্দিষ্ট সময় অন্তর শিরপীড়া

নির্দিষ্ট সময় অন্তর শিরঃ পীড়া


স্নায়ুর উপর স্পাইজেলিয়ার ক্রিয়া:

স্পাইজেলিয়া দ্বারা শরীরের যে কোন স্নায়ূ আক্রান্ত হতে পারে তবে মাথা, মুখ এবং চোখের স্নায়ূই আক্রমনের প্রধান লক্ষ্যবস্ত । বাতের ব্যথা সময় সময় হৃৎপিন্ডকে আক্রমন করে ।
মাথার স্নায়ুশূলে মাথার পিছন হতে ব্যথা আরম্ভ হইয়া বাম চোখের উপর স্থির হয় । উহা সূর্যোদয়ে শুরু হয় এবং সূর্যাস্তে শেষ হয় । ।

মুখমন্ডলের স্নায়ুশুল– সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বৃদ্ধি । অবনত হলে বা স্পর্শে বৃদ্ধি । চোখের স্নায়ুশুলে চোখের ভিতর ও চারদিকে প্রবল ব্যথা । চোখ বড় হইয়াছে গিয়াছে । বোধ, চোখ ঘুরালে ব্যথা বোধ ।

শিরঃপীড়ায় স্পাইজেলিয়া: বাম দিকের আধকপালে মাথাব্যথা, ব্যথা মাথার পিছন দিক হতে আরম্ভ হইয়া বাম চোখের উপর স্থির হয়। সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বৃদ্ধি । চোখে অসহ্য যন্ত্রনা, সমস্ত দেহ না ঘুরিয়ে চোখ ঘুরাতে পারে না । মনে হয় মাথার চারদিকে ফিতে বাধা আছে । সামান্য নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি ।

আয়োডিয়াম(IODUM)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
সমনাম– আয়োডিন ।
রাসায়নিক সংকেত-I
ক্রিয়ানাশক– হিপার, সালফার,
অনুপূরক- লাইকো, ব্যাডিয়েগা
বৃদ্ধি– গরমে, গরম ঘরে, ডানদিকে, চুপচাপ থাকিলে
উপশম– পায়চারী করিলে, খোলা বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে গোছল করিলে ।

আয়োডিনের ক্রিয়াস্থল – লসিকা গ্রন্থি, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, ডিম্বকোষ, অন্ডকোষ, জরায়ূগ্রন্থি, লিভার, কিডনী, ত্বক, ধমনী, থাইরয়েড গ্লান্ড, ধমনী, থাইরয়েড গ্লান্ড, স্তন, ওভারী । ।
ধাতুগত লক্ষণ: (ক) এন্টিসোরিক ঔষধ(খ) গরম কাতুরে (প্রথম শ্রেণীর গরম কাতর ঔষধ) (গ) রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা (ঘ) গ্রন্থি পীড়ার সহিত শীর্ণতা (ঙ) রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে ও সহজে আরোগ্য হয় না ।
আয়োডিয়ামের চরিত্রগত লক্ষণাবলী:

(ক) রোগী গরম কাতুরে, ঠান্ডা পানি পান করে ।
(খ) প্রচুর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, কিন্তু দেহ ক্রমশঃ শীর্ণ হতে থাকে । সকল গ্রন্থি ফোলে কিন্তু মেয়েদের স্তন শুকাইতে শুকাইতে. উহার অস্তিত্ব বুঝার উপায় থাকে না ।
(গ) চুপ করে থাকলে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। বর্তমানের জন্য দুশ্চিন্তা ও নৈরাশ্য কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে দুশ্চিন্তা নাই। সামান্য পরিশ্রমে প্রচুর ঘাম হয় । ভয়ানক দুর্বলতা, রোগী এত অবসন্ন দূর্বল কিন্তু তাহার ব্যকুলতা ও উৎকণ্ঠার ভাবটি চুপ করিয়া বসিয়া থাকিলে বা শ‍ইয়া থাকিলে আরও বৃদ্ধি পায় সেই কারণে শারিরীক দূর্বলতা থাকা সত্ত্বেও রোগী সব সময় কোন না কোন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে বা ঘুরিয়া বেড়াইতে বাধ্য হয় ।
(ঘ) অত্যন্ত খিটিখিটে মেজাজ। আত্মহত্যার ইচ্ছা বিশেষতঃ কোন কাজে ব্যস্ত না থাকিয়া চুপচাপ থাকিলে খুন করার বা মারধর করার উচ্ছা জাগে এবং ঐ আবেগ দমন করার জন্য দিবারাত্রি ঘুরিয়া বেড়ায় ।
(ঙ) বিস্মৃতিপরায়ন- সামান্য ব্যাপারগুলি মনে রাখিতে পারে না, যাহা বলিতে যাইতেছিল বা করিতে যাইতেছিল তাহা ভুলিয়া যায়, বাজারে গিয়ে জিনিস কিনে ব্যাগ দোকানে ফেলে বাড়ীতে চলে আসে ।
(চ) লোকভয়- সবাইকে এড়িয়ে চলে ।
(ছ) যে কোন রোগ উপবাসে বৃদ্ধি এবং আহারের পর উপসর্গের উপশম হয় ।
(জ) সামান্য কারণে সর্দি লাগে ।
(ঝ) প্রদর স্রাব প্রচুর, হাজাকারক, জ্বালাজনক, কাপড়ে দাগ পড়ে, কাপড় ফুটো হয়ে যায় ৷
(ঞ)হৃৎপিন্ডের বিবৃদ্ধি, ধড়ফড়ানি মনে হয় কেহ যেন হৃৎপিন্ডটি নিংড়াইয়া দিতেছে ।
(ট) দ্রুফুলা ধাতুগ্রস্থ- গলগন্ড হয় ।

গ্লান্ডের উপর আয়োডিনের কার্যকারিতা:
এই ঔষধটি আগাগোড়া গ্লান্ডগুলির উপর ক্রিয়া করে । ইহাতে রাক্ষুসে ক্ষুধার সহিত শরীর শীর্ণ হতে থাকে। দেহ যত শীর্ণ হতে থাকে তার সমানুপাতে গ্রন্থিগুলি বর্ধিত ও শক্ত হতে থাকে। বিশেষতঃ গলার গ্লান্ড । কিন্তু গ্লান্ডের বৃদ্ধির সঙ্গে স্ত্রীলোকদের স্তন দুটি শীর্ণ হতে হতে থলথলে হয়ে ঝুলতে থাকে ।

আয়োডিয়ামের কোষ্ঠবদ্ধতা: নিষ্ফল মলবেগ, আয়োডিনে কোষ্ঠবদ্ধতা ও উদরাময় পর্যায়ক্রমে দেখা দেয়। ঠান্ডা দুধ খেলে কোষ্ঠবদ্ধতার উপশম হয় ।
আয়োডিন প্রয়োগের উপযুক্ত সময়: গলগন্ড রোগে পূর্ণিমার পর যখন চাঁদ ছোট হতে হতে থাকে তখন প্রয়োগ করলে ভাল ফল দেয়- ডাঃ লিপি
আয়োডিনের মাত্রা- উচ্চ শক্তি ভাল কাজ করে, সদ্য প্রসূত অবস্থায় উচ্চক্রম ব্যতীত প্রয়োগ করা উচিত নয় – ডাঃ হেরিং
শ্বাসযন্ত্রের উপর আয়োডিয়ামের ব্যবহার:

(ক) শিশু কাশিবার সময় গলা চেপে ধরে ।
(খ) প্রবল জ্বরসহ ডানপাশের নিউমোনিয়া
(গ) শ্বাস গ্রহণে কষ্ট
(ঘ) সামান্য শ্রমেই বুক ধড় ফড় করে ।
(ঙ) খুংড়ি কাশি- বুকে সাই সাই শব্দ ।
(চ) গরমে, কথাবার্তা বলিলে, বেড়াইলে, সিড়িদিয়া উপরে উঠিলে কাশির বৃদ্ধি হয় ।
(ছ) রাক্ষুসে ক্ষুধা- প্রত্যেকবার খাইবার সময় বমি ।
(ছ) যক্ষারোগে- কাশির সহিত রক্তমিশ্রিত গয়ার গরম ঘরে বৃদ্ধি কাশির সহিত স্বরভঙ্গ ।

শীর্ণতায় আয়োডিয়ামের সহিত এ্যাব্রোটেনামের তুলনা কর:

আয়োডিয়াম

এ্যাব্রোটেনাম

দৈহিক শীর্ণতার সহিত গ্ল্যান্ডগুলি বর্ধিত হয় । ব্যতিক্রম স্তন গ্রন্থি- স্তনগ্রন্থির শীর্ণতা থাকে ।

শিশুদের শীর্ণতা, বিশেষ করে দেহের নীচের অংশের শীর্ণতা বা শীর্ণতা নীচ হইতে উপরের দিকে উঠে

চুপ করে থাকতে পারে না, থাকলে উৎকণ্ঠা বেড়ে যায় ।

 মেজাজ রুক্ষ, খিটখিটে ।

রোগী গরম কাতর ।

রোগী শীতকাতর ।

খাদ্য দ্রব্যের প্রতিটি কণা গ্যাসে পরিণত হয় ।

মলের সঙ্গে হজম না হওয়া গোটা গোটা খাবার ।

খোলা বাতাসে উপশম ।

ঠাণ্ডা বাতাসে বৃদ্ধি ।



স্পঞ্জিয়া টোস্টা(SPONGIA TOSTA)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
উৎস-ইহা একটি সামুদ্রিক বস্তু, ভূমধ্য সাগরে পাওয়া যায়, নিম্নশ্রেণীর সামুদ্রিক প্রাণীর দেহ বিশেষ ।
প্রাপ্তিস্থান— সমুদ্র ।
সমনাম— রোষ্টেড স্পঞ্জ ।
রোগের কারণ— ঠান্ডা আবহাওয়া, তামাক, গনোরিয়ার স্রাব চাপা পড়িলে, মানসিক উত্তেজনা, মিষ্টি খেলে ।
ধাতুগত লক্ষণ: (ক) ত্রিদোষনাশক ঔষধ, বিশেষতঃ এন্টিসোরিক ও টিউবার কুলার ধাতু (খ) গ্লান্ড গুলি ফোলে (গ) শীতকাতর ।
ক্রিয়া নাশক– ক্যাম্ফর ।

অনুপূরক– হিপার, স্পাইজেলিয়া ।
ক্রিয়ান্থল- শ্বাসযন্ত্র, থাইরয়েড গ্লান্ড, গলগ্রন্থি, হৃদযন্ত্র ইত্যাদি । 
বৃদ্ধি- উপরে উঠতে গেলে, বায়ূ প্রবাহের, মধ্যে রাতের পূর্বে, পূর্ণিমায় ।

উপশম– নীচের দিকে নামলে, মাথা নীচু করে ঘুমালে ।

স্পঞ্জিয়ার নির্দেশক লক্ষণ:

(ক) ইহা টিউরাবকুলার ধাতুদোষে দুষ্ট রোগীদের পক্ষে উপযোগী ।

(খ) শ্বাস কষ্ট শ্বাসকষ্ট এত অধিক যে রোগী কিছুতেই শুইয়া থাকিতে পারে না, উঠিয়া সম্মুখ দিকে ঝুকিয়া বসিতে বাধ্য হয় । ঘুমাইতে ঘুমাইতে রোগী হঠাৎ ভীত ভাবে জাগিয়া উঠে, বোধ হয় যেন দমবদ্ধ হইবার উপক্রম হইয়াছে। যেন স্পঞ্জের ভিতর দিয়া নিঃশ্বাস নিতে হচ্ছে। বুকের মধ্যে সাই সাই শব্দ হয় । করাত দিয়া কাঠ কাটিবার সময় যে শব্দ হয় সেই রকম শব্দ। শ্বাস কষ্টের সহিত সর্বাঙ্গ ঘামিয়া উঠে । রোগী মৃত্যু ভয়ে কাতর হইয়া পড়ে স্পঞ্জিয়াতে যাবতীয় বায়ূপথের অত্যন্ত শুস্কতা থাকে ।

(গ) বুক ধড়ফড়ানি হৃদপিন্ড খুব জোরে জোরে ধড়ফড় করে। সেই সঙ্গে শ্বাস কষ্ট থাকে । দ্বিপ্রহর রাত্রির পর বুকে ব্যথা হইয়া ও দমবন্ধ হইবার উপক্রম হইয়া ঘুম ভাঙ্গিয়া যায়। রোগী শুইতে পারে না কিন্তু সটান অবস্থায় চিৎ হইয়া শুইয়া থাকিলে খুব ভাল বোধ করে । মৃত্যু ভয় দেখা দেয়, সেই সাথে ঘামিতে থাকে । (ঘ) ঋতুর পূর্বে বা ঋতুর সময় হৃদকম্প ও শ্বাসকষ্ট
(ঙ) নীচু বালিশে শুইতে পারে না । গলা ব্যথা মিষ্টি খেলে বাড়ে ৷
(ছ) গ্লান্ডগুলি ফোলে শক্ত হয় । যেমন গলগন্ড ।
(জ) মানসিক উদ্বেগে, মিষ্টি খেলে, ঠান্ডা পানীয়ে, ধুমপানে, মাথা নীচু করে শুয়ে থাকলে, পড়াশুনা করিলে, গান গাইলে, কথা বললে ঢোক গিললে, কাশির বৃদ্ধি হয়। গরম খাদ্য বা পানীয়ে কাশির উপশম হয় ।
(ঝ) প্রচন্ড পিপাসার সহিত রাক্ষুসে ক্ষুধা ।
(ঞ) ঠান্ডা বাতাসে, ঋতুস্রাবের পর ও পূর্ণিমাতে হাঁপানি বৃদ্ধি । হৃৎপিন্ডের উপর স্পঞ্জিয়ার ব্যবহার ।
হৃৎপিন্ডের পীড়া যথা হাইপারট্রপি অব হার্ট, এনজাইনা পেকটোরিস, হৃৎকম্প, ভালভুলার ডিজিজ ইত্যাদি পীড়ায় হৃৎপিন্ড যখন খুব জোরে জোরে ধড়ফড় করে সেই সঙ্গে শ্বাস কষ্ট থাকে, দ্বি প্রহর রাত্রির পর বুকে ব্যথা হইয়া যায় । রোগী শুইতে পারে না কিন্তু সটান অবস্থায় চিৎ হইয়া শুইয়া থাকিলে খুব ভালবোধ করে । মৃত্যু ভয় দেখা দেয়, সেই সাথে ঘামিতে থাকে ।

শ্বাসতন্ত্রের উপর স্পঞ্জিয়ার কার্যকারিতা:
রোগী যাবতীয় বায়ূ পথের শুষ্কতা, স্বরভঙ্গ, ঘুংড়ি কাশি, হুপিং কাশি, সর্দিকাশি, ক্ষয়কাশি, হাঁপানি ইত্যাদি পীড়ায় যখন শ্বাসকষ্ট এত অধিক হয় যে, কিছুতেই শুইয়া থাকিতে পারে না, উঠিয়া সম্মুখ দিকে ঝুকিয়া বসিয়া থাকিতে বাধ্য হয় । ঘুমাইতে ঘুমাইতে হঠাৎ রোগী ভীত হইয়া জাগিয়া উঠে, মনে হয় দমবন্ধ হইয়া যাইবে, যেন স্পঞ্জের ভিতর দিয়া শ্বাস নিতেছে। বুকের মধ্যে সাইসাই শব্দ হয়, করাত দিয়া কাঠ কাটার মত শব্দ হয় । শ্বাস কষ্টের সহিত সর্বাঙ্গ ঘামিয়া উঠে রোগী মৃত্য ভয়ে কাতর হইয়া পড়ে । ঘুংড়ি কাশিতে স্পঞ্জিয়া টোষ্টা
ক্রপ বা ঘুংড়ি কাশি: ঠান্ডা বাতাসে রোগের উৎপত্তি ও বৃদ্ধি হলে । বুকে সাইসাই শব্দের সহিত কাশি । ঘুমের মধ্যে বা ঘুমের পর লক্ষণের বৃদ্ধি হয় ও রোগী দমবন্ধের ভাব হইয়া জাগিয়া উঠে । মনে হয় স্বরযন্ত্রে ছিপির মত কি একটা রয়েছে । মানসিক উদ্বেগে, মিষ্টি খেলে, ঠান্ডা পানীয়ে, ধুমপানে, মাথা নীচু করে শুয়ে থাকলে, পড়াশুনা করিলে, গান গাইলে, কথা বললে, গিললে, কাশির বৃদ্ধি । গরম খাদ্য ও পানীয়ে কাশির উপশম হয় ।

কেলি-বাইক্রম(KALI BICHROMICUM)

প্রভার-ডাঃ ড্রাইসডেল (Drysdale)

সমনাম– পটাশিয়াম বাইক্রোমেট ।
রোগের কারণ— এলকোহল, বিয়ার, গরম আবহাওয়া ৷

ক্রিয়স্থল –
‘ক) শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী অন্ননালী ফুসফুস ও জরায়ু
খ) গ্রন্থি, লিভার, কিডনী, চর্ম ।
গ) সিফিলিস দোষ দূরকারী ঔষধ
ঘ) অস্থি ও হৃৎপিন্ড
রাসায়নিক সংকেত – K2Cr2O7 কেলি বাইক্রমের হ্রাস বৃদ্ধি উপশম-উত্তাপে
বৃদ্ধি-বিয়ারপান করিলে, গ্রীষ্ম ধাতুতে, অনাবৃত হলে, প্রাতে ।
ধাতুগত লক্ষণ:
ক) ত্রিদোষনাশক, বিশেষতঃ সিফিলিস ধাতু দোষের ঔষধ, খ) শীতকাতর
গ) পর্যায়শীলতা
ঘ) মোটা ও ঘাড় খাট
অনূপূরক– এন্টিমটার্ট, আর্সেনিক, ফসফরাস, সোরিনাম ।

ক্রিয়ানশক-আসেনিক, ল্যাকেসিস

কেলি-বাইক্রমের নির্দেশক লক্ষণ:

ক) সিফিলিস ধাতু দোষের রোগী ।
খ) মোটাসোটা, ফর্সা, থলথলে, শিশুদের ঘাড়খাটো ।

গ) শীতকাতর ।
ঘ) লিভার সিরোসিস ।
ঙ) রোগ লক্ষণ ভোরের দিকে বাড়ে ।
চ) ব্যথা অতিদ্রুত স্থান পরিবর্তন করে ।
ছ) পর্যায়ক্রমে পেটের ও বাতের ব্যথা ।
জ) শ্লেষ্মা আঠাল, দড়ির মত ঝুলে থাকে, টানলে লম্বা হয় ।
ঝ) বুড়া আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়া ঢাকা যায় এই রূপ সামান্য পরিমান স্থানে ব্যথা ।
ঞ) রোগী বিয়ার পান এবং অম্লজাতীয় খাবার খেতে চায় এবং মাংসে অনীহা ।
ট) চর্মরোগ গ্রীষ্মকালে বৃদ্ধি ।
ঠ) মাথাব্যথার শুরুতে রোগী কিছুই দেখিতে পায় না, মাথাব্যথা বাড়ার পর স্পষ্ট দেখে; ব্যথা স্থান পরিবর্তন করে, অল্প পরিসর স্থানে ব্যথা, ব্যথা হঠাৎ আসে হঠাৎ যায় ।
ড) কাপড় খোলার সময় কাশি বৃদ্ধি ।

শ্বাসযন্ত্রের পীড়া কেলি বাইক্রম ও সেনেগার তুলনা: 

কেলিবাইক্রম

সেনেগা

গ্রীষ্ম ঋতুতে বৃদ্ধি ।

ঠান্ডা বাতাসে নিঃশ্বাস লইলে বৃদ্ধি ।

নিঃশ্বাস লইবার জন্য বিছানায় উঠিয়া সম্মুখের দিতে ঝুঁকিয়া বসিতে বাধ্য হয় ।

পিছনের দিকে মাথা হেট করিলে উপশম ।

রোগী বারে বারে কফ তুলিয়া ফেলিবার চেষ্টা করে কিন্তু সহজে কফ উঠে না। কফ আঠা আঠা, চটচটে, দড়ির মত ঝুলে থাকে ।টানলে লম্বা হয় ।

ডিমের সাদা অংশের মত শ্লেষ্মা বহু কষ্টে প্রচুর পরিমানে উঠে ।

কাশিতে কাশিতে কফ বাহির করিতে পারিলে উপশম বোধ করে ।

প্রায়শঃ হাচি হয়ে কাশির নিবৃত্তি হয় ।





 

ব্যারাইটা কার্বনিকা(BARYTA CARBONICA)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
ধাতুগত লক্ষণ— শীতকাতর, সোরা ধাতু ।
সমনাম– বেরিয়াম কার্বোনেট ।
রোগের কারণ– আবেগ এবং পায়ের তলার ঘাম চাপা পড়ে অনুপূরক- সালফার, টিউবার ।
রাসায়নিক সংকেত = BaC03
ক্রিয়াস্থল- মন, পুষ্টি, গলার গ্রন্থি, হৃৎপিন্ড স্নায়ূমন্ডলী, শিরা, ফুসফুস।

ক্রিয়ানাশক-এন্টিমটার্ট, বেল, ক্যাস্কর, ডলকা, জিঙ্কাম ।

উপশম-একলা থাকিলে, ঠান্ডা খাদ্য খাইলে ।
বৃদ্ধি– ঠান্ডা বাতাস, ঠান্ডা পানিতে গোছল করিলে, স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায়, গ্রম খাদ্য, রোদ্রে (মাথাধরা), উনানের ধারে থাকিলে, বাহু উর্ধে উঠাইলে, মানসিক উত্তেজনায়, রোগের কথা ভাবিলে, আহারের পর, বাম পাশ বা ব্যথাযুক্ত স্থানে শয়নে ।
ধাতুগত লক্ষণ:
(ক) রোগী শীতকাতুরে, প্রায়ই সর্দিকাশি হয়, টনসিলদ্বয় সর্বদাই ফুলে থাকে ।
(খ) শরীরের নানা স্থানে যথা ঘাড়, কুচকী ও পেটের গ্রন্থিগুলি বড় ও কঠিন
(ঘ) কোন অবস্থাতেই ঠান্ডা সহ্য করিতে পারে না বলিয়া সর্বদা গা আবৃত করিয়া থাকে ।
চরিত্রগত লক্ষণ:

১ । ইহার অধিকাংশ উপসর্গ গলায় প্রকাশ পায় । ডিমের সাদা অংশের মত শ্লেষ্মা বহু কষ্টে প্রচুর পরিমানে উঠে । কাশিতে কাশিতে কফ বাহির  করিতে পারিলে উপশম বোধ
২।পীড়ার গতি ডান থেকে বাম দিকে । প্রায়শঃ হাচি হয়ে কাশির নিবৃত্তি হয় ।
৩। খর্বাকৃতি, অকাল বার্ধক্য ।
৪ । প্রায়ই সর্দি কাশি হয়, গ্লান্ডগুলি ফোলে শক্ত হয়ে যায় বিশেষতঃ টনসিল ।
৫ ।সর্বদা মুখ হতে লাল পড়ে, ঘুমের মধ্যেও মুখ হতে লালা পড়ে । টানলে লম্বা হয় ।

৬। শিশু দেরীতে হাঁটা ও কথা বলা শিখে ।
৭। শীতকাতর, সর্বদা জামাকাপড় পড়ে থাকে ৷
৮। পায়ের তলায় দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম, পা ঠান্ডা ও আঠা আঠা ।

৯। প্রতিবার প্রস্রাবের জন্য কোঁথ দিলে অর্শ হতে রক্তপাত ।

১০। মুখ হতে দুর্গন্ধ বের হয় । সকাল বেলা মুখ শুষ্ক থাকে ।
১১ । গলা ব্যথায় গলায় কাটা বা প্লাগ আছে বোধ । টনসিল পেকে পূঁজ হয় ।

মানসিক লক্ষণ:

(ক) লাজুক ও ভীরু, শিশুরা অপরিচিত কোন লোক দেখিলে মায়ের পিছনে লুকায়, অন্য শিশুদের খেলা দেখে কিন্তু নিজে অংশ গ্রহন করেনা, এদের কোন বন্ধু নাই ।
(খ) আত্মবিশ্বাসের অভাব
(গ) স্মৃতিশক্তি দূর্বল, পড়াশুনায় অন্যন্ত অমনোযোগী ।
(ঘ) সন্দেহ বাতিক কাউকে হাসতে দেখলে ভাবে তাকে নিয়ে হাসতেছে।
(ঙ) অপরিচিত লোকের সঙ্গে অস্বস্থি বোধ করে ।
(চ) বার্ধক্যজনিত চিন্তাশক্তি বা স্মৃতিশক্তির লোপ ।
(ছ) শিশু সুলভ আচরণ, সামান্য কারণেই মনে ব্যথা পায় ।

টনসিলাইটিসে ব্যারাইটা কার্বের লক্ষণ:
যে সব শিশু ভালভাবে বাড়ে না, দেরীতে হাঁটিতে শিখে, দেরীতে কথা বলিতে শিখে, তাহাদের সামান্য ঠান্ডা লাগিলেই যদি টনসিল প্রদাহ হইয়া ফুলিয়া উঠে তবে ব্যরাইটা কার্ব উপযোগী । ধীরে ধীরে টনসিল বড় হয় ও সহজে পূজ জন্মে না । ঢোক গিলিলে ব্যথা, মনে হয় গলায় একটা গোজ বিধান আছে ।
ব্যারাইটা কার্বনিকা “হোমিও জগতের একটি অবদান” আলোচনা কর :। ব্যরাইটা কার্ব হোমিও জগতের একটি অবদান কারণ
ক) অধিকাংশ ঔষধে হয় মানসিক খর্বতা থাকে, না হয় শারিরীক খর্বতা থাকে কিন্তু ব্যারাইটা কার্বে শারিরীক ও মানসিক খর্বতা থাকে ৷ ফলে শিশু দেরীতে বাড়ে। দেরীতে কথা বলা শিখে, দেরীতে হাঁটে, যৌবন বিলম্বে আসে, সহজে পড়া মুখস্থ হয় না ইত্যাদি ।
খ) ইহা শিশুদের ও বৃদ্ধ বয়সের ঔষধ ।
গ) ইহা একটি ধাতুদোষ নষ্টকারী ঔষধ, ইহার ক্রিয়া ধীর কিন্তু গভীর ক্রিয়াশীল । ইহার ক্রিয়াক্ষেত্র বিস্তৃত নয় তথাপি ইহার আওতায় ক্রিয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে ।

ব্যারাইটা কার্বের মর্মবাণী– ইহার রোগীরা সকল বিষয়েই অপরিপক্ক শারিরীক গঠন ও মানসিক বিকাশের খর্বতা। দেরীতে হাঁটিতে শিখে, দেরীতে কথা বলে, দেরীতে যৌবন আসে, ইত্যাদি সকল বিষয়েই ইহারা পিছিয়ে থাকে ৷

শিশু চিত্রে ব্যারাইটা কার্বের সঙ্গে সাইলিসিয়ার তুলনা ব্যারাইটা কার্ব:

ব্যারাইটা কার্ব

সাইলিসিয়া

শিশু শারিরীক ও মানসিক ভাবে খর্ব ।

শিশু শারিরীক ও মানসিক ভাবে দূর্বল ।

সকল বিষয়ে অপরিপক্ক শিশু ।

রিকেটিক শিশু, বহুদিন পর্যন্ত ব্রহ্মতালু খোলা থাকে ।

শিশু লাজুক ও ভীতু ।

শিশু ভীতু, অবাধ্য ও গোঁয়ার ।

শিশু অন্যদের খেলা বসে বসে দেখে কিন্তু নিজে অংশগ্রহন করেনা

শিশু আলপিন নিয়ে খেলা করে, আলপিন গুনে দেখে ।

জন্মগত ভাবেই তার দেহ, মন ধীরগতি সম্পন্ন

পুষ্টিহীনতার অভাবই পীড়ার কারণ

 সর্বাঙ্গের খর্বতা থাকে

 হাত পা গুলি শুকাইয়া যায় ।


গ্রন্থিপীড়ায় ব্যারাইটা কাৰ্ব:
শরীরের নানা স্থানে যথা ঘাড়ে, কুচকি, গলা, প্রষ্টেট গ্রন্থি, অন্ডকোষ, কানের চার পাশের গ্রন্থি প্রভৃতি ফুলে বড় ও শক্ত হয় ।
যে সব রোগী শীতকাতর, ঠান্ডা সহ্য করিতে পারে না বলিয়া সর্বদা গা আবৃত করিয়া রাখে, শিশু দেরীতে হাঁটা শিখে, দেরীতে কথা বলে, ভালভাবে বাড়ে না, সামান্য ঠান্ডা লাগিলে টনসিল ফুলে ও ধীরে ধীরে বড় হয় কিন্তু সহজে পূজ জমে না তাদের টনসিলে অধিক উপকারী ।

ক্যাম্ফোরা অফিসিনেরাম(CAMPHORA OFFICINALIS)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
রাসায়নিক সংকেত– C10H16 O 
সমনাম– ক্যাম্ফর ।
ধাতুগত লক্ষণ— শীতকাতর, ঠান্ডা বাতাস সহ্য করতে পারে না, এন্টিসোরিক ।
রোগের কারণ- আঘাতের মন্দ ফল, বিরক্তি, চর্মরোগ চাপা পড়া । সূর্যোতাপ, ঠান্ডা বাতাস ইত্যাদি ।
ক্রিয়ানাশক – ওপিয়াম, ফসফরাস
অনুপূরক- ক্যান্থারিস, কার্বোভেজ
উপশম– গরমে
বৃদ্ধি- নড়াচড়ায়, রাতে, স্পর্শে, ঠান্ডা জায়গায় ।

উৎস– কপূর
ক্রিয়াস্থল-হজম পথ, মেরুমজ্জার স্নায়ূমন্ডলী, মূত্রযন্ত্র ও নাক ।
ক্যাক্ষরের নির্দেশক লক্ষণ:

(ক) উদ্ভিদ জাত সমস্ত ঔষধের ক্রিয়ানাশক ।
(ক) সমস্ত শরীর বরফের মত ঠান্ডা অথচ গায়ে কোন কাপড় রাখিতে চায়না, শরীরে জ্বালাবোধ ।
(খ) মুখমন্ডল নীল বৰ্ণ ।
(গ) তরুণ রোগে অত্যন্ত পিপাসা কিন্তু পূরাতন রোগে পিপাসা থাকে না ।

(ঙ) সর্দি লাগার প্রথম অবস্থায় রোগীর শীত শীত ভাব এবং হাঁচি ।

(চ) ঠান্ডা এবং স্পর্শ সহ্য করিতে পারে না ।
(ছ) অন্ধকারে ভয়, রাতে একাকী থাকিলে ভয় ।

(জ) ঠান্ডা পানীয় পছন্দ করে ।

(ঝ) ঘাম ঠান্ডা, নিঃশ্বাস ঠান্ডা
(ঞ) জিহবা ঠান্ডা ও নীল ।
(ট) যৌন সংযোগের পূর্ব মুহুর্তে লিঙ্গ শিথিল হয়ে পড়ে ।

(ঠ) দিনে নিদ্রালুতা ও নিদ্রা, রাতে নিদ্রাহীনতা
(ন) ব্যথার কথা মনে হলে ব্যথার উপশম ।

কলেরায় ক্যাম্‌ফরের ব্যবহার:
(ক) মল কালচে, অনিচ্ছায় বের হয় । শরীর বরফের মত ঠান্ডা, কিন্তু গায়ের কাপড় ফেলিয়া দেয়, সামান্য গরম সহ্য করিতে পারে না ৷ শ্বাস প্রশ্বাস ঠান্ডা, জিহ্বা নীল বর্ণ, অত্যন্ত পিপাসা ঠাণ্ডা পানি চায় । মুখ মন্ডল নীল বর্ণ ধারণ করে ।


 

সিমিসিফিউগা(Cimicifuga Racemosa)

প্রুভার-ডাঃ সি,জে, হ্যামপেল, জিনেছ
সমনাম– একটিয়া রেসিমোসা, ব্লাককোহোস

প্রাপ্তিস্থান– কানাডা, জর্জিয়া, আমেরিকার দক্ষিণ অংশ ।

রোগের কারণ— উৎকণ্ঠা, ভয়, ব্যর্থপ্রেম, ব্যবসায়ে লোকসান, অতিরিক্ত সন্তান প্রসব ।
অনুপূরক— কলোফাই, পালস, সিপিয়া, লিলিয়ম ।

উৎস-এক প্রকার বহু বর্ষজীবি উদ্ভিদের টাকা মূল ।

ধাতুগত লক্ষণ— শীতকাতুরে, এন্টিসোরিক, বাত প্ৰবণতা

সিমিসিফিউগার মর্মবানী :
ক) পর্যায়ক্রমে শারিরীক ও মানসিক লক্ষণ প্রকাশ পায় ।

খ) রোগী শীতকাতুরে, গরম চায়, কিন্তু শিরপীড়ায় ঠান্ডা চায় ।

ক্রিয়াস্থল-মন, মস্তিষ্ক, মেরুমজ্জা, মাংপেশী, ডিম্বকোষ, জরায়ূ

ক্রিয়ানাশক- একোনাইটি, ব্যাপটেসিয়া, ক্যাম্ফার, পালসেটিলা বৃদ্ধি- প্রাতে, ঠান্ডায়, ঋতুস্রাবের সময় রজঃস্রাব যতবেশী হয় যন্ত্রনাও তত বাড়ে, জলো ঠান্ডা বাতাসে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে ।

উপশম- উত্তাপে, গরম কাপড় জড়াইলে, খোলা বাতাসে, চা পানে, খাওয়ার পর ।

চরিত্রগত লক্ষণ:

১। এই ঔষধটি মহিলাদের সন্তান জন্মদান বয়সের বিভিন্ন উপসর্গে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় ।
২। বামদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
৩। যাহাদের গর্ভের তৃতীয় মাসে গর্ভপাত হয় ।
৪। মৃগী রোগে রোগীর মনে হয় মস্তকে ঢেউ খেলতেছে, একবার খোলে আবার বন্ধ হয় ৷
৫। গর্ভের শেষ মাসে সিমিসিফিউগা প্রয়োগ করিলে ডেলিভারী স্বাভাবিকভাবে হয় ।
৬। যুবতী রমণীর মুখে মেচেতা ।
৭। জরায়ুর পীড়ার সহিত অন্য কোন পীড়া ।
৮। ঋতুস্রাবের সময় সমস্ত উপসর্গ বৃদ্ধি পায় ।
৯ । সমস্ত শরীরের মাংসপেশীতে বেদনা, মনে হয় থেতলে গিয়েছে । বিশেষতঃ ঘাড়ের ও পিঠের মাংসপেশীতে ।
১০। ইলেকট্রিক শকের মত একবার এখানে আরেকবার অন্যখানে ব্যথা অনুভূত হয় ।
১১। গর্ভের সমস্ত সময়টায় বমি বমি ভাব, নিদ্রালুতা, এবং সূক্ষ্ম ব্যথা যা পাছার একদিক থেকে অন্যদিকে পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে ।

স্ত্রী জননযন্ত্রে সিমিসিফিউগার ব্যবহার:
(ক) ঋতু স্রাবের সহিত ব্যথা বৃদ্ধি পায় স্রাব যত বেশী হইতে থাকে ব্যথাও তত প্রচন্ডতর হইয়া উঠিতে থাকে । ব্যথা পাছার একদিক হইতে অন্যদিক পর্যন্ত আড়াআড়ি ভাবে প্রকাশ পাইতে থাকে । ঋতুস্রাব প্রচুর, কাল বর্ণ, চাপচাপ, দুর্গন্ধযুক্ত।
(খ) জরায়ু ভ্রংশ- মনে হয় জরায়ূ যৌনিপথে বাহির হইয়া পড়িতেছে । জরায়ুতে বেদনা তলপেটের এক পাশ হইতে অন্য পাশে পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ।
(গ) প্রসব ব্যথা-ব্যথা যখন নিয়মিত হয় তখন রোগীণি “কোমর গেল . কোমর গেল” বলিয়া চিৎকার করিতে থাকে কোমর ও পাছা চাপিয়া ধরে, কোমরটি জোরে জোরে টিপতে বলে । প্রসব ব্যথার সময় গোলমাল সহ্য করিতে পারে না ।
সিমিসিফিউগার মানসিক লক্ষণ:

(ক) পর্যায়ক্রমে মানসিক ও দৈহিক লক্ষণ প্রকাশ পায় । শারিরীক লক্ষণ প্রকাশ পেলে মানসিক লক্ষনের উপশম হয় আবার মানসিক লক্ষণ বৃদ্ধি পেলে শারিরীক লক্ষনের হ্রাস হয়। যেমন স্ত্রীলোকদের বাতের লক্ষন উপশম হইয়া হিষ্টিরিয়া দেখা দেয়, স্নায়ু শূলের ব্যথা কমে গেলে প্রচণ্ড উন্মাদ অবস্থা দেখা দেয় ।
(খ) ভবিষ্যৎ বিপদ সম্বন্ধে স্বপ্ন দেখে । ইঁদুর স্বপ্ন দেখে, মনে হয় ইঁদুর চেয়ারের নীচ দিয়া হাঁটিতেছে ।
(গ) বাচালতা- অবিরত কথা বলে, দ্রুত প্রসঙ্গ বদলায় ৷
(ঘ) ঢাকা দেওয়া গাড়ীতে উঠিলে ভয় পায় । আবার অনবরত বেড়াতে চায়।
(ঙ) তুচ্ছ বিষয়ে উত্তেজিত হইয়া উঠে ।
(চ) প্রসব ব্যথার সময় শব্দ বা গোলমাল সহ্য করিতে পারে না ।

(ছ) স্ত্রীলোক মনে করে সে পাগল হয়ে যাবে ।
(জ) মৃত্যু ভয় ।
(ঝ) মনে হয় তার (স্ত্রীলোক) উপরে ঘন মেঘ জমেছে, সেই মেঘ তার মাথাকে ঢেকে রয়েছে, ফলে সবকিছু অন্ধকার দেখে ।

ফসফরাস(Phosphorus)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
রোগের কারণ— ক্রোধ, ভয়, দুঃখ, বিরক্তি, মানসিক পরিশ্রম, মানসিক উত্তেজনা, উগ্রগন্ধ, বৃষ্টিতে ভিজা, শরীরের তরল পদার্থের ক্ষয়, ভারী জিনিস উত্তোলন করা, কাপড় কাঁচা, চুল কাটা ।

বৃদ্ধি— বাম পাশে ঘুমালে, সন্ধ্যায়, ঝড় বৃষ্টির সময়, সিড়ি দিয়া উপরে উঠলে, সংস্পর্শে, মানসিক ও শারিরীক পরিশ্রমে, গরম পানাহারে, সন্ধ্যায়, আবহাওয়ার পরিবর্তনে, গরম বাতাসে, ব্যথাযুক্ত পাশে ঘুমালে ।
উপশম— অন্ধকারে, ডান পাশে ঘুমালে, ঠান্ডা পানাহারে, খোলা ঠান্ডা বাতাসে, ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুইলে, ঘুমাইলে ।
ইহা ক্রিয়ানাশক– নাক্স ভম, কফিয়া
ইহার ক্রিয়ানাশক– নাক্স-ভম, টেরিবিহিনা
অনুপূরক– আর্সেনিক, কার্বোভেজ, ইপিকাক, লাইকো, সাইলি

ফসফরাসের রাসায়নিক সংকেত – P
ধাতুগত লক্ষণ:
(ক) এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ

(খ) শীতকাতর
(গ) লবন প্রিয়, অধিক মসল্লাযুক্ত খাদ্য পছন্দ করে
(ঘ) রক্তস্রাব প্রবণ
(ঙ) ক্ষয়রোগ প্রবণতা
ক্রিয়াস্থল- রক্ত, চোয়ালের হাড়, ফুসফস, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, পেশী, লিভার ইত্যাদি ।
দৈহিক গঠন— লম্বা, পাতলা, ফর্সা, সুন্দর ভ্রু, কটাচুল কোলকুঁজো, সরু বুক, চামড়া পাতলা ।

চরিত্রগত লক্ষণ:

১। অধিকাংশ পীড়ার সহিত মাথাঘোরা। খোলা বাতাসে, আহারের পর, সন্ধ্যায় মাথাঘোরে ।
২। বামদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
3.মাথা ও দেহে হাত বুলাইলে আরান পায় ও ঘুমাইয়া পড়ে ।
4. বেলা ১১টায় পেট খালি খালি বোধ হয় ।
৫। লবণ খাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা, আইস ক্রীম, চকলেট ও মসলাদার খাবার পছন্দ করে, নাছ খেতে চায় না।
৬। বরফ ঠান্ডা পানি পানের ইচ্ছা, ঠান্ডা খাবার খায় ।
৭। মুখ ও মাথার লক্ষণ ঠান্ডা বাতাসে উপশন কিন্তু ঘাড়, গলা, বুকের লক্ষণের বৃদ্ধি হয় ।
৮। শিরপীড়ায় নাথা দপ দপ করে, গরমে বৃদ্ধি, ঠান্ডার উপশম তীব্র ক্ষুধার উদ্রেক হয়, ক্ষুধা দেখিয়া রোগী বুঝে তার মাথা ব্যথা শুরু হবে ।
৯। পাকস্থলীর ব্যথা ঠান্ডা পানি পানে উপশম ।
১০। শরীরের নানা স্থানে যথা মুখ, পাকস্থলী, ক্ষুদ্র অস্ত্র, মলদ্বার ও দুই কাধের মাঝে জ্বালা ।
১১। বামদিকের পক্ষাঘাত ।
১২। সামান্য ক্ষত হতে প্রচুর রক্তস্রাব ।
১৩। ঋতুস্রাবের পরিবর্তে নাক হতে রক্তস্রাব, নাকে পলিপ ।
১৪। রোগী মেধাবী কিন্তু শারীরিকভাবে দুর্বল ।
১৫। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাল ও নীল বর্ণের দাগ, সামান্য আঘাতে নীল বর্ণের দাগ পড়ে ৷
১৬। রাতে রাক্ষুসে ক্ষুধা, না খেলে ঘুম হয় না ।
১৭। বৃদ্ধদের পর্যায়ক্রমে কোষ্ঠবদ্ধতা ও উদরাময় ।
১৮। ভূত, কীট পতঙ্গ, অন্ধকার, বজ্রপাতে ভয় পায় । একাকী থাকলে মৃত্যু ভয় ।
১৯ । আলো, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শের প্রতি অতি অনুভূতিশীল (Oversensitive)।

২০। রোগীর মনে হয় যে আসনে বসিয়া আছে সেই আসনটি যেন উপরে উঠিতেছে ।
২১। মনে হয় ঘরের সব কোণ হইতে কিছু হামাগুড়ি দিয়া বের হয়ে আসছে।
২২। প্রচণ্ড ক্রোধপরায়ণ, সাহস কমে যায়, সহজে বিরক্ত হয়, অতীন্দ্রিয় দৃষ্টি, স্মরণশক্তি কমে যায় ।

২৩ । ভীষণভাবে চমকে উঠে ।
২৪ । একাকী থাকিলে মৃত্যুভয় দেখা দেয় ।
২৫ । উন্মাদ অবস্থা— মনে করে তার মূল্য/গুরুত্ব খুব বেশী ।

২৬ । উত্তেজিত অবস্থায় সমস্ত শরীর গরম হইয়া পড়ে ।

রক্ত স্রাবে ফসফরাস:
(ক) নেজাল পলিপ, কানের ও জরায়ুর টিউমার হইতে রক্ত স্রাব

(খ) কাশির সহিত শ্লেষ্মামিশ্রিত রক্ত বা প্রচুর রক্ত আসে ।
(গ) ঋতুস্রাব বন্ধ হইয়া বা পাকস্থলীর ক্যানসারের জন্য কফি গোলার মত কালো রক্ত বমন ।
(ঘ) স্ফীত মাড়ি হইতে রক্তপাত, দাঁত তোলার পর ক্রমাগত রক্তস্রাব

(ঙ) কোষ্ঠকাঠিন্যে মলদ্বার হতে রক্তস্রাব। নানাস্থান হইতে কারণে অকারণে বা সামান্য কারণে প্রচুর রক্তস্রাব ।

জনন যন্ত্রের লক্ষণে ফসফরাস ও সেলিনিয়ামের তুলনা কর:

ফসফরাস- অদম্য সঙ্গম ইচ্ছা কিন্তু সঙ্গম শক্তির অভাবে পূরণ
করিতে পারে না, কামোদ্দীপক স্বপ্নের সঙ্গে অজ্ঞাতসারে শুক্রক্ষরণ ।
সেলিনিয়াম- স্ত্রী সহবাসের প্রবল ইচ্ছা কিন্তু রতিশক্তির অভাব, স্ত্রী সহবাসের চেষ্টা করিলেই লিঙ্গ শিথিল হইয়া যায় ও সহজেই বীর্যপাত হয়ে যায়। প্রাতে লিঙ্গ শক্ত হইলেও রতিক্রিয়ার কোন ইচ্ছা থাকে না ।

মূত্র যন্ত্রের লক্ষণে ফসফরাস ও সেলিনিয়ামের পার্থক্য:

ফসফরাস

সেলিনিয়াম

রক্ত মূত্র

ঘুমের মধ্যে ফোটা ফোটা শুক্রপাত, প্রষ্টেট রসক্ষরণ

লালবর্ণের তলানী পড়ে

শুক্র পাতলা, গন্ধহীন

 সঙ্গম শক্তির অভাব কিন্তু অদম্য সঙ্গমেচ্ছা

সঙ্গম চেষ্টায় লিঙ্গ শিথিল হইয়া পড়ে ।

মূত্র গ্রন্থির প্রদাহ- মূত্রে চর্বি মত কাষ্ট বা মোমের থাকে ।

মূত্র ও মল ত্যাগের পর বা চলিবার সময় অসাড়ে ফোটা ফোটা প্রস্রাব হয় ৷












 পালসেটিলা (PULSATILLA)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
উৎস- প্রকার বহু বর্ষজীবি উদ্ভিদের টাটকা বাকল ।

প্রাপ্তিস্থান— মধ্য ও উত্তর ইউরোপ ।
সমনাম– উয়িঙ্গ ফ্লাওয়ার (Wing flower) ।
রোগের কারণ— পা ভিজিয়া ঠান্ডা লাগিলে, তৈলাক্ত খাবার, আইসক্রীম, চা, কফি, এবরশন, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, পারদের অপব্যবহার ।
অনুপূরক ঔষধ-লাইকো, আর্জে-নাই
ক্রিয়ানাশক ঔষধ– ক্যামোমিলা, কফিয়া, ইগ্নেসিয়া, নক্স-ভম
ধাতুগত লক্ষণ:
(ক) এন্টিসোরিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ
(খ) শ্লেষ্মা প্রধান ধাতুর ঔষধ ।
(গ) পরিবর্তনশীলতা ।
(ঘ) পালসেটিলা শীত কাতর না গরম কাতর তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নাই । কেউ মনে করেন শীতকাতর কেউ মনে করেন গরম কাতর । যেহেতু পর্যায়শীলতা এই ঔষধের অন্যতম লক্ষণ । তাই উভয় অবস্থাতেই রোগী পাওয়া যায়। আবার ইহা প্রয়োগ করার পর রোগী শীতকাতর থেকে গরম কাতর বা গরম কাতর থেকে শীতকাতরে পরিণত হয় ।
(ঙ) ক্ষুধা কম ও তৃষ্ণাহীনতা ।
(চ) বায়ু প্রবাহ নির্দেশক যন্ত্রের সদৃশ ঔষধ গুলির একটি ক্রিয়াস্থল— চোখ, কান, জননেন্দ্রিয়, পাকস্থলী, শ্বাসযন্ত্র, মুখমন্ডল, মাথা, প্রোষ্টেট গ্লান্ড, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী ইত্যাদি
উপশম— খোলা বাতাসে, সঞ্চালনে, ঠান্ডা কিছু লাগালে, ঠান্ডা পানাহারে, ব্যথাযুক্ত পাশে শয়নে ।
বৃদ্ধি— উত্তাপে, গরম মশলা ও চর্বিযুক্ত খাদ্যে, খাবারের পর, সন্ধ্যায়, উষ্ণগৃহে, বাম পাশে বা ব্যথাহীন পাশে শুলে, হাত পা ঝুলিয়ে রাখলে ।

চরিত্রগত লক্ষণ:

১। মেয়েদের প্রথম ঋতুস্রাবের (Puberty) পর থেকেই যে সব সমস্যা দেখা দেয় তার ধারাবাহিকতা চলতেই থাকে ।
২। বামদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে।
৩। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভাব ।
৪। উঁচু বালিশে ঘুমায় ।
৫। ব্যথা অনবরত স্থান পরিবর্তন করে। যত ব্যথা তত শীত অনুভব করে।
৬। তৈলাক্ত খাবার, মাংস পছন্দ করে না ।
৭। অতিরিক্ত শ্বেত প্রদর স্রাবের জন্য বন্ধ্যাত্ব ।
৮। চোখের উপরের পাতায় আঞ্জনি (Stye ) ।
৯। শীত পিত্ত (Urticaria) – গুরুপাক খাবার ( Rich food) বিলম্বিত ঋতুস্রাবের পর। ডায়রিয়া বা কাপড় পরিবর্তনকালে বৃদ্ধি ।
১০। রোগিনীর শরীর গরম ও চর্ম খসখসে।
১১। তৈলাক্ত খাবার, পিঠা খেলে পেটের পীড়া বৃদ্ধি
১২। পাকস্থলীর পীড়া প্রাতে এবং মানসিক লক্ষণ সন্ধ্যাবেলা বৃদ্ধি পায় ।
১৩। এক অঙ্গে ঘাম হয় ।
১৪। রোগী যখন শীতবোধ করে তখন খোলা বাতাসে আরাম পায় এবং গা খোলা রাখে ।
১৫। ব্যথা হঠাৎ আসে ধীরে ধীরে কমে বা ধীরে ধীরে শুরু হয় হঠাৎ চলে যায়।
১৬। কেবলমাত্র রাতে ডায়রিয়া। ফল, তৈলাক্ত খাবার, ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রীম খেয়ে ডায়রিয়া ।
১৭। কাশতে কাশতে অসাড়ে মূত্র নির্গত হয় ।
১৮। চিৎ হইয়া শয়নে বার বার মূত্রবেগ ।

পালসেটিলার সংক্ষিপ্ত চিত্র:
১। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভাব ।
২। পরিবর্তনশীলতা ।
৩। তৈলাক্ত খাবার পছন্দ করে না ।
৪। ব্যথা হঠাৎ আসে ধীরে ধীরে কমে বা ধীরে ধীরে শুরু হয়, হঠাৎ কমে ।

৫। ক্রন্দনশীল, শান্ত মেজাজ, সান্ত্বনা বা সহানুভূতি প্রকাশ করলে রোগীর ভাল লাগে ।

প্রসব বেদনায় পালসেটিলা ও সিকেলি করের তুলনা কর: 

পালসেটিলা

সিকেলি কর

প্রসব ব্যথা ধীরে ধীরে  আসে, প্রথম হইতেই অনিয়মিত  আসে— কখন কম তেজে আবার  কখনো খুব জোরে ব্যথা আসিতে  থাকে, কখনো দেরীতে আবার কখনো তাড়াতাড়ি ব্যথার বেগ আসে । জরায়ুর মুখ শীঘ্র খোলে না, তার উপর কখন মাঝে মাঝে   মূৰ্চ্ছা যাইতে থাকে । জরায়ুর মুখ ফাঁক হইলেও ব্যথার জোর না থাকাতে সন্তানের মাথা বেশী দূর বাহিরে আসিতে পারে না । 

প্রসবকালে জরায়ুর মুখ খোলা সত্ত্বেও জরায়ুর পেশীর শিথিলতাবশতঃ সন্তান বের হওয়ার মত ব্যথা উঠে না। অনিয়মিত প্রসব বেদনা- বোধ হয় যেন বেদনা ক্রমে ক্রমে কমিয়া যাইতেছে বা একেবারে থাকে না। ফুল পড়িতে বিলম্ব হয় ।    কারণ জরায়ুর তেমন  চাপ দিতে পারে না । 

পোয়াতির মেজাজ খুব নরম, প্রসবের সময়, দরজা জানালা খুলে দিতে বলে । গরম ঘরে দম আটকান ভাব হয় । কষ্ট বোধ হয়, তাই খোলা বাতাস চায় ।

শরীরের ভিতর জ্বালাবোধ কিন্তু শরীর বরফের মত ঠান্ডা, তথাপি গায়ে কোন  কাপড় চোপড় সহ্য করিতে পারে না। রোগী দেখিতে কৃশ । চর্ম, শুষ্ক, খসখসে ।

বহুল ব্যবহৃত ঔষধ বলিতে কি বুঝ ? পালসেটিলা নাইগ্রিকানস একটি বহুল ব্যবহৃত ঔষধ বা গলিক্রেষ্ট আলোচনা কর:
যে ঔষধ অধিকাংশ রোগে অথ্যাৎ সর্বদা রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অর্থ্যাৎ যাহা সর্বদা চিকিৎসাকালে প্রয়োজনীয় তাহাই বহুল ব্যবহৃত ঔষধ ।
পালসেটিলা নাইগ্রিকানস একটি বহুল ব্যবহৃত ঔষধ কারণ ইহা আমাদের দেহের অধিকাংশ অঙ্গে ক্রিয়া প্রকাশ করে । মুখমন্ডল, মাথা, প্রোষ্টেট গ্লাল্ড, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী ইত্যাদি অঙ্গে ক্রিয়া প্রকাশ করিয়া নানা লক্ষণ উৎপন্ন করে বিশেষতঃ স্ত্রী লোকদের উপর বিশেষ ভাবে ক্রিয়া প্রকাশ করে । হোমিও প্যাথিক চিকিৎসায় যে সব ঔষধ সব সময় ব্যবহৃত হয় তাহাদের মধ্যে অন্যতম হল পালসেটিলা । তাই ইহাতে বহু ব্যবহৃত ঔষধ বা পলিক্রেষ্ট বলা হয় ।
পালসেটিলার মানসিক লক্ষণ:

ক) ক্রন্দনশীল, সহজেই কেঁদে ফেলে ও আবেগের কথা প্রিয়জনদের নিকট বলতে গেলেই কেঁদে ফেলে ।
খ) কথার বাধ্য, অভিমানিনী, সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে ।
গ) মন দুঃখ ও নিরাশাপূর্ণ । মনে করে কেহই তাকে গ্রাহ্য করে না, সকলেই উপেক্ষা করে এবং সহানুভূতি বা সমবেদনা পাইবার জন্য পাগল হইয়া বেড়ায়
ঘ) ভীরু ও অস্থির চিত্ত। সন্ধদ্র সময় একা থাকতে ভয় করে । অন্ধকারে ভয়, ভুতের ভয় ।
ঙ) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর স্ত্রী পুরষ জাতিকে, পুরুষ স্ত্রীজাতিকে ভয় করে ।
চ) ধর্ম বিষয়ে বাড়াবাড়ি/ধর্মোন্মাদ ।
ছ) আনন্দ হউক আর ব্যথাই হউক সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি ।

জ) আবেগ প্রবণ— তার সমস্ত আবেগ শান্ত্বনায় উপশম হয় ।

ঝ) মেজাজ সব সময় পরিবর্তনশীল-এই হাসে এই কাঁদে ।

ট) শিশু হৈচৈ/ চেচামেচি ও আদর পছন্দ করে ।

ঠ) আনন্দ বা ব্যথা সব বিষয়েই বাড়াবাড়ি ।

প্লাম্বাম মেটালিকাম(Plumbum Metallicum)

প্রুভার-ডাঃ হেরিং, হার্টল্যাব, ট্রিঙ্কস এবং নেনিং

রাসায়নিক সংকেত– Po
সমনাম— সীসা (Lead) ।
রোগের কারণ— অতিরিক্ত যৌন সম্ভোগ, চর্মরোগ চাপা পড়লে, পারদের অপব্যবহার।
ক্রিয়ানাশক– এলুমিনা, প্লাটিনা, জিঙ্কাম-মেট, সাল-এসিড ।
অনুপূরক– রাস-টক্স, থেলিয়াম ।

উৎস-সীসা, ইহা একটি খনিজ পদার্থ ।
ধাতুগত লক্ষণ:
(ক) এন্টিসোরিক ও এন্টিসিফিলিটিক ঔষধ
(খ) স্পর্শকাতরতা
(গ) গ্রন্থির কঠিনতা
(ঘ) পর্যায়শীলতা

(ঙ) শীতকাতর
ক্রিয়াস্থল– মেরুদন্ডের স্নায়ুকেন্দ্রের উপর, কিডনী, হৃৎপিন্ড, লিভার ।

বৃদ্ধি- রাতে, নড়াচড়ায় ৷
উপশম– ঘষিলে, জোরে চাপিলে, শারিরীক পরিশ্রমে ।
পক্ষাঘাতে প্লাম্বাম মেটের ব্যবহার:
ক) প্রধানতঃ প্রসারক পেশীর পক্ষাঘাত-যেমন হাত পায়ের প্রসারক পেশীর পক্ষাঘাতের জন্য রোগী হাত পা ছড়াইতে পারে না, হাত দিয়ে কোন জিনিস উঠাতে পারে না ।
খ) আক্রান্ত স্থানে অত্যন্ত স্পর্শকাতরতা
গ) আক্রান্ত অঙ্গ সরু হয়ে যায় ।

ঘ) রোগীর মাড়ীর ধার দিয়ে বরাবর সুস্পষ্ট নীলবর্ণ দাগ দেখা যায় ।
ঙ) জিহবা, গলনালী, মুখমন্ডল প্রভৃতির ক্রমিক শুষ্কতা ।
চ) শুষ্কতা প্রাপ্ত অঙ্গ-বা পক্ষাঘাত প্রস্থ অঙ্গের ব্যথা ও শুলবেদনা পর্যায়ক্রমে দেখা যায় ৷
প্লাম্বামের চরিত্রগত লক্ষণ:

ক) সীসা রঙের অন্যতম উপাদান, সুতরাং পেইন্টারদের বিভিন্ন উপসর্গে ইহা ব্যবহৃত হয়। ঘরে রং করিলে যাদের নতুন রঙের গন্ধে অস্বস্তি, নিদ্রাহীনতা বা অন্য কোন উপসর্গ সৃষ্টি হয় ।
খ) ইহা একটি এন্টি সোরিক ঔষধ
গ) মানসিক অবসাদ-তাড়াতাড়ি কোন বিষয় ভাবিতে পারে না বা বুঝতে পারে না ।
ঘ) Quiet Melancholy.
ঙ) অলীক দর্শন, ভ্রান্ত বিশ্বাস ।
ঘ) কেউ মেরে ফেলবে এই রূপ ভয়, একটা সাংঘাতিক কিছু ঘটবে এমন ভয় ।
শালিকার প্রতি প্রবল আকর্ষণ ।
চ) অত্যন্ত স্বার্থপর
ছ) স্মৃতিশক্তি কমে যায় ।
জ) আক্রান্ত অঙ্গে অত্যন্ত স্পর্শকাতরতা ।
ঝ) আক্রান্ত অঙ্গ শুকাইয়া যায় যেমন লিভার সিরোসিস, কিডনী, জরায়ু, শিশুদের শরীর শুকাইয়া যায়, মস্তিষ্কের স্নায়ূ ইত্যাদি শুকাইয়া যায় ।
ঞ) আক্রান্ত অঙ্গের কঠিনতা প্রাপ্তি, স্তনগ্রন্থির কঠিনতা ।
ট) রোগীর মাড়ীতে নীলবর্ণ রেখা বা মাড়ী নীল বর্ণ হইয়া যায় ।

ঠ) পর্যায়শীলতা- যেমন- শূলবেদনা ও পক্ষাঘাতে আক্রান্ত অঙ্গের পর্যায়ক্রমে ব্যথা । পর্যায়ক্রমে উম্মাদ ও পেটব্যথা ।

ড) উদরশূল- মনে হয় তলপেটের চামড়া একটি দড়ি দিয়া মেরুদন্ডের দিকে টেনে বাধা হয়েছে, পেটে নৌকার খোলের মত খাল পড়ে, পেটের ব্যথা সমস্ত শরীরে ছড়াইয়া পড়ে ।

ঢ) নাড়ীর এক অংশ অপর অংশে ঢুকে যায় ।
ণ) আক্রান্ত অঙ্গের কঠিনতা প্রাপ্তি ।
১ । স্তনগ্রন্থির কঠিনতা ।
২। আরর্টারিও স্কেলেরোসিস (Arterio-Sclerosis) আর্টারি শক্ত হয়ে পড়া ৷
ত) কোষ্ঠকাঠিন্যে মল ছাগলের নাদির মত গোল গোল ও কাল ।

থ) যখন প্লাটিনা কাজ না করে তখন প্লাম্বামের ব্যবহার প্রশস্ত হয় ৷

কোষ্ঠবদ্ধতায় এলুমিনা ও প্লাম্বাম মেটের পার্থক্য লিখ:
প্লাম্বাম মেট- শুষ্ক ও কঠিন মল, ভেড়ার নাদির মত কাল ও গুটলে মল। মলদ্বারের সঙ্কোচনের জন্য পক্ষাঘাত, ফলে মলভান্ডে মল জমলেও মলত্যাগ ক্রিয়ায় বাধাপ্রাপ্ত হয়। কোষ্ঠবদ্ধতার সহিত শূলবেদনা ও উদরবেদনা বর্তমান থাকে। হাতে পায়ে ঘর্ম থাকে । পায়ের পাতার ঘাম অত্যন্ত দুর্গন্ধ বিশিষ্টি ।
এলুমিনা-মলত্যাগের ইচ্ছা থাকে না, মলশক্ত, শুষ্ক, গাঁট গাঁট । নরম মল ও প্রচন্ড কোঁথ না দিলে নির্গত হয় না । নরম মল বাহির হইলেও মলদ্বারে অনেক মল রহিয়াছে বোধ । মলদ্বারের পক্ষাঘাতের জন্য · কোষ্ঠাবদ্ধ । চর্ম শুষ্ক, ঘর্মহীন ।

সিকেলি কর (Secale Cornutum)


প্রভার-ডাঃ এইচ,সি,এলেন
সমনাম– আর্গট অব রাই (Ergot of Rye ) ।
প্রাপ্তিস্থান— ইউরোপ ।
রোগের কারণ– ভারী জিনিস উত্তোলন (গর্ভস্রাবে), আঘাত (গ্যাংগ্রীন), ইন্দ্রিয়ের অত্যাচার, নিঃসরণযোগ্য কোন স্রাব চাপা পড়িলে (চোখের পানি, লোকিয়া স্রাব, বুকের দুধ, ঘাম ইত্যাদি) ।
অনুপূরক– আর্সেনিক, থুজা ।
মর্মবাণী:
(ক) রক্ত সঞ্চালনে বাধা প্রাপ্তির ফলে শরীরে বরফের মত ঠান্ডা হইয়া যায় অথচ অন্তঃজ্বালা থাকে । কিন্তু গায়ে কোন কাপড় সহ্য করিতে পারে না । (খ) রোগীর দেহ শীর্ণ ।
(গ) রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা ।
উৎস– আর্গট বা সিকেলি সিরিয়াল বীজ এবং অন্যান্য শস্যদানার উপর জন্মানো এক প্রকার ছত্রাক বিশেষ । আর্গট-একধরণের ছত্রাক Claviceps Purpurea
ধাতুগত লক্ষণ:
(ক) এন্টিসোরিক ও এন্টিসাইকোটিক
(ক) রক্তস্রাব প্রবন ।
(খ) গরম কাতর ।
(গ) রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা ।
(ঘ) রক্তসঞ্চালনে বিশৃঙ্খলা ।
ক্রিয়াস্থল- ধমনী, জরায়ুর মাংপেশী, রক্ত, স্নায়ুমন্ডলী, হাত, পা ।
বৃদ্ধি– গরমে, গরম কাপড়ে আবৃত হলে, রজঃস্রাবের সময়, গর্ভাবস্থায় ।
উপশম- ঠান্ডায়, খোলা বাতাসে, ঘষে দিলে, হাত পা ছড়ালে । ক্রিয়ানাশক- ক্যাম্ফর, ওপিয়াম ।
নির্দেশিত লক্ষণ / চরিত্রগত লক্ষণ:

(ক) জ্বালানক ব্যথা, ঠান্ডায় উপশন।
(খ) ডানদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে।
(গ) শরীরের ভিতরে জ্বালাবোধ কিন্তু শরীর বরফের মত ঠান্ডা, তথাপি গায়ে কোন কাপড় চোপড় সহ্য হয় না ।
(ঘ) শরীরের প্রায় সকল দ্বার হইতে রক্তস্রাব । নানান্য ক্ষত হইতে প্রচুর রা দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব, অত্যন্ত দূর্গন্ধযুক্ত, কালবর্ণের চাপ চাপ রক ।
(ও) শীর্ণতা, রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদস্য পিপানা, টক জাতীয় খাবার খেতে প্রবল ইচ্ছা। তৈলাক্ত খাবার বা মাংসে অনীহা।
(চ) গায়ে পিপিলিকা চলা বোধ ।
(ছ) রমনীরা শীর্ণ / কঙ্কালসার, বয়স্করা চামড়া কুঞ্চিত ।
(জ) রক্ত সঞ্চালনে বাধা – তাই এই ঔষধের রোগীর শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।

(ঝ) মেটেরিয়া মেডিকার গরম কাতর ঔষধ গুলির মধ্যে ইহা প্রথম শ্রেণীর।

(ঞ) চোখের চারদিকে কালিনা।
(ট) যেহেতু সিকেলিকরের মূল কথা রক্তসঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হইয়া রোগ এর সৃষ্টি আবার গ্যাংরিনের কারণও কোন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, তাই শুষ্ক গ্যাংরিনের ইহা অন্যতম প্রধান ঔষ।

স্ত্রীরোগে সিকেলি করের ব্যবহার:
(ক) রোগিনী শীর্ণকায়, শরীর বরফের মত ঠান্ডা, অন্তঃজ্বালা, গারে কোন কাপড় সহ্য করিতে পারে না।
(খ) বহুদিন ব্যাপী ঋতুস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত, কাল, চাপ চাপ ।

(গ) বাদামী বর্ণ, দুর্গন্ধযুক্ত প্রদর স্রাব ।
(ঘ) গর্ভের ভয় মাসে গর্ভস্রাবের আশঙ্কা।
(3) প্রসবকালে জরায়ূর মুখ খোলা সত্ত্বেও জরায়ুর পেশীর শিথিলতা বশতঃ সন্তান বের হওয়ার মত ব্যথা উঠে না ।
(চ) স্তন দুগ্ধ লোপ ।
(ছ) জরায়ূর প্রলাপ্‌স, জরায়ুর টিউমার ইত্যাদি ।
রক্তস্রাবে সিকেলি কর:
শরীরের প্রায় সকল দ্বার হইতে রক্তস্রাব, সামান্য ক্ষত হইতে প্রচুর রক্তস্রাব, রক্তবমি, রক্ত প্রস্রাব, রক্ত মিশ্রিত লালা, ঋতুকালে প্রচুর রক্তস্রাব, জিহ্বা হইতে রক্তস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত, রক্ত স্রাবের সহিত শরীর শীতল ও অন্তঃজ্বালা।

সাইলিসিয়া(Silicea)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান ও ডাঃ উব্লিউ, এইচ, সুসলার
সমনাম- সিলিকা/সিলিসিক অক্সাইড/ কোয়ার্জ (Quartz)।

রোগের কারণ- টীকার কুফল, পায়ের তলার ঘাম বন্ধ হইয়া ।
রাসায়নিক সংকেত – SiO2
ধাতু গত লক্ষণ:
(ক) এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ ।

(খ) শীতকাতুরে ।
(গ) গন্ডমালা ও রিকেটিক ধাতুবিশিষ্ট ।
(ঘ) পরিপোষন যন্ত্রের দূর্বলতা ।
(ঙ) রোগ লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় ।
ক্রিয়াস্থল– পরিপোষন যন্ত্রমন্ডলীর উপর, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, গ্রন্থি সমূহ, অস্থি সন্ধি ।
ক্রিয়ানাশক- ক্যাম্ফর, এসিড ফ্লোর, হিপার ।
অনুপূরক- থুজা, স্যানিকিউলা, পালস
উপশম– গরমে, মাথায় কাপড় জড়াইলে, গ্রীষ্মকালে, আর্দ্র আবহাওয়ায়, প্রচুর মূত্র সাবে
বৃদ্ধি – আমাবশ্যায়, প্রাতে, কাপড় কাচিলে, রজস্রাবের সময়, খালি গায়ে থাকিলে, স্যাঁত স্যাঁতে জায়গায় শুইলে, পড়াশুনা করিলে, বাম পাশে শুইলে, মানসিক শ্রমে, মদ্যপানে ।
সাইলিসিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সমূহ বা সাইলিসিয়ার চরিত্রগত লক্ষনাবলী লিখ :

(ক) টীকার মন্দফল ।
(খ) নিদ্রায় ভ্রমণ রোগ ।
(গ) ইহার ক্রিয়া ধীরে ধীরে প্রকাশ প্রায়, সুতরাং যে সব রোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় সেই সব রোগে বিশেষ উপযোগী ।
(ঘ) খাদ্যবস্তু অসম্পূর্ন পরিপাকের ফলে পুষ্টির অভাব হইয়া রোগ ।
(ঙ) রোগী অত্যন্ত শীতকাতুরে, গরমের দিনেও প্রচুর জামা কাপড় পড়ে থাকে ।
(চ) শারিরীক ও মানসিকভাবে দূর্বল ।
(ছ) অপরের বশ্যতা স্বীকার করে, কিন্তু কোন ধারনা জন্মিলে তা দূর হয় না । ভীরু ও ন্ত্র ।
(জ) সমবেদনা বা সান্ত্বনায় রোগের বৃদ্ধি ।
(ঝ) আত্মবিশ্বাসের অভাব, কিন্তু সাহস করিয়া কাজ শুরু করিলে সঠিক ভাবেই শেষ করে (Want of Grit ) ।
(ঞ) ভয় পায় – জনতার সামনে কথা বলতে, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণে, সূচাল জিনিস ও আলপিনে ভয় । আলপিন খোজে ও গুনে দেখে ।
(ট) শিশুর শরীর ধীরে ধীরে বাড়ে দেরীতে হাটা ও কথা বলতে শিখে, শিশু একগুয়ে।
(ঠ) কোন গ্লান্ডের পীড়ার সহিত শিশুর অস্থি বিকৃতি, শিশুর মাথাটি বড়, ব্রহ্মতালু বহুদিন পর্যন্ত খোলা থাকে ।
(ড) ঘুমাইলে মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়। হাত ও পায়ের তলায় দুর্গন্ধ ঘর্ম ।
(ঢ) শরীরের একটু আচঁড় লাগিলে তাতে ঘা হয়ে পুঁজ জমে ।

(ণ) কোষ্ঠকাঠিন্যে বাহিরের সাহায্য ছাড়া মলত্যাগ করিতে পারে না, নরম মলত্যাগেও কোঁথ দিতে হয় ।
(ত) গলায় কোন কাটা, হাড়ের টুকরা (Splinter) বিধিয়া আছে বোধ ।

(থ) মাথাব্যথা চাঁদি থেকে শুরু হয়, কপাল হয়ে ডান চোখের উপর স্থির হয় । নালীক্ষতে (Sinus-হাড়ের মধ্যে ক্ষতজনিত গর্ত) সাইলিসিয়া । সাইলিসিয়া মানসিকভাবে যেমন ভীরু, নম্র. অণুগত, কেহ তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করিলে যেমন বাধা দিতে পারে না, তেমনি দেহে কোন ক্ষত বা প্রদাহ দেখা দিলে সহজে আরোগ্য লাভ করিতে চাহে না । ক্রমাগত পুঁজযুক্ত হইয়া অবশেষে নালীঘায়ে পরিণত হয় । হাড়ের ক্ষত হইলে কখনো কখনো পাতলা কলতানির মত পূজ পড়ে তখন পূজে গন্ধ থাকে না কিন্তু পূজ ঘন হইলে উহাতে দূর্গন্ধ থাকে । ক্ষতের যন্ত্রনা গরমে উপশম ও ঠান্ডায় বৃদ্ধি ।

স্টেফিসেগ্রিয়া(Staphysagria)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
উৎস- এক প্রকার বহু বর্ষজীবি বৃক্ষের ফলের বীজ ।

প্রাপ্তিস্থান– ইউরোপ ।
সমনাম– স্ট্যাভেসেক্রি (Stavesacre) ।

রোগের কারণ- হস্তমৈথূন, অতিরিক্ত যৌন সম্ভোগ, যৌন বিকৃতি, তেজক্রিয় পদার্থের (Vital fluids) অপচয়, অহংকার, ঘৃণা, অপমান, বিরক্তি, কোন অস্ত্রপচারের কুফল যেমন-মূত্রপাথরীর অপারেশন (Lithotomy), ওভারীর টিউমার অপারেশন (Ovariotomy)।
ধাতুগত লক্ষণ:
(ক) এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ । (খ) শীতকাতর ।

ক্রিয়ামূল – জননেন্দ্রিয়, মূত্রযন্ত্র, পাকাশয়, চর্ম ।
ক্রিয়ানাশক – ক্যাম্ফর
অনুপূরক – কষ্টিকাম, কলোসিন্থ ।
উপশম – পূর্বাহ্নে, ভোজনের পর, গরমে, রাতের বিশ্রামে ।
বৃদ্ধি – ক্রোধ, ঘৃণা, দুঃখ, অপমান, তরল পদার্থের ক্ষয়, হস্তমৈথুন, অতিরিক্ত মৈথুন, ধুমপান, আক্রান্ত স্থানে সামান্য স্পর্শে, বিশ্রাম ও প্রাতে কিছু খাইলে ।
চরিত্রগত লক্ষণ:

১। রোগীর গায়ে আচিল থাকে ।
২। শুধুমাত্র দিনের বেলায় কাশিতে কফ বের হয় ।
৩। কোন ধারাল অস্ত্র দ্বারা কাটার মন্দফল (অপারেশন) ।
৪। সারাদিন ঘুমায়, সারারাত জেগে থাকে ৷
৫। রাক্ষুসে ক্ষুধা, পেট ভরা থাকলেও খেতে চায় ।
৬। জ্বরের কয়েকদিন পূর্ব হতে প্রচণ্ড ক্ষুধার উদ্রেক হয়, ক্ষুধার উদ্রেক দেখে রোগী বুঝতে পারে শীঘ্রই জ্বর হবে ।
৭। কোমরের ব্যথা, পিঠের ব্যথা- রাতে ও বিছানার গরমে বৃদ্ধি, সকাল বেলা বিছানা থেকে উঠার পূর্বে ।
৮। ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ে ও ধীরে ধীরে কমে ।
৯ । মাথা ব্যথায় মনে হয় মাথাটি ফিতে দিয়ে বাধা আছে ।

১০ । পেট ব্যথা জোরে চাপ দিলে উপশম ।
১১। রোগী একপা তুলে অপর পা ছড়িয়ে ঘুমায় ।
১২ । চোখের উপর পাতায় বার বার আঞ্জনি উঠে ।
১৩। মূত্রপথে জ্বালা কিন্তু মূত্র ত্যাগ করার সময় জ্বালা থাকে না । ১৪। দাঁত কাল হয়ে ভেঙ্গে যায়। খাদ্য দ্রব্য দাঁতে ঠেকলেই ব্যথা, কিন্তু চিবানোর সময় ব্যথা থাকে না । ঋতু স্রাবের সময় দাঁত ব্যথা । ঠান্ডা বাতাস মুখে টেনে নিলে দাঁত ব্যথা করে ।
১৫ । অসহ্য চুলকানি, স্থান পরিবর্তনশীল চুলকানি। যে স্থানে চুলকানি আলম্ভ হয় সেই স্থান চুলকালে চুলকানি থেমে অন্য খানে চুলকানি শুরু হয়।

স্টেফিসেগ্রিয়া কোন কোন মায়াজমের উপর কাজ করে:
ইহা একটি দীর্ঘকাল স্থায়ী কার্যকরী ঔষধ, ইহার ক্রিয়াকাল প্রায় ২১ দিন । যে সব ঔষধ তিন প্রকার ধাতুদোষের পক্ষেই উপযোগী সেই সব ঔষধকে ত্রিরত্ন বলে । ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া সোরা, সিফিলিস ও সাইকোসিস সকল মায়াজমের মিশ্রিত লক্ষণ প্রকাশ করে ।
যেমন রোগীরা আবেগ পুষে রাখে, চাপ পড়া ক্রোধ । অপমানের ফলে নানা রোগ সৃষ্টি করে সোরা ধাতু নির্দেশ করে ।
রোগীর রতিক্রিয়ার ইচ্ছা প্রবল, হস্তমৈথুন বা স্ত্রী সম্ভোগ ছাড়া তার জীবনের যেন অন্য কোন কাম্য নাই ইহা দ্বারা সাইকোসিস ধাতুর লক্ষণ প্রকাশ করে ।
শুক্রপাতের পর কোমর ব্যথা, স্ত্রী সঙ্গমের পর শ্বাসকষ্ট। সিফিলিস ধাতুতেও স্রাব নির্গমনে পীড়ার বৃদ্ধি ঘটে ।

স্টেফিসেগ্রিয়ার মানসিক লক্ষণ বর্ণনা কর:

ক) ইহার রোগীরা অন্তঃমুখী, অপমানিত হলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করিতে পারে না । তাই নানা রকম আবেগ চাপা পড়ে নানা রোগ দেখা যায় । কোন তর্ক বা ঝগড়ার পর সঠিকভাবে মোকাবিলা না করার মর্মজ্বালার ফলে অনিদ্রা, বিষণ্নতা প্রভৃতি দেখা দেয় ।

খ) অত্যন্ত অভিমানী, অসহিষ্ণু, মাঝে মাঝে যখন রাগ হয় তখন রাগে ফেটে পড়ে, শরীর থর থর করিয়া কাঁপতে থাকে। কিন্তু মুখ ফুটিয়া কিছু বলিতে পারে না । ফলে অসুস্থ্য হইয়া পড়ে ।
গ) রোগী মনে করে সে অসুস্থ, সব সময় অন্যকে নিজের রোগের কথা বলে ।
ঘ) মহিলারা তার প্রতি অন্যরা কি মনোভাব পোষণ করে সে বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ।
ঙ) সব সময় যৌন বিষয়ক কথা বার্তা বলে ।
চ) নির্জনে বা একা থাকতে পছন্দ করে ।
ছ) খিটখিটে মেজাজ ।
জ) শিশু অনেক কিছুর জন্য কাঁদে কিন্তু দিলে গ্রহণ করে না ।
ঝ) তাহার দেহে পোকা হাঁটিতেছে এইরূপ অনুভব করে ।
ঞ) অনেক সময় চাপা দেওয়া আবেগ প্রকাশ করে কোন বস্তু ছুড়ে ফেলে দিয়ে, এই ছুড়ে ফেলা কোন ব্যক্তির দিকে নয় ।

ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়ার দত্ত পীড়ার লক্ষণ:
ক) শিশুদের আকালে দন্তক্ষয়, দাঁত কাল ও ভঙ্গুর ।
খ) ঋতুকালে দাঁতের যন্ত্রনা, দাঁত কাল ও ভেঙ্গে যায় । সামান্য স্পর্শে ব্যথা বোধ । পানাহারে পর ব্যথা। ঠান্ডা বাতাস মুখে ঢুকাইলে দাঁতের যন্ত্রণা বৃদ্ধি ।
পরিপাকতন্ত্রের উপর ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়ার লক্ষণ:
(ক) ক্রোধের পর উদরশূল ।
(খ) পেট হতে গরম ও পচা ডিমের মত দুর্গন্ধ যুক্ত অধঃবায়ু নিঃসরন ।
(গ) আহারের পর আমাশয় বা উদারাময় বৃদ্ধি পায় ।
(ঘ) ঠান্ডা পানি পানে পরিপাকতন্ত্রের যন্ত্রনা বাড়ে ।
(ঙ) শিশুকে শাস্তি দিলে বা কোন কারণে অত্যন্ত ক্রোধের পর উদরাময় ।

সিপিয়া Sepia

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
সমনাম— কাটল ফিস ।
রোগের কারণ— ঠান্ডা বাতাসে, কাপড় কাঁচিলে, ঋতুস্রাব, পা ভিজিলে, যৌন মিলন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, বজ্রপাত ।
উৎস- কাটল ফিস বা পেকী মাছ নামক এক প্রকার সামুদ্রিক মাছের দেহ হতে নিঃসৃত কাল বর্ণের রস ।
অনুপূরক – নেট্রাম-মিউর, নাক্সভম, নাই এসিড, নেট্রাম কার্ব, সালফার, ফসফরাস ।
ক্রিয়ানাশক – টক ফলমূল, একোনাইট, এন্টিম ক্রড, এন্টিমটার্ট, রাস-টক্স, সালফার ।
ক্রিয়াস্থল – স্ত্রী জননেন্দ্রিয়ের উপর প্রধানতঃ ক্রিয়া করিয়া মেচেতার মত চিহ্ন উৎপন্ন করে ।
উপশম— কঠিন পরিশ্রমে, চাপ দিলে, টিপিলে, বিছানার গরমে, গরম সেঁক দিলে, ডানদিকে চাপিয়া শয়নে, খোলা বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে গোছল করিলে, উরুর উপর উরু রাখিয়া যৌনমুখ চাপিয়া ধরিলে । বৃদ্ধি – সকাল বেলা, বৈকালে, সন্ধায়, ‘কাপড় কাচিলে, বামদিকে, ঘাম হইলে, ঠান্ডা বাতাসে, ঝড় বৃষ্টির পূর্বে, বিশ্রামের সময় ।
ধাতুগত লক্ষণ:
(ক) ইহা এন্টিসোরিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ
(খ) শীতকাতুরে
(গ) কোষ্ঠবদ্ধতা
(ঘ) তৃতীয় হইতে পঞ্চম মাসের মধ্যে হ্যাবিচুয়াল এবরশন হয় ।
চরিত্রগত লক্ষণ:

১। ́ বাম দিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
২ । সামান্য ঠান্ডা বাতাস সহ্য করিতে পারে না ।
৩ । সব রোগের সঙ্গে কোষ্ঠবদ্ধতা ।

৪। মুখশ্রী ফ্যাকাশে, নাকে গোড়ার দিকে, গালে ও বুকে মেছেতার দাগ ।
৫ ৷ বগলে দুর্গন্ধযুক্ত ঘর্ম । ঘামে দুর্গন্ধ ।
৬। যৌনিদ্বার ও তলপেট হতে যেন কোন কিছু বের হয়ে আসবে এইরূপ অনুভূতি । তাই রোগী উরুর উপর উরু চাপিয়া বসে ।
৭। তামাক, মাংস পছন্দ করে না, খাবারের গন্ধ সহ্য হয় না, বিশেষতঃ রান্না করা খাদ্য, দুধ সহ্য হয় না, অম্ল, ভিনিগার, আচার খেতে চায় ৷
৮। কোমরে ব্যথা— দাঁড়াইয়া থাকিলে বা বেড়াইলে ব্যথা বাড়ে। বসিয়া বা শুয়ে থাকলে কম লাগে ।
৯। স্বামী সঙ্গমে অনাগ্রহ, সুখও পায় না, বেদনা অনুভব করে ।
১০। সামান্য নড়াচড়ায় রোগের বৃদ্ধি- কিন্তু বেশী নড়াচড়া বা পরিশ্রম করিলে উপশম ।
১১। স্ত্রীজনন অঙ্গের কোন পীড়ার সহিত আধকপালে মাথা ব্যথা ।
১২। প্রস্রাবে দুর্গন্ধ— কোন পাত্রে রাখিলে তাহার তলায় ও ধারে ঈষৎ চটচটে দ্রব্য আঁটিয়া যায় ।
১৩ । শিশু প্রথম নিদ্রাতেই বিছানায় প্রস্রাব করে ।
১৪ । প্রচুর দুর্গন্ধযুক্ত শ্বেত প্রদর- তাহার রঙ হলদে ।
১৫। সমস্ত ব্যথা নীচ থেকে উপরে উঠে এবং সামনের দিক হতে পিঠের দিকে যায় ।
১৬। পাকস্থলীর বেদনা, কিছু খেলে উপশম ।
১৭। সকল প্রকার শ্বাস কষ্ট (Dyspnoea) বসিয়া থাকিলে বৃদ্ধি দ্রুত হাঁটিলে উপশম ।
১৮ । অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় অজ্ঞান হয়ে যায় ।
১৯। ঋতুবন্ধের বয়সে মুখে গরমের ঝলক অনুভব করে ও ঘাম হয় ।

২০ । উদাসীনতা- রোগের সকল অবস্থা উদাসীনতা-কর্মস্থল, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য এমনকি স্বামী সন্তানদের প্রতি উদাসীনতা ।
২১। গর্ভকালীন বমি ।

সিপিয়ার গর্ভপাত: সিপিয়ার রোগিনীর তৃতীয়মাস হইতে পঞ্চম মাসের মধ্যে হ্যাবিচুয়াল এবরশন হয় ।
মানসিক লক্ষণ:
(ক) উদাসীন, স্বামী বা সন্তানদের প্রতি স্নেহ মমতার অভাব ।

(খ) নিজের পেশার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে- পরিবারের সদস্যের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে ।
(গ) সন্ধ্যা বেলা বিষণ্নতা বোধ করে ।
(ঘ) সমবেদনা বা সহানুভূতি তার মানসিক অবস্থাকে বর্ধিতকরে ।

(ঙ) লোভী বা কৃপণ, অলস ৷
(চ) গোলমাল ও গন্ধে বিরক্তি ।
(ছ) অতি সহজে অপমানিত বোধ করে ।
(জ) একাকী থাকিতে ভয় । ঝড় তফান ভুত ও দারিদ্রতার ভয় ।
(ঝ) রোগের কথা বা দুঃখের কথা বলার সময় কেঁদে ফেলে ।

(ঞ) একগুয়ে ভাব- কোন প্রশ্ন করিলে, উত্তরের জন্য পীড়া পীড়ি করিলে কেবল হাঁ বা না বলিয়া জবাব দেয় ।
(ট) খিটখিটে মেজাজ, সহজে রেগে যায় ।

সিপিয়া ও পালসেটিলার পছন্দ ও অপছন্দ উল্লেখ কর :

সিপিয়া

পালসেটিলা

অপছন্দ -গোলমাল ও গন্ধ, স্বামী সঙ্গম, গোছল করা, খোলা বাতাস ।

অপছন্দ – গরম ঘর, গুরুপাক খাবার, অন্ধকার ।

পছন্দ -গরম, টক, লবণ, সালাদে ভিনিগার ।

পছন্দ – ঠান্ডা, শান্ত্বনা, খোলা বাতাস, ঠান্ডা পানীয় ।

 

ষ্টেনাম মেটালিকাম (Stanum Metalicum)

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
সমনাম- টিন ।
রোগের কারণ– আবেগ, ভয়, হস্তমৈথুন, গলার অতিরিক্ত ব্যবহারে ।
উৎস- টিন বা রাং
রাসায়নিক সংকেত– Sn
উপশম— কাশি উঠিলে, জোরে চাপ দিলে ।
বৃদ্ধি- স্বরযন্ত্র চালনায় (হাসলে, কথা, বললে, গান করিলে), ডান, পাশে শয়নে, উষ্ণ পানীয়ে ।
অনুপূরক– পাল্স।
ক্রিয়ানাশক– পাল্স ।
ক্রিয়াকাল- ২৮ দিন ।
ক্রিয়াস্থল– স্নায়ূমন্ডল, শ্বাসযন্ত্র, মস্তিষ্ক
ধাতুগত লক্ষণ:
ক) এন্টিসোরিক ঔষধ
খ) ক্ষয়রোগ প্রবণতা ।
গ) রোগী শীতকাতর নয়, গরম কাতরও নয় ।
চরিত্রগত লক্ষণ:

(ক) ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে দুশ্চিন্তা ৷
(খ) বিষন্ন, উদ্বিগ্ন ।
(গ) লোকজন দেখলে ভয় পায় ।
(ঘ) আত্মবিশ্বাস কমে যায় ।
(ঙ) শরীর ও মন অত্যন্ত দূর্বল ও ক্লান্ত ।
(চ) অত্যন্ত দুঃখিত ভাব সকল সময়ই যেন কান্না পায় অথচ কাঁদিলে আরো খারাপ বোধ করে ।
(ছ) নিরুৎসাহ – পুরুষ রোগী বিষয়কর্মে, স্ত্রীরোগী গৃহস্থালীর কাজে কর্মে ।
(জ) ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ে ও ধীরে ধীরে কমে যায়। সূর্যের উঠা নামার সঙ্গে ব্যথা বাড়ে কমে ।
(ঝ) গা বমি বমি করে বিশেষতঃ রান্না ঘরের গন্ধে বা রান্না করা খাবারে ।
(ঞ) শরীর এত দূর্বল যে চোকিতে বসিবার সময় রোগী ধপ করিয়া বসিয়া পরে, আস্তে আস্তে বসিতে পারে না। কথা বলিলে, গান করিলে, হাসিলে, বুকের ভিতর দূর্বলতা বোধ হয়। আবার সে উপর হইতে সিড়ি বাহিয়া নীচে নামিতে গেলে দূর্বলতা বোধ করে ।
(ট) ফুসফুসের গয়ার মিষ্টি বা লবণাক্ত স্বাদযুক্ত প্রচুর এবং পঁচা গন্ধযুক্ত ।
(ঠ) বাম পার্শ্ব চাপিয়া শয়নে উপশম । গরম খাদ্যে কাশি বৃদ্ধি ।

(ড) বাম পাশে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
(ঢ) বাম পাশে চাপিয়া শয়নে কাশির বৃদ্ধি ।

শূল বেদনায় ষ্টেনাম:
ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ে ও কমে, সূর্যের উঠা নামার সঙ্গে ব্যাথা বাড়ে কমে । উদরশূল নাভির চারদিকে খিলধরা শূলবেদনা, তার সঙ্গে শূন্যতা বোধ, স্পর্শ করলে বাড়ে কিন্তু জোরে চাপ দিলে উপশম । উপুর হইয়া হাঁটু দিয়া পেট চাপিলে উপশম । শিশুকে কাঁধে রাখিয়া পেট চাপ দিলে ব্যথার উপশম বোধ করে ।

সালফার Sulphur

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
রাসায়নিক সংকেত – S
উৎস- গন্ধক ।
সমনাম- ব্রিম ষ্টোন (Brimstone)।
রোগের কারণ– এলকোহল, চর্মরোগ চাপা পড়া, সূর্যের তাপ, অতিরিক্ত পরিশ্রম ।
ক্রিয়াস্থল- চর্ম, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, স্নায়ুমন্ডলী, রক্তসঞ্চালনের উপর ।
হ্রাস– খোলা বাতাসে, শুষ্ক গরমে, ডান পাশে শয়নে, গরম পানাহারে, ঘাম হইলে, গরম সেঁক দিলে, নড়াচড়ায় ।
বৃদ্ধি— বিশ্রামে, গরমে, বিছানার গরমে ও রাতে, গোছলে, উদ্ভেদ বসিয়া গেলে, দাঁড়াইয়া থাকিলে, প্রাতে বেলা ১১ টায়, নির্দিষ্ট সময় অন্ত র, আবহাওয়ার পরিবর্তন, গরম ঘরে, যানবাহনে চড়িলে । ক্রিয়ানাশক– ক্যাম্ফর, ক্যামোমিলা, চায়না, মার্কসল, পালস, সিপিয়া, সিফিলিনাম ।
অনুপূরক— এলো, একোনাইট, সোরিনাম ।
ধাতুগত লক্ষণ
(ক) ইহা এন্টিসোরিক ঔষধের রাজা ।
(খ) ইহা এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ ।

(গ) গন্ডমালা ধাতু ।
চরিত্রগত লক্ষণ—

১ । অকারণে কাঁদে, মলত্যাগের পূর্বে কাঁদে ।
২ । চোখ অর্ধেক খুলে ঘুমায়, গোছল করতে চায়না ।
৩। শিশুকে ঢেকে দিলে লাথি দিয়ে চাদর ফেলে দেয় । Shoulder) কুঁজো হইয়া হাঁটে ও বসে ।

৪। শিশু— নোংরা, অপরিষ্কার, পেট বড় কিন্তু হাত-পা সরু, গায়ে দুর্গন্ধ, দ্বারগুলি লাল (মলদ্বার, ঠোঁট, নাক ইত্যাদি) চোখের নীচে কাল দাগ, রাক্ষসে ক্ষুধার সহিত শীর্ণতা ।
৫। বয়স্করা- শীর্ণ, লিকলিকে, কাঁধ কুঁজো ( Stooped
৬। ডান দিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
৭ । মাথার চাঁদিতে সব সময় গরম অনুভব করে ।
৮। চর্ম শুষ্ক, চুলকানি, চুলকাইবার পর জ্বালা ।
৯। ঠোঁট শুষ্ক, উজ্জ্বল লাল ।
১০। দুধ ও মাংস পছন্দ করে না ।
১১। মিষ্টি ও এলকোহল পানের তীব্র আকাঙ্খা ।
১২। মধ্যরাতে ও সকাল ১১টায় অত্যন্ত ক্ষুধাবোধ করে ।
১৩। প্রাতঃকালীন উদরাময়, পায়খানার বেগে ঘুম ভেঙ্গে যায়, দৌড়াইয়া পায়খানায় যেতে হয় ।
১৪। সর্বসময় খোলা বাতাস চায়, শীতকালেও দরজা জানালা খোলে রাখে ।
১৫। হাত গরম ও ঘামে ভিজা ।
১৬। রাতে হাত ও পায়ের তলা জ্বলে, তাই শীত কালে পা লেপ- কাঁথার বাহিরে রাখে ।
১৭। সামান্য আঘাত প্রাপ্ত স্থানে পুঁজ জমে ।
১৮। সোজা হইয়া দাঁড়াইয়া বা বসে থাকতে পারে না, তাই হেলান দিয়ে দাঁড়ায় বা বসে । দাঁড়িয়ে থাকলে অস্বস্থি বোধ করে ।
১৯ । সমস্ত নিঃসৃত স্রাব হাজাকারক ।
২০ । গোছল করতে চায় না, গোছলে রোগের বৃদ্ধি ।
২১ । জিহ্বা সাদা কিন্তু ধারগুলি ও ডগাটি লাল ।
২২ । খাওয়ার সময় পানি খায় বেশী, ভাত খায় কম । ২৩। পর্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতা ।
২৪ । কোমরের ব্যথায় বাঁকা হইয়া চলে । বসিয়া থাকিয়া উঠিতে গেলে ব্যথা বাড়ে ৷
২৫ । তরুণ রোগে (Acute Disease) নিশ্চিত ঔষধ প্রয়োগ করার পরও যখন বিফলতা দেখা দেয় তখন সালফার প্রয়োগ করিলে মায়াজমেটিক বাধা দূর হয়ে রোগীর দেহে প্রতিক্রিয়া আনয়ন করে।

কোন অবস্থায় সালফারকে সোরিক মায়াজনের বিরুদ্ধ ঔষধ হিসাবে নির্বাচন করা যায় :
সোরিক মায়জমের লক্ষণগুলি নিম্নরূপ-

(ক) রোগী গরম পানাহার পছন্দ করে ।
(খ) রোগীর পরিপাটি করিয়া চলার অভ্যাস নাই । ময়লা পোশাক পড়িয়া সমাজে যায় ।
(গ) দিনের বেলা রোগ লক্ষণের বৃদ্ধি ।
(ঘ) শরীরে কোন যন্ত্রাদিতে তীব্র বেদনাবোধ হওয়া সত্ত্বেও আকারগত কোন পরিবর্তন হয় না ।
(ঙ) নির্দিষ্ট সময় অন্তর রোগ লক্ষণের পুনারাবর্তন ।
(চ) সোরার উদ্ভেদে সাধারনতঃ পূঁজ হয় না ।
(ছ) দেহের কোন অঙ্গের জ্বালা পোড়া ।
(জ) ক্ষুধার অভাব ।
(ঝ) রোগী ঠান্ডাস্থান খুঁজে ।
(ঞ) চর্মরোগ চাপা পড়ার ইতিহাস ।
(ট) প্রাতকালীন উদারাময় ।
উপরোক্ত সোরিক মায়াজমের লক্ষণগুলি সালফারে লক্ষণের সদৃশ, এই অবস্থায় সালফারকে সোরিক মায়াজনের বিরুদ্ধ ঔষধ হিসাবে নির্বাচন করা যায়।

সালফারের মানসিক লক্ষণ :
(ক) আত্মসচেতন, স্বার্থপর, স্বাবলম্বী, বাস্তববাদী, বিস্মৃতিপ্রবণ, অন্যের প্রতি সম্মান নাই ।
(খ) নিজের জামা কাপড় পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে পারে না । চারপাশ নোংরা করে রাখে ।
(গ) মতিভ্রম সামান্য ন্যাকড়াকে সুন্দর জিনিস বলে মনে করে । মনে করে সে অত্যন্ত ধনী ।
(ঘ) সব সময় কর্মব্যস্ত থাকে ।
(ঙ) ধর্ম বিষয়ে বিমর্ষতা, কিভাবে আত্মার মুক্তি হবে সেই ভাবনা ।

(চ) ক্রোধ প্রবণ ।
(ছ) সব জিনিসই, এমনকি নোংরা জিনিসও সুন্দর বোধ ।

(জ) মনে করে সে একজন মহাপন্ডিত, তাহার কোন অন্যায় বা ভুল থাকিতে পারে না। জানুক বা না জানুক সকল বিষয়েই সে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এবং তাহার সহিত একমত না হইলে চটিয়া যায় ।
(ঝ) যদি বাহিরে যাইবার একান্ত প্রয়োজন হয়, তখনই তাহার আবশ্যকীয় দ্রব্যাদি তাহার হাতের কাছে আনিয়া দেওয়া চাই এবং যখন সে ফিরে আসে তখনই যেন সকলে উপস্থিত থাকিয়া সাদর সম্ভাষন করিতে ব্যস্ত হইয়া পড়ে । সে যতক্ষণ বাড়িতে থাকে ততক্ষণ বাড়ীশুদ্ধ লোককে বিরক্ত করিয়া মারে । সর্বদাই খুঁটিনাটি লইয়া বকাবকি করিতে থাকে ।
(ঞ) আত্মহত্যা করিতে চায় ।
(ট) বয়স্ক লোক অথচ শিশুর মত খাম-খেয়ালী ।
(ঠ) নিজের পেশার প্রতি উদাসীন ।
(ড) মনে করে অপরকে ভুল জিনিস দিয়েছে, তাতে বুঝি তার মৃত্যু হবে ।

সার্সাপারিলা Sarsaparilla

প্রুভার-ডাঃ হ্যানিম্যান
উৎস-এক প্রকার গাছড়ার শুষ্ক মূল ।
প্রাপ্তিস্থান– জামাইকা ।
সমনাম- ওয়াইল্ড লিকারিসি (Wild Liguorice) ।

ধাতুগত লক্ষণ:

 ১ । শীতকাতর, সহজেই ঠান্ডা লাগে
২ । ইহা এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ ।
রোগের কারণ— পারদের অপব্যবহার, চাপা পড়া সিফিলি বা গনোরিয়া ।

অনুপূরক– মার্কারী, সিপিয়া ।
ক্রিয়ানাশক – ইহার ক্রিয়ানাশক – বেলেডোনা, মার্কসল
ইহা ক্রিয়ানাশক- মার্কসল ।
ক্রিয়াস্থল – রক্ত, মূত্রযন্ত্র, চর্ম, হাড় ।
বৃদ্ধি- রাতে, ঠান্ডায়, প্রস্রাবের পর, হাই তুলিলে, বসন্তকালে, ঋতুস্রাবের পূর্বে, গরম খাদ্য খাইলে, গরম কিছু পান করিলে, গনোরিয়ার স্রাব বন্ধ হইয়া, ধৌত করিলে ।
উপশম– গলা ও বুক খালি রাখিলে, দাঁড়াইয়া থাকিলে, গরমে, পরণের কাপড় ঢিলা করিলে ।
অনুপূরক ঔষধ– মার্কারী, সিপিয়া ।
নির্দেশক লক্ষণ বর্ণনা কর / চরিত্রগত লক্ষণ বর্ণনা কর :
(ক) শরীরের নীচের অংশের ডানদিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
(খ) ডান দিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
(গ) মূত্রনালী দিয়ে বাতাস নির্গত হয় ।
(খ) ধাতুগত পারদের দোষ দূর করিবার ঔষধ ।
(গ) টিকা দেওয়ার কুফলে পুঁজ প্রকাশ ।
(ঘ) অপরিচ্ছন্ন, সহজেই মনঃক্ষুন্ন হয় । বদমেজাজী এবং মনমরা ও হতাশা,

(ঙ) শিশু প্রস্রাবের পূর্বে কাঁদে ।
(চ) প্রস্রাব আরম্ভ হইবার বা শেষ হইবার মুখে যন্ত্রনা ।
(ছ) না দাঁড়াইলে প্রস্রাব হয় না – বসিয়া করিতে গেলে ফোটা ফোঁটা করিয়া বা গড়াইয়া গড়াইয়া পড়িতে থাকে ।
(জ) ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভাব । খাদ্যদ্রব্য ঠান্ডা খাইতে ভালবাসে ।

(ঝ) শিশুদের শীর্ণতা – শিশুদের বুড়ার মত দেখায় ।
(ঞ) ডান কিডনীতে পাথর ।
মূত্র যন্ত্রের উপর সার্সাপারিলার ক্রিয়া:
(ক) প্রস্রাব আরম্ভ হইবার বা শেষ হইবার মুখে যন্ত্রনা, না দাঁড়াইলে প্রস্রাব হয় না, বসিয়া প্রস্রাব করিতে গেলে ফোঁটা ফোঁটা করিয়া প্রস্রাব পড়ে ।
(খ) মূত্রথলির প্রদাহ ।
(গ) ডান কিডনীতে পাথর, প্রস্রাবের সঙ্গে ছোট ছোট পাথর বাহির হয়।

(ঘ) স্ত্রী লোকের প্রস্রাব দ্বার দিয়া বায়ু নিঃসরণ ।
চর্মের উপর সার্সাপারিলার কার্যকারিতা:
(ক) ক্ষয়দোষে দেহ শুকাইয়া প্রায় অস্তি চর্মসার হইয়া পড়ে। শীর্ণতা এত বেশী যে শিশুকে ঠিক বৃদ্ধে মত দেখায় । মাংসপেশী শুকাইয়া চর্ম ভাজে ভাজে ঝুলিয়া পড়ে ।
(খ) দাদের মত ক্ষত ও পূঁজ, হাত-পায়ের আঙ্গুল ফাটিয়া যায় । চর্ম শুষ্ক ।

(গ) খোলা বাতাসে বেড়ালে উদ্ভেদ প্রকাশ পায়। শুষ্ক চুলকানি – এক স্থানে চুলকাইতে আরম্ভ করিলে আবার অন্যস্থান চুলকাইতে থাকে ।

(ঘ) চর্মরোগ গ্রীষ্মকালে বৃদ্ধি ।
সার্সাপারিলার শিশু চিত্র:
(ক) ক্ষয়দোষে শিশুর দেহ শুকাইয়া প্রায় অস্থিচর্মসার হইয়া পড়ে । শিশু এত অধিক শীৰ্ণ হইয়া পড়ে যে তাকে বৃদ্ধের মত দেখায় । পেটটি বড়, চামড়া শুষ্ক ও বলিযুক্ত।
(খ) প্রস্রাব করিবার পূর্বে শিশু কাঁদিয়া উঠে ।
(গ) শিশুর হজম শক্তির অভাব ।
মূত্রপাথরীতে সাসাপারিলা:
(ক) বিশেষতঃ ডান কিডনীতে মূত্রপাথরী। কিডনীতে ভয়ানক স্নাযূশূল । বারে বারে প্রস্রাবের বেগ হয় ও অল্প অল্প প্রস্রাব হয় । প্রস্রাবের সঙ্গে সময় সময় ছোট ছোট পাথর বাহির হয় । সেই জন্য প্রস্রাব শেষ হইবামাত্র মূত্রদ্বারে অত্যন্ত যন্ত্রনা বোধ হয় । প্রস্রাবে সাদা বালুর মত তলানি পড়ে ৷

স্যাঙ্গুনেরিয়া(Sanguinaria)

প্রভার-ডাঃ জি বুট (Bute)
প্রাপ্তিস্থান– কানাডা ও ইউএসএ ।
সমনাম– ব্লাড রুট ।
ধাতুগত লক্ষণ— শীতকাতর, সোরা ধাতু, ক্ষয়রোগ প্রবণতা ।
উৎস– ব্লাডরুট বা রেড রুট বা ইন্ডিয়ান পেইন্ট নামক এক প্রকার বহু বর্ষজীবি গাছের শিকড়ের রস হইতে ইহা প্রস্তুত করা হয় । এই শিকড়ে কমলালেবুর রসের মত রস বর্তমান থাকে ৷
ক্রিয়াস্থল– পাকস্থলী, লিভার, মস্তিষ্ক, মেরুমজ্জা, হৃৎপিন্ড, গ্লান্ড ও ডান অঙ্গে ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
উপশম-ঘুমাইলে, অন্ধকারে চিৎ হইয়া শুইয়া থাকিলে, বমি হইলে, ঠান্ডা বাতাসে, ঢেকুর/ বমি/ পেটের বায়ূ বাহির হলে ।
বৃদ্ধি-নির্দিষ্ট সময় অন্তর, সূর্যোদয়ের সঙ্গে, সপ্তাহ পরে, মিষ্টি দ্রব্য আহারে, নড়াচড়ায় ও স্পর্শে ।
ক্রিয়ানাশক– ইহা ওপিয়ামের ক্রিয়ানাশক
অনুপূরক– এন্টিম-টার্ট, ফসফরাস, সালফার, টিউবারকুলিনাম –
ধাতু গত লক্ষণ– দেহের বিভিন্ন অংশে জ্বালা, নির্দিষ্ট সময়ে সবমন মাথার যন্ত্রণা । স্রাব, নিশ্বাস ও বাত কর্মে দুর্গন্ধ ।
চরিত্রগত লক্ষণ
১। ডান দিকে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে। ডান পাশে শয়ন করিতে পারে না ।
২। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালা ।
৩। নির্দিষ্ট সময় অন্তর রোগের আক্রমণ ।
৪ । স্রাব, নিশ্বাস ও বাতকর্মে দুর্গন্ধ, স্রাব মাত্রই ঝাঝাল ।
৫। সূর্যাবর্ত মাথাব্যথা- সকালে শুরু, দুপুরে বৃদ্ধি, বৈকালে কমে যায়, ঘুমের পর উপশম । নির্দিষ্ট সময় অন্তর মাথাব্যথা (সাতদিন অন্তর), মনে হয় মাথা ফেটে যাবে । শুয়ে থাকলে ও ঘুম হলে উপশম । উপবাসে মাথা ব্যথা, বমির সঙ্গে মাথা ব্যথা, ব্যথা মাথার পিছন দিক হতে আরম্ভ হয়ে সামনের দিকে এসে ডান চোখের উপর স্থির হয়।
৬। নাকের ও কানের ভিতর পলিপ ।
৭। মুখে স্নায়ুশূল- হাঁটু গাড়িয়া বসিলে উপশম । ডান কাঁধ ও বাহুতে বাত বেদনা ।
৯। বৈকালে গাল লাল হয়ে যায়, গালে লাল চাকা চাকা দাগ ।
শ্বাস যন্ত্রে স্যাঙ্গুনেরিয়া:
ক) কণ্ঠনালীতে ব্যথা, স্বরলোপ ৷
খ) পাকাশয়িক গোলযোগের সহিত কাশি- ঢেকুরে উপশম, কাশির গয়ার- মরিচার মত ।
গ) কাশি রাতে শয়নের পর বাড়ে, রোগী উঠিয়া বসিতে বাধ্য হয় । ঘ) পাকস্থলীর গোলযোগের সহিত হাঁপানি
ঙ) গয়ার দূর্গন্ধযুক্ত । নিশ্বাসে দুর্গন্ধ ।
চ) কাশির সহিত উদরাময়, উদরাময় দেখা দিলে শ্বাস যন্ত্রের কষ্টের উপশম হয় ।
ছ) ফুলের গন্ধে হাঁপানি বৃদ্ধি পায় ৷

নাম

সমনাম

উৎস

Prover

এব্রোটেনাম Abrotanum

সাউদার্নউড/আর্টিমিসিয়া এব্রোটেনাম ।

উদ্ভিদ

ডাঃ গ্যাটচেল ( Gatchell )

এগনাস ক্যাসটাস Agnus Castus

চেষ্ট ট্রি 

উদ্ভিদ

 

এলুমিনা(Alumina)

এলুমিনিয়াম অক্সাইডAl(OH)3

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

এমোনিয়ামকার্বোনিকাম(AmmoniumCarbonicum)

স্মেলিং সল্ট NH4HCO3

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

সেনেগা Senega

স্নেক ওয়ার্ট বা সেনেকা রুট

উদ্ভিদ

 

মার্কসল

কুইক সিলভার

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

নাইট্রিক এসিডাম(NITRIC ACID)

HNO3

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

কেলি কার্বোনিকাম

কেলিয়াম কার্বো নিকাম, পটাশিয়াম কার্বোনেট

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

ক্রিয়োজোট

উডটার

উদ্ভিজ ।

ডাঃ সিরবিয়াস (Syrbius)

প্লাটিনাম মেটালিকাম

ব্লাক লেটার মেডিসিন (Black letter medicine)

খনিজ

ডাঃ স্টাপফ (Stapf)

মেজোরিয়াম (MEZEREUM)

স্পার্জ অলিভ

উদ্ভিদ

ডাঃ হ্যানিম্যান

সেলিনিয়াম(Selenium Metallicum)

Se

খনিজ

ডাঃ  হেরিং

স্পাইজেলিয়া(SPIGELIA)

পিঙ্করুট

উদ্ভিদ

ডাঃ হ্যানিম্যান

আয়োডিয়াম(IODUM)

আয়োডিন

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

স্পঞ্জিয়া টোস্টা(SPONGIA TOSTA)

রোষ্টেড স্পঞ্জ

প্রাণী

ডাঃ হ্যানিম্যান

কেলি-বাইক্রম(KALI BICHROMICUM)

পটাশিয়াম বাইক্রোমেট K2Cr2O7

খনিজ

ডাঃ ড্রাইসডেল (Drysdale)

ব্যারাইটা কার্বনিকা(BARYTA CARBONICA)

বেরিয়াম কার্বোনেট BaC03

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

ক্যাম্ফোরাCAMPHORA OFFICINALIS

ক্যাম্ফর C10H160

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

সিমিসিফিউগা(Cimicifuga Racemosa)

একটিয়া রেসিমোসা, ব্লাককোহোস

উদ্ভিদ

ডাঃ সি,জে, হ্যামপেল, জিনেছ

ফসফরাস(Phosphorus)

P

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

পালসেটিলা (PULSATILLA)

উয়িঙ্গ ফ্লাওয়ার (Wing flower)

উদ্ভিদ

ডাঃ হ্যানিম্যান

প্লাম্বাম মেটালিকাম(Plumbum Metallicum)

সীসা (Lead) , Pb

খনিজ

ডাঃ হেরিং, হার্টল্যাব, ট্রিঙ্কস এবং নেনিং

সিকেলি কর (Secale Cornutum)

আর্গট অব রাই (Ergot of Rye )

ছত্রাক

ডাঃ এইচ,সি,এলেন

সাইলিসিয়া(Silicea)

সিলিকা/সিলিসিক অক্সাইড/ কোয়ার্জ (Quartz)SiO2

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান ও ডাঃ উব্লিউ, এইচ, সুসলার

স্টেফিসেগ্রিয়া(Staphysagria)

স্ট্যাভেসেক্রি (Stavesacre)

উদ্ভিদ

ডাঃ হ্যানিম্যান

সিপিয়া Sepia

কাটল ফিস

প্রাণী

ডাঃ হ্যানিম্যান

ষ্টেনাম মেটালিকাম (Stanum Metalicum)

টিন,Sn

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

সালফার Sulphur

ব্রিমষ্টোন(Brimstone), S

খনিজ

ডাঃ হ্যানিম্যান

সার্সাপারিলা Sarsaparilla

ওয়াইল্ড লিকারিসি (Wild Liguorice)

উদ্ভিদ

ডাঃ হ্যানিম্যান

স্যাঙ্গুনেরিয়া(Sanguinaria)

ব্লাড রুট

উদ্ভিদ

ডাঃ জি বুট (Bute)

 

 

নাম

ক্রিয়াস্থল

ধাতুগত লক্ষণ,প্রবণতা

এব্রোটেনাম

শারিরীক পুষ্টি সাধন, পরিপাক যন্ত্র, স্নায়ু

রোগী শীতকাতুরে, ক্ষয়দোষ প্রবণ, পর্যায়শীল লক্ষণ, সাইকোসিস ও সোরা মায়াজম

এগনাস ক্যাসটাস

পুরুষ ও স্ত্রী জননেন্দ্রিয়, স্নায়ুর উপর

শীতকাতর, শ্লেষ্মাপ্রধান, কোষ্ঠবদ্ধতা, সিফিলিস, মায়াজম বৃদ্ধি— নড়াচড়ায় উপশম– বিশ্রামে

এলুমিনা

শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, চর্ম, যে সব শিশু কৃত্রিম খাবার খেয়ে বড় হয়, সরলাস্ত্রে

এন্টিসোরিক,শীতকাতর,শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির শুষ্কতা,গন্ডমালা ধাতু,উত্তাপের অভাব,

এমোনিয়াম কার্বোনিকাম

রক্ত, হৃৎপিন্ড, পাকাশয়, ফুসফুস

এন্ট্রিসোরিক, শীতকাতুরে, শ্লেষ্মাপ্রবণ,রক্তস্রাব প্রবণ

সেনেগা

শ্বাসযন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, চোখে, পাকস্থলী, অস্ত্র, পুরা, মূত্র নালীর শ্লৈষ্মিম ঝিল্লী, দেহের বাম পার্শ্বে

আভ্যন্তরীন অঙ্গ সমূহের, বায়ূনালী পথের ইত্যাদির শুষ্কতা

মার্কসল

শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, গ্রন্থিসমুহ, জননেন্দ্রিয়, অস্থি, শরীরের ভিতরের যন্ত্র

এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক,ঠান্ডা বা গরম কিছুই সহ্য হয় না,পূঁজ জন্মিবার প্রবনতা, স্রাব হাজাকারক,দুর্গন্ধযুক্ত

নাইট্রিক এসিডাম(NITRIC ACID)

রক্ত, শরীরের বিভিন্ন নির্গমন দ্বারের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী ও চামড়ার সংযোগ স্থল, চামড়া, অস্থি, গ্রন্থি, লিভার, প্রষ্টেট গ্রন্থি, অস্ত্র

এন্টিসোরিক, এন্টি-সিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক,শীতকাতর ও স্পর্শকাতর, রক্তস্রাব প্রবণ,স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ও হাজাকারক,সহজেই সর্দি লাগে

কেলি কার্বোনিকাম

ফুসফুসের শ্লিষ্মিক ঝিল্লী, পাকাশয় পথ, ডিম্বকোষ, জরায়ূর ও ডান দিকে

এন্টিসোরিক,শীতকাতুরে অথচ প্রচুর ঘর্ম,স্পর্শকাতরতা

ক্রিয়োজোট

লিমফ্যাটিক গ্লাভ, পাকাশয়,স্ত্রী যৌন অঙ্গের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী,দাঁত ও রক্ত ইত্যাদি

শীতকাতুরে, স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ও হাজাকারক,রক্ত স্রাব প্রবণ,সোরা ও সিফিলিস ধাতু

প্লাটিনাম মেটালিকাম

স্নায়ুমন্ডল, হিষ্টিরিয়া

এন্টিসোরিক,হিষ্টিরিয়া গ্রস্ত রোগীনি,স্ত্রীজননযন্ত্রের স্পর্শকাতরতা, গরম কাতর

মেজোরিয়াম (MEZEREUM)

চামড়া, জননেন্দ্রিয়, মূত্রনালীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, অন্ননালী, দীর্ঘ হাড় যেমন টিবিয়া হাড়, দাঁত স্নায়ু ও মনে

এন্টিসোরিক ও এন্টিসিফিলিটিক,  শ্লেষ্মা প্রধান,শীতকাতুরে

সেলিনিয়াম

জননেন্দ্রিয়, মূত্রযন্ত্র কণ্ঠনালী ও লিভারে

গরম কাতর, সোরা ও সিফিলিটিক,

স্পাইজেলিয়া(SPIGELIA)

চোখ, হৃৎপিন্ড ও স্নায়ূমন্ডল

সোরা, বাত প্রবণতা,গন্ডমালা ধাতুবিশিষ্টি, স্পর্শকাতরতা,শীতকাতর,খোলা বাতাস ও সহ্য হয় না

আয়োডিয়াম(IODUM)

লসিকা গ্রন্থি, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, ডিম্বকোষ, অন্ডকোষ, জরায়ূগ্রন্থি, লিভার, কিডনী, ত্বক, ধমনী, থাইরয়েড গ্লান্ড, ধমনী, থাইরয়েড গ্লান্ড, স্তন, ওভারী

এন্টিসোরিক, গরম কাতুরে, রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা,গ্রন্থি পীড়ার সহিত শীর্ণতা,রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে ও সহজে আরোগ্য হয় না

স্পঞ্জিয়া টোস্টা

শ্বাসযন্ত্র, থাইরয়েড গলগ্রন্থি, হৃদযন্ত্র

ত্রিদোষনাশক ঔষধ,গ্লান্ড গুলি ফোলে,শীতকাতর,

কেলি-বাইক্রম

শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী অন্ননালী ফুসফুস ও জরায়ু,গ্রন্থি, লিভার, কিডনী, চর্ম, অস্থি ও হৃৎপিন্ড

ত্রিদোষনাশক বিশেষতঃ সিফিলিস, শীতকাতর, পর্যায়শীলতা, মোটা ও ঘাড় খাট,

ব্যারাইটা কার্বনিকা

মন, পুষ্টি, গলার গ্রন্থি, হৃৎপিন্ড স্নায়ূমন্ডলী, শিরা, ফুসফুস

শীতকাতর, সোরা ধাতু

ক্যাম্ফোরাCAMPHORA OFFICINALIS

হজম পথ, মেরুমজ্জার স্নায়ূমন্ডলী, মূত্রযন্ত্র ও নাক

শীতকাতর, ঠান্ডা বাতাস সহ্য করতে পারে না, এন্টিসোরিক

সিমিসিফিউগা(Cimicifuga Racemosa)

মন, মস্তিষ্ক, মেরুমজ্জা, মাংপেশী, ডিম্বকোষ, জরায়ূ

শীতকাতুরে, এন্টিসোরিক, বাত প্ৰবণতা

 

 

 

ফসফরাস(Phosphorus)

রক্ত, চোয়ালের হাড়, ফুসফস, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, পেশী, লিভার

এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক,শীতকাতর, লবন প্রিয়, অধিক মসল্লাযুক্ত খাদ্য পছন্দ করে,রক্তস্রাব প্রবণ, ক্ষয়রোগ প্রবণতা

পালসেটিলা (PULSATILLA)

চোখ, কান, জননেন্দ্রিয়, পাকস্থলী, শ্বাসযন্ত্র, মুখমন্ডল, মাথা, প্রোষ্টেট গ্লান্ড, শ্লৈষ্মিকঝিল্লী

এন্টিসোরিক ও এন্টিসাইকোটিক,শ্লেষ্মা প্রধান ধাতু, পরিবর্তনশীলতা, গরম কাতর

প্লাম্বাম মেটালিকাম

মেরুদন্ডের স্নায়ুকেন্দ্রের উপর, কিডনী, হৃৎপিন্ড, লিভার

এন্টিসোরিক ও এন্টিসিফিলিটিক, স্পর্শকাতরতা, গ্রন্থির কঠিনতা, পর্যায়শীলতা, শীতকাতর

সিকেলি কর (Secale Cornutum)

ধমনী, জরায়ুর মাংপেশী, রক্ত, স্নায়ুমন্ডলী, হাত, পা

এন্টিসোরিক ও এন্টিসাইকোটিক, রক্তস্রাব প্রবন, গরম কাতর, রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা,রক্তসঞ্চালনে বিশৃঙ্খলা

সাইলিসিয়া(Silicea)

পরিপোষন যন্ত্রমন্ডলীর উপর, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, গ্রন্থি সমূহ, অস্থি সন্ধি

এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক, শীতকাতুরে, গন্ডমালা ও রিকেটিক, পরিপোষন যন্ত্রের দূর্বলতা, রোগ লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়

স্টেফিসেগ্রিয়া

জননেন্দ্রিয়, মূত্রযন্ত্র, পাকাশয়, চর্ম

এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক, শীতকাতর

সিপিয়া Sepia

স্ত্রী জননেন্দ্রিয়ের উপর প্রধানতঃ ক্রিয়া করিয়া মেচেতার মত চিহ্ন উৎপন্ন করে

এন্টিসোরিক ও এন্টিসাইকোটিক, শীতকাতুরে, কোষ্ঠবদ্ধতা, তৃতীয় হইতে পঞ্চম মাসের মধ্যে হ্যাবিচুয়াল এবরশন হয়

ষ্টেনাম মেটালিকাম

স্নায়ূমন্ডল, শ্বাসযন্ত্র, মস্তিষ্ক

এন্টিসোরিক, ক্ষয়রোগ প্রবণতা,রোগী শীতকাতর নয়, গরম কাতরও নয়

সালফার Sulphur

চর্ম, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, স্নায়ুমন্ডলী, রক্তসঞ্চালনের উপর

এন্টিসোরিক ঔষধের রাজা, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক,গন্ডমালা ধাতু

সার্সাপারিলা Sarsaparilla

রক্ত, মূত্রযন্ত্র, চর্ম, হাড়

শীতকাতর, সহজেই ঠান্ডা লাগে, এন্টিসোরিক, এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক

স্যাঙ্গুনেরিয়া(Sanguinaria)

পাকস্থলী, লিভার, মস্তিষ্ক, মেরুমজ্জা, হৃৎপিন্ড, গ্লান্ড ও ডান অঙ্গে ক্রিয়া প্রকাশ করে

শীতকাতর, সোরা ধাতু, ক্ষয়রোগ প্রবণতা

 

 

কাতরতা/ ক্রিয়াশীল দিক /অনুভূতি

ঔষুধের নাম

গরম কাতর

আয়োডিয়াম, সেলিনিয়াম, প্লাটিনাম মেটালিকাম,সিকেলি কর, পালসেটিলা,সালফার

শীতকাতর

এব্রোটেনাম, সিপিয়া, স্পঞ্জিয়া টোস্টা, স্টেফিসেগ্রিয়া, ক্যাম্ফোরা, সাইলিসিয়া, কেলি-বাইক্রম,কেলি কার্বোনিকাম,

ডান দিকে ক্রিয়াশীল

স্যাঙ্গুনেরিয়া, এমোনিয়াম কার্বোনিকাম, মার্কসল, কেলি কার্বোনিকাম, সিকেলি কর, সালফার,সার্সাপারিলা

বাম দিকে ক্রিয়াশীল

স্পাইজেলিয়া, ক্রিয়োজোট, সিমিসিফিউগা, ফসফরাস, পালসেটিলা, সিপিয়া, ষ্টেনাম মেটালিকাম

যৌনি পথ দিয়ে সব বের হয়ে যাবে

পালসেটিলা, সিপিয়া, এলুমিনা,সিমিসিফিউগা.

 

 

ঔষুধের নাম

দৈহিক গঠন

ফসফরাস

লম্বা, পাতলা, ফর্সা, সুন্দর ভ্রু, কটাচুল কোলকুঁজো, সরু বুক, চামড়া পাতলা

সেলিনিয়াম

রঙ ফর্সা, সুন্দর চেহারা অথচ মুখ, হাত পা, পায়ের পাতা বা দেহের কোন একটি অঙ্গ বেশী রকম শুকিয়ে যায়

 

 

 

 

চর্ম পীড়ায় সালফারের ব্যবহার লিখ :
ক) হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে উদ্ভেদযুক্ত চুলকানি ।
খ) আঘাতপ্রাপ্ত স্থান বা ক্ষতের উপশম হওয়ার প্রবণতা খুব ধীরে ধীরে হয় ৷
গ) সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে পুঁজ জমে ।
ঘ) সাধারণতঃ সোরার উদ্ভেদে পুঁজ হয় না ।

ঙ) চর্ম রোগ চাপা পড়ার ইতিহাস ।
কোষ্ঠ-কাঠিন্যের ক্ষেত্রে সালফারের ব্যবহার:
ক) ব্যথার কারণে মলত্যাগে ভয় পায় ৷
খ) মলত্যাগের সময় মলদ্বারে প্রচণ্ড ব্যথা লাগে, শিশু তাই মলবে আসলেই পূর্ব অভিজ্ঞতার ভয়ে কাঁদতে থাকে ।

গ) পর্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠকাঠিন্য ।
ঘ) মলত্যাগের পর হাত-পা ঘেমে উঠে ।
শু) বারবার নিষ্ফল মলবেগ, মল শক্ত গাঁট গাঁট এবং অপ্রচুর ।
সিপিয়া রোগীর গঠন:
রোগিণী লম্বা, হালকা-পাতলা, ক্ষীণকটি, পিছন থেকে তাকাইলে
পিঠ এবং পাছা একই সমতলে দেখায় ।
সিপিয়া রোগীর ত্বকের বৈশিষ্ট্য:
ক) চুলকানি কিন্তু চুলকাইলে উপশম হয় না ৷
খ) কনুই এবং হাঁটুতে চর্মরোগ ।
গ) বসন্তকালে শরীরে দাঁদের মত উদ্ভেদ ।
ঘ) খোলা বাতাসে শীতপিত্ত (Urticaria) বৃদ্ধি পায় এবং গরম ঘরে উপশম ।
ঙ) পায়ের তলা, পায়ের আঙ্গুল ও বগল ঘামে, ঘামে দুর্গন্ধ ৷
চ) মুখ ফ্যাকাশে, নাকের গোড়ার দিকে, গালে ও বুকে মেছেতার দাগ ।
স্ত্রী পীড়ায় সিপিয়ার কার্যকারিতা:
ক) জরায়ুর স্থানচ্যুতির (Prolapse) সময় বার বার প্রস্রাবের বেগ আসে।
খ) গর্ভবর্তী নারীদের চুলকানি ।
গ) ছোট ছোট বালিকাদের লিউকোরিয়া ।
ঘ) যৌন ক্রিয়ার সময় যৌনিপ্রদেশে ব্যথা পায় । স্বামী সঙ্গমে অনাগ্রহ, সুখও পায় না, স্বামী-সন্তানদের প্রতি অনীহা । যৌনিদ্বার ও তলপেট হতে যেন কোন কিছু বের হয়ে আসবে এইরূপ অনুভূতি । তাই রোগী উরুর উপর উরু চাপিয়া বসে ।
5) স্ত্রীজনন অঙ্গের কোন পীড়ার সহিত আধ-কপালে মাথা ব্যথা ।

চ) প্রচুর দুর্গন্ধযুক্ত শ্বেতপ্রদর- রঙ হলদে ।
ছ) কর্ত বন্ধের বয়সে মুখে গরমের ঝলকা অনুভব করে ও ঘাম হয় ।

সিপিয়ার জরায়ু বের হয়ে আসর লক্ষণ:
.ক) জরায়ুর স্থানচ্যুতি সময় বারবার প্রস্রাবের বেগ আসে।
খ) মনে হয় জরায়ু বের হয়ে আসবে, তাই এক পার উপর অন্য পা উঠিয়ে জরায়ু চেপে ধরে ।

মার্ক সল ও নাইট্রিক এসিডের দত্ত পীড়ার লক্ষণ:

মার্ক সল

নাইট্রিক এসিড

দাঁত আলগা ও লম্বা মনে হয় ৷

মনে হয় দাঁত বড় হয়ে গিয়েছে ।

দাঁতে দত্তমল(Sordes) জমে ।

দাঁতে দত্তমল জমে ।

অল্প বয়সেই শিশুদের দাঁতে ক্ষয়, গর্ত ও ভেঙ্গে যায় ৷ দাঁত টুকরা টুকরা হয়ে ভেঙ্গে যায় ৷ 

দাঁতে ক্ষয়, গর্ত ও ভেঙ্গে যায় ৷

বাম দিকের দাঁতের ব্যথা ।

ডান দিকের দাঁতের ব্যথা ।

  ঠান্ডা প্রয়োগে ও গোছল করিলে দাঁত ব্যথা বৃদ্ধি পায় ।

ঠান্ডা প্রয়োগে দাঁতের ব্যথা বৃদ্ধি পায় ৷

গর্ভাবস্থায় ও ঋতুস্রাবের সময় দাঁত ব্যথা করে ।

ঋতুস্রাবের সময় দাঁত ব্যথা করে ।

রাতের বেলায় দাঁত ব্যথা করে ।

রাতের বেলা দাঁত ব্যথা করে।

ঠান্ডা লাগিলে দাঁতের পীড়া ।

পরদের অপব্যবহার জনিত দাঁতের কোন পীড়া ।


অর্শ্বরোগে এসিড নাইট্রিকামের ব্যবহার:
ক) শরীরের বিভিন্ন নির্গমন দ্বারের যে স্থানে চর্ম ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর সংযোগ ঘটেছে সেই স্থানে অধিক ক্রিয়া প্রকাশ করে ।
খ) অর্শ্ব রোগে মলদ্বার ফেটে যায়। মলত্যাগের পরও বহুক্ষণ পর্যন্ত মলদ্বারে কর্তনবৎ ব্যথা/জ্বালা ।
গ) অর্শ্ব বলি হতে সহজেই রক্তপাত ৷

ঘ) গরম আবহাওয়ায় বৃদ্ধি ।
ঙ) অন্ধবলি / অনেক সময় মলত্যাগের পর বলি বাহিরে চলে আসে ।
চ) অর্শ্ববলি আকারে বড় / ফুলে উঠে ।
ছ) স্পর্শে ব্যথা / জ্বালা বৃদ্ধি পায় ।
গলগণ্ডে আয়োডিয়াম:
ক) আয়োডিনে সকল গ্লান্ড ফুলে যায় কিন্তু মামারী গ্লান্ড বা স্তন শুকিয়ে যায় ।
খ) হার্টের কোন পীড়ার সহিত বড় হয়ে পড়া গলগল্ড ।
গ) গলগন্ড শক্ত হয়ে পড়ে ৷
ঘ) গলগন্ডের সঙ্গে গলায় সঙ্কোচন বোধ ৷
ঙ) রোগী অত্যন্ত গরম কাতর ৷
 আয়োডিয়ামের দৈহিক গঠন:
ক) প্রচণ্ড ক্ষুধা ও তৃষ্ণা কিন্তু দেহ ক্রমশঃ শীর্ণ হতে থাকে ।

খ) সকল গ্রন্থি ফোলে কিন্তু মেয়েদের স্তন গ্রন্থি শুকাইতে শুকাইতে উহার অস্তিত্ব বুঝার উপায় থাকে না, মন্দিরের ঘণ্টার মত ঝুলিতে থাকে ৷
গ) অন্ডকোষের শীর্ণতা ।
ঘ) শরীরের বাহিরের কোন অঙ্গের শোথ ।
 আয়োডিয়ামের শিশুদের প্রকৃতি:
ক) পুষ্টির অভাবজনিত কারণে শিশুর শীর্ণতা ।
খ) শিশুর অন্ডকোষের শীর্ণতা ।
গ) শিশুর কাশিতে ঘেউ ঘেউ শব্দ হয় ।
স্ত্রী পীড়ায় পালসেটিলা:
ঋতুস্রাবের পূর্বে মুখমন্ডলের মাংসপেশীতে খিচুনি এবং মুখ মন্ডল নীল বর্ণ ধারণ করে । ঋতুস্রাবের সময় চোখের চার দিক ফুলে যায় । ঋতুস্রাবের নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব চাপা পড়ে দাঁত ব্যথা। প্রথম ঋতুস্রাবের পর থেকেই যে সব সমস্যা দেখা দেয় তার ধারাবাহিকতা চলতেই থাকে । অতিরিক্ত শ্বেত প্রদর স্রাবের জন্য বন্ধ্যাত্ব । বিলম্বিত ঋতুস্রাবের পর শীতপিত্ত (urticaria) দেখা দেয় ।
মাসিকের সমস্যায় পালসেটিলার লক্ষণ:
ক) মেয়েদের প্রথম ঋতুস্রাবের (Puberty) পর যে সব সমস্যা দেখা দেয় তার ধারাবাহিকতা চলতেই থাকে ।
খ) ঋতুস্রাবের পূর্বে মুখমন্ডলের মাংসপেশীতে খিছুনি ।

গ) ঋতুস্রাবের পূর্বে মুখমন্ডল নীলবর্ণ (Bluish) ধারণ করে ।

ঘ) ঋতুস্রাবের সময় চোখের চারদিক ফুলে যায় ।
ঋতুস্রাবের নির্ধারিত সময় ঋতুস্রাব চাপা পড়ে দাঁত ব্যথা ।

ঋতুস্রাবের পূর্বে গলা চেপে ধরা বা দম আটকা অবস্থা দেখা দেয় ।

ছ) ঋতুস্রাবের সময় ঢেকুরের সহিত মুখে পানি উঠে ।

জ) ঋতুস্রাবের সময় বহিঃবলি অর্শ্বের পীড়া ।
ঝ) ঋতুস্রাবের সময় কোমর এবং কক্সিসের মধ্যবর্তী অংশে ঠান্ডা বোধ ।

ঞ) ঋতুস্রাবের সময় পায়ের অনুভূতিহীনতা ।

 ব্যারাইটা কার্বের রোগীদের শারীরিক গঠন :

ক) খর্বাকৃতি, অকাল বার্ধক্য ।
খ) দেরীতে হাঁটা ও কথা বলা শিখে ।

গ) শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে খর্ব ।

ঘ) শিশুর দেহ থলথলে ।
ঙ) পেটটি ঘটের মল ফোলা ।
জরায়ু বের হওয়ার লক্ষণের ঔষধ :

১ । সিপিয়া,
২ । পালসেটিলা
৩ । নেট্রাম-মিউর ।
বাম পাশের সমস্যায় ব্যবহৃত তিনটি ঔষধের নাম: 

স্পাইজেলিয়া, ল্যাকেসিস, সিপিয়া, সালফার, ফসফরাস
হার্টের সমস্যায় স্পাইজেলিয়ার ব্যবহার:
ক) হার্টের কোন পীড়ার সহিত বুকে শোথ ।
খ) হার্টের ব্যথায় গরম পানি পান করিলে উপশম ।

গ) হৃৎপিন্ডের ব্যথায় কেবলমাত্র ডানদিকে উঁচু মস্তকে শয়নে উপশম ।
গ) হৃৎপিন্ডের বাথা ডান স্কাপলাতে ছড়াইয়া পড়ে ৷

ঙ) হার্টের কোন পীড়ার সহিত কোষ্ঠ-কাঠিন্য ।
চ) প্রচণ্ড হৃদ কম্পনের শব্দ শুনা যায় ও দেখা যায় । হৃৎপিন্ডের পীড়ার সহিত বাম চোখের যন্ত্রণা, আক্রান্ত চোখ হতে পানি পড়ে
চোখের ক্ষেত্রে স্পাইজেলিয়ার নির্দেশক লক্ষণগুলো: 

ক) চোখ নাড়াইলে মাথা ঘোরে ।
খ) ঝাঁকি লাগিলে চোখের ব্যথা বাড়ে ।
গ) হৈ-চৈ বা গোলমালে চোখের ব্যথার বৃদ্ধি ।
ঘ) সর্দি/জ্বরের সময় মনে হয় চোখ বের হয়ে আসবে ।
ঙ) চোখ বড় হয়ে গিয়েছে বোধ, চোখে এত ব্যথা যে সমস্ত দেহ না ঘুরিয়ে চোখ ঘুরাতে পারে না ।
কিডনী পাথুরিতে – সারসাপ্যারিলা:
ক) ডান কিডনীতে পাথর
খ) প্রস্রাব বালুকণাযুক্ত / প্রস্রাব পাত্রে ধরিলে বালুকাবৎ পদার্থ জযে ।

গ) প্রস্রাবের সঙ্গে ছোট ছোট পাথর বাহির হয় ।
ঘ) প্রস্রাব বালুকণাযুক্ত / প্রস্রাব পাত্রে ধরিলে বালুকাব‍ পদার্থ জমে ।
ঙ) ডান কিডনী হতে নিম্নদিকে ব্যথা ।
চ) প্রস্রাব দূর্বল ও সরু ধারে বের হয় ।
ছ) প্রস্রাব আরম্ভ হইবার বা শেষ হইবার সময় যন্ত্রণা ।
জ) না দাঁড়াইলে প্রস্রাব হয় না বসিয়া করিতে গেলে ফোঁটা ফোঁটা করিয়া বা গড়াইয়া গড়াইয়া পড়িতে থাকে ।
শিশুর শীর্ণতায়- এব্রোটেনায
ক) পুষ্টিহীনতা থেকে শিশুর শীর্ণতা
খ) নিম্নাঙ্গের শীর্ণতা
গ) শীর্ণতা নিয়াঙ্গ হতে উপরের অঙ্গে ঘাড় পর্যন্ত উঠে ।

ঘ) প্রবল ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও দেহ শুকাইতে থাকে
ঙ) মলের সঙ্গে অজীর্ণ খাদ্যবস্তু, তাই রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে ।
চ) বারবার নিম্ফল মলবেগ, মল শক্ত, গাঁট গাঁট এবং অপ্রচুর ।

Disclaimer:
This blog post is for study purposes only. It is not a substitute for professional medical advice. Please consult a healthcare professional for personalized guidance and treatment. Self-medication is strongly discouraged.

Scroll to Top