প্যাথলজি (৩য় বর্ষ)

প্যাথলজি:  প্যাথলজি শব্দটি প্রাচীন গ্রীক শব্দ  pathos প্যাথোস যার অর্থ “অভিজ্ঞতা” বা “কষ্ট” এবং –logia “অধ্যয়ন” থেকে এসেছে । প্যাথলজি হল চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা যেখানে রোগ কি, কিভাবে সৃষ্টি হয়, কিভাবে বৃদ্ধি লাভ করে, রোগের লক্ষণাদি, আক্রমণকাল, হ্রাস-বৃদ্ধি, উপশম প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায়, অসুস্থতার জন্য দেহের কোন অঙ্গের কি পরিবর্তন হইতে পারে, এই পরিবর্তনের পরিণতি কি হইতে পারে এসব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের অনুসন্ধান, বার বার পরীক্ষার সাহায্যে সিদ্ধান্ত যাচাই ও আলোচনা করে তাহাকে প্যাথলজি বা রোগবিদ্যা বলে।

প্যাথলজি পাঠের গুরুত্ব : বিভিন্ন কারণে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে প্যাথলজির গুরুত্ব:

  1. রোগ নির্ণয়: টিস্যু, কোষ এবং শারীরিক তরল পরীক্ষা করে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা ও যত্ন প্রদানের জন্য সঠিক রোগ নির্ণয় অপরিহার্য।
  2. পূর্বাভাস/ ভাবী ফল: প্যাথলজিকাল মূল্যায়ন একটি রোগের সম্ভাব্য ফলাফলের পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে। এই তথ্য চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য।
  3. চিকিত্সা নির্দেশিকা: প্যাথলজি ফলাফলগুলি রোগীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর চিকিত্সার কৌশল নির্ধারণে  সাহায্য করে।
  4. রোগ পর্যবেক্ষণ: রোগের অগ্রগতি, চিকিত্সার কার্যকারিতা, এবং সম্ভাব্য জটিলতাগুলি নিরীক্ষণ করতে প্যাথলজিকাল টেস্টিং ব্যবহার করা হয়।
  5. গবেষণা: প্যাথলজি চিকিৎসা গবেষণার জন্য মৌলিক।
  6. রোগ, রোগ লক্ষণ, ক্রমবিকাশ, ভাবী ফল, পরিণতি ইত্যাদি বিষয়গুলি চিকিৎসাশাস্ত্রের অন্তর্গত। এই বিষয়ে জ্ঞান লাভ করিতে হইলে অবশ্যই প্যাথলজি পাঠ করা প্রয়োজন।
  7. পৃথিবীর সর্বত্র অসংখ্য জীবাণু ছড়াইয়া আছে। মারাত্মক জীবাণু ছাড়াও অসংখ্য ক্ষতিকর কীটাণু খাদ্য-পানীয়ে ছড়াইয়া আছে। এগুলি বহুবিধ রোগ বিস্তারের সহায়ক। এই জীবাণুর পরিচয় ও ক্ষতিকর কার্যকলাপ সম্পর্কে জানার জন্য প্যাথলজির জ্ঞান অপরিহার্য।
  8. শরীরের সুস্থতার জন্য সুষম খাদ্য, ভিটামিন, লবণজাতীয় পদার্থ, দেহের উষ্ণতা ও পরিবেশের তাপের সাথে সম্পর্ক, প্রভৃতির জ্ঞানও প্যাথলজি হইতে পাওয়া যায়।
  9. রোগ নির্ণয় করার জন্য রোগীর মল, মূত্র, রক্ত কফ, কাশি ইত্যাদি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
  10. দেহকোষের পরিবর্তন, রোগ জীবাণূর আয়ূকাল, রোগের জটিলতা, ভাবীফল ইত্যাদি জানতে পারি ।
  11. রোগের পথ্য ও ব্যবস্থাপনা সহজ হয় ।
  12. হোমিওপ্যাথি সদৃশ লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা- রোগের নয়, রোগীর চিকিৎসা করা হয়, তথাপি প্যাথলজি বা রোগ নির্ণয় বিদ্যা দ্বারা চিকিৎসা অনেক সময় সহজ হয় ।
  13. রোগ নির্ণয় করতে পারলে সে রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের তালিকা হতে সঠিক ঔষধটা নির্বাচন করা সহজ হয়।
  14. জেনেটিক টেস্টিং: জেনেটিক প্যাথলজি ডিএনএ পরীক্ষা করে এবং বিভিন্ন উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অবস্থার জন্য দায়ী জেনেটিক মিউটেশন সনাক্ত করে। জেনেটিক রোগ বোঝার জন্য এবং জেনেটিক কাউন্সেলিং এর জন্য এটি অত্যাবশ্যক।
  15. ফরেনসিক প্যাথলজি: আইনি প্রেক্ষাপটে, ফরেনসিক প্যাথলজিস্টরা প্যাথলজি ব্যবহার করে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে, দেহাবশেষ সনাক্ত করতে এবং অপরাধ তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ করতে।
  16. গুণমান নিয়ন্ত্রণ: প্যাথলজি রক্ত ​​সঞ্চালন, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, এবং পরীক্ষাগার পরীক্ষার প্রক্রিয়াগুলির গুণমান এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে, প্রতিকূল ফলাফলের ঝুঁকি হ্রাস করে।

সংক্ষেপে, প্যাথলজি চিকিৎসা ক্ষেত্রে অপরিহার্য, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং বোঝার পাশাপাশি গবেষণা, জনস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার গুণমান নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্যাথলজি পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

হোমিওপ্যাথিতে প্যাথলজি পাঠের গুরুত্ব:

মানুষ অসুস্থ হইলে তার প্রতিক্রিয়া ও উপসর্গগুলি নির্ভর করে তার আভ্যন্তরীণ কোষষমূহের প্রতিক্রিয়ার উপর। এই প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ রোগীর দেহমনে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণসমূহ প্রকাশিত হয়। এই ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণসমূহকে বিচার করিয়া সদৃশ লক্ষণযুক্ত ঔষধ প্রয়োগ করাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মূল সূত্র।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে সঠিক ঔষধ নির্বাচনের জন্য রোগ ও রোগলক্ষণ সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। এই জন্য চিকিৎসকের প্যাথলজির সঙ্গে সম্যক পরিচয় থাকা দরকার। রোগ নির্নয় করিতে হইলে রোগীর মল, মূত্র, রক্ত, কফ, কাশি প্রভৃতি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্যাথলজি -সম্পর্কে জ্ঞান না থাকিলে ঐসব পরীক্ষা নীরিক্ষা করিয়া রোগের সঠিক কারণ বুঝা সম্ভবপর নয়। কোন বিশেষ রোগ জীবাণু দ্বারা রোগীদেহ আক্রান্ত হইয়াছে তাহাও উপলব্ধি করা যাইবে না। তাই হোমিওপ্যাথিতে প্যাথলজি পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

প্যাথলজির শাখাসমূহ :

1. অ্যানাটমিক প্যাথলজি(Anatomical Pathology):
– সার্জিক্যাল প্যাথলজি (Surgical Pathology): রোগ নির্ণয়ের জন্য অস্ত্রোপচারের নমুনা যেমন বায়োপসি এবং এক্সাইজড টিস্যু পরীক্ষা করা ।
– সাইটোপ্যাথোলজি(Cytopathology):  রোগ সনাক্ত এবং নির্ণয় করার জন্য পৃথক পৃথক কোষের পরীক্ষা।
– অটোপসি প্যাথলজি (Autopsy Pathology): মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য পোস্টমর্টেম পরীক্ষা পরিচালনা করে, বিশেষ করে সন্দেহজনক বা অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে।

2. ক্লিনিকাল প্যাথলজি:
– ক্লিনিকাল কেমিস্ট্রি: ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগের মতো রোগ নির্ণয় ও নিরীক্ষণ।
– হেমাটোলজি: অ্যানিমিয়া এবং জমাট বাঁধা রোগ সহ রক্ত এবং রক্তের ব্যাধিগুলির অধ্যয়ন।
– মাইক্রোবায়োলজি: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস,পরজীবী এবং ছত্রাকের মতো অণুজীবের সনাক্তকরণ নিয়ে কাজ করে যা সংক্রমণ ঘটায়।
– ইমিউনোলজি: অটোইমিউন ডিসঅর্ডার এবং ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং এর প্রতিক্রিয়া অধ্যয়ন করে।
– আণবিক প্যাথলজি: ক্যান্সার জেনেটিক্স এবং সংক্রামক রোগ নির্ণয় সহ রোগের জেনেটিক এবং আণবিক পরিবর্তনগুলি বিশ্লেষণ করতে আণবিক কৌশলগুলি ব্যবহার করে।

3. ডার্মাটোপ্যাথোলজি: ত্বকের বায়োপসি এবং সম্পর্কিত নমুনা পরীক্ষা করে চর্মরোগ নির্ণয়।

4. নিউরোপ্যাথোলজি: মস্তিষ্ক এবং মেরুদন্ড সহ স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ।

5. পেডিয়াট্রিক প্যাথলজি: জন্মগত এবং বিকাশজনিত ব্যাধি সহ শিশুদের রোগ নির্ণয়ের উপর ফোকাস করে।

6. গাইনোকোলজিক প্যাথলজি: প্যাপ স্মিয়ার এবং গাইনোকোলজিকাল বায়োপসি বিশ্লেষণ সহ মহিলাদের প্রজনন সিস্টেমের রোগগুলিতে মনোনিবেশ করে।

7. রেনাল প্যাথলজি: কিডনির রোগ নিয়ে কাজ করে, প্রায়শই গ্লোমেরুলোনফ্রাইটিসের মতো অবস্থা নির্ণয়ের জন্য কিডনি বায়োপসি পরীক্ষা করা হয়।

8. ফরেনসিক প্যাথলজি: প্রাথমিকভাবে অব্যক্ত বা সন্দেহজনক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট, প্রায়শই ময়নাতদন্ত এবং আইনি তদন্ত জড়িত।

9. ওরাল এবং ম্যাক্সিলোফেসিয়াল প্যাথলজি(Oral and Maxillofacial Pathology): মুখের ক্যান্সার এবং মুখের সংক্রমণ সহ মুখ, চোয়াল এবং সম্পর্কিত কাঠামোর রোগ নির্ণয় করতে বিশেষজ্ঞ।

10. চক্ষু রোগবিদ্যা(Ophthalmic Pathology): চোখের রোগ এবং অবস্থার নির্ণয়ের উপর ফোকাস করে, বিশেষ করে চোখের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে।


রোগ

রোগ– পরিপূর্ণ সুস্থতার অভাবকে রোগ বলে । যখন কোন কোষ, কলা বা অঙ্গের গঠন বা কাজের পরিবর্তন হয় তাহাই রোগ ।

রোগ দুই প্রকার— দৈহিক ও মানসিক

রোগের কারণ–  ইহার কারণ বহুবিধ- যেমন-
১। জীবাণুর সংক্রমণ: সাধারণত অধিকাংশ রোগই জীবাণু সংক্রমণের ফলে হইয়া থাকে যেমন-টাইফয়েড, প্যারা- টাইফয়েড, গণোরিয়া, সিফিলিস, কলেরা, বসন্ত, আমাশয়, যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হুকওয়ার্ম প্রভৃতি রোগ। সংক্রামক এজেন্টগুলি ভেক্টরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যেমন: ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গুর মতো রোগগুলি মশা বা টিক্সের মতো ভেক্টর দ্বারা ছড়ায়।

২। জেনেটিক ফ্যাক্টর:  আবার কতকগুলি রোগ বংশগতভাবে হয় যাহাকে বলে জেনেটিক ফ্যাক্টর। পিতা-মাতার  কারণে সন্তান-সন্ততিতে রোগ সঞ্চালিত হইতে পারে।

৩। ভাইরাস সংক্রমণ: অতি সূক্ষ্মজীবাণু বা ভাইরাস দ্বারা অনেকগুলি রোগ সংঘটিত হয়। যেমন-সর্দি, হাম প্রভৃতি।

৪। দেহের বিপাকজনিত কারণেও অনেক রোগ হয়। যেমন-বহুমূত্র, উচ্চরক্তচাপ, বাত প্রভৃতি ।

৫। অপুষ্টিজনিত কারণে অনেক রোগ হইয়া থাকে। যেমন-বেরিবেরি, স্কার্ভি, রক্তস্বল্পতা, , রিকেট প্রভৃতি।

৬। অনেক সময় দেহকোষের বিজাতীয় রাসায়নিক পদার্থের জন্য এলার্জি লক্ষণ প্রকাশ পায় ৷

৭। ফাঙ্গাস দ্বারা অনেক রোগ হয়। যেমন-রিংওয়ার্ম প্রভৃতি।

৮। উত্তেজক কারণ: বিশেষ কোন উত্তেজক কারণে বিশেষ কোন রোগ প্রবণতা- যেমন বৃষ্টিতে ভিজিলে সর্দি লাগে, অতি উচ্চ বা নিম্নতাপের ফলে দেহের ক্ষতি হয়, ইহা ছাড়া অক্সিজেনের অভাব প্রভৃতি ।

৯। রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী এন্টিবডির দুর্বলতা ।

১০। মনস্তাত্ত্বিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য:- মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা, যেমন বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ, শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে

১১। শারীরিক আঘাতজনিত রোগ যেমন-দুর্ঘটনার ফলে হাড় ভেঙ্গে যাওয়া, আগুনে পোড়া, নানা রকম রশ্মির অপব্যবহার (এক্সরে রেডিয়াম ইত্যাদি)

১২। শারীরিক কার্যকলাপের অভাব কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং স্থূলতার মতো অবস্থার জন্য অবদান রাখতে পারে।

১৩।ধূমপান এবং পদার্থের অপব্যবহার: ধূমপান এবং পদার্থের অপব্যবহার ফুসফুসের ক্যান্সার, আসক্তি এবং লিভারের রোগ সহ অসংখ্য রোগের সাথে যুক্ত।

১৪।পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ: সীসা, অ্যাসবেস্টস এবং দূষণের মতো পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসার ফলে সীসার বিষ, মেসোথেলিওমা এবং শ্বাসযন্ত্রের অবস্থার মতো রোগ হতে পারে।

১৫। অটোইমিউন ডিসঅর্ডার:অটোইমিউন রোগে, ইমিউন সিস্টেম শরীরের নিজস্ব টিস্যুতে আক্রমণ করে, যার ফলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়।

১৬।হরমোনজনিত ব্যাধি: ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতা-ডায়াবেটিস এবং থাইরয়েডের রোগ (হাইপারথাইরয়েডিজম বা হাইপোথাইরয়েডিজম) এর মতো অবস্থা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়।

১৭।বয়স:- কিছু রোগ নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, চিকেনপক্সের মতো শৈশব রোগ বা আলঝেইমার রোগের মতো বয়সজনিত রোগ।

১৮। জীবনধারা এবং আচরণগত কারণ: স্ট্রেস, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধির মতো রোগের কারণ হতে পারে।

১৯। সঠিক স্বাস্থ্যবিধির অভাব: কলেরা এবং টাইফয়েডের মতো সংক্রামক রোগের কারণ হতে পারে।

২০। পেশাগত এবং কর্মক্ষেত্রের কারণগুলি:  কিছু রোগ নির্দিষ্ট পেশা বা কর্মক্ষেত্রের এক্সপোজারের সাথে সম্পর্কিত। উদাহরণস্বরূপ, কয়লা খনি শ্রমিকদের কালো ফুসফুসের রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং অ্যাসবেস্টস এক্সপোজার মেসোথেলিওমার সাথে যুক্ত।

২১। অনেক রোগ আছে যাহার উৎপত্তির কারণ এখনো অজানা (Idiopathic)। যেমন-ক্যান্সার।

হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রোগ ২ প্রকার। অচির রোগ ও চিররোগ। অচির রোগের কারণ হইল অচির রোগবীজ, দূষিত প্রভাব প্রভৃতি। চিররোগের কারণ হইল সোরা, সিফিলিস ও সাইকোসিস।

প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা

প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় :

একটি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরীতে সাধারণত নিম্নলিখিত জিনিষগুলি পরীক্ষা করা হয়। i) রক্ত (Blood, ii) প্রস্রাব (Urine), iii) মল (Stool), vi)থুতু (Sputum), v) ধাতু (Semen), প্রভৃতি।

ইহা ছাড়াও রোগ নির্ণয়ে সহায়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নমুনাসমূহের বিশেষ (Special) পরীক্ষাগুলি করা হয়।

 রুটিন পরীক্ষা (R.E.):  ল্যাবরেটরীতে রোগ নির্ণয়ে সহায়ক অনুসন্ধানী পরীক্ষার জন্য কোনও নমুনার (Specimen) কয়েকটি নির্দিষ্ট পরীক্ষা একত্রে করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ইহাকেই রুটিন পরীক্ষা বা (R.E.) বলে। চিকিৎসকগণ নিম্ন উপায়ে রুটিন পরীক্ষা (RE.) এর জন্য নির্দেশ

করেন। যেমন-

Adv. Blood for R.E.

Stool for R.E.

Urine for R.E.

Sputum for R.E.

রক্তের রুটিন পরীক্ষা (R.E.): রক্তের নিম্নবর্ণিত চারিটি পরীক্ষাকে একত্রে রক্তের রুটিন পরীক্ষা (R.E. of Blood) বলা হয় ।

i) TC (Total Count) of W.B.C.

ii) DC (Differntial count) of W.B.C.

iii) Hb% (Haemoglobin)

iv) E.S.R (Erythracytic Sedimentation Rate) *

ল্যাবরেটরীতে কোন রক্ত নিয়া পরীক্ষা করিতে হয়: ল্যাবরেটরীতে মানবদেহের শিরার (Vein) রক্ত সংগ্রহ করিয়া পরীক্ষা করিতে হয়।

ফ্যাগোসাইটোসিস : রক্তের শ্বেতকণিকা (W.B.C) কৈশিক নালী ভেদ করিয়া বাহিরে আসিয়া জীবাণুকে সাঁড়াশীর মত ধরিয়া গিলিয়া ফেলে। এই পদ্ধতিকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে।

এন্টিকোয়াগুলেশন:  যে সকল রাসায়নিক দ্রব্য কোন কিছু জমাটের বিরুদ্ধে কাজ করে উহাদিগকে এন্টিকোয়াগুলেশন বলে। যেমন-হেপারিন ।

রক্তকণিকা জন্মের পূর্বে ও পরে কোথায় তৈরী হয়:  

জন্মের পূর্বে রক্ত কণিকা তৈরী হয়-

ক) Foetus (মায়ের পেটে থাকা অবস্থায়)

খ) Yolk Sac (ইয়ক সেক)

গ) Liver (যকৃতে)

ঘ) Spleen ( প্লীহায়)

ঙ) Red bone marrow (অস্থিমজ্জায়)

জন্মের পরে রক্তকণিকা তৈরী হয়-

ক) Red blood Cells.

খ) Granular Leucocytes 

গ) Lymphocytes.

ঘ) Platelets.

এই চারিটি Red Bone Marrow বা অস্থিমজ্জা হইতে তৈরী হয়। 

Monocytes (Spleen & Lymphoid tissue হইতে  তৈরী হয়)।

হিমোগ্লোবিন (Hb): হিমোগ্লোবিন একপ্রকার রাসায়নিক রঞ্জন পদার্থ। লোহিত কণিকার অভ্যন্তরে ইহার বাসস্থান। আমিষ ও আয়রণ ইহার উপকরণ। ইश সহজেই ফুসফুসে অক্সিজেনের সহিত সংযুক্ত হয় এবং তন্তুতে ছাড়িয়া দেয়। তম্ভতে ইহা কার্বন ডাই অক্সাইডের সহিত মিশ্রিত হইয়া ফুসফুসে আগমন করে। শরীর সুস্থ রাখিতে হইলে উপযুক্ত পরিমাণ হিমোগ্লোবিন থাকা দরকার।

মানবদেহের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক পরিমাণ : মানবদেহের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক পরিমাণ প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ১৪.৪ গ্রাম। যাহা পুরুষের বেলায় স্বাভাবিক গড়মান প্রতি ১০০ মিলি রক্তে ১৬গ্রাম। ইহার সীমা ১৪-১৮ গ্রাম। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা সীমা প্রতি ১০০ মিলি রক্তে ১২-১৪ গ্রাম। অর্থাৎ পুরুষ অপেক্ষা ২ গ্রাম কম।

রক্তে হিমোগ্লোবিন পরিমাপক পরীক্ষা কেন করা হয়: বিভিন্ন কারণে মানবদেহে রক্ত স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। আঘাতজনিত রক্তক্ষরণ, গোল কৃমি, অত্যধিক ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগভোগের অবস্থায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অত্যধিক কমিয়া যাইতে পারে। কারণ যাহাই হোক না কেন রোগ নির্ণয়ে সহায়ক এই রক্তস্বল্পতার মাত্রা নিরুপণের জন্য হিমোগ্লোবিন পরিমাপক পরীক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য।


White Blood Corpuscles(W.B.C)

শ্বেতকণিকা : রক্তের Cell গুলি তিন জাতীয়। R.B.C, W.B.C. এবং Blood Platelets। লোহিত কণিকা (RBC) অপেক্ষা শ্বেত কণিকা (W.B.C) আকারে বড়। ইহা প্রাণকেন্দ্র সমন্বিত কোষ। সাধারণত প্রতি ৭০০ লোহিত কণিকার মধ্যে একটি মাত্র শ্বেতকণিকা থাকে। সুস্থ দেহে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রতি কিউবিক মিলিলিটার রক্তে ইহাদের সংখ্যা ৬০০০ হইতে ৯০০০।

কোন কোন অবস্থায় শ্বেত কণিকার মোট সংখ্যা বৃদ্ধি পায়: ম্যালেরিয়া জ্বর, সিফিলিস, লিউকেমিয়া, গাউট, প্রদাহ, সংক্রমণ প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার মোট সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

রক্তের শ্বেত কণিকার কাজ:

i) নিউট্রোফিল বা পলি মরফো নিউক্লিয়ার লিউকোসাইট-ইহা সদ্য প্রদাহে পূজ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রথম সারির সৈনিক হিসাবে কাজ করে এবং প্রতিরোধ গড়িয়া তোলে। প্রদাহস্থানে যাইতে ইহাদের মাত্র ৩-৯ মিনিট সময় লাগে। ইহারা জীবাণু গিলিয়া ফেলে এমনকি জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করিয়া মারাও পড়ে। ইহারা মরিয়া গিয়া এক প্রকার Proteolytic Enzyme তৈরী করে এবং প্রদাহ ভাল করিতে সাহায্য করে।

ii) ইয়োসিনোফিল-ইহারা জীবাণু খাইয়া ফেলে এবং রোগমুক্তিতে সাহায্য করে।

iii) বেসোফিল-ইহারা নিউট্রোফিলকে প্রদাহের কাজে যাইতে সাহায্য করে ।

iv) লিম্ফোসাইট-ইহারা পুরাতন প্রদাহে শরীরের জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে।

v) মনোসাইট-ইহা মৃত কলাকে পরিস্কার করে বা খাইয়া ফেলে।

রক্তে শ্বেত কণিকা ধ্বংসের কারণ :

i) জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করিয়া কিছু মারা যায় ।

ii) প্রস্রাবের সাথে কিছু বাহির হইয়া যায়।

iii) থুথুর সাথে কিছু বাহির হইয়া যায়।

iv) বৃদ্ধজনিত কারণে ধ্বংস হয় ।

রক্তের শ্বেত কণিকার অন্তিম পরিণতি: সমস্ত প্রকারের শ্বেতকণিকাসমূহ মৃত হইয়া বিচ্ছিন্ন হইয়া অন্তৰ্ধান হইয়া যায়। রক্তস্রোতের মধ্যে R. E. কোষের দ্বারা গুটিজাত শ্বেতকণিকা এবং মনোসাইট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়। লিম্ফোসাইটগুলির অধিকাংশই আন্ত্রিক শেম্মা দিয়া শরীর ত্যাগ করিয়া চলিয়া যায় এবং গুটিকাকার শ্বেত কণিকার একই পরিণাম হয় ।

লিউকোসাইটোসিস বা রক্তে শ্বেত কণিকা বৃদ্ধি: রক্তের মধ্যে অল্পকাল স্থায়ী শ্বেত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধিকে লিউকোসাইটোসিস বলে। সাধারণত রক্তে WBC পুরাপুরি প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ১০,০০০ অতিক্রান্ত করে তখনই তাহাকে লিউকোসাইটোসিস অবস্থায় পতিত হইয়াছে বলা হয়।

লিউকোসাইটোসিস বা রক্তে শ্বেত কণিকা বৃদ্ধির কারণসমূহ:

 ১। পূজ উৎপন্নকারক রোগজীবাণু যেমন-স্ফোটক, ব্রণ, শ্বাসনালীর প্রদাহ, তালুপার্শ্ব গ্রন্থির প্রদাহ, বায়ুনালীর প্রদাহ প্রভৃতি ।

২। ক্ষতে, অস্থিক্ষতে, অস্থিভঙ্গ হইলে, অগ্নিদগ্ধে।

৩। রক্তসংক্রান্ত ব্যাধিতে যেমন-মেলয়েড লিউকোমিয়া।

৪। তরুণ রক্তক্ষরণের পর।

৫। পরজীবী সংক্রমণে।

লিউকোপেনিয়া বা রক্তে শ্বেত কণিকা কমিয়া যাওয়া : রক্তের মধ্যে শ্বেতকণিকা হ্রাসপ্রাপ্ত হওয়াকে লিউকোপেনিয়া বলে। সাধারণত প্রতি কিউবিক মিলিমিটার রক্তে WBC এর সর্বমোট সংখ্যা ৪০০০ এর নিচে নামিয়া যায় ।

কারণ : টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, ব্যাসিলারী ডিসেন্ট্রি, যক্ষ্মা, হাম, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, গুটি বসন্ত, ম্যালেরিয়া, পার্নিসাস এনিমিয়া, টাইফাস, কালাজ্বর, এপ্যাস্টিক ইনিমিয়া, লিউকোপিনিক লিউকিমিয়া প্রভৃতি। তাছাড়া দীর্ঘদিন না খাইয়া থাকিলে, আলফা ঔষধগুলি দীর্ঘদিন ধরিয়া সেবন করিলে, আর্সেনিক সীসা ও পারদের ক্রনিক পয়জনিক এবং X Ray ও রেডিয়াম রশ্মি গায়ে লাগিলেও লিউকোপিনিয়া দেখা দেয়।

***লিউকোমিয়া: অস্থিমজ্জা, লিভার, প্লীহা, টনসিল প্রভৃতির রক্ত সৃষ্টিকারী টিস্যুসমূহের একটি মারাত্মক ধরণের বিশেষ রোগের নাম লিউকিমিয়া যাতে অস্বাভাবিক হারে WBC সৃষ্টি হয়ে চলে । এই রোগের ফলে WBC ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ gm/dl পর্যন্ত হয় । কিন্তু স্বাভাবিক হার ৪,০০০- ১১,০০০ gm/dl

***লিউকিমিয়ার ক্লিনিক্যাল ফিচার বা লক্ষণ:
১। প্লীহা অস্থিমজ্জা, লিম্ফগ্লান্ড সমূহের অত্যধিক বিবৃদ্ধি ঘটে । ২। দেহের বিভিন্ন স্থান হতে রক্তপাত হয় যেমন নাক ও মাড়ি হতে রক্তস্রাব ।
৩ । দেহের ওজন কমে যায় । ক্ষুধাহীনতা থাকে
৪। দূর্বলতা ও অবসন্নতা দেখা দেয়
৫ । দাঁতের মাড়ী ফোলে
৬। দেহে কালশিরা দাগ পড়ে ।
৭। অস্থি সন্ধি ও মাংসপেশীতে ব্যথা হয় ।
.৮ । রোগের শেষ অবস্থায় সর্বাঙ্গে শোথ দেখা দেয় ।

***লিউকোমিয়া ২ প্রকার যথা-
(ক) মাইলয়েড লিউকোমিয়া, ইহা দুই ভাগে বিভক্ত- ১। একিউট ২ । ক্রোনিক
(খ) লিম্ফ্যাটিক লিউকোমিয়া, ইহাও দুই প্রকার- ১। একিউট ২। ক্রোনিক

***লিউকোমিয়ার ব্লাড পিকচার:
(ক) HB%- কম (3-8gm/dl)
(খ) RBC Count- কম
(গ) TLC – Blast cells – 30% – 90%
(ঘ) Platelet count – কম
(ঙ) ESR- বেশী
(চ) PCV- কম
(চ) ME- বেশী

 ইয়োসিনোফিলিয়া: রক্তে যখন ইয়োসিনোফিল এর সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে সেই অবস্থাকে বলা হয় ইয়োসিনোফিলিয়া। সাধারণত অতিশয় সংবেদনশীল প্রদাহে, সরিয়াসিসে, খোসপাঁচড়া জাতীয় চর্মরোগে, একজিমায়, পুরাতন মাইলয়েড লিউকেমিয়া প্রভৃতিতে ইহা পাওয়া যায়।

ইয়োসিনোপেনিয়া: রক্তের মধ্যে ইয়োসিনোফিল হ্রাসপ্রাপ্ত ইয়োসিনোপেনিয়া বলে। টাইফয়েড রোগে ইহা দেখা যায়।

লিম্ফোসাইটোসিস:  রক্তের মধ্যে অধিকমাত্রায় স্বাভাবিক লিম্ফোসাইত বাড়িলে তাহাকে লিম্ফোসাইটোসিস বলে।

হাম, হুপিং কাশি, মাম্পস, ডেপু থাইরডের লঘুক্রিয়া, আলট্রা ভায়োলেট রেডিয়েশন প্রভৃতি ইহার কারণ।

প্যানসাইটোপিনিয়া: যখন রক্তের সমস্ত কোষ সংক্রান্ত উপাদান সংখ্যায় হ্রাসপ্রাপ্ত হয় সেই অবস্থাকে প্যানসাইটোপিনিয়া বলে। ক্ষতিকারক রক্তাল্পতা, এপাস্টিক এনিমিয়া, মিলিয়ারী টিউবারকুলোসিস, এপিউকামিক লিউকোমিয়া প্রভৃতি ইহার কারণ।

মনোসাইটোসিস: রক্তের মধ্যে অত্যধিক মাত্রায় মনোসাইট থাকিলে তাহাকে মনোসাইটোসিস বলে। ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ট্রাই পানোসোমিয়াসিস, অ্যামোরিয়াসিস, সাব একিউট এন্ডোকার্ডাইটিস, গ্রস্থিজ জ্বর, ক্ষতকর অস্ত্রপ্রদাহ প্রভৃতি রোগাবস্থায় ইহা হওয়াকে দেখা যায়।

মনোসাইটোপেনিয়া: রক্তের মধ্যে মনোসাইট হ্রাসপ্রাপ্ত হইলে তাহাকে বলা হয় মনোসাইটোপেনিয়া। রক্তাল্পতা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, রক্তের বিকৃতাবস্থা, হাম পীড়া, ডিপথিরিয়া প্রভৃতিতে ইহা দৃষ্ট হয়।


লোহিত কণিকা (RBC) বা ইরিথ্রোসাইট (Red Blood Corpuseles)

লোহিত কনিকা: মানব দেহ রক্তের Cellগুলি তিন জাতীয়। RBC, WBC এবং Blood Platelets । RBC কে লোহিত রক্ত কণিকা বা ইরিথ্রোসাইট বলে। ইহা আকারে অতিশয় ক্ষুদ্র, গোলাকার এবং মাঝখানে চ্যাপ্টা। একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি রক্তে ইহাদের সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ৫০ লক্ষ। স্ত্রীলোকদের রক্তে সামান্য কম থাকে এবং সদ্যজাত ও শিশুদের রক্তে ইহা কিছু বেশী থাকে। রক্তে RBC এর সংখ্যাই সর্বাধিক।

রক্তে লোহিত কণিকার (RBC) স্বাভাবিক গণনা সংখ্যা:

ক) একজন বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষ-প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ৫০ লক্ষ হইতে ৬০ লক্ষ।

খ) একজন বয়ঃপ্রাপ্ত মহিলা-প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে ৪০ হইতে ৫০ লক্ষ।

গ) শিশুদের প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ৬০ লক্ষ হইতে ৭০ লক্ষ ।

ঘ) ভ্রূণের মধ্যে প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ৭০ লক্ষ হইতে ৮০ লক্ষ।

লোহিত কণিকার বৈশিষ্ট্য:  পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দ্বারা লোহিত কণিকা চেনা যায়। যথা-

ক) ইহার কোন নিউক্লিয়াস নাই। খ) ইহা দেখিতে কমলালেবুর মত চাপা। গ) ইহার ব্যাস ৭.২ মাইক্রন। ঘ) ইহা ১০০ হইতে ১২০ দিন বাঁচে। 5) ইহাকে হিমোগ্লোবিনের থলে বলা হয়।

লোহিতকণিকা (RBC) এর ক্রিয়াকলাপ বা কাজ: 

ক) ইহা হিমোগ্লোবিন বহনকারী বলে রূপে কাজ করে।

খ) ইহা অক্সি হিমোগ্লোবিন রূপে দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করে।

গ) ইহা অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড বহন করিয়া শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা করে।

ঘ) ইহা ক্ষারামলের সমতা রক্ষা করে।

ঙ) রক্তের চটচটে ভাবকে রক্ষণাবেক্ষণ করে তথা বিভিন্ন প্রকারের রঞ্জক বিমুক্ত করে।

লোহিত কণিকার (RBC) জীবনকালঃ একটি পরিপক্ক RBC এর গড় জীবনকাল ১২০ দিন।

লোহিত কণিকার (RBC) চূড়ান্ত পরিণতিঃ যখন কোষগুলি বার্ধক্যদশা প্রাপ্ত হয় তখন ইহার আকার এবং আয়তন পরিবর্তন করিয়া ভগ্নপ্রাপ্ত হয়। RBC কোষগুলি গ্রহণ করে এবং ঐ ভগ্ন RBC হিমোগ্লোবিনকে মুক্ত করিয়া দেয়।

হোমোলাইসিসঃহেমোলাইসিস একটি প্রক্রিয়া যাহা দ্বারা পরিপক্ক লোহিত কণিকা হইতে হিমোগ্লোবিন বাহির হইয়া আসে এবং স্বাভাবিক অপেক্ষা লঘু দ্রাবণে পরিণত হয়। হেমোলাইসিস হওয়ার মূল কারণ :

ক) পানি ।

খ) চর্বিজাত দ্রাবণ, ইথার, বেনজিন ও উষ্ণমাদক।

গ) ০.৫৪ হইতে নীচের হিপোটোনিক স্যালাইন।

ঘ) জলীয় অম্ল ও ক্ষার।

ঙ) পিত্ত, পিত্তজাত লবণের সাপোনিন ।

চ) বেমানান রক্ত। ছ) সাপের বিষ।

জ) কুইনাইন, নাইট্রেড, ক্লোরেটস।

ঝ) ভয়ংকর ঝাঁকুনি, বিকল্প শীতলকরণ এবং উৎক্ষিপ্ত তাপ, এক্সরে, রেডিয়াম প্রভৃতি ।

WBC এর সর্বমোট সংখ্যার সঙ্গে RBC এর সর্বমোট সংখ্যার আনুপাতিক হারঃ

প্রায় ১ঃ৭০০ অর্থাৎ ১টি WBC এর জন্য ৭০০টি RBC থাকিতে হইবে।

শারীরিক অবস্থায় লোহিত কণিকার (RBC) তারতম্যঃ

ক) প্রাত্যহিক তারতম্য-সন্ধ্যাকালে সর্বাধিক এবং নিদ্রাকালে সর্বনিম্ন।

খ) ব্যায়াম করিলে সংখ্যা বৃদ্ধি হয়।

গ) উচ্চ স্থানে উঠিলে সংখ্যা বৃদ্ধি হয়।

ঘ) শারীরিক উচ্চ তাপে যখন অক্সিজেন গ্রহণ নিম্নতর হয় ও কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ উচ্চতর হয় তখন সংখ্যা বৃদ্ধি হয়।

ঙ) নিম্নতর স্থলভূমিতে সংখ্যা কমিয়া যায় ।

100% RBC এবং ১০০% হিমোগ্লোবিন বলিতে কি বুঝঃ শারীরিক স্তরকে ১০০% ধরিয়া নিয়া RBC এবং হিমোগ্লোবিন স্তরের প্রকাশের পদ্ধতি যেমন-

১০০% RBC প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ৫০ লক্ষ RBC 100% হিমোগ্লোবিন=হিমোগ্লোবিন ১৪.৫% গ্রাম ।

ইরিথ্রোসাইটোসিসঃ যখন RBC এর সর্বমোট সংখ্যা স্বাভাবিকের চাইতে অধিক হয় তখন যে অবস্থা প্রাপ্ত হয় তাহাকে ইরিথ্রোসাইটোসিস বলে। রক্তের রোগ Polycythamia Vera তে এইরূপ দেখিতে পাওয়া যায়, আবার অক্সিজেনের অভাব বা স্বল্পতা প্রভৃতির সঙ্গেও এইরূপ অবস্থা প্রাপ্ত হয়।

ই.এস.আর. বা লোহিত কণিকার অধঃক্ষেপনের হার E.S.R (Erythrocytic Sedimentation Rate) 

E.S.R বা লোহিত কণিকার তলানির হার কিঃ রক্ত চলাচলের সময় রসের মধ্যে লালকোষগুলি একরূপে ঝোলানো থাকে। নমুনা হিসাবে ১.৬ সি.সি. পরিমাণ শিরার রক্ত এবং ০.৪ সি সি পরিমাণ এন্টিকোয়াগুলেশান (৩.৮% Sodium citrate) একলে মিশ্রিত করিয়া ESR টিউবের 0 পর্যন্ত ভর্তি করিয়া সোজাসুজিভাবে দণ্ডায়মান করিলে ১ ঘণ্টায় যে পরিমাণ কণিকা (যাহা রস থেকে অধিক ভারী) তলানি রূপে পড়িবে তাহাকেই ESR বা লোহিত কণিকার তলানি পড়ার হার বলা হয়।

E.S.R কেন নির্ণয় করা হয়ঃ রোগ নির্ণয়ের জন্য E.S.R এর তেমন গুরুত্ব নাই। তবে রোগের অস্তিত্ব, সক্রিয়তা ও পরিণতি অবহিত হওয়ার জন্য এই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

ESR এর স্বাভাবিক হারঃ Western Green পদ্ধতিতে- একজন পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের স্বাভাবিক ESR হার ০-৮ মি.মি.। একজন পূর্ণ বয়স্কা মহিলার স্বাভাবিক ESR হার ০-১০ মি.মি.।

কোন কোন ক্ষেত্রে ESR বৃদ্ধি পায়ঃ  ক) শারীরিক-রজঃস্রাবকালীন, গর্ভাবস্থার শেষের মাসগুলিতে, সন্তান প্রসবের পর বৃদ্ধি পায় ।

খ) রোগাক্রমণে-যক্ষ্মা, রক্তস্বল্পতা, বাতজ্বর, বাতরোগ, উপদংশ, উচ্চজ্বর, অস্থিক্ষত, করোনারি থ্রম্বোসিস, ক্যান্সার, প্রভৃতি রোগে বৃদ্ধি পায় ।

কোন কোন ক্ষেত্রে ESR হ্রাস প্রাপ্ত হয়ঃ হুপিং কফ, রক্তাধিক্যহেতু হৃদক্রিয়া বিকল, পলিসাইথেমিয়া ভেরা, কনজেনিটাল সায়ানোটিক গ্রুপ অব হার্ট ডিজিজের ক্ষেত্রে E.S.R হ্রাস পায়।

কি কি উপাদান E.S.R নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ

 ক) রসের আপেক্ষিক গুরুত্ব, খ) রসের আঠা, গ) R.B.C এর পরিমাণ এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ, ঘ) বৃহত্তর পেশীগুলিতে R.B.C এর জড় হওয়া এবং রোউলেয়াক্স গঠন রোউয়েলাক্স গঠন ফিব্রিনোজেন, কোলেস্টরেল এবং গ্লোবিউলিন বর্ধিত হওয়ার অনুকূলে হয়, ফলে উচ্চ E.S.R হয়। নিউক্লোপ্রোটিন, লেসিথিন ও এলবুমিন বর্ধিত হইলে রোউয়েলাক্স গঠন বিলম্বিত হয় যার ফলে নিম্ন ESR হয়।


রক্তের গ্রুপ (Blood Group)

মানবদেহের রক্তের শ্রেণী বিভাগঃ মানব দেহের রক্তকে ৪টি গ্রটপে ভাগ করা হয়।

ক) ‘A’ Blood group. খ) ‘B’ Blood group.

গ) ‘O’ Blood group. এই গ্রুপের রক্ত সবাইকে দিতে পারা যায় কিন্তু সকলের থেকে নেওয়া যায় না।

. ঘ) ‘AB’ Blood group. এই গ্রট্রপের রক্ত সকলের রক্ত নিতে পারে কিন্তু সকলকে দেওয়া যায় না’।

 রক্তের গ্রুপ নির্ণয় বা শ্রেণী বিভাগের উদ্দেশ্য বা আবশ্যকতাঃ

 ব্যবহারিক চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রে রক্ত পরিসঞ্চালিত করা হয়। যেমন আঘাতজনিত রক্ত ক্ষয়ে, কোন অসুখজনিত দুর্বলতায় বা অন্যান্য কারণে। বিভিন্ন মানুষের রক্তে বিদ্যমান বিশেষ পদার্থ এগুটিনিন (আঠার মত জোড়া লাগানো পদার্থ) ও এগ্লুটিনোজেন (থাকে আঠার মত জোড়া লাগানো ন্যায়) এর উপস্থিতির তারতম্যের জন্য প্রভেদ পরিলক্ষিত হয়। যাহারা রক্ত দান করে তাহাদেরকে বলা হয় ডোনার, আর যাহাদের দেহে রক্ত পরিসঞ্চালন করা হয় তাহাদের বলা হয় রিসিপিয়েন্ট। রক্ত পরিসঞ্চালন করার সময় মনে রাখা হয় লাল কণিকাগুলির এই চরিত্রকে, বিশেষ অবস্থায় সেগুলি একে অন্যের গায়ে আঠার মত জোড়া লাগিয়া ঢেলা পাকাইয়া উঠিতে পারে এবং কঠিন অবস্থা সৃষ্টি হইয়া মানুষের মৃত্যুও হইতে পারে। এই অবস্থা প্রতিরোধের জন্যই রক্তের গ্রুপ ভাগ করা হইয়াছে। সাধারণত A শ্রেণীর রক্ত A শ্রেণীর ব্যক্তিকে, B শ্রেণীর রক্ত B শ্রেণীর ব্যক্তিকে দেওয়া যাইতে পারে। O শ্রেণীর রক্ত সকল শ্রেণীর ব্যক্তিকে দেওয়া যায়। AB শ্রেণীর ব্যক্তি যে কোন ব্যক্তি হইতে রক্ত গ্রহণ করিতে পারে কিন্তু সকলকে দিতে পারে না।

এগুটিনেশন কাহাকে বলেঃ  রক্ত দাতা বা ডোনারের রক্ত গ্রাহক বা রিসিপিয়েন্টের দেহে সঞ্চালিত করিতে মনে রাখা হয়, লাল কণিকাগুলির এই চরিত্র যে, বিশেষ অবস্থায় সেগুলি একে অন্যের গায়ে আঠার মত জোড়া লাগিয়া জট পাকাইয়া শক্ত হইয়া উঠিতে পারে। রক্তের এই চরিত্রকে এগ্লুটিনেশন বলা হয় ।


***সিএসএফ (CSF)- CSF বা Cerebrospinal fluid হল একটি তরল পদার্থ যা Ventricle থেকে নিঃসৃত হয়। মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ড যে Meninges বা আবরণ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে আবৃত থাকে তারই দুটি স্তরের মধ্যে এটি অবস্থান করে থাকে। এই তরল পদার্থ গোটা Central nervous system কে ঘিরে রাখে ৷
ইহা Brain এবং Spinal কর্ডকে রক্ষা করে এবং ভিজা রাখে । সি, এস, এফ এর মাধ্যমে রক্ত এবং Brain tissue মধ্যে পুষ্টি এবং বর্জ পদার্থের আদান-প্রদান হয় । ইহা বর্ণহীন, পরিষ্কার, স্বচ্ছ তরল পদার্থ, যা কখনো জমাট বাঁধে না । একজন সুস্থ্য মানুষের দেহে 140 – 150cc csf থাকে ৷

সেরিব্রোস্পাইন্যাল ফ্লুয়িডের কার্যাবলী:

ক) কেন্দ্রীয়স্নায়ুতন্ত্রের ভিতরে এবং বাহিরে উভয় স্থানে সেরিব্রোস্পাইন্যাল ফ্লুয়িডের অবস্থানের জন্য ইহা যান্ত্রিক চাপের সমতা আনয়ন করে, ফলে কোন অংশের চাপ বৃদ্ধি পাইলে তাহাকে সমভাবে ছড়াইয়া দিয়া যান্ত্রিক ক্ষত সৃষ্টিতে বাধা দান করে। ইহা হঠাৎ প্রাপ্ত আঘাত অধিগ্রহণ করিয়াস্নায়ুতন্ত্রকে রক্ষা করে ।

খ) দৈনন্দিন জীবনের কঠিন চাপ, আঘাত, প্রভৃতি ক্ষতিকারক পরিস্থিতিতে ইহা কেন্দ্রীয়স্নায়ুতন্ত্রকে রক্ষা করে ।

গ) ইহা স্নায়ুতন্ত্রের পুষ্টি, পদার্থ, অক্সিজেন, বিপাকলব্ধ পদার্থ প্রভৃতির বিনিমিয়ে অংশগ্রহন করে। ইহা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের জন্য পুষ্টিকর পদার্থ বহন করে ও রেচনে সাহায্য করে।

ঘ) ইহাতে শ্বেত কণিকা বিদ্যমান থাকে বলিয়া কেন্দ্ৰীয়স্নায়ুতন্ত্রে কোনও জীবাণুর আক্রমণ হইলে তাহা হইতে রক্ষা করে।

ঙ) ইহা মস্তিষ্কের লিম্ফের ন্যায় কাজ করে।

চ) ইহা নিয়ন্ত্রক সঞ্চয়ভাণ্ডার হিসাবে করোটিগত তরলের উপাদান বজায় রাখিতে অংশগ্রণ করে।

ছ) ইহা পিটুইটারী হরমোন বহন করিয়া লইয়া যায় এবং রক্তবাহের মাধ্যমে শোষিত হইয়া থাকে।


রক্তের শর্করা (Blood Suger)

রক্তের শর্করা (Suger): রক্তের শর্করা (Suger) বলিতে দুইটি জিনিষ নির্দেশ করে ।

ক) প্রকৃত শর্করা অর্থাৎ গুকোজ ।

খ) শর্করা (Suger) ইহা গ্লুকোজ ও ছানা জাতীয় বিরঞ্জক পদার্থ, প্রধানত Glutathion এর মিশ্রণ ।

রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মান:

ক) Fasting অর্থাৎ উপবাসকালীন রক্ত শর্করার স্বাভাবিক মান ৬৫%-১২০% মি.গ্রাম।

খ) Post Prandial অর্থাৎ আহারের পর রক্ত শর্করার স্বাভাবিক মান ১৩০%-১৪০% মি.গ্রাম।

কোন কোন অবস্থায় রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পায়:

অ্যাড্রিনাল টিউমার, অ্যাক্রোমেগালি, ডায়াবেটিস মেলিটাস, হাইপার থাইরয়েডিজম প্রভৃতি পীড়ায় রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পায়।

কোন কোন অবস্থায় রক্ত শর্করা কমিয়া যায়: প্যানক্রিয়াসের অ্যাডিনোমা বা ক্যান্সার এডিসন ডিজিজ, অত্যধিক ইনসুলিন গ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা কমিয়া যায় ।


রক্তের ইউরিয়া (Blood Urea)

রক্তের ইউরিয়া পরীক্ষা কেন করা হয়: কিডনী বা বৃক্কের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটিয়াছে কিনা এবং অচেতন রোগীর অচেতনতার কারণ ইউরিমিয়া কিনা তাহা নির্ধারণের জন্য রক্তে ইউরিয়া পরীক্ষা করা হয়। নেফ্রাইটিস, নেফ্রোসিস বা কিডনীতে টিউমার সৃষ্টি হইলে রেচন বাধাপ্রাপ্ত হয় ফলে রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সিরোসিস এবং গর্ভাবস্থায় কোষের দিকে যথাক্রমে প্রোটিন সংশে ষণের ত্রুটির কারণে এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রক্তে ইউরিয়ার পরিমাণ হ্রাস পায়। এই সকল অবস্থা অবহিত হওয়ার জন্য রক্তের ইউরিয়া পরীক্ষা করা হয়।

রক্তে ইউরিয়া স্বাভাবিক মান কত: রক্তে ইউরিয়ার স্বাভাবিক মান ১৫%-৪০% মি. গ্রাম ।

কোন কোন অবস্থায় রক্তে ইউরিয়া বৃদ্ধি পায়: নেফ্রাইটিস, নেফ্রোসিস বা কিডনীতে টিউমার সৃষ্টি হইলে, ইনটেসটাইন্যাল অবস্ট্রাকশান, আলসারেটিভ কোলাইটিস, রক্তক্ষরণ প্রভৃতি পীড়ায় রক্তের ইউরিয়া বৃদ্ধি পায়।

 কোন কোন অবস্থায় রক্তে ইউরিয়া কমিয়া যায়: সিরোসিস, গর্ভাবস্থায় কোষের দিকে যথাক্রমে প্রোটিন সংশে-ষণের ত্রুটি ঘটিলে, প্রচুর রক্তহীনতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে রক্তে ইউরিয়ার পরিমাণ কমিয়া যায়।

প্রস্রাবে এলবুমিনুরিয়া হওয়ার কারণ: 

ক) অত্যধিক পেশীগত ব্যায়াম ।

খ) দাঁড়ানো অবস্থায় অধিকক্ষণ থাকিলে প্রস্রাবে এলবুমিন চলিয়া আসিতে পারে কিন্তু বসিয়া থাকিলে অন্তর্ধান হয় ।

গ) দীর্ঘসময় ধরিয়া ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা।

ঘ) বিলম্বিত বয়সে গর্ভসঞ্চার।

ঙ) অত্যধিক মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ ।

চ) রক্তাল্পতা, পুরাতন হৃদরোগ, কিডনী রোগ ।

ছ) কিডনীর যান্ত্রিক পরিবর্তন, পূজ উৎপাদনকারী প্রদাহ ।

জ) রক্তপ্রস্রাব, মূত্রপাথরী, ক্যান্সার।

ঝ) রোগজীবাণু সংক্রমণে জ্বালাকর কিডনীতে এবং দেহে পারদ বিষাক্তকরণ প্রভৃতি ।


মল পরীক্ষা

মল পরীক্ষা কেন করা হয়: মলের অনুবীক্ষণিক পরীক্ষা দ্বারা এমিবিয় ও ব্যাসিলারী আমাশয়ের পার্থক্য নিরূপণ করা যায়। মল পরীক্ষায় বিভিন্ন প্রকার কৃমির ডিম ধরা পড়িতে পারে। অনেক সময় খালি চোখে রক্ত দেখা না গেলে অথবা লোহিত কণিকা সুষ্ঠুভাবে চিনিতে না পারিলে রক্তের জন্য অকাল্ট ব্লাড টেস্ট বা OBT করা হয়। এই পরীক্ষা পজিটিভ হইলে পেপটিক আলসার, পাকাতন্ত্রের ক্যান্সার, আমাশয়, অস্ত্রের টিবি, অন্ননালীর প্রলম্বিত শিরা প্রভৃতি পীড়া সন্দেহ করা হয়।

অকাল্ট ব্লাড টেস্ট: মলের সহিত অনেক সময় লোহিত কণিকা বা রক্ত যাইতে পারে কিন্তু সুষ্ঠুভাবে খালি চোখে যদি চেনা না যায় তবে মলে রক্তের উপস্থিতি ধরার জন্য যে পরীক্ষা করা হয় তাহাকে অকাল্ট ব্লাড টেস্ট বলে।

অকাল্ট ব্লাড টেস্ট কেন করা হয়: খালি চোখে মলে রক্ত ধরা না পড়িলে অকাল্ট বাড টেস্ট করা হয়। যদি এই পরীক্ষা পজিটিভ (+ve) হয় তবে মলের সহিত রক্ত যায় এবং নিগেটিভ (-ve) হইলে রক্ত যায় না বুঝিতে হইবে। পেপটিক আলসার, টাইফয়েড আলসার, পাকান্ত্রের ক্যান্সার, আমাশয়, অন্ননালীর প্রলম্বিত শিরা, অন্ত্রের টিবি, থ্রম্বোসিস, হুক ওয়ার্ম, প্রভৃতি রোগ সন্দেহ হইলে এই টেস্ট করা হয়। এই সকল রোগে অকাল্ট ব্লাড টেস্ট পজিটিভ হইয়া থাকে ৷

 


***স্পুটাম (Sputum)-
থুথু ও লালা মিশ্রিত শ্লেষ্মাকে স্পুটাম বলে । যক্ষ্মারোগের জীবাণু, নিউমোকক্কাস, স্ট্রোপটোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, মাইক্রোকক্কাস, ক্যাটারালিস, ব্রঙ্কোস্পাইরোকিটা, ফাঙ্গাস ইত্যাদির সংক্রমণ ঘটেছে কিনা অথবা রক্তের লোহিতকণা, শ্বেত কণিকা ইত্যাদি আছে কিনা সেটা জানার জন্য স্পুটাম পরীক্ষা করা হয়ে থাকে ।

প্রদাহ (তরুণ ও পুরাতন) (Inflamation – Acute & chronic)

***প্রদাহ কাহাকে বলে: দেহ অভ্যন্তরে কোথাও কোন টিসুর মধ্যে যদি বহিরাগত কোন পদার্থ, জীব বা জড় প্রবেশ করে বা দেহের কোন স্থানের টিস্যু আঘাত প্রাপ্ত হলে তাহা হইলে শ্বেতকণিকা ও রক্তরসের সাহায্যে শরীর এই অবাঞ্চিত পদার্থকে অপসারণের চেষ্টা করে বা প্রতিক্রিয়ার চেষ্টা করে। অপসারণ বা প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতিপর্ব হইতে চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখিয়া যে পরিবর্তন হয় তাহাকে প্রদাহ বলে। প্রদাহের সূচনা যে কারণেই হোক ন কেন সবক্ষেত্রেই মোটামুটি একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। আক্রান্ত স্থানকে রক্ষা করার জন্য ঐ স্থানে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত এগজুডেট (Exudates) জমা হয় ।

প্রদাহের মূল বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণসমূহ নিম্নরূপ

১) প্রদাহিত স্থান লালবর্ণ হওয়া-প্রদাহিত স্থান রক্তাধিক্যতার ফলে। লালবর্ণ ধারণ করে। আঘাতপ্রাপ্ত বা জীবাণু প্রবেশ স্থলের স্থানিক রক্তবাহী ধমনীসমূহ আকারে বৃদ্ধি পায়, ফলে সেই জায়গায় অধিক পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং স্থানটি লালবর্ণ ধারণ করে।

২) প্রদাহিত স্থান ফুলিয়া যাওয়া-এনডোথেলিয়াম, ফাইব্রোব্লাস্ট কোষে সংখ্যাবৃদ্ধি ও ক্ষরণ জমা হওয়ার সময় স্থানটি ফুলিয়া উঠে। অধিক রক্ত ও তন্ত্ররস জমা হওয়ার কারণেই স্থানটি স্থানীয়ভাবে স্ফীত দেখা যায়।

৩) প্রদাহিত স্থানে তাপ সৃষ্টি—রক্তাধিক্যের ফলে প্রদাহিত স্থানটি গরম হয়। প্রদাহিত স্থানে শ্বেতকণিকাসমূহ দলে দলে সমবেত হয় এবং জীবাণুসমূহকে চতুর্দিক হইতে ঘিরিয়া ফেলে ফলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়,

হলে স্থানটিতে বেশী উত্তাপ অনুভূত হয়।

4) প্রদাহিত স্থান বাধাযুক্ত হওয়া প্রদাহিত স্থানে অতিরিক্ত প্রদাহিত রস জমা হওয়ার কারণে চর্ম টান টানভাব প্রসারিত হয় এবং চর্মের নীচেই তন্ত্রতে অবস্থিতশায়ুর উপর চাপ পড়ার ফলে ব্যথার সৃষ্টি হয়।

৫) প্রদাহিত স্থানের কর্মক্ষমতা লোপ-প্রদাহিত স্থান উত্তপ্ত হওয়া, ফুলিয়া উঠা, বাধাযুক্ত হওয়া প্রভৃতি কারণে স্থানটির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা লোপ পায়।

***প্রদাহের কারণসমূহ:

  1. জীবাণুঘটিত-জীবাণু দ্বারা আক্রমণ, জীবাণু দেহের মধ্যে প্রবেশও সংক্রমণ প্রদাহের অন্যতম কারণ। জীবাণু আক্রমণে দেহকোষ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং একটা বিচিত্র ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তন শুরু হয়।
  2. ব্যাকটেরিয়া-স্ট্যাফাইলোকক্কাস, স্ট্রেপটোকক্কাস, গণোকক্কাস, মেনিনগো-কক্কাস প্রভৃতি।
  3. ছত্রাক-ক্যানডিডা ।
  4. পরজীবি-মাইক্রোফাইলেরিয়া, প্রভৃতি ।
  5. যান্ত্রিকভাবে আঘাতের কারণে যেমন কেটে গেলে থেৎলিয়ে যাওয়ার ফলে প্ৰদাহ
  6. রাসায়নিক কারণ- এসিড বিষ যেমন হাইড্রোক্লোরিক এসিড, কার্বলিক এসিড, ফসফোরাস প্রভৃতি, ফোনেল অম্ল, ক্ষার প্রভৃতি।
  7. বিকিরণ দ্বারা যেমন আলট্রাভায়োলেট আলো দ্বারা
  8. অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম দ্বারা কোন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, বা প্যারসাইট দ্বারা আক্রান্ত হওয়া 
  9. করোসিভ কোন স্রাব দ্বারা – যেমন হাজাকারক প্রদরস্রাব ।
  10. অক্সিজেন ঘটিত-শারীরিক আঘাত, অতি উচ্চতাপ বা অতি নিম্নতাপ, বিদ্যুৎপ্রবাহ, তীব্র অম্ল, জীবাণু, ভাইরাস প্রভৃতির জন্য কোষের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ অস্বাভাবিক হইতে পারে ফলে
  11. অক্সিজেনঘটিত প্রক্রিয়ায় গোলযোগ ঘটিতে পারে। ফলে প্রদাহ সৃষ্টি হইতে পারে।
  12. রজালক বা সূক্ষ্ম উপশিরা ঘটিত-রক্তজালক এবং উপশিরাগারে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যে রক্তের জলীয় অংশ রক্তনালীর বাহিরে আসে । ফলে প্রদাহ দেখা দেয়।
  13. প্রদাহের কারণসমূহ প্রধানতঃ দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা-মুখ্য ও গৌণ কারণ।
  14. অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়ার কারণ যেমন-হাইপার- সেনসিটিভিটি, এলার্জি প্রভৃতি ।
  15. আমিষ, চর্বি বা শর্করাজনিত পুষ্টিহীনতা, রক্তহীনতা, হৃদপিণ্ডের দুর্বলতা প্রভৃতি ।
  16. বহুমূত্র ও এই জাতীয় অন্যান্য পীড়া।
  17. রক্ত রস ঘটিত-প্রোটিন সমৃদ্ধ রক্তরস রক্তনালীর বাহিরে টিসুর মধ্যে জমা হয় ফলে সংশিষ্ট স্থান স্ফীত হইয়া উঠে।
  18. রক্তে কোন উপবিষ থাকিলে যেমন-সোরা, সিফিলিস, সাইকোসিস প্রভৃতি ।
  19. অস্বাস্থ্যকর স্থানে বসবাসের কারণে।

***প্রদাহের শ্রেণীবিভাগ:

প্রদাহকে নিােক্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে ।
(ক) স্থায়িত্ব অনুসারে (on duration )

১ । একিউট— ইহার স্থায়িত্ব কয়েক মিনিট থেকে কয়েক দিন মাত্ৰ ৷
২। ক্রনিক- সপ্তাহ থেকে মাসের পর মাস থাকতে পারে ।

(খ) আক্রান্ত স্থানের পরিবর্তনের উপর (On local changes )-

১। রস বা পুঁজ নিঃসারক (Exudative)

২ । ধ্বংসপ্রাপ্ত কোষ-কলা দ্রুত উৎপাদনকারী (Proliferative)

(গ) আক্রান্ত স্থানের নামকরণ (On site)-

১। আক্রান্ত অঙ্গের নামের অনুসারে নামকরণ যেমন- টনসিলে হলে-টনসিলাইটিস;এপেনডিক্সে হলে- এপেনডিসাইটিস

২। ব্যতিক্রম নিউমোনিয়া, বয়েল ইত্যাদি ।

***একিউট ইনফ্লামেশনের লক্ষণ/প্রদাহের লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য/ক্লিনিক্যাল ফিচার-

১) প্রদাহিত স্থানের রক্তের লোহিতকণিকা ও শ্বেতকণিকা প্রভৃতি কোষ বৃদ্ধি পাইয়া শিরা-উপশিরা রক্তপূর্ণ হইয়া অস্বভাবিক আকার ধারণ করে। ফলে স্থানটি বেদনাময় হয়।

২) প্রদাহিত স্থানে রক্তের পরিমাণ বাড়িয়া যায় । ফুলে যায় । প্রদাহিত স্থান লাল বর্ণ ধারণ করে ।

৩) প্রদাহিত স্থানে অসমোটিক চাপ বাড়িয়া যায় ফলে অধিক লসিকা- রস ক্ষরণ হয়। অধিক লসিকা-রস জমা হইয়া স্থানটি ফুলিয়া যায়।

৪) প্রদাহিত স্থানে রক্ত প্রবাহের আধিক্যের ফলে ঐ স্থানে তাপের সৃষ্টি হয় ।

৫) প্রদাহিত স্থান ব্যথা ও জ্বালা হয়।

৬) প্রদাহিত স্থানের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

***একিউট ইনফ্লামেশনের পরিণতি-

(ক) বিভিন্ন রোগ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে ৷ যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গি, প্রোটোযোয়া এবং হেলমিন্থ ।
(খ) ভ্যাসকুলার (Vascular) পরিবর্তন, রস/রক্ত ক্ষরণ, টিস্যুর পরিবর্তন হতে পারে ।
(গ) যদি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে তবে সামান্য ব্যথা বা জ্বালা যন্ত্রণার পর আরোগ্য হয়ে যায় । .
(ঘ) রক্তের শ্বেত কণিকা ও রোগ জীবাণুর সংঘর্ষের ফলে শ্বেত কণিকা ও মৃত জীবাণুগুলি পচে রক্তরসের সাথে মিশে পুঁজের সৃষ্টি হয় এবং ঐ পুঁজ বের হয়ে গেলে আরোগ্য লাভ করে ৷
(ঙ) রোগ জীবাণুর আক্রমণ তীব্র হলে গ্যাংগ্রীন হয় ।
(চ) প্রদাহ ভাল হওয়ার পর বার বার আক্রান্ত হলে আক্রান্ত স্থানের টিস্যু শক্ত হয়ে যায় ।

***তরুণ ও পূরাতন প্রদাহের পার্থক্য:
তরুণ প্রদাহ-

১। যে প্রদাহ হঠাৎ কোন  কারণে সৃষ্টি হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে উপশম হয় তাকে তরুণ প্রদাহ বলে । যেমন গরম পানিতে মুখে প্রদাহ হলে । 

২| রক্ত প্রবাহের আধিক্য স্পষ্ট।

৩ | পলিমার কোষ অধিক

৪| সাধারনতঃ জায়েন্ট কোষ দেখা যায় না ।
৫| বাহ্যিক লক্ষণ স্পষ্ট ।

পূরাতন প্রদাহ-

১। যে প্রদাহ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, ফলে প্রদাহ হতে ক্ষরণ হয় । কোষ ধ্বংস হয় এবং নূতন কোষও টিস্যুর জন্ম হয় তাকে পূরাতন প্রদাহ বলে । যেমন কার্বঙ্কলের প্রদাহ ।

২ | রক্ত প্রবাহ কম হয় ।
৩ | লিম্ফোসাইট কোষ অধিক ।
৪| সাধারনতঃ জায়েন্ট কোষ হয় ৷
৫| বাহ্যিক লক্ষণ অস্পষ্ট ।

প্রদাহের বিভিন্ন অবস্থা সমূহ:

১) প্রাদাহিক পর্যায়।

২) একজুড়েশান পর্যায় ।

৩) রেজুলিউশান পর্যায় ।

৪) ফাইব্রিনয়েড পর্যায় ।

৫) সাপুরেশন বা পূঁজ সৃষ্টি পর্যায় ।

৬) আলসারেসন বা ক্ষত সৃষ্টি পর্যায়।

৭) গ্যাংগ্রীন বা পচনশীল ক্ষতে পরিনত হওয়ার পর্যায়।

প্রদাহের রাসায়নিক মেডিয়েটরস্ (Mediators ):
১। ভেসোএকটিভ এমাইনস (Vasoactive Amines )

২ । পেপটাইড (Peptide)
৩ । আইকোসানয়েড (Eicosanoids)


রিপেয়ার ও হিলিং (Repair and Healing)

হিলিং :  হিলিং হল প্রাকৃতিক এবং জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত টিস্যুগুলিকে তাদের আসল বা কার্যকরী অবস্থায় মেরামত করে এবং পুনরুদ্ধার করে। এটি  একটি জটিল এবং সমন্বিত প্রক্রিয়া যা প্রদাহ, টিস্যু গঠন এবং টিস্যু পুনর্নির্মাণ করে। হিলিংয়ের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধার করা, রোগজীবাণু বা ধ্বংসাবশেষ অপসারণের প্রচার করা এবং শেষ পর্যন্ত শরীরের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা। হিলিংহল শরীরের একটি মৌলিক এবং অপরিহার্য প্রক্রিয়া যা আঘাত, অসুস্থতা এবং টিস্যুর অন্যান্য প্রকারের ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধারে অবদান রাখে।

রিপেয়ার : রিপেয়ার হল সামগ্রিক হিলিং প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট দিক। এতে ক্ষতিগ্রস্থ বা হারিয়ে যাওয়া টিস্যুকে স্কার টিস্যু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা মূলত কোলাজেন দ্বারা গঠিত। এটি ঘটে যখন ব্যাপক ক্ষতি বা অন্যান্য কারণের কারণে শরীর সম্পূর্ণরূপে মূল টিস্যু পুনরুত্পাদন করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে নূতনকলা পূর্বের কলা হইতে সম্পূর্ণ আলাদা।

হিলিং ও রিপেয়ার এর মধ্যে পার্থক্য :

হিলিং:

  • হিলিং হল একটি বৃহত্তর এবং আরও বিস্তৃত শব্দ যা ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু পুনরুদ্ধার এবং পুনরুদ্ধারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে বর্ণনা করে।
  • এতে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর স্বাভাবিক গঠন এবং কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জটিল এবং সমন্বিত প্রক্রিয়াগুলি জড়িত।
  • হিলিং- প্রদাহ, টিস্যু গঠন এবং পুনর্নির্মাণ সহ একাধিক পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
  • হিলিংয়ের লক্ষ্য হল টিস্যুকে যতটা সম্ভব তার আসল, প্রাক-আঘাতের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া।
  • ইহা স্বাভাবিক কলা দ্বারা পুরন হয়।
  • হিলিং প্রক্রিয়াটি জটিল।
  • স্কার সৃষ্টি হওয়া ইহাতে প্রধান বিষয় নয়।

রিপেয়ার:

  •  রিপেয়ার হল হিলিং প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট দিক এবং ক্ষতিগ্রস্থ বা হারিয়ে যাওয়া টিস্যুকে দাগযুক্ত টিস্যু দিয়ে প্রতিস্থাপনকে বোঝায়।
  • ইহাতে প্রধান বিষয় হইল স্কার সৃষ্টি হওয়া, যা প্রাথমিকভাবে কোলাজেন দ্বারা গঠিত, গঠনগত এবং কার্যকরী উভয় ক্ষেত্রেই মূল টিস্যু থেকে আলাদা।
  •  রিপেয়ারএমন ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট হয় যেখানে শরীর সম্পূর্ণরূপে মূল টিস্যুর ধরণ পুনরুত্পাদন করতে পারে না বা যখন ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা অ-বিশেষায়িত দাগ টিস্যু গঠনের দিকে পরিচালিত করে।
  •  রিপেয়ার নিরাময় প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য উপাদান, বিশেষ করে যখন মূল টিস্যু সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না।
  • রিপেয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ।
  • ইহা গ্রানুলেশন কলাও তন্তু প্রাচুর্য দ্বারা পূরণ হয়।

উন্ড হিলিং (Wound Healing) এর ফ্যাক্টর (Factors) বা বিলম্বিত হওয়ার কারণ:

(ক) স্কাভি (Scurvy) ভিটামিন সি এর অভাব ঘটিলে ।
(খ) প্রোটিন স্টারভেশন (Protein Starvation) দেহে প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের অভাব’।
(গ) শ্বেতকণিকার স্বল্পতার জন্য ।
(ঘ) রক্তক্ষরণ প্রবণতা থাকিলে ।
(ঙ) ডায়েবেটিস থাকিলে ।
(চ) গুকোকটিকয়েড’ (Glucocorticoid) নামক হরমোন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করিলে ।
(ছ) শীতল আবহাওয়া ।

উন্ড হিলিং এর জটিলতা:

(ক) সংক্রামণ (Infection)
(খ) বিদীর্ণ হওয়া বা ফেটে যাওয়া (Wound Dehiscene)

(গ) এপিডারময়েড সিস্ট (Epidermoid Cyst) তৈরী হওয়া ।

(ঘ) কিলয়েড সৃষ্টি (Keloid formation) হওয়া
(ঙ) ত্বকের রং পরিবর্তন হওয়া ।
(চ) ক্ষতচিহ্ন (Scar), ক্ষতচিহ্ন হতে অনেক সময় কার্সিনোমা সৃষ্টি হয় ।

উন্ড হিলিং:  ধ্বংসপ্রাপ্ত কলা যে পদ্ধতিতে নূতন স্বাভাবিক কলা দ্বারা পূরণ হয় তাকে উন্ড হিলিং বলে । ইহাতে নূতন সৃষ্ট কলা পূর্বের কলার সদৃশ হয় । হিলিং প্রক্রিয়াটি জটিল ।
প্রাথমিক হিলিং– এ ক্ষতের পাশ হইতে কোষ বৃদ্ধির ফলে ফাক পূরন হয়। 

মাধ্যমিক হিলিং- এ ক্ষতের নীচ হতে গ্রানুলেশন কলা সৃষ্টির দ্বারা ক্ষতস্থান পূরন হয় ।

প্রাইমারী হিলিং এর ধাপ :

হিলিংয়ের প্রক্রিয়াটি সাধারণত বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত থাকে, যা আঘাত বা ক্ষতের ধরন এবং মাত্রার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। 

1. প্রদাহজনক পর্যায়:

  • তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া: এটি টিস্যুর ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এবং আঘাতের পরপরই ঘটে। সাইটের রক্তনালীগুলি রক্তপাত কমাতে সংকুচিত হয় এবংক্ষতস্থান পূরণ হয় জমাট রক্ত দ্বারা ।
  • ভাসোডিলেশন এবং প্রদাহ(Vasodilation and Inflammation): প্রাথমিক সংকোচনের পরে, রক্তনালীগুলি প্রসারিত (প্রসারিত) হয়, যার ফলে আহত স্থানে রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এটি লালভাব, উষ্ণতা এবং ফোলাভাব সৃষ্টি করে।
  • ইমিউন রেসপন্স: শ্বেত রক্তকণিকা, যেমন নিউট্রোফিল এবং ম্যাক্রোফেজ, ধ্বংসাবশেষ, রোগজীবাণু এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলি অপসারণের জন্য আঘাতের স্থানে স্থানান্তরিত হয়। প্রদাহ ব্যথার সাথে যুক্ত এবং বেশ কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।

2. প্রোলিফারেটিভ ফেজ (Proliferative Phase )টিস্যু গঠন:

  • অ্যাঞ্জিওজেনেসিস(Angiogenesis): নিরাময়কারী টিস্যুতে পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য নতুন রক্তনালী তৈরি হয় (এনজিওজেনেসিস)।
  • ফাইব্রোপ্লাসিয়া(Fibroplasia): ফাইব্রোব্লাস্টগুলি কোলাজেন তৈরি করে, একটি প্রোটিন যা নতুন টিস্যুর কাঠামোগত কাঠামো তৈরি করে।
  • এপিথেলিয়ালাইজেশন(Epithelialization):ত্বকের ক্ষতগুলির ক্ষেত্রে, নতুন ত্বকের কোষগুলি ক্ষতের পৃষ্ঠ জুড়ে স্থানান্তরিত করে একটি প্রতিরক্ষামূলক বাধা তৈরি করে।

3. রিমডেলিং ফেজ (টিস্যু পরিপক্কতা):

  • কোলাজেন পুনর্গঠন(Collagen Reorganization): নতুন টিস্যুকে শক্তিশালী করার জন্য কোলাজেন ফাইবারগুলিকে পুনর্গঠিত এবং পুনর্নির্মাণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে, টিস্যু দুর্বল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি শক্তি অর্জন করে।
  • দাগ গঠন(Scar Formation):অনেক ক্ষেত্রে, চূড়ান্ত টিস্যু পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে একটি দাগ তৈরি হয়। দাগগুলি কোলাজেন দ্বারা গঠিত এবং প্রায়শই মূল টিস্যুর তুলনায় কম কার্যকরী এবং নমনীয় হয়।
  • কার্যকরী পুনরুদ্ধার(Functional Recovery):কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস ধরে, সুস্থ হওয়া টিস্যু ধীরে ধীরে কার্যকারিতা এবং চেহারাতে উন্নতি করে।

প্রাইমারী হিলিং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ :

১। ক্ষতের চারদিক একত্রে জুড়ে যায় (Apposed together)

২। কোষ কলার অল্প ক্ষতি হয় ।
৩। রক্তস্রাব অল্প হয় ।
৪ । অল্প পরিমাণ রস বা পুঁজ নিঃসৃত হয় ।
৫। কোন সংক্রমণ হয় না।
৬। দ্রুত আরোগ্য হয় ।
৭। ক্ষতস্থান সংকুচিত হয় না ।
৮। স্কার আকারে ছোট।


ড্রপলেট সংক্রমণ— শ্লেষ্মাবাহিত রোগ সমূহ, যেমন সর্দি, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হাম ইত্যাদি সরাসরি একদেহ হতে অন্যদেহে সংক্রামিত হতে পারে। এই সব সংক্রামিত রোগের জীবাণু নাকে, গলায় ও মুখে অবস্থান করে। হাচিঁ কাশি, জোরে কথা বলার সময়, জোরে হাসিলে অতি সূক্ষ্ম শ্লেষ্মা কণা রোগ জীবাণুসহ বাহিরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং উহা ৬ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত যাইতে পারে। ঐ শ্লেষ্মা কণা সরাসরি নিকটস্থ লোককে সংক্রামিত করতে পারে । ইহাকে ডুপলেট সংক্রামণ বলে ।


সেপটিসেমিয়া সংজ্ঞা ও ইহার কারণসমূহ :
সেপটিসেমিয়া— যখন কোন রোগ সৃষ্টিকারী বীজাণু তথা ব্যাকটেরিয়া বা তার টক্সিন রক্তে মিশে গিয়ে রক্তের মাধ্যমে দেহে ব্যাপকভাবে বিষক্রিয়ার লক্ষণ সৃষ্টি করে সেই অবস্থাকে সেপটিসেমিয়া বলে। যেমন- এস, পাইয়োজেনস দ্বারা পিয়ারপারাল জ্বর । সেপটিসেমিয়ার ফলে জ্বর, শীত কম্প, দ্রুত নাড়ী, বমি বমি ভাব দুর্বলতা ও শক দেখা দেওয়ার পর মৃত্যু ।

সেপটিসেমিয়ার কারণ:

ক) উদরে আঘাতের ফলে যদি কোন গর্তের সৃষ্টি হয় এবং রক্ত ও উদরস্থ বস্তুর মধ্যে যদি দূষণ ঘটে ।
খ) জন্মের সময় কোন সংক্রমণ হলে ৷
গ) কাটা বা পোড়া ক্ষত, ফোড়া ইত্যাদির ফলে ।
ঘ) অস্বাস্থ্যকর প্যাড (Tampon) ঋতুস্রাবের সময় অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত হলে ।
ঙ) অস্বাস্থ্যকর দাঁতের মাধ্যমে ।

ইডিমা বা শোথ (Oedema): আঘাত লাগা, হৃৎপিন্ড, লিভার, কিডনীর প্রভৃতির গোলযোগ অথবা অন্য যে কোন কারণে যদি টিস্যুর ইন্টার সেলুলার ফাঁকা অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী ফ্লুয়িড(Fluid) জমা হয় তাকে ইডিমা বলে । যেমন কার্ডিয়াক ইডিমা, রেনাল ইডিমা, হেপাটিক ইডিমা, গর্ভধারণের ফলে ইডিমা ইত্যাদি । যে স্থানে ইডিমা হয় ঐ স্থান টিপিলে সাময়িক গর্ত হইয়া যায় ।

ইডিমার প্রকারভেদ:  ইডিমা প্রধানতঃ দুই প্রকার । যথা-

i) স্থানিক শোথ (Localised Oedema) দেহের কোন নির্দিষ্ট স্থানের শোথ । যেমন- লিমফ্যাটিক ইডিমা (Lymphatic Oedema) হাইপার সেনসিটিভিটি ইডিমা (Hypersensitivity Oedema)

ii) সর্বাঙ্গীন শোথ (Generalised Oedema) সর্বাঙ্গ শোথে ফুলে যায় । যেমন- রেনাল ইডিমা (Renal Oedema) কার্ডিয়াক ইডিমা (Cardiac Oedema)

ইডিমার প্যাথলজি :  এডিমার প্যাথলজি রক্তনালীর ভিতরে ও বাইরে তরলের চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী বল এবং লিম্ফেটিক সিস্টেমের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা জড়িত। ফলে ইন্টারস্টিশিয়াল স্পেসে ফ্লুইড জমতে থাকে, যার ফলে ফুলে যায় এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য উপসর্গও দেখা দেয়। 

  •  ক্যাপিলারী শিরাগুলির ভেদ্যতা বৃদ্ধি– প্রদাহ, সংক্রমণ বা আঘাতের ফলে রক্তনালী (ক্যাপিলারি) আরও বেশি ভেদ্য হয়ে যেতে পারে। এই বর্ধিত পারগম্যতা প্রোটিন এবং তরলকে কোষগুলির মধ্যের ফাঁকে লিক করতে দেয়, যা এডিমার দিকে পরিচালিত করে। অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া এবং পোড়ার মতো পরিস্থিতিতে, এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া।
  • হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বৃদ্ধি: রক্তনালীর মধ্যে উত্থিত চাপ (হাইড্রোস্ট্যাটিক প্রেসার) তরলকে কেশিকাগুলি থেকে এবং আশেপাশের টিস্যুগুলিতে ঠেলে দিতে পারে। হার্ট ফেইলিউরের মতো অবস্থা রক্ত সঞ্চালনের চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে পা ও গোড়ালির এলাকায় এডিমা হতে পারে।
  • রক্তের অসমেটিক চাপ কমিয়া যায় , টিস্যুর অসমেটিক চাপ বাড়িয়া যায়: রক্তে থাকা প্রোটিন, বিশেষ করে অ্যালবুমিন, রক্তনালীর মধ্যে তরল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অস্মোটিক চাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। লিভার ডিজিজ, কিডনি ডিজিজ বা অপুষ্টিজনিত কারণে রক্তে প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়, অস্মোটিক প্রেসার কমে যায় এবং তরল পদার্থ ইন্টারস্টিশিয়াল স্পেসে চলে যায়।
  • লসিকা বাধা: লিম্ফেটিক সিস্টেম অতিরিক্ত টিস্যু ফ্লুইডকে রক্ত প্রবাহে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। যদি লসিকানালীতে অবরুদ্ধতা বা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় (যেমন, সার্জারি, ইনফেকশন বা টিউমারের কারণে) তাহলে এর ফলে তরল জমাট বাঁধতে পারে এবং এডিমা হতে পারে।
  • বৃক্কের অকার্যকারিতা: কিডনির রোগ বা অবস্থা যা কিডনির কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে, তা শরীরে সোডিয়াম এবং পানি ধরে রাখতে পারে, যার ফলে সাধারণীকৃত এডিমা হতে পারে।
  • হরমোন ফ্যাক্টর: হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যেমন কুশিং সিন্ড্রোম বা থাইরয়েড ব্যাধির মতো পরিস্থিতিতে দেখা যায়, তরল এবং তড়িত্বিশ্লেষ্য ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এডিমাতে অবদান রাখতে পারে।

  • ঔষধ: কিছু ওষুধ, যেমন কিছু অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ, ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস (NSAIDs), এবং কর্টিকোস্টেরয়েড, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে ইডিমার কারণ হতে পারে।

  • যে স্থলে ইডিমা হয় ঐ স্থান টিপিলে সাময়িক গর্ত হইয়া যায় । দেহের আকার ও ওজন বৃদ্ধি পায় ।

ইডিমার কারণ :

১) ইনফ্লামেশন।

২) হাইপার সেনসিটিভ নেস।

৩) ভেনাস অবস্ট্রাকসন’।

৪) লিম্ফোটিক অবস্ট্রাকসন।

৫) কনজেসটিভ কার্ডিয়াক ফেলিওর।

৬) এনিমিয়া ।

৭) নেফ্রোটিক সিনড্রোম (রেনাল ডিজিজ)।

৮) প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি ।

৯) রক্তপাত ৷

১০) হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বৃদ্ধি ও কলয়ড্যাল চাপ হ্রাস । ক্যাপিলারি হাইড্রোস্টাটিক প্রেসার (তরলের চাপ) বেড়ে গেলে; যেমন- কনজেস্টিভ কার্ডিয়াক ফেইলুর, ভেনাস থ্রম্বোসিস, লিভার সিরোসিস (পোর্টাল সঞ্চালনের চাপ) ইত্যাদি ক্ষেত্র।

প্লাজমা কলয়ডাল প্রেসার (প্লাজমার কলয়েড এর চাপ) কমে গেলে: যেমন- হাইপোপ্রোটিনেমিয়া, লিভার সিরোসিস, প্রোটিন লুসিং গ্লোমেরুলোপ্যাথি (একটি কিডনী রোগ), নেফ্রটিক সিন্ড্রোম (একটি কিডনী রোগ) ইত্যাদি ক্ষেত্র।

টিস্যু অসমোটিক প্রেসার (কলার অভিস্রবন চাপ) বেড়ে গেলে; যেমন- সোডিয়াম রিটেনশন (সোডিয়ামের জমা হয়ে যাওয়া), অতিরিক্ত লবন গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্র।

এন্ডোথেলিয়াল পারমিয়াবিলিটি (এন্ডোথেলিয়ামের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ) বেড়ে যাওয়া: যেমন- ইনফ্লামেশন, পুড়ে যাওয়া, আঘাত, প্রতিরোধ্যতামূলক ক্রিয়া (ইমিউনোলজিক্যাল রিয়াকশন) ইত্যাদি ক্ষেত্র। 

লসিকা প্রবাহে বাঁধা (লিম্ফেটিক অবসট্রাকশন): যেমন- ফাইলেরিয়াসিসের ক্ষেত্রে।

১১) লিভার সিরোসিস।

১২) ভিটামিন বি এর অভাব বা বেরিবেরি রোগ ।

১৩) ডায়াবেটিস, আমাশয়, ম্যালেরিয়া প্রভৃতি রোগে দীর্ঘদিন ভোগা ৷

শোথের ইনভেস্টিগেশন:
১ । টিসি (TC), ডিসি (DC), ই,এস,আর ( ESR)।
২। ফিলারিয়াল প্যারাসাইট ( Filarial parasite- সুতার মত সরু ও লম্বাটে একপ্রকার প্যারাসাইট) দেখার জন্য ব্লাড ফিল্ম ।
৩ । প্রভোকেশন টেস্ট (Provocation test)।
৪ । ফিলারিয়ালের জন্য সি.এফ.টি (C.F.T) বা আই.এফ.এ.টি (I.F.A.T) |
৫ । লিম্ফওসনিটিগ্রাফী (Lymphoscintigraphy)।

৬। লিম্পএনজিওগ্রাম (Lymphangiogram)।

৭। ভ্যানোগ্রাফী (Venography)।
৮। সমস্ত উদরের সিটি স্কান (CT scan of whole abdomen)।

– 

ইনফার্কশন (Infarction):  দেহের কোন অংশ বা যন্ত্রে রক্ত জমাট বাঁধার বা একটি ক্ষুদ্র জমাট রক্তের দলা রক্তবহানালীতে আটকে গিয়ে ঐ অংশের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবার ফলে সেই অংশ বা যন্ত্রের মৃত্যু ঘটা অবস্থাকে বলা হয় । যেমন- হৃৎপিন্ডের মাংসপেশীতে এইরূপ অবস্থা সৃষ্টি হলে তাকে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বলে ।
ইনফার্কশনের কারণ:
(ক) ধমনীর মধ্যে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে যেমন- থ্রম্বসিস, এম্বোলিজম, টিউমার, প্রদাহ ইত্যাদি ।
(খ) শিরার নির্গমন পথে কোন বাধা ।

গ্যাংগ্রীন: গ্যাংগ্রীন দেহের যে কোন আংশ আঘাত লাগিয়া, অ্যাথেরোমা/ ডায়াবেটিস বা অন্যকোন রোগে আক্রান্ত অংশের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হইয়া সেই অংশের টিস্যুর পচনযুক্ত অবস্থা সৃষ্টি হওয়াকে গ্যাংগ্রিন
বলে ।
গ্যাংগ্রীন তিন প্রকার যথা-

i) ড্রাই গ্যাংগ্রীন – রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হইয়া ইহা দেখা দেয়, কিন্তু আর্দ্রতার অভাবে জীবাণু সংক্রামণ হয় না বা প্রসার ঘটে না ।

ii) ময়েষ্ট গ্র্যাংগ্রীন – ক্রাশট (crust) ইনজুরীর পর এই অবস্থা হয়। আক্রান্ত অংশ ফুলে দুর্গন্ধ হয়, কারণ জীবাণুর সংক্রামণের ফলে পচন ধরে ।
ii) গ্যাস-গ্যাংগ্রীন– ক্লসট্রি ওয়েলসাই নামক জীবাণু সংক্রামনের ফলে এই গ্যাস গ্যাংগ্রীন হয়। এতে পচন শুরু সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস তৈরি হয় ।

গ্যাংগ্রিনের কারণ:

১ । ধমনী ও শিরার রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে ।
২। ধমনীর দেওয়ালের পরিবর্তন হলে ।
৩ । বাহির হতে কোন চাপ পড়লে যেমন-টিউমার ।
৪ । ধমনীর ভিতর রক্ত চলাচলের পথ (Lumen) এ কোন কারনে আক্ষেপযুক্ত সঙ্কোচন ঘটলে ।
৫। জীবাণুর সংক্রামণ যেমন ক্লসট্রি ওয়েলসাই নামক রোগ জীবাণুর আক্রমণ ঘটলে ।

শুষ্ক গ্যানগ্রিন ও আর্দ্র গ্যানগ্রিনের পার্থক্য
শুষ্ক গ্র্যানগ্রিন-

১ | ইহা সাধারণতঃ বৃদ্ধ বয়সে শরীরের নিম্নাংশে, ধমনীর রক্ত সরবরাহ বন্ধ হইয়া, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পায়ের আঙ্গুলে হয়। কিন্তু আর্দ্রতার অভাবে জীবাণু সংক্রামন হয় না বা প্রসার ঘটে না । আক্রান্ত অংশ কাল, শুষ্ক এবং কোচকাইয়া যায় । চর্মের রঙ কাল হওয়ার ফলে আক্রান্ত অংশে আয়রণ সালফাইড তৈরি হয় ।
২। ধমনীর রক্ত সরবরাহ বন্ধ হইয়া হয় ।

৩| ইহার রঙ কাল, শুষ্ক এবং কোচকানো ।
৪| দুৰ্গন্ধ হয় না ।
৫| আক্রমন হয় ধীরে ধীরে ।

৬| সহজে মারাত্মক আকার ধারণ করে না ।

আর্দ্র গ্যানগ্রিন –

১ | ক্রাশট (crust) ইনজুরী বা থেতলে যাওয়ার পর এই অবস্থা হয় । আক্রান্ত অংশে পচন ধরে, ফলে দূর্গন্ত হয়, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ৷ কারণ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় । ইহা জরায়ূর সারভিক্স, ভালবা, মুখ, অস্ত্র, ফুসফুস ইত্যাদি স্থানে হয় । আক্রান্ত অংশ ফুলে যায়। কালচে লাল রঙের হয় ।

২। ধমনী ও শিরার রক্ত সরবরাহ বন্ধ হইয়া হয় ।
৩| ভিজা, ফোলা এবং কালচে লাল ।
৪|দুর্গন্ধ হয় ।
৫|আক্রমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ।
৬| মারাত্মক আকার ধারণ করে।

নেক্রোসিস:— দেহের যে কোন অংশের কোষ/ টিস্যু ইত্যাদির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিশেষ কোন রোগে অথবা যে কোন কারণে বিনষ্ট হওয়া বা মরে যাওয়ার অবস্থাকে বুঝায় ।
নেক্রোসিসের প্রকারভেদ
বেসিক টাইপ:

১ । কোয়াগুলেটিভ নেক্রোসিস

২। লিকুইফ্যাকটিভ নেক্রোসিস

স্পেশাল টাইপ:

৩ । কেজিয়াস (caseous) নেক্রোসিস

৪। ফ্যাট নেক্রোসিস
৫। গ্যানগ্রিনাস নেক্রোসিস

৬। ফ্রিবরিনয়েড নেক্রোসিস

৭ । নেক্রোসিস অব মাসল

৮ । গামাটাস নেক্রোসিস

নেক্রোসিসের কারণ:

১। ইসকিমিয়া (ischaemia) দেহের কোন অংশ বা টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়া ।
২। ইনফেকশন- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ইত্যাদি রোগ জীবাণুর আক্রমনে
৩। ইমিউনোলজিক্যাল রিএ্যাকশন- এন্টিবড়ি, এন্টিজেনের ক্রিয়ার ফলে
৪ । ফিজিক্যাল-পুড়ে যাওয়া, আঘাত লাগা
৫ । ক্যামিক্যাল- আসেনিক, সায়ানাইডের বিষক্রিয়া ।

গ্যানগ্রিন ও নেক্রোসিসের পার্থক্য:

নেক্রোসিস-

১। কোষ বিনষ্ট হওয়া বা মরে যাওয়ার অবস্থা ।

২। নিউক্লিয়াসের মৃত্যু হয় তাই কোষগুলি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে না।

৩। কোষের মরণ

গ্যানগ্রিন-
 ১। টিস্যুর পচনযুক্ত অবস্থা 
 ২। ইহাও ইরিভারসিবল

৩। কোষের মরণ + পচন

এট্রোপি ও হাইপারট্রোপি

এট্রোপি– প্রাণীদেহের কোন অংশ বা সম্পূর্ণ দেহ ক্রমশঃ ছোট হয়ে যাওয়া বা কোষের সংখ্যা হ্রাস বা আকার ছোট হয়ে যাওয়াকে এট্রোপি বলে ।

ইহার কারণ সমূহ নিম্নরূপ-

ক) ফিজিওলজিক্যাল- যেমন বৃদ্ধ বয়সে যৌনাঙ্গের শীর্ণতা ।

খ) প্যাথলজিক্যাল- কোন রোগে আক্রান্ত হলে ।
গ) অনাহারে থাকিলে ।
ঘ) বৃদ্ধ বয়সে ।.
৪) কোন অঙ্গ ব্যবহৃত না হলে ।
চ) কোন অঙ্গে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পেলে ।
ছ) হরমোন জনিত শীর্ণতা- বৃদ্ধ বয়সে মেয়েদের স্তন শীর্ণতা ।

জ) কোন স্নায়ু আঘাত প্রাপ্ত হলে উহার সহিত সংশ্লিষ্ট অঙ্গ শীর্ণ হয়ে পড়ে ।
কোন অঙ্গ বেশী ব্যবহৃত হওয়ার পর যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম পুষ্টি পায় ৷

এট্রফির কারণ :

১। কার্যকরী ব্যবহার কমে গেলে, যেমন— কোন অঙ্গ দীর্ঘদিন প্লাস্টার করে রাখলে ।
২।নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণহীনতার ফলে— কোননায়ু দুর্ঘটনা বা অন্য
কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে উক্তায়ু নিয়ন্ত্রিত পেশীসমূহ শীর্ণ হয়ে পড়ে । যেমন- পলিওমাইলিটিস

৩। কোন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা প্রবাহ কমে গেলে, যেমন- বৃদ্ধ বয়সে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে গিয়ে মস্তিষ্কের শীর্ণতা ।
৪ । নালীবিহীন গ্রন্থির (Endocrine glands) হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে গেলে উক্ত গ্রন্থির সহিত সম্পর্কযুক্ত অঙ্গের শীর্ণতা। যেমন- মেনপোজের পর মহিলাদের স্তন গ্রন্থির শীর্ণতা ।
৫। পুষ্টিহীনতার ফলে— কোন অঙ্গ যে পরিমাণ কাজ করে সে তুলনায় পুষ্টি কম পেলে ।
৬। বয়সজনিত কারণে ।

হাইপারট্রপি— দেহের কোন অংশের টিস্যুর আকার বৃদ্ধি পাইয়া সেই অঙ্গের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়াকে হাইপারট্রপি বলে । যেমন হৃৎপিন্ডের বিবৃদ্ধি ।
ইহার কারণ:

১। ফিজিওলজিক্যাল কারণ- যেমন প্রসবের সময় জরায়ূর আয়তন স্বাভাবিক চেয়ে কয়েকগুন বৃদ্ধি পায় ৷
২। প্যাথলজিক্যাল কারণ- কোন রোগের ফলে, যেমন হৃৎপিন্ডের প্রকোষ্ঠের আয়তন বৃদ্ধি ।
৩। কমপেনসেটরী কারণ- কোন অঙ্গের কাজ বৃদ্ধি পেলে, যেমন ব্যায়াম
৪ । এডাপটিভ ‘কারণ- ফাঁপা অঙ্গের বহিনির্গমনের পথে কোন বাধা থাকিলে ।

 

 

এনিমিয়া: দেহের প্রতি একক আয়তনের রক্তে বয়স ও লিঙ্গভেদে স্বাভাবিকের চেয়ে কম পরিমাণ হিমোগ্লোবিন রক্তে থাকিলে, তাকে এনিমিয়া বলে ।
পুরুষদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক পরিমাণ-১৪-১৮ gm/dl স্ত্রীলোকদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক পরিমাণ-১২-১৬ gm/dl

এনিমিয়ার শ্রেণীবিন্যাস– সাধারণভাবে এনিমিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
    ১। লোকাল- মূৰ্চ্ছা যাওয়ার পর মুখের রং ফ্যাকাশে হইয়া যায় ৷
    ২। জেনারেল- ইহা দেহের সর্বস্তরে বিস্তার লাভ করে । ইহাকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায় ।
                 (ক) প্রাইমারী এনিমিয়া- ক্লোরোসিস, ইডিওপ্যাথিক ।
                 (খ) সেকেন্ডারী এনিমিয়া— দীর্ঘদিন রক্তস্রাব বা অন্যকোন রোগের ফলে যে এনিমিয়া হয় । ইহাকে                             আবার ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে- যথা—
                             (১) একিউট

এনিমিয়ার কারণ:

১। কোন কারণে রক্তক্ষরণ হলে (অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, অর্শ, গর্ভপাত, প্রসব ইত্যাদি ।
২। লাল রক্ত কণিকার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হলে ।
৩। দ্রুত অতিরিক্তভাবে লাল রক্তকণিকা ধ্বংস হলে ।

৪ । হজম ক্রিয়া দুর্বল হলে ।
৫ । অনাহার, সুষম খাদ্যের অভাব, ভিটামিন বি২, ফলিক এসিড, লৌহের খাটতি হলে ।
৬। যক্ষ্মা, লিভারের পীড়া প্রভৃতিতে ভোগার ফলে ।

আয়রণ ডেফিসিয়েন্সি এনিমিয়ার ইনভেষ্টিগেশন:

(ক) HB% কমে যায়।
(খ) RBC Count কম
(গ) Serum Iron- কম (<60mg/dl)
(ঘ) Plasma ferritin কম (<10mg/dl)
(ঙ) Endoscopy-পেপটিক আলসার
(চ) Proctoscopy-রক্তক্ষরণের চিহ্ন।
(চ) Urinalysis-মূত্রে রক্তের উপস্থিতি ।

আয়রণ অভাবজনিত এনিমিয়ার কারণ ও প্যাথলজিক্যাল লক্ষণ (ব্লাড পিকচার):
আয়রণ অভাবজনিত এনিমিয়া- পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, জন্মগত কারণ, গ্যাষ্টিক আলসার, ক্রনিক আমাশয়, হুক ওয়ার্মের জন্য রক্তে লৌহ কণিকার পরিমাণ হ্রাস পাইলে তাকে আয়রণ অভাব জনিত
এনিমিয়া বলে ।
প্যাথলজিক্যাল লক্ষণ- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকে যেমন প্রতি ১০০ সি সি রক্তে RBC= 50% 60% । হলুদ অস্থিমজ্জা পরিবর্তিত হইয়া লাল অস্থিমজ্জার পরিমাণ বেড়ে যায় । টিস্যুর পরিবর্তন হয় । প্লীহার বৃদ্ধি, হৃদযন্ত্র, যকৃত প্রভৃতি আক্রান্ত হয়।

মেগালোব্লাষ্টিক এনিমিয়ার কারণ:
মেগালোব্লাষ্টিক এনিমিয়া– (Megaloblastic Anaemia) দেহে ফোলিক এসিড বা ভিটামিন বি-১২ এর অভার ঘটলে বিশেষ ধরণের যে রক্তল্পতা সৃষ্টি হতে দেখা যায় যাতে রক্ত প্রবাহে মেগালোরাষ্ট কোষ দেখতে পাওয়া যায় সেই ধরণের মেগালোব্লাষ্টিক এনিমিয়া বলে ।

কারণ অনুযায়ী এনিমিয়ার শ্রেণীবিন্যাস:
এনিমিয়া— দেহের প্রতি একক আয়তনের রক্তে বয়স ও লিঙ্গভেদে স্বাভাবিকের চেয়ে কম পরিমাণ হিমোগ্লোবিন দেহে থাকিলে তাকে এনিমিয়া বলে ।
কারণ অনুযায়ী এনিমিয়ার শ্রেণীবিন্যাস:

১। রক্ত ক্ষরণজনিত এনিমিয়া- যেমন পেপটিক আলসার, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাব ইত্যাদি
২। লৌহিত ‘রক্ত কণিকার উৎপাদন কমে গেলে- যেমন- বোনমেরুর স্বাভাবিক কাজে বাধা, আয়রন অভাব জনিত এনিমিয়া, ফলিক এসিডের অভাব ইত্যাদি ।
৩। লোহিত রক্ত কণিকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী ধ্বংস হলে । যেমন- হিমোলাইটিক এনিমিয়াতে একদিকে রক্ত কণিকা সৃষ্টি হতে থাকে অন্যদিকে তা নষ্ট হতে থাকে ।

এনিমিয়ার রুটিন টেস্ট: CBC= Complete blood test.

ব্যাকটেরিওলজি– জীব বিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যকটেরিয়া সম্বন্ধে আলোচনা, পর্যালোচন ও গবেষণা করা হয় তাকে ব্যাকটেরিওলজি বলে ।
হ্যামিওপ্যাথিক ঔষধের অন্যতম উৎস হয় নসোডস। এই নসোডস ঔষধগুলির মধ্যে অনেকগুলি ঔষধ আছে যার উৎস ব্যাকটেরিয়া । যেমন-
১। ডিপথেরিনাম— ঔষধটি তৈরি হয় ডিপথেরিয়া নামক রোগের · জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া- “করনিবেকটেরিয়াম ডিপথেরি (Cornybacterium diphtheriae)
২। মেডোরিনাম- নামক ঔষধটি তৈরি হয় গনোরিয়া রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া— “নাইসেরিয়া গনোকক্কাস” নামক ব্যাকটেরিয়া হতে ।
৩। সিফিলিনিয়াম- নামক ঔষধটি তৈরি হয় সিফিলিস রোগের জন্য দায়ী ব্যকটেরিয়া- ট্রিপনিমা পেলিডাম নামক ব্যাকটেরিয়া হতে ।

সুতরাং দেখা গেল মানব স্বাস্থ্যের জন্য দরকারী গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঔষধই ব্যাকটেরিয়া হতে তৈরি হয় । সুতরাং হোমিওপ্যাথিতে ব্যাকটেরিওলজি পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম ।

ব্যাকটেরিয়া: ইহা একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র আনুবীক্ষনিক এককোষী জীব । এরা সবচেয়ে আদি উদ্ভিদ, এদের দেহে কোন ক্লোরোফিল নাই, তাই উদ্ভিদ শ্রেণীভুক্ত হলেও এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরী করতে পারে না ।

আকৃতি অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নিােক্ত শ্রেণীতে ভাগ করা হয়:

১। কক্কাই- এরা আকৃতিতে গোলাকার । যেমন-

ষ্টেফাইলোকক্কাই— এরা আঙ্গুরের মত থোকা থোকা ভাবে সাজান থাকে ।
ষ্টেপটোকক্কাই- এরা শিকলের মত সাজান থাকে ।

২। ব্যাসিলি— ইহাদের আকৃতি সোজা দন্ডের মত ।

৩। স্পাইরিলা- এরা স্ক্রুর মত ঘোরানভাবে সজ্জিত থাকে যেমন সিফিলিস রোগের জীবাণু ।
৪ । ভিবরিও- এরা কমা চিহ্নের মত যেমন কলেরার জীবাণু ।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নিম্নোক্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয় :

১। এরোবিক- এরা অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে না ।
২। অ্যানএরোবিক- বেঁচে থাকার জন্য এদের অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই ।
৩। পয়োজেনিক- এর পূঁজ সৃষ্টি করে ।
৪। স্পেসিফিক- ইহা বিশেষ বিশেষ রোগ সৃষ্টি করে যেমন ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ইত্যাদি ।

গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া– বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া চিনার জন্য গ্রামস ষ্টেইন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় । এই পদ্ধতিতে যে সব ব্যাকটেরিয়ার রঙ বেগুনী দেখায় তাদেরকে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন-

১ । ষ্ট্যাফাইলোকক্কাস

২। সারসিনা
৩ । মাইক্রোকক্কাস,

৪ । পেপটোকক্কাস

৫ । নিউমোকক্কাস

পায়োজেনিক (pyogenic) ব্যাকটেরিয়া– সব ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত অঙ্গে পূঁজ সৃষ্টি করে তাদেরকে পায়োজেনিক ব্যাকটেরিয়া বলে ।
পায়োজেনিক ব্যাকটেরিয়া নাম
১ । ষ্টেপটোকক্কাস
২ । ব্যাসিলাস কোলাই
৩। গনোকক্কাস
৪ । ষ্টাফাইলোকক্কাস ৫ । করিনি ব্যাকটেরিয়াম

চিত্রসহ একটি ব্যাকটেরিয়ার গঠন আলোচনা কর একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষ

ফ্লাজেলাম
ক্যাপসিউল
কোষ প্রাচীর
সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন
রাইবোসোম
মেসোসোম .
ক্রোমোসোম
ভলিউটিন
প্লাসমিড

একটি ব্যাকটেরিয়া- সাধারনতঃ নিম্নলিখিত অংশগুলি নিয়ে গঠিত ।
যেমন-

১। ফ্লাজেলা- এক প্রকার সূতাকৃতি উপাঙ্গ, ইহার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া চলাচল করিতে পারে। প্রজাতি অনুসারে প্রতিটি সেলে ১-২০টি পর্যন্ত ফ্লাজেলা থাকে । ইহার গঠন বিন্যাস ও সংখ্যা দ্বারা ব্যাকটেরিয়াকে সনাক্ত করা যায় ।
২। ক্যাপসিউল- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে এবং কোষ প্রাচীরের সর্বপেক্ষা বাইরের স্তর ।

৩। কোষ প্রাচীর- ক্যাপসিউলের নীচে কোষ প্রাচীর অবস্থিত, প্রাচীরের স্থানে স্থানে ছিদ্র আছে। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়া প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ চলাচল করে এবং কোষ প্রাচীর ভিতরের তরল পদার্থ বাহিরে আসতে নিয়ন্ত্রণ করে ।
৪ । সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেণ- কোষ প্রাচীরের ভিতরের সজীব ঝিল্লী, কোষের ভিতর ও বাহিরের দ্রবীভূত পদার্থের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে ।
৫। সাইটোপ্লাজম— সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দ্বারা পরিবেষ্টিত কোষের তরল অংশ। এর ভিতর কোষ গহ্বর, শর্করা, প্রোটিন, খনিজ পদার্থ প্রভৃতি বিদ্যমান ।

ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার-

১। অনেক এন্টিবায়োটিক ঔষধ তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়, যেমন পলিমিক্সিন ।
২। প্রতিষেধক টিকা- কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক ব্যাকটেরিয়া হতে তৈরি হয় ।
৩ । আবর্জনা, মৃতদেহ, বর্জ পদার্থ পচন ক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
৪ । চা, কফি, তামাক, প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
৫ । চামড়া শিল্পে চামড়া হতে লোম ছাড়ানোর ব্যাপারে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয় ।
৬। দুগ্ধজাত শিল্পে মাখন, দই, পানির তৈরীতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয় ।
‘৭ । বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য যেমন ভিনিগার, ল্যাকটিক এসিড, তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয় ।
৮ । মাটির উর্বরা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার অবদান অনেক ।
৯ । সমুদ্রের পানিতে ভাসমান তৈল অপসারণে তৈল খাদক ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয় ।
১০ । জৈব গ্যাস তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া অংশগ্রহণ করে ।

গ্রাম স্টেইনিং– ব্যাকটেরিয়াকে চিনার একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কাঁচের স্লাইডে ফিল্ম  রঞ্জিত করার পর যে সব ব্যাকটেরিয়া বেগুনি বহু ধারণ করে তাদেরকে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া টাফাইলোকক্কাস, টেপটোকক্কাস ।
আর যে সব ব্যাকটেরিয়া লাল রং ধারণ করে তাদেরকে গ্রাম নিগেটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন গনোককাস ।
যৌন সংক্রামক রোগ

চারটি গ্রাম পজিটিভ ও চারটি গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার নাম:
গ্রাম’স ষ্টেইন পদ্ধতিতে যে সব ব্যাকটেরিয়ার রং বেগুনী দেখায় তাদেরকে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে ।

যথা-ষ্টাফাইলোকক্কাস, সারসিনা, মাইক্রোকক্কাস, পেপটোকক্কাস, নিউমোকক্কাস

গ্রাম’স ষ্টেইন পদ্ধতিতে- যে সব ব্যাকটেরিয়া লাল রং দেখায় তাদেরকে গ্রাম নিগেটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে।

যেমন- গনোকক্কাস, মেনিনগোকক্কাস, বি-কলাই, ই-কলাই, ভিবরি ও কলেরি

ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণীবিভাগ: 

১ । গ্রাম স্টেইনিং (Gram Staining ) M
(ক) গ্রাম পজিটিভ (খ) গ্রাম নেগেটিভ
২ । মটিলিটি টেষ্ট (Motility test)
৩ । এসিডফাষ্ট ষ্টেইনিং (Acid fast staining)
৪ । এলবার্টস ষ্টেইনিং (Albert’s staining)

ড্রপলেট ইনফেকশন— শ্লেষ্মাবাহিত রোগসমূহ যেমন- সর্দি, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হাম ইত্যাদি সরাসরি একদেহে হতে অন্যদেহে সংক্রামিত হতে পারে । এই সব সংক্রামিত রোগের জীবাণু নাকে, গলায় ও মুখে অবস্থান করে। হাঁচি, কাশি, জোরে কথা বলার সময়, জোরে হাঁসিলে অতি সুক্ষ্ম শ্লেষ্মা কণা রোগ জীবানুসহ বাহিরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং উহা ৬ ফুট পর্যন্ত যাইতে পারে। ঐ শ্লেষ্মা কণা সরাসরি নিকটস্থ লোককে সংক্রামিত করতে পারে । ষ্টেইনিং অনুসারে ইহাকে ড্রপলেট ইনফেকশন বলে ।

 

ষ্টেপটোকক্কাস

ষ্টেপটোকক্কাস পায়োজেনিসের মরফোলজি— ইহাদের কোষ বৃত্তাকার, দেহের ব্যাস ১ মাইক্রোমিটার এবং চেইনের আকারে সৃঙ্খলাবদ্ধ থাকে। সাধারণতঃ ক্যাপসুল থাকে, চলৎশক্তিহীন । কোন ফ্লাজিলা থাকে না, এবং খোলসহীন (non-sporing)
ষ্টেপটোকক্কাস পায়োজেনিসের ষ্টেনিং– ইহারা গ্রাম পজিটিভ। নন- এসিড ফাষ্ট ব্রাকটেরিয়া ।


ষ্টেপটোকক্কাস পায়োজেনিসের কালচারাল বৈশিষ্ট্য –
১। ইহারা- এরোবিক (বায়ুজীবী) এবং ইচ্ছাধীন অবায়ুজীবী (প্রয়োজনে অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে)
২ । সর্বোত্তম pH= ৭.৪-৭.৬
৩। স্বর্বোত্তম তাপমাত্রা = ৩৭°c
৪। মিডিয়া – সাধারণ (গ্লুকোজ ব্রোথ)
৫ । ইন্ডিকেটর মিডিয়া -ব্লাড আগর

ষ্টেপটোকক্কাস পায়োজেনিসের প্যাথজেনসিটি- ইহারাসাধারণতঃ নিম্নলিখিত রোগগুলি সৃষ্টি করে যেমন, টনসিলাইটিস, গলার ভিতর ফোঁড়া, ফেরিনজাইটিস, সাইনুসাইটিস, মেনিনজাইটিস, ব্রঙ্কোনিওমোনিয়া ইত্যাদি ।

ষ্টেপটোকক্কাসের শ্রেণীবিভাগ- প্রধান প্রধান প্রজাতি হল
১। ষ্টেপটোকক্কাস পায়োজেনস
২ । ষ্টেপটোকক্কাস ভিরিডেনস
৩ । ষ্টেপটোকক্কাস ফিকালিস
৪ । পেপটোষ্ট্রেপটোকক্কাস পুটরিডাস

ষ্টেপটোকক্কাস যে সব টক্সিন উৎপাদন করে:
১। হিমোলাইসিন টক্সিন
২। ইরিথ্রোজেনিক টক্সিন
৩। লিউকোসিডিন
৪। লিউকোটকসিন
৫ । ডার্মোটকসিন
৬ । ফ্রিব্রিনোলিসিন
৭। হায়েল্যুরোনিডেজ
৮। প্রোটিয়েজ
৯। লাইপোপ্রোটিনেজ
ষ্টেপটোকক্কাস কতকগুলি এনজাইম উৎপন্ন করে, যেমন-
১। গ্লুকোজ
২ । ল্যাকটোজ
৩ । স্যালিসিন ইত্যাদি


স্ট্রেপ্টোকক্কাস এর টক্সিন:
১। ট্রেপ্টোলাইসিন (Streptolysin)
       (ক) ষ্ট্রেপ্টোলাইসিন O
       (খ) ষ্ট্রেপ্টোলাইসিন S
ট্রেপ্টোকক্কাস এর এনজাইম:
     ১। ট্রেপ্টোকাইনেজ (Streptokinase)
     ২। স্ট্রোপ্টোডরনেজ (Streptodornase)
    ৩ । হায়ালুরোনিডেজ (Hyaluronidase)
   ৪। ডাইফসপোপাইরাইডিন নিউক্লিওটাইডেজ (Diphosphopyridine Nucleotidase)


স্ট্রোপ্টোকক্কাসের শ্রেণীবিভাগ– সাধারনতঃ রক্ত বিনষ্টি করার ক্ষমতা অনুসারে নিম্নোক্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয় ।
            ১ । বিটা হিমোলাইটিক (Beta-Haemolytic)

           ২ । নন বিটা হিমোলাইটিক (Non-Beta Hoemolytic)৩ । আলফা হিমোলাইটিক (Alpha-Hoemolytic )             ৪ । গামা হিমোলাইটিক (Gamma Hoemolytic)

স্ট্রেপ্টোকক্কাসের সৃষ্ট রোগগুলির নাম:
১ । টনসিল প্রদাহ
২ । কৰ্ণ প্ৰদাহ
৩ । সাইনোসাইটিস
৪ । ফুসফুস প্রদাহ
৫ । লিভার এবসেস ইত্যাদি

 

নিউমোকক্কাস

নিউমোকক্কাসের মরফোলজী (আকার ও দৈহিক গঠন)– নিউমোকক্কাস গ্রাম পজিটিভ ডিপলোকক্কাস, ল্যানসেট শেপ ( Lancet shape) অর্থাৎ একদিক গোলাকার এবং অন্য দিক ছুঁচালো, পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত (Capsulated) এবং নড়াচড়া করার ক্ষমতাহীন (Non-motile) ।
নিউমোকক্কাস কালচারাল বৈশিষ্ট্য- ইহা উর্বর মিডিয়াতে (Enriched media) জন্মায়, অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না (Aerobe)। ৫-১০% কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত মিডিয়াতে ইহার উৎপাদন বর্ধিত হয় ।

 

লিউকোমিয়া: অস্থিমজ্জা, লিভার, প্লীহা, টনসিল প্রভৃতির রক্ত সৃষ্টিকারী টিস্যুসমূহের একটি মারাত্মক ধরণের বিশেষ রোগের নাম লিউকিমিয়া যাতে অস্বাভাবিক হারে WBC সৃষ্টি হয়ে চলে । এই রোগের ফলে WBC ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ gm/dl পর্যন্ত হয় । কিন্তু স্বাভাবিক হার ৪,০০০- ১১,০০০ gm/dl

লিউকিমিয়ার ক্লিনিক্যাল ফিচার বা লক্ষণ:
১। প্লীহা অস্থিমজ্জা, লিম্ফগ্লান্ড সমূহের অত্যধিক বিবৃদ্ধি ঘটে । ২। দেহের বিভিন্ন স্থান হতে রক্তপাত হয় যেমন নাক ও মাড়ি হতে রক্তস্রাব ।
৩ । দেহের ওজন কমে যায় । ক্ষুধাহীনতা থাকে
৪। দূর্বলতা ও অবসন্নতা দেখা দেয়
৫ । দাঁতের মাড়ী ফোলে
৬। দেহে কালশিরা দাগ পড়ে ।
৭। অস্থি সন্ধি ও মাংসপেশীতে ব্যথা হয় ।
.৮ । রোগের শেষ অবস্থায় সর্বাঙ্গে শোথ দেখা দেয় ।

লিউকোমিয়া ২ প্রকার যথা-
(ক) মাইলয়েড লিউকোমিয়া, ইহা দুই ভাগে বিভক্ত- ১। একিউট ২ । ক্রোনিক
(খ) লিম্ফ্যাটিক লিউকোমিয়া, ইহাও দুই প্রকার- ১। একিউট ২। ক্রোনিক


লিউকোমিয়ার ব্লাড পিকচার:
(ক) HB%- কম (3-8gm/dl)
(খ) RBC Count- কম
(গ) TLC – Blast cells – 30% – 90%
(ঘ) Platelet count – কম
(ঙ) ESR- বেশী
(চ) PCV- কম
(চ) ME- বেশী

 

গনকক্কাস

গনকক্কাসের মরফোলজি– গনকক্কাস বা নাইসেরিয়া গনোকক্কাস শুধু মানব দেহের বাস করে অন্য কোন প্রাণী দেহে বাস করিতে পারে না । গনোরিয়া রোগীর দেহে ইহা পাওয়া যায় । ইহা গ্রাম নিগেটিভ , ক্যাপসুলবিহীন এবং চলনশক্তিহীন। এরা দেখতে ডিম্বাকার বা গোলাকার । ইহার আকার ০.৮ mu x ০.৬ mu. এরা যুগল অবস্থায় থাকে । উভয় জীবাণুর সন্নিহিত প্রান্ত দুটি সীম বীজের মত সামান্য বক্ৰ ।
গনকক্কাস দ্বারা রোগসমূহের নাম:
১ ৷ গনোরিয়া
২ । ইউরিথ্রাইটিস ৩ । প্রসটেটাইটিস ৪ । কনজাংটিভিটিস
৫ । সিসটাইটিস
৬ । কর্ডি

গনকক্কাসের প্যাথজেনেসিটি:
পুরুষ
(ক) ইউরিথ্রাইটিস (Urethritis)
(খ) প্রসটেটাইটিস (Prostatitis)
(গ) এপিডিডাইমিটিস (Epididymitis) (ঘ) ওরসাইটিস (Órchitis) ইত্যাদি ।


মহিলা
(ক) ইউরিথ্রাইটিস (Urethritis) (খ) বার্থোলাইনিটিস (Bartholinitis)
(গ) সালপিনজাইটিস (Salpingitis)
(ঘ) ওফোরাইটিস (Oophoritis) ইত্যাদি ।


গণকক্কাস বা নাইসেরিয়া গনোরির ষ্টেনিং– গ্রাম নিগেটিভ এবং নন এসিড ফাষ্ট ।


গনোকক্কাসের কালচারাল বৈশিষ্ট্য:
১ । মিডিয়া-চকলেট আগার মিডিয়াম

২ । সর্বোত্তম তাপমাত্রা= ৩৭°c

৩। সর্বোত্তম pH = ৭.৪-৭.৬

৪ । এরোবিক ।


গনোকক্কাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ:
গনোরিয়া, ইউরিথ্রাইটিস, . . প্রসটেটাইটিস, কনজাংটিভিটিস, সিসটাইসিস, কর্ডি

 

 

ষ্টেফাইলোকক্কাস:

স্ট্যাফিলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া স্বতন্ত্র মরফোলজিকাল বৈশিষ্ট্য দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এখানে তাদের রূপবিদ্যার মূল দিকগুলি রয়েছে:

1. গোলাকার আকৃতি: স্ট্যাফিলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া গোলাকার, বা কোকি-আকৃতির, যার মানে তারা দেখতে গোলাকার।

2. গুচ্ছ: স্টাফিলোকক্কাই আঙ্গুরের মতো ক্লাস্টারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। “স্টাফিলো” শব্দটি গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে “আঙ্গুরের গুচ্ছ” থেকে। এই ক্লাস্টারগুলি এই ব্যাকটেরিয়াগুলির বিভাজন এবং বৃদ্ধির প্যাটার্নের ফলাফল।

3. গ্রাম-পজিটিভ: স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াতে একটি পুরু পেপ্টিডোগ্লাইকান কোষ প্রাচীর থাকে, যা গ্রাম দাগ পরীক্ষা করার সময় বেগুনি দাগ ধরে রাখে। এই পুরু কোষ প্রাচীর গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার একটি বৈশিষ্ট্য।

4. কোন স্পোর গঠন নয়: স্ট্যাফিলোকক্কাস প্রজাতি হল অ-স্পোর-গঠনকারী ব্যাকটেরিয়া। কিছু অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া জেনার থেকে ভিন্ন, তারা এন্ডোস্পোর তৈরি করে না।

5. **ক্যাটালেস-পজিটিভ:** স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া ক্যাটালেস-পজিটিভ, যার অর্থ তারা ক্যাটালেস এনজাইম তৈরি করে, যা হাইড্রোজেন পারক্সাইডকে পানি এবং অক্সিজেনে ভেঙে দিতে সাহায্য করে। স্ট্যাফিলোকক্কাস প্রজাতি সনাক্ত করার জন্য এটি একটি দরকারী জৈব রাসায়নিক পরীক্ষা।

6. **ভেরিয়েবল সাইজ:** স্ট্যাফিলোকোকি আকারে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে তাদের সাধারণত প্রায় 0.5 থেকে 1.0 মাইক্রোমিটারের ব্যাস থাকে।

7. **ক্যাপসুল গঠন:** স্ট্যাফিলোকক্কাসের কিছু স্ট্রেন, যেমন স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস, নিজেদের চারপাশে একটি প্রতিরক্ষামূলক ক্যাপসুল তৈরি করতে পারে, যা হোস্টের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে তাদের প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক এবং জেনেটিক পরীক্ষার সাথে এই রূপগত বৈশিষ্ট্যগুলি জীববিজ্ঞানে বিভিন্ন স্ট্যাফিলোকক্কাস প্রজাতি সনাক্ত করতে এবং শ্রেণিবদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে প্যাথোজেনিক স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস রয়েছে, যা মানুষের বিভিন্ন সংক্রমণের জন্য দায়ী।

ষ্টেফাইলোকক্কাস দ্বারা সৃষ্ট রোগগুলির নাম (Pathogenesities) :
১। ফোঁড়া
২ । কার্বংকল
৩ । হুইটলো (নখকুনী
৪ । টনসিল প্রদাহ
৫ । স্তনপ্রদাহ
৬। হৃদপিন্ডের প্রদাহ
৭ । হাড়ের ইনফেকশন
৮ । কনজাংটিভিটিস
৯ । ষ্টাই (Stye)

ষ্টেফাইলোকক্কাস দ্বারা উৎপন্ন টক্সিন:
১ । হেমোলাইসিন
২। লিউকোসিডিন
৩ । লিউকোলাইসিন

৪ । নিক্রোটক্সিন

৫। লিখাটনি
৬। এনটিরোটক্সিনে

টেফাইলোকক্কাস দ্বারা উৎপন্ন এনজাইম:
১। কোয়াগুলে
২। ফসফাটেজ
৩। হায়ালুরোনিডো
৪। ষ্টাফাইলোকাইনেজ
৫। প্রোটিনেজ
৬। লাইপেজ
৭। পেনিসিলিনেজ

প্যারাসাইট: প্যারাসাইট হল এমন এক ধরণের জীবিত বস্তু (প্রাণী, উদ্ভিদ, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস) যাহা পুষ্টি এবং আশ্রয়ের জন্য অন্য জীবিত প্রাণীর উপর নির্ভরশীল। যে জীবন্ত প্রাণীর উপর নির্ভর করে সে ক্ষতিগ্রস্থ বা রোগাক্রান্ত হয়। কিন্তু নির্ভরশীল জীবটি সর্বদা উপকৃত হয় ।

প্যারাসাইটের নাম:   রোগের নাম
১। এন্টামিবা(Antamoeba )-ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি, লিভার এবসেস
২ । লেইসম্যানিয়া ডোনোভ্যানি (Leishmania Donovani)-কালা– আজর
৩ ।প্লাজমোডিয়াম(Plasmodium)-ম্যালেরিয়া
৪ । হেলমিন্থস-অস্ত্রক্ষত, রক্তহীনতা
৫ । জিয়ারডিয়া-আমাশয় ও উদরাময় 
৬ । এন্টামিবা জিঞ্জিভ্যালিস-পায়োরিয়া

প্যারাসাইটের শ্রেণীবিভাগ:
বাসস্থান অনুসারে
(ক) একটো-প্যারাসাইট ( Ecto – Parasite)- ইহারা শরীরের বাহিরে অংশে বাস করে, যেমন উকুন ।
(খ) এনডো-প্যারাসাইট (Endo-Parasite)- ইহারা শরীরের ভিতরের অংশে বাস করে ।
(গ) টেমপোরারী প্যারাসাইট (Temporary-Parasite)- ইহারা দেহে অল্প সময়ের জন্য অবস্থান করে ।
(ঘ) পারমানেন্ট প্যারাসাইট (Permanent – Parasite) – ইহারা তাদের জীবনের সমস্তটাই দেহের ভিতর অবস্থান করে ।
(ঙ) ফ্যাক্যালটেটিভ প্যারাসাইট (Facultative – Parasite) – যখন সুযোগ আসে কেবল তখনই প্যারাসাইটিক জীবনের সুযোগ গ্রহণ করে ।
(চ) অবলিগেটরী প্যারাসাইট (Obligatory-Parasite)- প্যারাসাইটিক জীবন ছাড়া বাঁচতে পারে না ।
(ছ) একসিডেন্টাল প্যারাসাইট (Accidental-Parasite) – সাধারণতঃ যে সব জায়গায় বসবাস করার কথা নয় সেই সব জায়গা আক্রমণ করে ।
(জ) ওয়ানডারিং প্যারাসাইট (Wandering-Parasite)- এমন স্থানে প্রবেশ করে যা তার জন্য বসবাসের উপযোগী স্থান নয় ৷
শারীরিক গঠন অনুযায়ী
(ক) প্রোটোযোয়া (Protozoa)- এককোষী পরজীবী (খ) মেটাযোয়া (Metazoa)- বিভিন্ন ধরনের কৃমি

হোষ্টের সংজ্ঞা- পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরণের জীবাণু আছে যেমন ফাঙ্গাস, প্রোটোজোয়া, ভাইরাস প্রভৃতি অপরের উপর নির্ভর করিয়া জীবন ধারণ করে, এদেরকে প্যারাসাইট বলে । যাদের উপর প্যারাসাইট নির্ভরশীল তাদেরকে হোষ্ট বলে ।
ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের বৈজ্ঞানিক নাম-প্লাজমোডিয়াম

পাঁচটি ইনটেস্টাইনাল প্যারাসাইটের নাম লিখ । ইনটেষ্টাইনাল প্যারাসাইট
১ । ব্যালানটিডিয়াম (Balantidium – B. coli) । ২ । জিয়ারডিয়া ।
৩ । এন্টামিবা হিমটোলাইটিকা (E.histolytica ) । ৪ । এন্টামিবা কলাই (Ecoli) ।
৫ । ট্রাইকোমোনাস (Trichomonas ) । ৬ । কৃমি 

ম্যালেরিয়াল প্যারাসাইট— ইহা ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু, যার বৈজ্ঞানিক নাম প্লাসমোডিয়াম । ইহা একটি প্যারাসাইট যা মানুষ ও স্ত্রী জাতীয় এনোফিলাইন নামক মশার দেহে বসবাস ও বংশ বিস্তার করে । মেরুদন্ডী প্রাণীর তথা মানুষের দেহে অযৌন ক্রিয়ায় বংশ বৃদ্ধি করে আর অমেরুদন্ডী প্রাণী তথা মশার দেহে যৌন প্রক্রিয়ায় বংশ বৃদ্ধি করে । ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীকে যখন মশায় কামড়ায় তখন জীবাণু, মশার দেহে প্রবেশ করে আবার ঐ মশা যখন সুস্থ্য দেহের রক্ত শোষণ করে তখন তার মুখের লালা থেকে জীবাণু সুস্থ্য দেহে প্রবেশ করে ।
এই জীবাণুর আক্রমনের ফলে অন্যান্য লক্ষণের সহিত স্ববিরাম ধরণের এক প্রকার জ্বর হয় । এই জ্বর প্রতিদিন, একদিন অন্তর অথবা তিনদিন অন্তর সাধারণতঃ হতে দেখা যায় এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে প্রথমে শীত করিয়া জ্বর আসে ।

চিত্রসহ ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের জীবনচক্র:
স্যার রোলান্ড রস ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেন। প্লাজমোডিয়াম নামক এক প্রকার প্রটোজোয়া ম্যালেরিয়া রোগের কারণ ।
.
ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর দেহ হতে যখন স্ত্রী জাতীয় এনোফিলিস মশা রক্ত শোষণ করে তখন ঐ রক্তের মধ্যস্থিত জীবাণু মশার পাকস্থলীতে চলে আসে। পাকস্থলীতে দ্রুত বংশ বৃদ্ধি হতে থাকে । বংশ বৃদ্ধি পাইতে পাইতে ১০/১২ দিনের মধ্যে জীবাণু মশকীর লালাগ্রন্থিতে গিয়া আশ্রয় নেয় । এই আবার কোন সুস্থ দেহ হতে রক্ত শোষে নেওয়ার সময় উহার লালার সঙ্গে রোগজীবাণু মশকী আবার সুস্থ দেহে প্রবেশ করে । উক্ত রোগ জীবাণু রক্তের লোহিত কণিকায় আশ্রয় নেয় ও বংশ বৃদ্ধি করিতে থাকে । দংশনের ১০/১২ দিনের মধ্যে জীবাণু বহুগুনে বর্ধিত হয় ও কম্প দিয়া জ্বর আসে । এই ভাবে ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের জীবনচক্র চলিতে থাকে ।

ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের জীবনচক্র চিত্রে দেখাও ।
ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের জীবনচক্র
মানব দেহের ধাপসমূহ
ধ্বংস প্রাপ্ত রক্ত কোষ
আক্রান্ত RBC.
লিভার
মশার দেহের ধাপসমূহ
ম্যালেরিয়া আক্রান্ত
দেহে মশার দংশন
মশকীর দেহে বৃদ্ধি
সুস্থ লোকের দেহে- মশার দংশন
প্রাপ্ত প্যারাসাইট

 

এন্টামিবা হিষ্টোলাইটিকা

এন্টামিবা হিষ্টোলাইটিকার জীবনচক্র: Entamoeba histolytica : এন্টিমিবা হিষ্টোলাইটিকার জীবনচক্র একটিমাত্র হোষ্টের উপর নির্ভরশীল, আর তা হল মানুষ ।  ।

Life Cycle of Entamoeba Histolytica

Fig : Cyst of E. histolytica

Entamoeba histolytica এন্টামোয়েবা হিস্টোলাইটিকার জীবনচক্র, একটি পরজীবী অ্যামিবা যা মানুষের মধ্যে অ্যামিবিয়াসিস সৃষ্টি করে, একটি সিস্ট পর্যায় এবং একটি ট্রফোজয়েট পর্যায় উভয়ই জড়িত:

1. সংক্রমণ: জীবনচক্র শুরু হয় যখন একজন ব্যক্তি ই. হিস্টোলাইটিকার সিস্ট গ্রহণ করে, সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে।

2. এক্সাইস্টেশন: ছোট অন্ত্রে, সিস্টগুলি অ্যাসিডিক পরিবেশ এবং এনজাইমের সংস্পর্শে আসে, যা তাদের এক্সাইস্টেশনকে ট্রিগার করে। এই প্রক্রিয়ার ফলে ট্রফোজয়েট নির্গত হয়।

3. ট্রফোজয়েট পর্যায়: ট্রফোজয়েট হল E. হিস্টোলাইটিকার সক্রিয় পর্যায়। তারা বৃহৎ অন্ত্রে চলে যায়, যেখানে তারা টিস্যুর ক্ষতি এবং ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা এবং আমাশয়ের মতো উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।

4. প্রজনন: ট্রফোজয়েটগুলি বৃহৎ অন্ত্রের মধ্যে বাইনারি ফিশন দ্বারা বৃদ্ধি করতে পারে।

5. এনসিস্টেশন: পরিস্থিতি কম অনুকূল হয়ে উঠলে (যেমন, যখন ট্রফোজয়েটগুলি মলদ্বারে পৌঁছায়), কিছু ট্রফোজয়েট সিস্টে রূপান্তরিত হতে পারে, যার একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর রয়েছে, যা তাদের পরিবেশে বেঁচে থাকতে দেয় এবং মলের মধ্যে নির্গত হতে পারে।

6. ট্রান্সমিশন: সংক্রামিত ব্যক্তিদের মলে সিস্ট পড়ে এবং তারা পানির উত্স, খাদ্য এবং পরিবেশকে দূষিত করতে পারে, যা পরজীবীর বিস্তারে অবদান রাখে।

7. নতুন হোস্টের সংক্রমণ: যখন অন্য ব্যক্তি ই. হিস্টোলাইটিকা সিস্ট দ্বারা দূষিত জল বা খাবার গ্রহণ করে, তখন সিস্টগুলি পরিপাকতন্ত্র, এক্সাইস্ট এবং নতুন ট্রফোজয়েটগুলি নির্গত করার সাথে সাথে জীবনচক্র পুনরায় শুরু হয়।

এই জীবনচক্র সংক্রমণকে স্থায়ী করতে পারে এবং অ্যামিবিয়াসিসের বিস্তারে অবদান রাখতে পারে, এমন একটি রোগ যা উপসর্গহীন সংক্রমণ থেকে শুরু করে অন্ত্রের এবং বহির্মুখী জটিলতা সহ গুরুতর অসুস্থতা পর্যন্ত হতে পারে।

এই ভাবে এন্টামিবা হিষ্টোলাইটিকার জীবনচক্র চলিতে থাকে ।
এন্টামিবা হিষ্টোলাইটিকা ক্ষুদ্রান্ত্রে ও বৃহদান্ত্রে প্রদাহ ও ক্ষতের সৃষ্টি করে। যদি ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্ষত হয় তবে তাকে এন্টেরাইটিস বলে। আর একই সঙ্গে বৃহদান্ত্রে ও ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্ষত হলে তাকে এন্টারো কোলাইটিস বলে।

কালচার ও মিডিয়াম:

কালচার:- ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য আনুবীক্ষণীক জীবকে আগার আগার জিলোটিন ইত্যাদি মিডিয়ামের মধ্যে বংশ বিস্তার করানোকে কালচার।
মিডিয়াম- যে কৃত্রিম খাদ্যের উপর ব্যাকটেরিয়া জন্মানো হয় সেই কৃত্রিম খাদ্যকে মিডিয়াম বলে। মিডিয়ামকে প্রধাণতঃ দুই ভাগে ভাগ
করা হয় যথা
১। অর্ডিনারী মিডিয়া
২। স্পেশাল মিডিয়া

অর্ডিনারী মিডিয়া:
(ক) নিউট্রিয়েন্ট ব্রথ মিট – ( Nutrient Broth Meat ) (খ) নিউট্রিয়েন্ট আগার মিডিয়াম (Nutrient Agar Medium)
(গ) নিউট্রিয়েন্ট জিলেটিন মিট ( Nutrient Glaten Meat)
(ঘ) পেপটোন ওয়াটার মিডিয়াম-peptone water মিডিয়াম

বিশেষ মিডিয়াম:
(ক) ব্লাড আগার মিডিয়া (Blood Agar Medium)
(খ) চকলেট আগার মিডিয়া (Chocolat Agat Medium) (গ) সিরাম মিডিয়াম (Serum Medium)
(ঘ) টেলুরাইট মিডিয়া (Tellurite Medium)
(ঙ) ম্যাককোনাকি (Mac Cankey’s Medium)

 

যৌন সংক্রামক রোগ: যে সব সংক্রামক রোগ যৌণক্রিয়ার মাধ্যমে ছড়ায় তাহাদিগকে যৌন সংক্রামক রোগ বলে। যেমন
১। গনোরিয়া জীবাণুর নাম- নাইসেরিয়া গনোরিয়া ( Nisseria Gonorrhea)
২।সিফিলিস-ট্রিপনিমা পেলিডাম (Treponema Pallidum)
৩। এইডস-HIV (Human ImmunodeficiencyVirus)
৪। জেনিটাল হার্পিস- HSV-2 (Herpes Simplex Virus Type-2)
৫। স্যাংকার -Haemophilus duerreyi
৬। জেনিটাল ওয়ার্টস- Human Papilloma Virus
৭। স্যাংক্রয়েড- Haemophilus decry


এইডস (AIDS): (Acquired Immuno Deficiency syndrome) ইহা একটি ভাইরাস জনিত যৌন রোগ। এই রোগের ভাইরাসের নাম HIV (Human Immuno Deficiency Virus) সাধারণতঃ যৌন মিলনের ফলে আক্রান্ত দেহ হতে সুস্থ্য দেহে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। ইহা ছাড়া ব্লাড ট্রান্সফিউশান, আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত ইনজেকশন, আক্রান্ত মায়ের গর্ভের সন্তান, এই রোগে আক্রান্ত হয় । এই রোগের ফলে শরীরের ওজন কমে যায় ৷ কোন অসুখ হলে তা আর আরোগ্য হয় না । অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে ত্বকের স্পর্শানুভূতি। অংশিকভাবে লোপ পায়, মায়েলাইটিস (Myelitis) বা স্পাইনাল কর্ডের প্রদাহ, ক্রনিক উদরাময়, চুলকানি বিহীন ক্ষত, ইত্যাদি । রোগটি খুব মারাত্মক, এর নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নাই ।


এইড্স এর প্রতিরোধের উপায়:
১ । বহুগামিতা থেকে বিরত থাকতে হবে ।
২ । যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে ।
৩। অপরিচিত লোকদের সঙ্গে যৌন মিলনে বিরত থাকতে হবে । ৪ । দেহে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হলে কোন রোগ জীবাণু নাই এমন রক্ত ব্যবহারের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে ।
৫ । ধর্মীয় মূলবোধের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে ।


এস,টি,ডি (STD) – ( Sexually Transmitted disease) যে সব সংক্রামক ব্যধি দুষিত যৌন সঙ্গমের ফলে একদেহ হতে অন্য দেহে সংক্রামিত হয় অথ্যাৎ স্ত্রী পুরুষের যৌন মিলন, ওরাল সেক্স, পায়ূ পথে সঙ্গম, সমকামীতা, চুম্বন ইত্যাদির দ্বারা যে সকল রোগ ছড়ায় তাদেরকে এস,টি,ডি বা এস,টি,আই (Sexually tramsmitted Infection) বলে । এস,টি,ডি এর রোগ জীবাণুগুলি হল—

১। ব্যাকটেরিয়া যেমন সিফিলিস
২ । ভাইরাস- এইডস
৩। প্যারাসাইট-ট্রাইকোমোনিয়াসিস (Trichomoniasis)

সিফিলিস রোগের কারণ:
১। এই রোগ হয় ট্রিপোনিমা পেলিডাম নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ।
২। আক্রান্ত ব্যক্তির সহিত যৌন মিলনের ফলে ।
৩। যৌন মিলন ছাড়াও যে কোন উপায়ে রক্তের সহিত এই ব্যাকটেরিয়া মিশিয়া গেলে ।
৪। সিফিলিস রোগীর জামাকাপড় সাবান দ্বারা ভালমত না ধুইয়া পড়িলেও সংক্রামন ঘটিতে পারে ।
৫ । নাপিতের ক্ষুরের মাধ্যমে ।
৬। আক্রান্ত ব্যক্তিকে চুম্বন করিলে ঠোঁটের কোন সূক্ষ্ম ফাটা দ্বারা এই জীবাণু সংক্রামিত হতে পারে ।
৭। বংশানুক্রমিকভাবে এই জীবনু শিশুর দেহে সংক্রামিত হয় ।


সিফিসিল রোগের লক্ষণ:
লক্ষণ অনুসারে সিফিলিসকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়, যথা-

১। প্রাথমিক স্তর- যৌন মিলনের ৮/১০ দিনের মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের লক্ষনগুলি প্রকাশ পায় কিন্তু লক্ষণগুলি এত মৃদু যে সিফিলিস হইয়াছে বলিয়া অনুমান করা কষ্টকর হয় । প্রথমে পুরুষের লিঙ্গে ও লিঙ্গের মাথায় এবং নারীদের. যৌনাঙ্গে ও উহার চারপাশে ফুস্কুরি উঠে । পরে মুত্রনালীতে ও নারীদের জরায়ুতে ফুস্কুরি ছড়াইয়া পড়ে, তখন প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, কষ পড়া, পূঁজ পড়া প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায় ।

২। দ্বিতীয় স্তর- এই স্তরে দেহে নানা স্থানে বড় বড় লাল গোল
গোল দাগ, কালো কালো,উচু দাগ, চর্মের উপর ক্ষত, আঁচিল ইত্যাদি দেখা দেয়। সেই সাথে লিভারের পীড়া, পেটে গোলযোগ, জন্ডিস, চক্ষুরোগ পুরিসি, হার্টের রোগ, যৌনাঙ্গের বিকলতা, মহিলাদের লিউকোরিয়া, ঋতুর গোলযোগ, জরায়ূর নানা গোলমাল দেখা দেয় ।

৩ । তৃতীয় স্তর— এই স্তরে মুখ, গলা, অস্থি, প্রভৃতি আক্রান্ত হয় । রাত্রে যন্ত্রনা বৃদ্ধি পায় । অস্থিতে বেদনা বৃদ্ধি, মাড়িতে ক্ষত ও পূজ, অন্ডকোষের বৃদ্ধি, লিভারে অর্বুদ প্রকাশ পায় ৷ স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হলে দৃষ্টিশক্তি হীনতা দেখা দিতে পারে ।


সিফিলিস জীবাণুর নাম:– টিপোনিমা পেলিডাম নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া ।
সিফিলিসের প্যাথোজিনেসিটি-
১। শ্বাসনালী (Respiratory tracts) এবং পরিপাক নালীতে (Digestive tracts) ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে ।
২। সাধারণতঃ হাড়ের মধ্যে বা অভ্যন্তরীণ অন্য অঙ্গে টিউমার(Gummata) সৃষ্টি হয় ।
৩। ধমনীর গাত্র ফাইব্রোসিস হয়ে শক্ত হয়ে যায় (Arterio-sclerosis) ।
৪ । কিডনী আক্রান্ত হয়ে নেফরাইটিস দেখা যায় ৷
৫ । লিভার ফোলে যায় ।
৬ । সর্বশেষ ফলাফল হল পক্ষাঘাত ।


সিফিলিসের প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
১ । অপরিচিত লোকদের সঙ্গে যৌনসঙ্গম এড়িয়ে চলতে হবে ।
২ । কনডম ব্যবহার করতে হবে ।
৩। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সুস্থ ব্যক্তির রক্তের সাথে যাতে না মিশতে পারে সে দিকে সজাগ থাকতে হবে। যেমন- সেলুনের খুরের ব্যবহার ।
৪। সিফিলিস রোগীর জামাকাপড় গরম পানিতে ফুটিয়ে ও সাবান
দিয়ে ভালমত ধুয়ে তবে অন্যরা ব্যবহার করতে পারবে ।
৫ । আক্রান্ত ব্যক্তিকে চুম্বন করা থেকে বিরত থাকতে হবে ।
৬। আক্রান্ত বাবা-মা সম্পূর্ণ রোগ মুক্ত হওয়ার পর সন্তান জন্ম দেওয়া উচিত I

গনোরিয়া রোগের লক্ষণসমূহ:
গনোরিয়া একটি যৌন সংক্রামক রোগ, নাইসেরিয়া গনোরি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামনে এই রোগের সৃষ্টি হয়। ইহার লক্ষণসমূহ ।
পুরুষদের বেলায়
১ । ইউরিথ্রাইটিস
২ । প্রস্রাব করার সময় ব্যথা ও জ্বালা
৩ । প্রসারের সঙ্গে নির্গত হয়
৪। প্রচুর পরিমাণে বা খুবই অল্প পরিমাণে শ্লোম্মা ও পূঁজ মিশ্রিত ঘন স্রাব ।
৫। মূত্রনালীর মুখে বা অভ্যন্তরে ছোট ছোট ক্ষত সৃষ্টি হয়, প্রস্রাবের পর লিঙ্গে চাপ দিলে সামান’ পূঁজ নির্গত হয় । ৬। পায়খানা করার সময় কোঁথ দিলে প্রস্রাব দ্বার দিয়া বীর্যের মত সাদা স্রাব বাহির হয় ।
৭। কুচকীর লিম্ফ গ্রন্থি ফোলে ও বেদনা হয় ।
মহিলাদের গনোরিয়ার লক্ষণ
১ । প্রায় ৫০% মহিলাদের কোন লক্ষণ থাকে না ।
২। ভ্যাজাইনাইটিস ।
৩ । ভ্যাজাইনাতে চুলকানি ।
৪ । জরায়ূর স্রাব থাকে ।
৫ । ঘন ঘন প্রস্রাব ৷ ৬। প্রস্রাব পরিমাণে কম । ৭। জরায়ু ফুলে যায় ।
৮। ঋতুস্রাব অনিয়মিত, শ্বেত প্রদর ও মূত্রনালী হতে পূঁজ নির্গত হয় ।
৯ । অনেক সময় রক্ত বা রক্ত মিশ্রিত পূঁজ নির্গত হয় ৷
১০। ডিম্বানালী বা ডিম্বাকোষ আক্রান্ত হলে সন্তান ধারণ
ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় ।
১১ । কুচকীর লিম্ফ ফুলে যায়।

 

 

হেলমিনথলজি (কৃমি রোগ): দেহে যে মেটাজোয়া প্যারাসাইট দেখা যায় তাকে বলে হেলমিস্থ বা ক্রিমিকীট বলে । আর বিজ্ঞানের যে শাখায় এই কিম্রিকীটদের বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করা যায় তাকে হেলমিনথোলজি বলে ।
চিত্র ঃ বক্রকৃমি:

Hookworm life cycle - YouTube

বক্রকৃমির ইহার বৈজ্ঞানিক নাম এনসাইলসটোমা ডিওডিনাল । 

হুকওয়ার্মের/বক্রকৃমির জীবনচক্র নিম্নরূপ:

1. ডিম: হোস্টের ছোট অন্ত্রের প্রাপ্তবয়স্ক হুকওয়ার্মগুলি ডিম তৈরি করে, যা পরে পোষকের মলে বের করে দেওয়া হয়।

2. লার্ভা বিকাশ: বাহ্যিক পরিবেশে, এই ডিমগুলি ফুটে, লার্ভা মুক্ত করে।বক্রকৃমি ক্ষুদ্রান্তে যে ডিম পাড়ে তা মলের সঙ্গে বাহিরে এসে আর্দ্র ও অনুকুল উত্তাপে (২৫-৩০° সেঃ) ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডিম থেকে লার্ভা বেরিয়ে আসে। ডিম ক্ষুদ্রান্ত হতে বাহিরে আসার ৭-১০ দিন পর লার্ভা পূর্ণাঙ্গ আকারে হয় এবং সংক্রামন ঘটার উপযুক্ত হয়। এই সময় লার্ভা ঘাসের উপর ও শাক-সবজির উপর অবস্থান নেয় ।

3. লার্ভা আক্রমণ: সংক্রামক লার্ভা দূষিত মাটির সংস্পর্শে এলে হোস্টের ত্বকে প্রবেশ করতে পারে বা দূষিত খাবার বা জল খাওয়া হলে তা গ্রহণ করতে পারে। 

4. মাইগ্রেশন: খালি পায়ে ঐ স্থানে যাতায়াত করিলে বা হাত দিয়া কাজ করিলে পায়ের বা হাতের চামড়া ভেদ করে লার্ভা দেহে প্রবেশ করে। লার্ভা দেহে প্রবেশ করে রক্ত প্রবাহের সহিত হৃৎপিন্ডের ডান দিকে প্রবেশ করে। সেখান হতে ফুসফুসে যায় । দেহে প্রবেশ করে ফুসফুসে পৌঁছাতে ৩ দিন সময় লাগে। ফুসফুস হতে শ্বাসনালী হয়ে গলায় এবং গলা হতে অস্ত্রে পৌঁছায় ।

5. অন্ত্রে ফিরে আসা: লার্ভা ছোট অন্ত্রে পৌঁছার পরে  তারা প্রাপ্তবয়স্ক হুকওয়ার্মে পরিণত হয়। এই সময় মুখগহ্বর তৈরি হয় এবং তাতে চারটি দাঁত গজায়। চার সপ্তাহের মধ্যে হুক ওয়ার্ম সাবালক হয় এবং ডিম প্রসব করতে শুরু করে । 

6. খাওয়ানো এবং প্রজনন: প্রাপ্তবয়স্ক হুকওয়ার্মগুলি অন্ত্রের প্রাচীরের সাথে নিজেদেরকে সংযুক্ত করে, হোস্টের রক্তে খাওয়ায় এবং ডিম পাড়ার মাধ্যমে প্রজনন করে, যা চক্রটি সম্পূর্ণ করে। চার সপ্তাহের মধ্যে হুক ওয়ার্ম সাবালক হয় এবং ডিম প্রসব করতে শুরু করে । ত্বক ভেদ করে দেহে প্রবেশ থেকে ডিম প্রসব প্রর্যন্ত প্রায় ৬ সপ্তাহ সময় লাগে ।

এই জীবনচক্র সংক্রমণকে স্থায়ী করে এবং হোস্টে রক্তাল্পতা এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।

কৃমি ও উহাদের বৈজ্ঞানিক নাম:
কৃমির নাম-    বৈজ্ঞানিক নাম
কেচোকৃমি/গোল কৃমি (Round  warm)-এসকেরিস লুমব্রিকয়ডিস
বক্রকৃমি (Hook warm)-নিমাটোডস আমেরিকানাস
সূতোকৃমি (Thread warm)-অক্সিউরিস ভার্মিকুলারিস

ফিতা কৃমি (Tape warm)- টিনিয়া সাজিনাটা

গুড়াকৃমি (Whip warm)- ট্রাইচুরিস ট্রাইচুরা

ফিতাকৃমি:- ইহার বৈজ্ঞানিক নাম টিনিয়া সাজিনাটা (Taenia Saginata) । ইহারা মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্রে বসবাস করে পর্যায়ক্রমের উদরাময় ও কোষ্টকাঠিন্য সৃষ্টি করে । ইহা দেখিতে লম্বা ঠিক ফিতার মত চ্যাপটা, রং সাদা, মাথার দিক সরু ও লেজের দিক চওড়া । এই কৃমি সাধারতঃ পেটে একটি মাত্র থাকে। কিন্তু ইহাদের দেহের প্রতিটি টুকরা এক একটি ক্রিমির সমান । ইহা উভলিঙ্গ প্রাণী । লেজের দিকের টুরকরাগুলি ক্রমে বড় হইয়া শেষ টুকরাটি একদিন খসিয়া পড়ে। এই টুকরাতে অসংখ্য ডিম থাকে । মলের সাথে টুকরাটি বা ডিম বাহিরে চলে আসে । গরু, ছাগল ঘাস খাওয়ার সময় যখন এই বীজ খায় তখন তাহার পেটে ঐ ডিম হতে বাচ্চা ফোটে ও অস্ত্রের দেওয়াল ভেদ করিয়া রক্ত স্রোতের সাথে মিশে ঐ প্রাণীর ঘাড়ের মাংশে বসতি স্থাপন করে । মানুষ যদি ঐ সব পশুর মাংস ভাল করে . সিদ্ধ করে না’ খায় তাহলে তা আবার খাবারের সঙ্গে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে । এই ভাবে ফিতাকৃমির জীবন চক্র চলিতে থাকে ।

চিত্রসহ রাউন্ড ওয়ার্ম / গোলকৃমি (Ascaris – Lumbricoids) / কেচোকৃমির জীবন চক্র :
রাউন্ড ওয়ার্ম দেখিতে কেঁচোর মত। লম্বায় প্রায় ৮-১০ ইঞ্চির মত। ইহাদের দুটি মাথা এবং বৈজ্ঞানিক নাম এসকারিস লুমব্রিকয়ডিস ।

রাউন্ড ওয়ার্ম ক্ষুদ্রান্ত্রে বাস করে । মানুষ যে খাবার খায় সেই খাবার খেয়ে জীবন ধারন করে । স্ত্রীকৃমি অন্ত্রে ডিম পাড়ে । মলের সঙ্গে ঐ ডিম বাহিরে এসে পুকুর, নদী বা কুয়ার পানির সঙ্গে মিশে । ডিমগুলি সহজে নষ্ট হয় না। ঐ পানি পান করিলে ডিম খাবারের সঙ্গে অস্ত্রে প্রবেশ করে এবং পাচক রসের প্রভাবে উহাদের খোলস ক্ষয় হয়ে লার্ভা বাহিরে এসে পূর্ণাঙ্গ কৃমিতে পরিনত হয়ে আবার ডিম পাড়ে । এই ভাবে ইহাদের জীবনচক্র চলিতে থাকে ।

রাউন্ড ওয়ার্মের প্যাথজেনসিটি:
(১) এই ধরনের কৃমি ঘোরাফিরা করিয়া মলদ্বারা বা নাক- মুখ দিয়া বাহির হইয়া আসে ৷
(২) শ্বাস নালীতে ঢুকে শ্বাস নালী বন্ধ করে দিতে পারে । (৩) পিত্ত নালীতে ঢুকে পিত্তরস নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়, ফল . জন্ডিস দেখা দেয় ।
.(৪) গ্যাসটিক বা ডিওডেনামে আলসার থাকিলে আলসারের ছিদ্র দিয়া পেরিটোনিয়াম ক্যাভিটিতে প্রবেশ করে প্রদাহের সৃষ্ট করে ।
(৫) রাউন্ড ওয়ার্মের সংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে খাদ্য নালী আটকিয়ে দিয়ে সংকটময় অবস্থার সৃষ্টি করে ।

রাউন্ড ওয়ার্মের ল্যাবরেটরী ডায়াগোনসিস:
(১) মাইক্রোস্কোপে মল পরীক্ষা করলে গোলাকৃতি ডিম পাওয়া যায়, যার ব্যাসার্ধ প্রায় ৪৫-৬০ মাইক্রোন । মলে অপরিনত কৃমিও পাওয়া যায় ।..
২ । ডিমগুলি চার প্রকার
(ক) ম্যামিলেটেড কোটসহ অনিষিক্ত ডিম ।
(খ) ম্যামিলেটেড কোটসহ নিষিক্ত ডিম । (গ) ম্যামিলেটেড কোট বিহীন নিষিক্ত ডিম ।
(ঘ) ম্যামিলেটেড কোটবিহীন নিষিক্ত ডিম ।

৩ । কফ বা বমি পরীক্ষায় এই জাতীয় কৃমির লার্ভা পাওয়া যায় । 

৪ । বেরিয়াম এক্স-রে করিলে উপস্থিতি ধরা পড়ে ।

থ্রেড ওয়ার্মের ( Enterobius Vermicularis ) জীবনচক্র:

থ্রেড ওয়ার্ম বা সূত্র বা সূতা কৃমি বা সিট ওয়ার্ম বা পিন ওয়ার্ম ইহার বৈজ্ঞানিক নাম এনটেরোবিয়াস ভারমিকুলারিস । ইহা ক্ষুদ্রান্ত্রের জেজুনাম হতে মলদ্বার এবং কখনো কখনো সিগময়েড বা এপেনডিক্সের মধ্যে বাস করে। ডিম পাড়ার জন্য যখন রেকটাসে আসে বা পায়ূ পথে বাহির হওয়ার’ চেষ্টা করে তখন ভীষণ চুলকানি হয় । এই সময় পায়ূ পথে আঙ্গুল দ্বারা চুলকাইলে কৃমিগুলি থেতলিয়ে শতশত ডিম ও কৃমি আঙ্গুলে লেগে যায় । চুলকানোর পর হাত সাবান দ্বারা ভাল মত না ধুইলে অসাবধানতাবশতঃ ঐ ‘ কৃমি মেয়েদের যৌনিতে প্রবেশ করে

থ্রেড ওয়ার্মের প্যাথজেনসিটি :
১। মলদ্বার আঙ্গুল দ্বারা চুলকাইলে আঙ্গুলের সঙ্গে লেগে কৃমি মেয়েদের যৌনিতে ও ইউরিথ্রাতে প্রবেশ করে উপদাহ ও ঘা সৃষ্টি করে । ফলে পূঁজ জমে, উপরিভাগ লাল বৰ্ণ হয়, ফুলিয়া যায় । কোন কোন সময় এই কৃমি ফেলোপিয়ান টিউব হয়ে পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটিতে প্রবেশ করে ।
২। এপেনডিক্সে প্রবেশ করিলে অনেক সময় এপেনডিসাইটিসের সৃষ্টি করে ।
থ্রেড ওয়ার্মের ডায়াগনোসিস:
১। মাইক্রোস্কোপে মল পরীক্ষা করিলে ২০-৫০ মাইক্রোন লম্বা ডিম পাওয়া যায় ।
২। রক্ত পরীক্ষা করিলে ইসোনোফিলের আধিক্য দেখা যায় ।

কিভাবে হুকওয়ার্ম এনিমিয়া তৈরি করে:
হুকওয়ার্ম অন্ত্রের গাত্র ছিদ্র করে রক্ত পান করে ফলে ঐ স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ঐ ক্ষত হতে রক্ত নিঃসৃত হওয়ার ফলে রক্তের আয়রণ ও প্রোটিন ঘাটতি হয়, যার ফলে এনিমিয়া দেখা দেয় ।
.
কৃমি প্রতিরোধের উপায়:
১। খোলা জায়গায়, নদী নালায় মলত্যাগ না করে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানায় মলত্যাগ করা ।
২ । শাক-সবজি ভালমত ধুয়ে, উত্তমরূপে সিদ্ধ করে খাওয়া।
৩ । পানি ভালমত ফুটিয়ে খাওয়া ।
৪ । খোলা মাঠে খালি পায়ে চলাফেরা না করা ।
৫ । প্রতিবার মলত্যাগের পর সাবান দিয়ে ভালমত হাত পরিষ্কার করা । ৬ । প্রতিবার খাবারের পর ভালমত হাত দোয়া ।
৭ । হাতে নখ নিয়মিত কাটা ও পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি ।

সালমোনিলা টাইপি:

মরফোলজি:- ইহারা দন্ডাকৃতি, ইহাদের ফ্লাজিলা আছে তাই চলনে সক্ষম । দৈর্ঘ্যে ইহারা ২-৩ মাইক্রন এবং প্রস্থে ০.৬ মাইক্রন ।

সালমোনিলা টাইপির ষ্টেনিং:– ইহারা গ্রাম নিগেটিভ এবং “নন-এসিড ফাষ্ট । ইহারা Non- sporing.

সালমোনিলা টাইপির কালচারাল বৈশিষ্ট্য:— ইহারা ph ৬-৮ এর মধ্যে ১৫°- ৪১°C তাপমাত্রায় সাধারণ মিডিয়ামে জন্মে । ৩৭°c তাপমাত্রায় ১২-১৮ ঘন্টার পর প্রচুর ব্যাকটেরিয়া জন্মে এবং ব্রথ ঘোলাটে হয়ে যায় । ব্রথের নীচে কোন তলানী পড়ে না এবং উপরে কোন পর্দা জন্মে না ।

সালমোনিলা টাইপি পাথজেনসিটি: ইহা মানব দেহে টাইফয়েড রোগের সৃষ্টি করে । ইহা ছাড়াও খাদ্যে বিষক্রিয়া, গ্যাস্টোএন্টেরাইটিস এবং সেপ্টিসিমিয়া রোগাও সৃষ্টি করে ।

সালমোনিলা টাইপির ল্যাবরেটরী ডায়াগোনোসিস:

১ । রক্ত পরীক্ষা- রক্তের শ্বেত কণিকা স্বাভাবিবের চেয়ে কমে প্রতি ঘন মিলিমিটারে ৩০০০-৫০০০ নেমে আসে ৷
.২। ব্যাকটিরিওলজিক্যাল টেষ্ট— রক্তের কালচার করলে কোন টাইপের সালমোনিলা তা জানা যায় ।

সালমোনিলা টাইফি এর প্যাথজেনসিটি ডায়াগোনোসিস:
সালমোনিলা টাইফির প্যাথজেনেসিটি – ইহা মানব দেহে টাইফয়েড, প্যারা টাইফয়েড, গ্রাষ্ট্রো এন্টেরাইটিস, সেপ্টিসিমিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি করে ।

সালমোনিলা টাইফির ল্যাবরেটরী ডায়াগোনোসিস
১ম সপ্তাহ- TLC= রক্ত পরীক্ষায় লিউকোপিনিয়া পাওয়া যায় । অর্থাৎ রক্তে প্রতি ঘন মিলিমিটারে WBC – এর স্বাভাবিক পরিমাণ ৪০০০-১১০০০ পরিবর্তে প্রায় ৩০০০ এ নেমে আসে ৷
ব্লাড কালচার – সপ্তাহের শেষে পজিটিভ হয়।
২য় সপ্তাহ— WIDAL টেষ্ট— পজিটিভ
ব্লাড কালচার- পজিটিভ
৩য় সপ্তাহ— WIDAL টেষ্ট— পজিটিভ ষ্টুল কালচার- পজিটিভ
ইউরিন কালচার- পজিটিভ

 

 


 

টক্সিন ও টকসয়েড

টক্সিন: কোন বীজাণুর জীবিত অথবা মৃত দেহ থেকে যে বিষ বা বিষাক্ত পদার্থ সৃষ্টি হয় তাকে টক্সিন বলে । ইহা দুই প্রকার । যথা-

১। এক্সোটক্সিন- জীবন্ত ব্যাকটেরিয়ার দেহ হতে বিষ উৎপন্ন হইয়া অন্য কোন অঙ্গ আক্রান্ত হলো তাকে এক্সোটক্সিন বলে । যেমন টিটেনাস রোগের বিষ মেরুদন্ডকে আক্রমন করে, ফলে মেরুদন্ড ধনুকের মত বাকা হইয়া যায় ।
২ । এন্ডোটক্সিন – মৃত ব্যাকটেরিয়ার দেহ হতে যে বিষ উৎপন্ন হয় তাকে এন্ডোটক্সিন বলে । যেমন কলেরার জীবাণু মৃত্যুর পর তাদের দেহ নিঃসৃত বিষ ক্ষুদ্র অস্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন হতে পানি শুষে নিয়ে ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি করে ।

টক্সসয়েড: কোন রোগ জীবাণুর দেহ হতে সৃষ্ট কোন বিষকে শোধন, করে ঐ রোগের প্রতিষেধক হিসাবে যে টীকা বা ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় তাকে টক্সয়েড (Toxoid) বলে। যেমন- যেমন ডিপথেরিয়ার বিষ হতে. ডিপথেরিনাম, টিটেনাসের বিষ হতে এন্টিটিটেনাস ভ্যাকসিন তৈরি হয় ।

এক্সোটক্সিন (Exotoxin) – জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া তাদের দেহ থেকে যে বিষ নিঃসৃত করে তাকে এক্সোটক্সিন বলে । যেমন টিটেনাসের রোগের জীবাণু ক্ষতস্থান থেকে যে বিষ নিঃসরণ করে তা রক্তের সাথে মিশে মেরুদন্ডকে আক্রান্ত করে ।
এন্ডোটক্সিন (Endotoxin) – কোন কোন রোগের জীবাণুর মৃত্যুর পর তাদের দেহ হতে যে বিষ সৃষ্টি হয় তা রক্তের সাথে মিশে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাদেরকে এন্ডোটক্সিন বলে । যেমন কলেরার জীবাণুর মৃত্যুর পর তাদের দেহ হতে সৃষ্ট বিষ ক্ষুদ্র অস্ত্রের গায়ের মিউকাস মেমব্রেন থেকে প্রচুর জলীয় অংশ শোষণ করে পাতলা মল রূপে বের করে দেয়, ফলে ডিহাইড্রেশন হয় ।

এক্সোটক্সিন ও এন্ডোটক্সিনের পার্থক্য:
এক্সোটক্সিন-

১ | জীবন্ত কোষ থেকে সৃষ্ট বিষ ।

২ | গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নিগেটিভ ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্ট ।

৩। উচ্চ বিষ শক্তির, খুব অল্প প্রাণীর মাত্রাও জন্য প্রাণনাশক ।
৪ | তুলনামূলকভাবে তাপে পরিবর্তনশীল, ৬০° C এর উপরের তাপমাত্রায় বিষাক্ততা ধ্বংস হয়ে যায় ৷

৫ | উচ্চ এন্টিজেনিক (Antigenic), এন্টিটক্সিন ইহার বিষ ক্রিয়া নষ্ট করতে পারে ।

৬| সাধারণতঃ হোস্টের (host) দেহে জ্বরের সৃষ্টি করে না ।

এন্ডোটক্সিন-
১ | মৃত কোষ থেকে সৃষ্ট বিষ ।

২ | শুধুমাত্র গ্রাম নিগেটিভ ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্ট ।
৩। মধ্যম বিষশক্তির, বেশী মাত্ৰা প্রাণীর জন্য প্রাণনাশক ।
তাপে
৪ | তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তনশীল, ৬০°C এর উপরের তাপমাত্রায়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও বিষাক্ততা ধ্বংস হয় না ৷
৫ | দুর্বল এন্টিজেনিক, এন্টিবডি সুরক্ষিত থাকে ।

৬| হোস্টের দেহে জ্বরের সৃষ্টি করে । 

ফ্রিম্বিয়া: ঝালরবৎ গঠনবিশিষ্ট কোন কিছুকে বুঝায় বা আঙ্গুলের মত আকৃতিবিশিষ্ট কোন কিছুকে বুঝায় । যেমন ফেলোপিয়ান টিউবের যে অংশটি ওভারী দিকে থাকে সেখানে আঙ্গুলের মত ছড়িয়ে থাকা অংশকে ফ্রিমবিয়া বলে ।
আবার ব্যাকটেরিয়ার ফ্লাজিলার মত অঙ্গ যা ব্যাকটেরিয়ার সেল ওয়াল থেকে বেরিয়ে এসে অন্য কোন বস্তুর সাথে লেগে থাকার জন্য আঠার মত কাজ করে, কিন্তু ইহা ফ্লাজিলা থেকে খাঁট, সংখ্যায় বেশী, সরু এবং সোজা ।

ফ্লাজেলা: প্রটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত এক প্রকার সূতাকৃতি উপাঙ্গ । যে সব ব্যাকটেরিয়ার এই ফ্লাজেলা আছে তারা এর সাহায্যে চলাফেরা করতে পারে। টাইফয়েড, কলেরা প্রভৃতি রোগের জীবাণুর দেহে ফ্লাজেলা আছে । এই ফ্লাজেলা ব্যাকটেরিয়ার কোষের সাইটোপ্লাজম থেকেই শুরু হয়। শুধু ইলেকট্রোনিক মাইক্রোসকোপে এদের দেখা যায় । প্রজাতি অনুসারে প্রতিটি কোষে ১-২০ পর্যন্ত ফ্লাজেলা থাকে । ফ্লাজেলার গঠন বিন্যাস ও সংখ্যা দ্বারা ব্যাকটেরিয়াকে সনাক্ত করা যায় । প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়া ইহার সাহায্যে টিস্যুর ভিতর ঢুকিতে পারে ৷

 এন্টিজেন: যে বহিরাগত দ্রব্য দেহে প্রবেশ করিলে দেহ রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে বা এন্টিবডি সৃষ্টি হয় তাকে এন্টিজেন বলে । এন্টিজেনের বৈশিষ্ট্য তার তিনটি ধর্মের ওপর নির্ভর করে । তা হল-
১। বহিরাগত (Foreignness) – যেমন খরগোসের লৌহিত কণা নিজ দেহে ইনজেকশনের সাহায্যে প্রবেশ করানো হলে কোন এন্টিবডি তৈরি হয় না, কিন্তু ভেড়ার লৌহিত কণা ইনজেকশনের সাহায্যে খরগোসের দেহে প্রবেশ করানো হলে এন্টিবডি সৃষ্টি হয় ।
২। আকার (Size)- এন্টিজেন অণুর আণবিক ওজন অন্ততঃ ১০,০০০ বা তার অধিক হওয়া প্রয়োজন ।
৩। রাসায়নিক ধর্ম (Chemical Nature) যে জীবের দেহে এন্টিবডি তৈরি হবে তার দেহে যে রাসায়নিক গ্রুপিং (Chemical grouping) নেই, এন্টিজেনে তা থাকার দরকার ।

ফিমব্রিয়াল এন্টিজেন– যে এন্টিজেনে বা যে সব ব্যাকটেরিয়ার ফিমব্রিয়া (ইহা ব্যাটরেরিয়ার এক ধরণের Flagella যা ফ্লাজিলা থেকে খাট, সংখ্যায় অধিক, সরু, সোজা এবং অন্য কিছুর সঙ্গে জুড়ে যাবার জন্য আঠার প্রবণতা আছে) থাকে তাদেরকে ফিমব্রিয়াল এন্টিজেন
বলে ।

ফিমব্রিয়া ও ফ্লাজিলার মধ্যে পার্থক্য:

ফিমব্রিয়া ( Fimbriae)-

১। ইহারা অপেক্ষাকৃত খাট

২। সংখ্যায় অনেক বেশী

৩। চিকন

8। সোজা 

৫। অন্যের উপর আঠার মত লেগে থাকতে পারে ৷

ফ্লাজিলা (Flagella )-

১। ইহারা অপেক্ষাকৃত লম্বা

২। কম সংখ্যক থাকে

৩। মোটা

8। বাঁকানো

৫। চলাফেরা করতে পারে ।

এন্টিবডি— কোন মেরুদন্ডী প্রাণীর দেহে এন্টিজেন প্রবেশ করালে ঐ প্রাণীর রক্তে এক ধরণের প্রোটিন কণিকার সৃষ্টি হয় যা রোগ জীবাণুর রিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে, তাকে এন্টিবডি বলে ।

ইমিউনিটি: যে ক্ষমতা বলে দেহ নিজেকে রোগ আক্রমণ থেকে মুক্ত রাখে এবং কোন কোন সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে তাকে ইমিউনিটি বলে । ইহা জীবনী শক্তির সবল অবস্থা এবং রোগ প্রবণতা সৃষ্টিকারী মায়াজমের প্রভাব নষ্ট করে দেয় ।


ইমিউনিটির শেণী বিভাগ:

ইমিউনিটি:-

1.  অর্পিত (Innate)

  • জেনেটিক
  • মেকানিক্যাল
  • হিউমোরাল
  • সেলুলার


2. অর্জিত (Acquired)

      a. একটিভ-1.নেচারাল
                         2.আর্টিফিশিয়াল

      b. প্যাসিভ-1.নেচারাল
                         2.আর্টিফিশিয়াল

 

একটিভ ও প্যাসিভ ইমিউনিটির পার্থক্য:
একটিভ-

১| ইহা অর্পিত অর্থাৎ পিতা— মাতা হইতে প্রাপ্ত

২| ইহা মেরুদন্ডী ও অমেরুদন্ডী প্রাণী উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান

৩। প্রথমবার আক্রমনে যে প্রতিক্রিয়া দেখায় পরবর্তী  আক্রমনেও একই প্রতিক্রিয়া দেখায় ৷
৪।  নিজ দেহকোষ থেকে সৃষ্ট ।

৫। এই প্রকার ইমিউনিটি বেশী  দিন স্থায়ী হয় ৷

৬। ভ্রুণে স্থানান্তর করা যায় না ।

৭ | নূতন রোগের জন্য প্রযোজ্য ।

৮| কার্যকারিতা শুরু হয় দেরীতে ।

প্যাসিভ-

১|  ইহা অর্জিত বা বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি হয়।
২| শুধু মেরুদন্ডী প্রাণীতে বর্তমান ।
৩।প্রথমবার আক্রমণে যে প্রতিক্রিয়া দেখায় পরবর্তী আক্রমনেও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখায় ।
৪। বাহির হতে সৃষ্ট ইমিউন সিরাম দ্বারা সৃষ্টি।
৫। এই প্রকার ইমিউনিটির স্থায়িত্ব কম ৷
৬। ভ্রুণে স্থানান্তর করা যায় ।
৭ | পুরাতন রোগের জন্য প্রযোজ্য ।
৮|  কার্যকারীতা দ্রুত শুরু হয় ।


ইমিউনিটিতে অংশগ্রহনকারী কোষগুলির নাম:
(ICC= Immunocompetent cells)

১ । লিম্ফোসাইট (Lymphocytes)
২ । মেক্রোফেজ (Macrophages)
৩। ডেনড্রিট্রিক এবং ল্যাংগার হেন্‌স (Dendritic & Langerhan’s cells)
৪ । নেটারাল কিলার সেল (Natural Killer.cells=NK) ৫ । কিলার সেল (Killer Cells=KC)

ইমিউনিটিতে অংশগ্রহণকারী কোষসমূহের বৈশিষ্ট্য ঃ
(ICC= Immunocompetent cells)
লিম্ফোসাইট (Lymphocytes) – ইহারা শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) অদানাদার বিশেষ ধরনের কোষ, যাদের নিউক্লিয়াস গোলাকার। প্লীহা, লিম্ফ গ্লান্ড, থাইমাস গ্লান্ড, অস্থিমজ্জা প্রভৃতি অংশেও পাওয়া যায়। সাধারণ অবস্থায় রক্তের শ্বেতকণিকার প্রতি ১০০তে এদের সংখ্যা মোটামুটি ভাবে ২৪-২৫টি।

মেক্রোফেজ (Macrophages) – বিশেষ ধরনের পেটের গোলযোগে, বিশেষতঃ রক্ত আমাশয়ে বা ব্যাসিলারী ডিসেন্ট্রিতে মলে থাকা এবং লিভার, প্লীহা, অস্থিমজ্জা, লিম্পনোড সহ দেহের বিভিন্ন কানেকটিভ টিসুতে থাকা বড় – আকারের একপ্রকার কোষ বা সেলের নাম যারা রক্ত ও টিসু থেকে বহিরাগত পদার্থ, বীজাণু, বিনষ্ট লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা, ফ্যাট গ্লোবিউল প্রভৃতিকে গিলে ফেলে ও দেহ থেকে তাদের বের করে দেবার কাজে নিযুক্ত থাকে ।

ডেনড্রিটিক এবং ল্যাংগার হেনস (Dendritic & Langerhan’s cells)-
ডেনড্রিটিক সেল— এইগুলি লিমফয়েড টিসু এবং হৃৎপিন্ড ও ফুসফুসের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশে পাওয়া যায় ।
ল্যাংগার হেনস— এইগুলি প্যানক্রিয়াসের ভিতর ইনসুলিন সৃষ্টিতে সাহায্য করে ।

নেচারাল কিলার সেল (Natural Killer cells=NK)- এইগুলি ভাইরাস আক্রান্ত এবং নিওপ্লাষ্টিক কোষের পক্ষে
প্রথম সারির প্রতিরক্ষা হিসাবে কাজ করে ।

কিলার সেল (Killer Cells=KC)- ইহারা টিউমার সেল ধ্বংস করে ।.

 

 

কার্বাঙ্কল:  এক শ্রেণীর ষ্টাফাইলোকক্কাস নামক জীবাণু থেকে সৃষ্ট। অনেকগুলি মুখযুক্ত এক প্রকার ফোঁড়া যা শক্ত একটি অংশের অনেকটা জায়গা নিয়ে পচন ক্রিয়াসহ পূঁজ সৃষ্টি হয়। পূঁজ খুব বেশী পরিমাণে হয় না, ফলে সাধারণতঃ মুক্তভাবে বাইরে আসার পথ পায় না ৷
খুব সাধারণ লক্ষণগুলি এখানে প্রবল আকারে দেখা দেয় । খুব বেশী জ্বর, অসহ্য যন্ত্রণা এবং রক্ত দুষণের লক্ষণগুলি দেখা দেয় । সমস্ত স্থান লাল হয়ে শক্ত চাকা হয়ে ফুলে উঠে । মাঝখানে অপেক্ষাকৃত নরম থাকে । চাপ দিলে সামান্য রক্ত ও পূঁজ বের হয় ।

কার্বাংকলের কারণ:
ক) স্টেফাইলোকক্কাস এবং স্টেপটোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার জীবাণুর আক্রমণের ফসল ।
খ) বহুমূত্র দেখা দেওয়ার পূর্বে কার্বংকল দেখা দিতে পারে ।

জিয়ারডিয়া (Giardia):  ইহা এক ধরণের প্যারাসাইট যা দেখতে অনেকটা ব্যাডমিনটন রেকেটের মত । ইহারা মানুষের ডিওডেনামে ও জেজুনামের উপরের অংশে বাস করে । ইহার দুইটা নিউক্লিয়াস ও চার জোড়া ফ্লাজেলা থাকে । এই প্যারাসাইট দ্বারা যে রোগ সৃষ্টি হয় তার নাম জিয়ারডিয়াসিস (Giardiasis)। এই প্যারাসাইটের আক্রমণের ফলে আমাশয়ের মত লক্ষণসহ পাতলা মল নির্গমন, গা-বমি ও বমি হওয়া, পেটে ব্যথা, পেটে গ্যাস হওয়া, অজীর্ণ প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায় । গ্যাষ্টিক আলসার বা ডিওডেনাম আলসার হতে পারে। দীর্ঘদিন অপচিকিৎসা হলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে ।

ভাইরাস:  খুব সূক্ষ্ম এক ধরণের জীবাণুর নাম  সাধারণ অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় না অথবা ফিল্টারের সাহায্যে আলাদা করে ছেকে নেওয়া সম্ভব হয় না এবং যে সব সূক্ষ্ম বীজানু বিভিন্ন প্রাণী, অন্য কোন ছোট ছোট বীজাণু, উদ্ভিদ প্রভৃতিতে সংক্রামিত হয়ে বিভিন্ন ধরণের রোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং মানুষের দেহে গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হামজ্বর, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, পলিও মায়েলাইটিস, এনকেফেলাইটিস, র‍্যাবিজ, হার্পিস প্রভৃতি ধরণের রোগ সৃষ্টি করতে পারে তাদের ভাইরাস বলা হয় ।

ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্য ভাইরাস:

ভাইরাস-

১| ভাইরাসের দেহে সাইটোপ্লাজম না থাকায় উহা অকোষীয়|

২| ভাইরাসের দেহে নিউক্লিয়াস নাই ৷

৩| ইলেকট্রোনিক মাইক্রসকোপ ছাড়া ইহাদের দেখা যায় না।

৪| ইহাদের কোন কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লী নাই ।

৫| ইহারা শুধু সজীব পোষক দেহের অভ্যন্তরে বংশ বিস্তার করিতে পারে ।

৬। ইহা প্ৰাণী শ্রেণীভুক্ত

৭| ইহারা স্পোর (আবরণ) আকারে থাকিতে পারে না ।

৮| ব্যাকটেরিয়াল ফিল্টার দ্বারা আলাদা করে ছেকে নেওয়া সম্ভব নয় ।

ব্যাকটেরিয়া-

১|  ইহারা কোষীয়

২ | নিউক্লিয়াস বিদ্যমান ।

৩ | সাধারণ মাইক্রোসকোপেই দেখা যায় ৷

৪| কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লী আছে ।

৫| পোষক দেহের বাহিরে এবং মৃত কোষেও বংশ বিস্তার করিতে পারে ।

৬ । ইহা উদ্ভিদ শ্ৰেণীভুক্ত

৭ | ইহা স্পোর আকারে থাকে । 

৮| ব্যাকটেরিয়াল ফিল্টার দ্বারা ছেকে নেওয়া সম্ভব ।

ভাইরাসের শ্রেণীবিভাগ: ভাইরাসকে তিনভাবে ভাগ করা যায় । যেমন –
১। প্রাণী ভাইরাস (Animal Virus) বা DNA ভাইরাস, যেমন- HIV, Bird Flue. ইহারা প্রাণী দেহে বংশ বিস্তার করে ।

২ । উদ্ভিদ ভাইরাস (Plant Virus) বা RNA ভাইরাস, যেমন TMV (তামাক পাতার মোজাইক ভাইরাস) – ইহারা উদ্ভিদ দেহে বংশ বিস্তার করে ।
৩। ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস (Bacteria Virus)-যেমন, ব্যাকটেরিওফাজ (Bacteriophase), এরা ব্যাকটেরিয়াকে
আক্রমণ করে ।

ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ সমূহ:
১। পাখীকে আক্রমন করে Bird Flu
২ । তামাক পাতার টোবাকো মোজাইক ভাইরাস- TMV
৩ । মানুষকে আক্রমন করে বাংলাদেশের এমন কতগুলি ভাইরাস

ক) হেপাটাইটিস
খ) পোলিও
গ) রেবিস
ঘ) মিজেলস
ঙ) মাম্পস
চ) HIV (Aids)
ছ) হার্পিস
জ) ইনফ্লুয়েনজা 

চারটি DNA ভাইরাস এবং চারটি RNA ভাইরাসের নাম:
DNA ভাইরাসগুলির নাম ( Deoxyribonucleic acid):

১। পক্স ভাইরাস (pox – virus)
২ । এডিনো ভাইরাস (Adeno- virus) ৩। হারপিস ভাইরাস (Herpes – virus) ৪ । প্যাপিললোমা (papilloma virus ) ৫ । পারভো ভাইরাস (parvo virus)

RNA (Ribo nucleic acid) ভাইরাস:

১ । এনটিরো ভাইরাস (Entero viruses)
২। রাইনো ভাইরাস করাইজা (Rhina virus coryza)
৩। মিক্সো ভাইরাস এবং প্যারামিক্সো ভাইরাস Myxo virus and paramyxo virus
৪। রিও ভাইরাস (Reo virus)
৫। আরবো ভাইরাস (Arbo virus)

 ডি, এন, এ, ভাইরাস:— ইহার অর্থ Deoxyribonucleic acid, ইহার অপর নাম Animal virus. যেমন Hiv, Bird Flue ইত্যাদি প্রাণী ভাইরাসের অন্তর্গত । ইহারা প্রাণীদেহে আক্রমণ করে ও বংশ বিস্তার করে ।

আর, এন, এ, ভাইরাস:– ইহার অর্থ Ribonucleic acid. ইহার অপর নাম উদ্ভিদ ভাইরাস। যেমন TMV বা টোবাকো মোজাইক ভাইরাস । ইহারা উদ্ভিদকে আক্রমন করে ও উদ্ভিদ দেহে বংশ বিস্তার করে ।

পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাস এর নাম ও সৃষ্ট রোগ :
১। HIV- রোগের নাম এইড্স
২। HAV (Hepatitis A Virus)-হেপাটাইটিস
৩| পোলিও মায়েলাইটিস- পোলিও
8। প্যারামিক্সো ভাইরাস (Paramyxo virus)-মিজেলস
৫।প্যারামিক্সো ভাইরাস (Paramyxo virus) – মাম্পস
৬।অর্থমিক্সো ভাইরাস (Orthomyxo virus)- ইনফ্লুয়েনজা

ভাইরাস ও ফাংগাসের পার্থক্য:
ভাইরাস-

১। ভাইরাসের দেহে সাইটোপ্লাজম না থাকায় উহা অকোষীয়

২। ইহারা শুধু সজীব পোষক দেহের অভ্যন্তরে বংশ বিস্তার করিতে পারে ।

৩| ভাইরাসের দেহে নিউক্লিয়াস নাই ৷

8। ইলেকট্রোনিক মাইক্রোসকোপ ছাড়া ইহাদের দেখা যায় না ।

৫।  ইহাদের কোন কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লী নাই ।

৬। ইহারা স্পোর আর্কারে থাকিতে পারে না ।

ফাংগাস-

১। বহু কোষী জীব

২। ইহারা পরজীবী ও মরজীবি

৩| নিউক্লিয়াস বিদ্যমান ।

8। সাধারণ মাইক্রোসকোপেই দেখা যায় ।

৫। কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লী আছে ।

৬। স্পোর আকারে থাকিতে পারে ।

ফাংগাস: ইহারা, অপুষ্পক, নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ। এদের দেহে ক্লোরোফিল নাই, তাই নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করিতে পারে না, এরা পরজীবি বা মৃতজীবী । ফাংগাস জন্মাতে আলোর প্রয়োজন হয়না তাই যে কোন স্থানে জন্মায় । কিছু কিছু ছত্রাক যেমন বা গোবরের উপরে বা আমাদের তৈরি খাবারের উপ জন্মায়। পরজীবী ছত্রাকের আক্রমণে উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহে রোগের সৃষ্টি হয় । আবার পেনিসিলিয়াম নামক মৃতজীবী ছত্রাক হতে মূল্যবান ঔষধ পেনিসিলিন তৈরি হয় ।

পাঁচটি ফাংগাসজনিত রোগের নাম (জীবাণুর নাম সহ):

১। ছুলি-মাইক্রোস্পোরাস ফারফার 
২। দাদ-ট্রাইকোফাইটন
৩| গলক্ষত- পেনিসিলিয়াম নোটেটাম
8। ছৌয়দ- টিনিয়াভার্সিকুলার
৫। চুলের দাদ- টিনিয়া ক্যাপিসিটি

ডারমাটোফাইট (Dermotophytes) – ইহা এক ধরণের ছত্রাক জাতীয় সূক্ষ্ম জীবাণুর নাম যারা ত্বকের উপরের স্তরে বাস করে ক্যারাটিন (keratin), চর্মের উপরের স্তর ও নখ আক্রমন করে ।

ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাসের মধ্যে পার্থক্য:

ব্যাকটেরিয়া-

১। এক কোষী আনুবীক্ষণ জীব
২। ইহারা শুধু পর জীবী 
৩| ইহারা অযৌন পদ্ধতিতে বংশ বিস্তার করে ।
8। ইহা জীবিত কোষ ব্যতীত জৈবিক কার্যক্রম চালাইতে পারে না ।

ফাংগাস-

১। বহু কোষী জীব 
২। ইহারা পরজীবী ও মরজীবি 
৩| ইহারা যৌন ও অযৌন উভয় পদ্ধতিতেই বংশ বিস্তার করে ।
8। ইহারা জীবিত বা মৃত যে কোন কোষে জৈবিক কার্যক্রম চালাইতে পারে ।

ফাঙ্গাসের শ্রেণীবিভাগ:
১ । দৈহিক গঠন ও আকৃতি অনুসারে-
(ক) মোল্ডস (Moulds)
(খ) হাইপি (Hyphae)
(গ) ইষ্ট (Yeasts) (ঘ) ইষ্ট লাইক (Yeast Like )
(ঙ) ডাইমরফিক ফাঙ্গি (Dimorphic fungi)
২। জন্ম পদ্ধতি অনুসারে –
(ক) ইমপারফেক্ট ফাঙ্গাই বা অযৌন পদ্ধতি (Imperfect fungi)
(খ) পারফেক্ট ফাঙ্গাই বা যৌন পদ্ধতি (Perfect fungi)
৩ । আবরণ (Spore) তৈরী অনুসারে ।
(ক) অযৌন আবরণ (Asexual spore)
(খ) যৌন আবরণ (Sexual spore)
৪ । সংক্রামনের পদ্ধতি অনুসারে-
(ক) একজন মানুষ হতে অন্য মানুষে সংক্রামন ৷
(খ) মাটি বা পচা গাছপালা হতে সংক্রামন ।
৫। রোগ উৎপাদন ক্ষমতা অনুসারে ।
(ক) সুপারফিশিয়াল মাইকোসেন (Superficial Mycoses) (খ) সাবকিউটেনিয়াস মাইকোসেস (Subcutaneous
Mycoses)
(গ) ডিপ মাইকোসেস (Deep Mycoses)
(ঘ) অপরটিউনিষ্ট মাইকোসেস (Opportunist Mycoses) (ঙ) মাইকোটক্সিন প্রোডিউসিং ফাঙ্গি (Mycotoxin Producing Fungi)

স্পোর: প্রতিকুল অবস্থায় কোন কোন ব্যাকটেরিয়া বিশেষ করে ব্যাসিলাস এবং ক্লসট্রিডম এর কোষের প্রটোপ্লাজম এক জায়গায় জমা হয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট লম্বাটে বা ডিম্বাকৃতি আকার গঠন করাকে স্পোর বলে ।
স্পোরবাহী অর্গানিজম-বৈজ্ঞানিক নাম :
১। টিটেনাস- ক্লসট্রিডিয়াল টিটানি
২। গ্যানগ্রিন- ক্লসট্রিডিয়াল ওয়েলচি
৩ । বটুলিজম- ক্লসট্রিডিয়াল বটুলিনাম
৪ । এনথ্রাক্স- ব্যাসিলাস এন্থ্রাসিস

 

টাইফয়েড:

টাইফয়েড রোগের ডায়াগোনোসিস: প্রধানতঃ খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে সালমোনিলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়া অস্ত্রে প্রবেশ করে টাইফয়েড রোগের সৃষ্টি করে। এই জীবানু ক্ষুদ্র অস্ত্রের পায়ার্স প্যাচে ক্ষত সৃষ্টি করে, ফলে পায়খানার সঙ্গে রক্ত দেখা যায় ।
রোগীর অবিরাম জ্বরসহ মাথাব্যথা, পেট ফাপা, তলপেটে চাপবোধ, কোষ্টকাঠিন্য বা উদরাময়, ক্ষুধামান্দ্য, শীত শীত ভাব থাকে । প্রথম সপ্তাহ- জ্বর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে । ভোরের দিকে সামান্য বিরাম দেখা যায় কিন্তু বৈকাল ও সন্ধায় জ্বর বৃদ্ধি পায়। ৪র্থ বা ৫ম দিনে জ্বর ১০২°-১০৪°F পর্যন্ত উঠে । ক্ষুদ্রান্তে চাপ দিলে ব্যথা ও পেটে গড় গড় শব্দ হয়। রক্ত পরীক্ষা করলে (TLC) লিউকোপিনিয়া । (Leucopenia ) ধরা পড়ে অর্থাৎ রক্তে WBC এর স্বাভাবিক পরিমাণ প্রতি ঘন মিলিমিটারে ৪০০০-১১০০০ এর নীচে নেমে আসে বা ৩০০০ এর কাছাকাছি চলে আসে ।
দ্বিতীয় সপ্তাহে- WIDAL টেষ্ট করলে পজিটিভ পাওয়া । অর্থাৎ সালমোনিলা টাইপির অস্তিত্ব ধরা পড়ে ।
তৃতীয় সপ্তাহে – WIDAL টেষ্ট পজিটিভ হয়।
সাধারণতঃ তাপমাত্রা ১°c বৃদ্ধি পেলে পালস বৃদ্ধি পায় ১০ কিন্ত টাইফয়েড রোগে সেই তাপমাত্রার সঙ্গে পালস বৃদ্ধি পায় না ৷
সংক্রামক ব্যধিতে রক্তের লিউকোসাইট (WBC) বেড়ে যায় কিন্তু টাইফয়েড এর বেলায় WBC কমে যায় ।

উইডাল(widal test) টেষ্ট: উইডাল বা ভিডাল টেষ্ট টাইফয়েড বা প্যারাটাইফয়েড রোগ নির্ণয়ের জন্য করা হয় । এই টেষ্ট রক্তের সিরাম হতে করা হয় । ইহার জন্য ছয়টি রিয়াজেন্টে ব্যবহার করা হয় ৷ যথা
1) TO 2) AO
3) BO
4) TH
5) AH
6) BH
সাধারণতঃ টাইফয়েড আক্রান্ত হবার প্রথম সপ্তাহের শেষ ভাগ থেকে এই পরীক্ষাটি পজিটিভ হয়ে থাকে । রিপোর্ট লিখার নমুনা
সালমোনিলা প্যারাটাইফি AO =১৪৮০
সালমোনিলা টাইফি TO =১ঃ৩২০


ইসকিমিয়া (Ischamia) – দেহের বিশেষ কোন অঙ্গে বা টিস্যুতে যে কোন কারণে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে বা রক্তনালী অবরুদ্ধ হওয়ার অবস্থাকে ইসকিমিয়া বলে ।
ইসকেমিয়ার কারণ:
১। ধমনী সরু হলে, ধমনী পাক খেলে, এম্বোলাস বা থ্রমবাসের কারণে জমাট রক্ত দ্বারা রক্ত নালী অবরুদ্ধ হলে ।
২। কোন কারণে ধমনী সঙ্কচিত হলে, ধমনীর কাঠিন্য, ধমনীতে বাহির হতে চাপ পড়িলে ।
৩ । কোন কারণে শিরার রক্ত প্রবাহে বাধা প্রাপ্ত হলে ।
4 । I H D (Ischemic Heart disease) ।

ইশকেমিয়ার রোগতত্ত্ব:
রোগতত্ত্ব (Pathology) – ইনফারকশন বা কলা বিনষ্টি, তন্তুর প্রাচুর্যতা, কর্ম ব্যাঘাত জনিত গোলমাল ইত্যাদি ।

 কলেরা:

কলেরার ক্লিনিক্যাল ফিচার:
১ । হঠাৎ আরম্ভ হয়
২। প্রচুর পরিমাণে ব্যথাহীন পাতলা পায়খানা হয় ।
৩। ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৪০ বার পায়খানা হয় এবং প্রায় ৫-২০ লিটার পানি শরীর থেকে বের হয়ে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয় ।
৪ । মলের রঙ চাউল ধোয়া পানির মত ।
৫ । বমি থাকে ।
৬। পানির অভাবে দুষিত পদার্থ শরীর হতে বের হতে পারে না, ফলে শরীর বিষপূর্ণ হয়ে রোগী মারা যায় ।


টিটেনাস:

 টিটেনাস রোগের রোগ জীবাণুর নাম ক্লসট্রিডিয়াল টিটানি

টিটেনাস রোগ জীবাণুর মরফোলজী:
১ । ইহারা সোজা, লম্বা ও সরু অথবা দন্ডের মত ইহাদের মাথা গোলাকার, এই গোলাকার মাথার দৈর্ঘ্য ২-৫ মাইক্রোন এবং ব্যাস ০.৪-০.৫ মাইক্রন । ইহারা একা বা শিকল বদ্ধ অবস্থায় থাকে। ইহাদের কিছু কিছু স্পোরযুক্ত। ক্যাপসুল বিহীন, চলাফেরা করিতে পারে ।
২ । ইহারা গ্রাম পজিটিভ ও নন এসিড ফাষ্ট


ডিপথেরিয়া:

ডিপথেরিয়ার জীবাণুর নাম- করনি ব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি

ডিপথেরিয়ার মরফোলজি-ইহাদের দেহ সরু পাতলা সরল অথবা বক্র, দৈর্ঘ্য ১.২-১.৪ মাইক্রোন এবং প্রস্থ ০.৩-১.৪ মাইক্রোন । দেহ প্রান্ত স্ফীত ও গোলাকার । ইহারা স্পোর বিহীন, ক্যাপসুলহীন, ফ্লাজেলাহীন এবং চলাফেরা করিতে পারে না ।
ডিপথেরিয়ার কালচারাল বৈশিষ্ট্য— ইহারা গ্রাম পজিটিভ এবং নন এসিড ফাষ্ট ।


সিগেলা

সিগেলা– ইহা একটি এন্টেরিক ব্যাকটেরিয়া যা বৃহদান্ত্রে বসবাস ও বংশবিস্তার করে । ইহা দ্বারা সৃষ্ট রোগের নাম রক্তামাশয় ।
ইহা দেখতে লম্বা, নন স্পোরিং, নন ক্যাপসুলেটেড, ইহার কোন ফ্লাজেলা নাই এবং নড়াচড়া করিতে পারে না। ইহারা গ্রাম নিগেটিভ এবং নন এসিড ফাষ্ট । রক্তামাশয় রোগীর মলে রক্ত, শ্লেষ্মা, পূঁজ প্রভৃতি থাকে । ইহার মল ক্ষারধর্মী ।
এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগীর মলে গন্ধ থাকে না কিন্তু রোগীর জ্বর থাকে ।

সিগেলা সৃষ্ট রোগের নাম– ইহা দ্বারা সৃষ্ট রোগের নাম রক্তামাশয় (Classical bacillary dysentery)

সিগেলা শ্রেণী বিভাগ:  সিগেলা চার শ্রেণীতে বিভক্ত, যথা—

১। সীগেলা ডিসেনটারী— ইহা উগ্রপ্রকৃতির আমাশয়
২। সীগেলা ফ্লেক্সনারী- ইহার উগ্রতা সীগেলা ডিসেনটারী হইতে কিছু কম ।
৩। সীগেলা বয়ডি— ইহা ততটা উগ্র নয় ।
৪। সীগেলা সনি- ইহা মলের সাথে সামান্য রক্ত পাত ঘটায় ।


আমাশয়

আমাশয়– বৃহদান্ত্রে এন্টামিবা হিষ্টোলিকা, জিয়ারডিয়া প্রভৃতি প্রটোজোয়া বা সীগেলা নামক বীজাণুর আক্রমণে মিউকাসযুক্ত বা রক্তযুক্ত পাতলা পায়খানা হওয়া ও উহার সহিত মলত্যাগের সময় বেদনা ও কোথানির অবস্থাকে আমাশয় বলে ।

এ্যামিবিক ও ব্যাসিলারী আমাশয়ের পার্থক্য:
এ্যামিবিক আমাশয়-

১| সাধারণতঃ আক্রমন ধীরে ধীরে হয় ।

২| আমযুক্ত মল, মাঝে মাঝে অল্প রক্ত দেখা যায় ।

৩| মলের রঙ বাদামী ।

৪| মাছের মত গন্ধ মল ৷

৫|  এসিডিক ।

৬। বীজাণুর নাম এন্টামিবা হিষ্টোলিকা । ইহা একটি প্যারাসাইট ।
৭| কদাচিৎ পূঁজ কোষ থাকে।

৮| স্পর্শকাতরতা থাকে ।

৯। এবডোমেনে ব্যথা থাকে ।

১০। সাধারণতঃ জ্বর থাকে না ।

ব্যাসিলারী আমাশয়-

১| হঠাৎ আক্রমন হয় ।

২| শুধু রক্ত বা রক্তযুক্ত মল ।

৩| রোজ পিঙ্ক কালার ।

৪| মলে গন্ধ নাই ।

৫| আলকালাইন ।

৬। বীজাণুর নাম সীগেলা । ইহা একটি ব্যাকটেরিয়া ।

৭| প্রচুর পুঁজের কোষ থাকে ।

৮| স্পর্শকাতরতা থাকে না ।

৯। এবডোমেনে ব্যথা থাকে না ।.
১০। জ্বর থাকে ।

আমাশয়ের প্রতিরোধের ব্যবস্থা- বৃহদান্ত্রে এন্টামিবা হিসটোলাইটিকা নামক প্যারাসাইট দ্বারা এ্যামিবিক আমাশয় এবং শিগেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনের ব্যাসিলারী আমাশয় হয়। আক্রান্ত রোগীর মল হতে জীবাণু পানি, দুধ, মাছি ইত্যাদির মাধ্যমে সুস্থ্য দেহে প্রবেশ করে ।
১ । রোগীকে পৃথক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে, যেমন প্রতিবার
পায়খানা করার পর রোগী সাবান দিয়ে হাত ধুবে। তার থালা- বাসন আলাদা করতে হবে, প্রতিটি ব্যবহৃত জিসিন প্রতিবার ব্যবহারের পর জীবাণু মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। স্যানেটারী পায়খানার ব্যবস্থা না থাকলে পায়খানায় নিয়মিত জীবাণুনাশক
ব্যবহার করতে হবে ।
২ । সমস্ত খাবার ঢেকে রাখতে হবে; যাতে খাবারে মাছি বসতে না পারে । ৩ । পানি ভালমত ফুটিয়ে খেতে হবে ।
৪ । রোগীকে সহজ প্রাচ্য খাবার দিতে হবে ।
৫ । প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে ।
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধ ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন ইপিকাক, মার্কসল, পডোফাইলাম, এলো-সকোট্রিনা ইত্যাদি ।


 

যক্ষ্মা

যক্ষ্মার জীবাণুর নাম- মাইকো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস

টিউবারকুলোসিস– যক্ষ্মারোগ। মাইকো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস জীবাণুর আক্রমণে এই রোগ হয় । ইহার ফলে ফুসফুস, দেহের ত্বক, লিম্ফ গ্লান্ড, হাড়, মিউকাস মেমব্রেন প্রভৃতি আক্রান্ত হয় । আক্রান্ত হলে ঘুষঘুষে জ্বর, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত উঠা, গ্লান্ড বড় হয়ে উঠা, ক্ষত সৃষ্টি হওয়া, মেরুদণ্ড, হিপজয়েন্ট ইত্যাদি আক্রান্ত হয় । এই রোগ নির্ণয়ের নাম ম্যানটুক্স টেস্ট। ইহা প্রতিরোধের জন্য বি.সি.জি টিকা নিতে হয় ।

যক্ষ্মারোগের জীবাণুর মরফোলজী:
          ১। ইহার আকার লম্বায় ১-৫ মাইক্রন এবং প্রস্থে ০.৩-০.৬ মাইক্রোন
         ২ । এরা দন্ডাকৃতি, সরল বা সামান্য বক্র
         ৩ । এদের স্পোর বা ক্যাপসুল নাই, এরা চলৎশক্তিহীন ।
যক্ষ্মারোগের জীবাণুর কালচারাল বৈশিষ্ট্য:
           ১। জীল- নীলসেনের টেষ্টে এদের লাল দেখায় ।
           ২। স্ফোটক থেকে সংগ্রহীত বিলেপনে গ্রাম পজিটিভ এবং নন এসিড ফাষ্ট ।
           ৩। এরা বায়ুজীবী, ৩৭°c এরা ভাল জন্মে ।
           ৪ । এদের মিডিয়াম হল গ্লিসারিন, ডিম, পটেটোমিল, অস্থিমজ্জার এসপরাজিন

টিউবারকিউলোসিসের প্রতিরোধের উপায়:

১ । সন্দেহ হওয়ামাত্র রোগীকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। যক্ষ্মা রোগ নিশ্চিত হলে রোগীকে হাসপাতালে পাঠাতে হবে অথবা সরাসরি সূর্যের আলো ঘরে ঢোকে এবং বাতাস প্রবেশ করে এমন ঘরে বা আলাদা কামড়ায় রোগীকে রাখতে হবে । ২। রোগীর ব্যবহৃত জামাকাপড়, থালা বাসন, প্রত্যেকবার ব্যবহারে পর সাবান দিয়ে ভালমত ধুয়ে ফেলতে হবে । ৩। রোগীর কফ একটি পাত্রে জমা করে জীবাণুনাশক দিয়ে রাখতে হবে এবং পরে পুড়িয়ে ফেলতে হবে ।
৪ । যক্ষ্মার জীবাণু অক্সিজেনের সংস্পর্শে মরে যায় তাই রোগীকে খোলা মুক্ত হাওয়ায় থাকতে হবে ।
৫। রোগীকে নদী, সমুদ্র বা পাহাড়ী এলাকায় রাখলে দ্রুত আরোগ্য হয় ।
৬। রোগীর জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে । ৭। যক্ষ্মার রোগীর জন্য ছাগলের দুধ উপকারী । ৮। বাড়ীতে মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়ার উপদ্রব কমাতে হবে। ৯ । ` টি,বি প্রতিরোধক বি,সি,জি টিকা নিতে হবে ।
১০ । জনসাধারণকে যক্ষার ব্যাপারে সচেতন করিতে হইবে।
সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিােক্ত হেমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করতে হবে । যথা-
টিউবারকিউলিনাম, সালফার, লাইকো, ফসফরাস, সাইলি, পাল্স, আয়োডিয়াম, আর্সেনিক ইত্যাদি ।

পালমোনারী টিবি নির্ণয়ের টেস্টসমূহ ঃ
(ক) ই.এস.আর / টি.এল.সি / ডি.এল.সি (খ) ম্যানটুক্স টেস্ট (Mantoux test) (গ) বুকের এক্স-রে
(ঘ) স্পুটাম-এ.এফ.বি
(ঙ) টিউবারকুলিনাম স্কিন টেস্ট

টিউবারকুলিন টেস্ট:
বাহুর নিম্ন অংশে চামড়ার মধ্যে অল্প পরিমাণ Tuberculin Fluid (TB Protein) ঢুকিয়ে দিয়ে রোগীর TB পজিটিভ কিনা তা পরীক্ষার নাম টিউবারকুলিন টেস্ট । ইনজেকশন পুশ করার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হেলথ কেয়ারে কি রিএকশন হয়েছে তা দেখানোর জন্য আসতে হয়। যদি ইনজেকশন দেওয়ার স্থানের চারদিকে গাঢ় লাল রঙের স্ফীতি দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে TB পজিটিভ ।


টিউমার

টিউমার- দেহের যে কোন অংশে অস্বাভাবিক ও অপ্রয়োজনীয় ভাবে কোন টিস্যু বৃদ্ধি পাওয়া বা ফুলে উঠাকে টিউমার বলে ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যেমন টিউমারের উৎপত্তি সম্বন্ধে একমত নন, তেমনি ইহার শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে একমত নন । তবে মোটামুটিভাবে নিম্নোক্ত শ্রেণীতে ভাগ করা যায় ।

১ । বায়োলজিক্যাল
২ । এনাটমিক্যাল
৩ । হিসটোজেনেটিক
৪ । হিসটোলজিক্যাল
৫ । এটিওলজিক্যাল
৬। মর্ডাণ- ডায়াগনোসিস এবং প্রগনোসিসে সুবিধা বলে টিউমারকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথা- বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ।

ম্যালিগনেন্ট টিউমারের বৈশিষ্ট্যগুলি :
যে সব টিউমার আক্রান্ত অংশের টিস্যুকে বিনষ্ট করে এবং রক্ত প্রবাহ ও লিম্ফশিরার মাধ্যমে দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে পারিপাশ্বিক কোষগুলিকে আক্রমন করে টিস্যুর সর্বাঙ্গীন অবক্ষয় সৃষ্টি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তাকে ম্যালিগনেক্ট টিউমার বলে । এই টিউমারগুলি শক্ত বা কঠিন এবং প্রথম আক্রান্ত অংশের টিস্যুর আকৃতি পরবর্তী আক্রান্ত অংশের টিস্যুর আকৃতির সাদৃশ্য থাকে না ।

ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ছড়ানোর রুটসমূহ:  ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের ছড়ানোর রাস্তাসমূহ 
১। লিমফ্যাটিক (Lymphatic)- লিম্ফ (কোষ এর মধ্যবর্তী অংশে থাকা টিসু ফ্লুইড) সংবহনের সঙ্গ যুক্ত শিরা, লিম্ফ নোড বা লিম্ফ গ্লান্ড ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত রুটে ।
২। ব্লাড ভ্যাসেল (Blood vessels) – রক্ত সরবরাহ নালীর মাধ্যমে । ৩ । সেরাস ক্যাভিটিস (serous cavities )- এর মাধ্যমে । ৪। অন্যান্য স্বাভাবিক রুটে (Natural passages ) ।

বিনাইন টিউমার ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের পার্থক্য:
বিনাইন টিউমার-

১| সাধারণতঃ ইহা আকারে ছোট, কোন কোন সময় বড় আকারের দেখা যায় ৷

২| ইহা নরম

৩| সাধারণতঃ ষ্টরোমা সুগঠিত ।

8| সাধারণতঃ রক্তস্রাব হয় না, নেক্রোসিস অবস্থায় পৌঁছায় না । 

৫| সাধারণতঃ রোগীর মৃত্যু হয় না ৷

৬| উৎপত্তি স্থানে অবদ্ধ থাকে এবং সেখানেই বৃদ্ধি পায়

৭| লিম্ফ ভেসেল বা রক্ত স্রোতের মাধ্যমে ছড়ায় না ।

৮| একবার নির্ভুলভাবে কেটে বাদ দিলে আর হয় না । 

৯| ইহার বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয় 

১০| অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যানসার হয় না ।

ম্যালিগন্যান্ট টিউমার-

১| সচরাচর আকারে বড়

২| ইহা শক্ত

৩| ষ্টরোমা সুগঠিত নয়

8| রক্তস্রাব হয় ও নেক্রোসিস অবস্থায় পৌঁছায় ।

৫| মৃত্যু হয়

৬| এরা প্রথম আক্রমন স্থান হতে অন্য স্থানে ছড়াইয়া পড়ে ৷

৭| লিম্ফ ভেসেল বা রক্ত স্রোতের মাধ্যমে ছড়ায় ।

৮| বার বার হয়

৯| ইহার বৃদ্ধি দ্রুত হয় 

১০| সাধারণতঃ ক্যানসার হয়

ম্যালিগনেন্ট টিউমারের শ্রেণী বিন্যাস:
ইহা দুই প্রকার যথা- কার্সিনোমা ও সারকোমা ।

নিওপ্লাজম: বিনাইন, ম্যালিগনেন্ট বা ক্যানসার জাতীয় যে কোন ধরণের টিউমারকে নিওপ্লাজম বলে ।

কারসিনোমা ও সারকোমার মধ্যে পার্থক্য:

কার্সিনোমা-

১| এই টিউমার সাবমিউকাস  টিস্যুতে হইয়া থাকে । যেমন মুখগহ্বর, খাদ্য নালী, জরায়ূ ইত্যাদি

২| আক্রান্ত কোষ লিম্ফ ভেসেল দ্বার সংক্রামিত হয় ৷

৩|  রেডিওসেনসিটিভ- অধিকাংশে আক্রান্ত কোষ রেডিওথেরাপীতে ভাল ফল

8| সাধারণতঃ কোষ বৃদ্ধি হয় ধীরে ধীরে ।

৫| ইহাতে সাধারণতঃ নেক্রোসিস অবস্থা হয় না ।

৬| ইহাতে সহজে রক্তপাত বা টিস্যু ধ্বংস হয় না ।

৭| সাধারণতঃ মধ্যবয়সে এবং বৃদ্ধ বয়সে হয়

৮| সাধারণতঃ ষ্টরোমা (Stroma) সুগঠিত । 

সারকোমা-

১| এই টিউমার কানেকটিভ টিস্যুতে হইয়া থাকে যেমন মাংস পেশী, কার্টিলেজ ও অস্থি সন্ধিতে ।

২| আক্রান্ত কোষ রক্ত নালী দ্বারা সংক্রামিত হয় ।

৩| রেডিওরেসিসট্যান্স আক্রান্ত কোষ রেডিওথেরাপীতে সাধারণতঃ দমন বা ধ্বংস হয় না ।

8| সাধারণতঃ দ্রুত বৃদ্ধি হয় ।

৫| সাধারণতঃ নেক্রোসিস অবস্থা হয় ।

৬| সহজে রক্তপাত বা টিস্যু ধ্বংস হয় ।

৭| যে কোন বয়সে হতে পারে, তবে সাধারণতঃ অল্প বয়সে হয় ।

৮| সাধারণতঃ ষ্টরোমা সুগঠিত নয় ।


অপ্লাসিয়া (Aplasia)


অপ্লাসিয়া (Aplasia)– দেহের কোন টিস্যু বা যন্ত্র অথবা তার কোন অংশ না থাকা বা গঠিত না হওয়া । যেমন- দেহের দুটির বদলে একটি কিডনী পাওয়া যায় ।


ডিজেনারেশন

ডিজেনারেশন- দেহের কোন অংশের বা যন্ত্রের কোষ ও টিস্যুর ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে বিনষ্ট হওয়ার অবস্থাকে বলা হয় । দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়াতে সব সময়ই কোন না কোন কোষ বিনষ্ট হলেও নিউক্লিয়াস যদি ঠিক থাকে তাহলে স্বাভাবিক পরিবেশ পাইলে উক্ত কোষ পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। কিন্তু যখন কোন কোষের বিনষ্টির পর নূতন কোষের সৃষ্টি না হয়ে আক্রান্ত অংশ ক্রমশঃ দূর্বল ও অক্ষম হয়ে পড়তে থাকে তখন সেই অবস্থাকেই ডিজেনারেসান বলে ।
ডিজেনারেশনের শ্ৰেণীবিভাগ:

১ । ফ্যাটি ডিজেনারেশন

২। এলবুমিন ডিজেনারেশন

৩। কলোয়েড ডিজেনারেশন

৪। ড্রপসিক্যাল ডিজেনারেশন

৫ । হায়ালাইন ডিজেনারেশন

৬। ফসফয়েড ডিজেনারেশন

৭ । লিপয়েড ডিজেনারেশন

৮ । মিউকয়েড ডিজেনারেশন

৯ । গ্লাইকোজেন ডিজেনারেশন

১০। এমাইলয়েড ডিজেনারেশন

ডিজেনারেশনের কারণ:

১। জন্মগত কারণ
২ । অতিরিক্ত এলকোহল পান
৩ । সুষম খাবারের অভাব
৪ । কোন রাসায়নিক দ্রব্যের বিষক্রিয়ায়

৫ । ইনফার্কশন
৬ । কোন রোগ জীবাণু যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ।

ফ্যাটি ডিজেনারেশনের বর্ণনা:
দেহের যে কোন অংশে কোষের সাইটোপ্লাজমে ফ্যাট জমে গিয়ে সেই অংশের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অবস্থাকে বুঝায় । যেমন- লিভার বা হার্টে চর্বি জর্মে তাদের স্বাভাবিক ক্রিয়ার নানা ধরণের গোলাযোগ সৃষ্টি হয় ।
ফ্যাট ডিজেনারেশন দৃশ্যমান পরিবর্তন সমূহ হল, আক্রান্ত অঙ্গ আকারে বড় হয়, নরম ও কোমল হয়, টিপ দিলে চর্বির মত অনুভূত হয় ।

ডিজেনারেশন ও নেক্রোসিসের পার্থক্য ডিজেনারেশন:

ডিজেনারেশন-

১। কোষের বিনষ্টির পর নূতন কোষের সৃষ্টি না হয়ে আক্রান্ত অংশ ক্রমশঃ দুর্বল ও অক্ষম হয়ে পড়ে ৷

২। নিউক্লিয়াস ঠিক থাকে । ফলে স্বাভাবিক অনুকূল পরিবেশ পাইলে কোষ পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসে ।

নেক্রোসিস-

১। দেহের যে কোন অংশের কোষের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে, বিশেষ কোন রোগে বা কোন কারণে বিনষ্ট বা মরে যাওয়া ।

২। নিউক্লিয়াস মরে যায় ফলে, কোষ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে না ৷


ষ্টেরিলাইজেশন

ষ্টেরিলাইজেশন— যে পদ্ধতিতে কোন জীবন্ত রোগ জীবাণু এবং তাদের স্পোর মেরে ফেলা হয় অথবা ব্যাকটেরিয়াল ফিল্টার দ্বারা ছেকে আলাদা করা হয় তাকে ষ্টেরিলাইজেশন বলে ।

ডিসইনফেকশন– বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু নাশক দ্রব্য যা রোগীর ব্যবহৃত আসবাবপত্র, কাপড়-জামা, ঘর ইত্যাদিতে যে জীবাণু সংক্রামণ ঘটে তা জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতির নাম । এই পদ্ধতিতে সকল প্রকার রোগ জীবাণু ধ্বংস হয় না। নির্দিষ্ট রোগ জীবাণু নির্দিষ্ট মাত্রায় ধ্বংস হয়ে সংক্রামণের হাত থেকে জীবন্ত প্রাণীকে রক্ষা করে ।

ষ্টেরিলাইজেশন ও ডিসইনফেকশনের মধ্যে পার্থক্য:

কোন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে ভৌত উপায়ে জীবাণুমুক্ত করণকে ষ্টেরিলাইজেশন বলে । যেমন আগুনের তাপে, বাষ্পের তাপে, রৌদ্রের তাপে, কোন রে (Ray) ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত করণ ।
রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে জীবানুমুক্তকরণকে ডিসইনফেকশন বলে । যেমন, সাবান ব্যবহার, এলকোহল, ফিনাইল, ইত্যাদি দ্বারা – জীবাণুমুক্ত করা ।

বিশোধনের গুরুত্ব:
শল্যবিদ্যায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দ্বারা রোগীর চর্ম, রক্তনালী ও অন্যান্য তন্ত্র কর্তিত হয় । যদি যন্ত্রপাতি গুলির মধ্যে রোগ জীবাণু থাকে তা রক্ত ও লসিকা রসের সাহায্যে রোগীর দেহে অতি সহজেই বিস্তার লাভ করে । ইহাতে রোগীর বর্তমান সমস্যা দূর হলেও অন্য আর এক জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়ে রোগীর জীবন বিপন্ন করে তুলে । এমনকি রোগীর, চিকিৎসক ও সেবিকাদের পোশাকের রোগ জীবাণুও রোগীর মৃত্যু ডেকে আনতে পারে । তাই শল্যবিদ্যায় বিশোধনের গুরুত্ব অপরিসীম ।

ষ্টেরিলাইজেশনের বর্ণনা:
যে পদ্ধতিতে কোন জীবন্ত রোগ জীবাণু এবং তাদের স্পোর মেরে ফেলা হয় অথবা ছাকনির মাধ্যমে আলাদা করা হয় তাহাকে ষ্টেরিলাইজেশন বলে । ইহা প্রধানতঃ ২ প্রকার
১ । ভৌত পদ্ধতি
২ । রাসায়নিক পদ্ধতি
ভৌত পদ্ধতি-
                  ১ । উত্তাপ দ্বারা- আর্দ্র উত্তাপ ও শুষ্ক উত্তাপ 
                       আর্দ্র উত্তাপ

                                ১ । গরম পানিতে সিদ্ধ করা
                               ২ । অটোক্লেভিং
                      শুষ্ক উত্তাপ
                                ১ । অগ্নিশিখা
                                ২ । শুষ্ক বাতাস

               ২ । রশ্মি দ্বারা-

                           ১ । সূর্যালোক
                          ২ । এক্স- রে
                          ৩ । আলট্রাভায়োলেট রে
             ৩ । ফিল্টার দ্বারা-
                         ব্যাকটেরিয়াল ফিল্টার
রাসায়নিক পদ্ধতি-
             ১ । এসিড
             ২ । ক্ষার
             ৩ । লবণ
              ৪ । এলকোহল
              ৫ । ফরমালিন
              ৬ । সাবান ইত্যাদি


কনজেসশন

কনজেসশন: দেহের যে কোন অংশের রক্তনালীর ভিতর যে কোন কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমাণে রক্ত জমা হলে তাকে কনজেসশন বলে ।
অতিরিক্ত পরিশ্রম, প্রদাহ, বিষাক্ত পদার্থ স্পর্শ, কোন কিছুর দংশন, স্নায়বিক কারণ, হৃৎপিন্ডের ক্রিয়ার ব্যর্থতা, ফুসফুসের প্রতিবন্ধকতা প্রভৃতি কারণে কনজেসন হয় ।
ইহার ফলে আক্রান্ত অঙ্গ স্ফীত হয়, আকারে বৃদ্ধি পায়, গাঢ় বাদামী বা নীল লোহিত বর্ণ ধারণ করে, সেখানে পানি জমে, অক্সিজেনের অভাব ঘটে, টিস্যুতে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত শ্বাস- প্রশ্বাস ঘটে। নেক্রোসিস দেখা দিতে পারে, রক্ত চাপের ফলে রক্তে ফোলা জালিকা প্রায়ই বিদীর্ণ হয় । মস্কিষ্কের রক্ত নালীর ফেটে যাওয়ার ফলে রোগীর দ্রুত মৃত্যু হয় ।


ইরিসিপেলাস

ইরিসিপেলাস: ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীতে তরুণ প্রদাহকে ইরিসিপেলাস বলে। সাধারণতঃ মুখমন্ডলে, মুখের মধ্যে ও চর্মে ইহা দেখা যায় ।
ইরিসিপেলাসের কারণ: ফোড়া বা ব্রণের মুখ ফেটে গেলে । দেহের কোন অংশ কাটিয়া হাজিয়া বা ফাটিয়া গেলে ইত্যাদি কারণের ফলে আক্রান্ত স্থানে যদি ষ্টাপটোকক্কাস পায়োজেনিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে এই রোগ হয় ।
ইরিসিপেলাসের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ:
১। ত্বক খুব ফুলিয়া উঠে ও লাল হয় ।
২ । পরে পূঁজ জমে টাটানি ব্যথা হয় ।
৩ । কম্প দিয়া জ্বর আসে, নিকটবর্তী লিম্ফগ্রন্থি গুলি ফুলিয়া উঠে ।
৪ । জ্বর বেশী হলে বমি ও প্রলাপ হইতে পারে
৫। পূঁজ হবার পর রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়াইয়া পড়িলে হৃদপিন্ডের এন্ডোকার্ডাইটিস, ফুসফুস প্রদাহ, কিডনীর প্রদাহ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে
৬। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে টক্সিমিয়া হয়ে খিচুনি দেখা দিতে পারে ।


শক

শক: শক হল বিহ্বলতাদায়ক শারিরীক ও মানসিক অবস্থা যাতে দেহের জীবিত সত্ত্বা প্রচন্ডভাবে ব্যাহত হয়। যে কোন কারণে হঠাৎ হাত-পা-দেহ ঠান্ডা হয়ে পড়ে। দেহে শীতল ঘাম হতে থাকে, নাড়ী বা পালস খুব দুর্বল ও দ্রুতগতি হয়ে পড়ে। চোখের তারা বড় হয়ে যায় ইত্যাদি লক্ষণ অবস্থাকে শক বলে ।

শকের কারণ:

১। রক্তবহা নালীর বীজাণুর সংক্রামক বা মারাত্মক ধরণের এলার্জি ।
২। অত্যধিক পরিমাণে মাদক দ্রব্য বা মাদক জাতীয় ঔষধ সেবন ৷
৩ । হঠাৎ মারাত্মক ধরণের শোক, দুঃখ, ভয় থেকে মানসিক আঘাত’।
৪ । খুব বেশী ভেদ-বমি, পুড়ে যাওয়ার ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেওয়া।
৫ । হার্টের আউটপুট কমে গেলে ।
৬ । দেহের বাহিরে বা ভিতরে প্রচুর রক্তক্ষরণ ।
৭ । এনাসথেসিয়া প্রয়োগের ফলে ।
৮ । স্পাইনাল কর্ডে আঘাত লাগিলে ।
৯ । প্রখর সূর্যকিরণে অতিরিক্ত ঘোরাফিরা করিলে ।
১০। বিষপান, সর্পদংশন ইত্যাদি কারণে ।

শকের প্রকারভেদ:

১। কার্ডিওজেনিক

ক) মাইয়োকার্ডিয়াল ইনফাকশন
খ) রাপচার (Rupture) অব হার্ট
গ) অ্যারিদমিয়া (Arrythmia)
ঘ) কার্ডিয়াক টেমপোনেড (Cardiac tamponade )
ঙ) পালমোনারী এমবোলিজম

২। হাইপোডলিমিক (Hypovolemic)

ক) হেমোরেজ
খ) ফ্লুয়িড লস ( বমি, ডায়রিয়া, পুড়ে গেলে)

৩ । স্পেটিক

ক) ওভার হোয়েলমিং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন খ) গ্রাম নিগেটিভ সেপটিসিমিয়া
গ) গ্রাম পজিটিভ সেপটিসিমিয়া

৪ । নিউরোজেনিক -ক) এনাসথিসিয়া খ) স্পাইনার কর্ড ইনজুরী

হাইপোভলুমিক শক: দেহের প্রবাহিত রক্তের পরিমাণ যখন স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় তার ফলে যে শকের সৃষ্টি হয় তাকে হাইপোভলুমিক শক বলে ।
হাইপোভলুমিক শকের কারণ:
(ক) রক্তক্ষরণ (অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, অর্শ হতে অধিক রক্তপাত, গর্ভপাত, প্রসব ইত্যাদি।)
(খ) পানি শূন্যতা (ডায়রিয়া, বমি, হিটস্ট্রোক, বাৰ্ণ ইত্যাদি)

হাইপোভলুমিক শকের লক্ষণ:
(ক) অতিরিক্ত পিপাসা
(খ) শীত শীত বোধ
(গ) হাইপোক্সসিয়া’ (রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতার দরুণ ঝাপসা দৃষ্টি)

হাইপোভলুমিক শকের ব্যবস্থাপনা: 
১। pt বা রক্তের prothombin time নির্ণয় করে দেখতে হবে শক মাইল্ড, মর্ডারেট, না সিভিয়ার ।
২ । ব্লাড প্রেসার মাপতে হবে ।
৩ । নাড়ীর গতি দেখতে হবে ।
৪ । রেসপিরেশনের রেট ও ডেপ্থ দেখতে হবে ।
৫ । ইউরিন আউটপুট নির্ণয় করতে হবে।

শকের প্যাথলজি— যে মাত্রায় এন্টিজেন প্রয়োগ করিলে শক হয়, সেই মাত্রা প্রয়োগ করিলে হিষ্টামিন বিষক্রিয়ার মত তীব্র লক্ষণ দেখা যায়। শক মাত্রায় এন্টিজেন সম্পর্কে কতগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য হইতেছে ।

১। নির্দিষ্টতা— সব এন্টিজেনই সকলের ক্ষেত্রে সমান রিএকশন শক ঘটায় না । যে এন্টিজেন যার পক্ষে শক ঘটায় তাহাকে বলে ঐ ব্যক্তির পক্ষে একটি স্পেসিফিক এন্টিজেন
২ । মাত্রা- কতকটা মাত্রা প্রয়োগ করিলে যে কাহার শক হইবে তাহার নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নাই । তবে শকের জন্যে এক এক ক্ষেত্রে এক এক মাত্রার প্রয়োজন হয় । প্রতিরক্ষার প্রকৃতির উপর ঐ লোকের নির্দিষ্ট মাত্রা নির্ভর করে।
৩। শক প্রয়োগের গতি— দ্রুত এন্টিজেন প্রয়োগ করিলে শক হয় । দ্রুত প্রয়োগের ফলে এন্টিজেন এন্টিবডি প্রতিক্রিয়ার ফলে দেহে ক্ষতি হয় ।
৪ । অসম্পূর্ণ এন্টিজেন বা হ্যাপটেন— ঠিক উপযুক্ত এন্টিবডির সংঙ্গে যুক্ত হইবার ফলে, হ্যাপটেন প্রয়োগ হইতেও শক হতে পরে, এন্টিজেনের সঙ্গে মিশিয়া যদি হ্যাপটেন সেই রকম ক্রিয়া করিতে না পারে, তাহা হইলে শক হইবে না । কিন্তু ইহার ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে তখন এন্টিজেন প্রয়োগও শক হয় না ।

শকের জটিলতাসমূহ :
১ । জ্ঞান হারিয়ে ফেলা ।
-২ । শ্বাসকষ্ট
৩ । কার্ডিয়াক এরেষ্ট
৪ । কোন অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি ।


আলসার

আলসার– আঘাত লেগে, বিশেষ কোন রোগে বা জীবাণু সংক্রামনে দেহের ত্বক বা মিউকাস মেমব্রেন কিছুটা প্রদাহসহ টিস্যু বিনষ্ট হয়ে স্নাফ (Slough) তৈরি হয়ে স্নাফ আলগা হয়ে খসিয়া যাওয়ার ফলে চর্মের উপর যে টিস্যু ক্ষয় হয় তাকে আলসার বলে । যেমন বেড সোর, পেপটিক আলসার সিফিলিটিক আলসার ইত্যাদি ।
পেপটিক আলসার– যে কোন রোগ বা অবস্থায় পাকস্থলীতে পেপসিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড অস্বাভাবিক পরিমাণে সৃষ্টি হতে থাকলে তাদের ক্রিয়ায় পাকস্থলী, ডিওডেনাম ও ক্ষুদ্র অস্ত্রের কোন অংশের মিউকাস মেমব্রেনে যে ক্ষত সৃষ্টি হয় তাকে পেপটিক আলসার বলে ।

গ্যাসট্রিক আলসার ও ডিওডেনাম আলসারের পার্থক্য:

গ্যাসট্রিক আলসার-

১। পাকস্থলীতে পেপসিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের  দ্বারা গ্যাসট্রিক আলসার হয় ।
২।  খাওয়ার পর পরই ব্যথা শুরু হয় ।
৩। ব্যথা বোধ হয় ইপিগ্যাসট্রিয়াম অংশের বাম দিকে ।
৪। খালি পেটে বা বমি হলে উপশম ।
৫। সাধারণতঃ রক্ত বমি হয় ।
৬। রোগী বমিতে আরাম পায় বলে গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করে ।
৭। ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে । কারণ খেতে পারে না ।
৮। ইপিগ্যাসট্রিক অংশে স্পর্শকাতরতা থাকে ৷
৯। এনিমিয়া দেখা দেয় ।
১০। দেহ শীর্ণ ও রোগা ।

১১।  বমির রক্ত লাল।

 ডিওডেনাম আলসার-

১। পেপসিন হাইড্রোক্লোরিক এসিড, পিওরস, প্যানক্রিয়া- টিক জুসের দ্বারা ডিওডেনাম আলসার হয়।
২। খাওয়ার ১-৩ ঘন্টা পর ব্যথা শুরু হয় ।
৩। ব্যথা ইপিগ্যাসট্রিয়াম অংশের ডানদিকে ।
৪। খালি পেটে ব্যথা বাড়ে, খাওয়ার পর উপশম ।
৫। সাধারণ রক্তমিশ্রিত কাল পায়খানা দেখা যায় ।
৬। সাধারণতঃ বমি করে না ।
৭। খাবার খেলে উপশম হয় বলে বার বার খায় ফলে ওজন বেড়ে যায় ৷
৮। রোগী ব্যথার স্থান আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পারে ।
৯। এনিমিয়া থাকে না ।
১০। দেখতে নাদুস নুদুস ।

১১। বমি রক্ত কাল ।


 হেমোরেজ

হেমোরেজ:— দেহের যে কোন অংশ থেকে রক্তপাত বা রক্তক্ষরণ হয়ে চর্মের বাহিরে আসিলে অথবা দেহের ভিতরে কোন টিস্যুর মধ্যে জমিলে তাকে হেমোরেজ বলে ।

হেমোরেজের কারণসমূহ:
১। ইনফেকশন- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদি রোগ জীবাণুর আক্রমণে ।
২ । আলসার হলে ।
৩ । উচ্চ রক্ত চাপের ফলে ।
৪ । আঘাত বা দুর্ঘটনার ফলে ।
৫ । দেহের কোন অঙ্গে অস্ত্রপচারের ফলে ।
৬ । শিরা, ধমনী বা কৈশিক নালীর র‍্যাপচার হলে ।

হেমোরেজের প্রকারভেদ– রক্ত ক্ষরনের উৎস অনুসারে তিন প্রকার ।
১ । আর্টারীর হেমোরেজ
২ । ভেইনের হেমোরেজ –
৩ । ক্যাপিলারী টিউরের হেমোরেজ


 


এবসেস (Abscess)

এবসেস (Abscess) – দেহের যে কোন অংশের টিস্যুর মধ্যে ঘন রস বা পূঁজ, বিনষ্ট টিস্যু, বিভিন্ন ধরণের বীজাণু প্রভৃতি জমে ফুলে উঠা বা প্রদাহিত অবস্থাকে এবসেস বলে। সাধারণতঃ ষ্টেপটোকক্কাস, ষ্টাফাইলোকক্কাস প্রভৃতি বীজাণু দ্বারাই এ ধরণের প্রদাহিত অবস্থার সৃষ্টি হয়। দেহের কোন অস্থিতে যক্ষ্মা রোগের আক্রমণ ঘটলে তার পরিণতিতেও আক্রান্ত অস্থির কাছাকাছি অবস্থিত মাংস পেশীতে এক ধরনের বেদনাহীন এবসেস সৃষ্টি হয়, যাকে “কোল্ড এবসেস” বলা হয় অন্য সব এবসেসে প্রদাহ, উত্তাপ, লালভাব ও বেদনা থাকে ।


প্রটোজোয়া

প্রটোজোয়া— ইহা একটি এককোষী প্রাণী জাতীয় প্যারাসাইট । ইহারা এত সূক্ষ্ম যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া খালি চোখে দেখা যায় না । ইহাদের দেহ গোলাকার, ডিম্বাকার, ক্ষণ পদ, ফ্লাজেলা আছে । ইহারা স্ব-ভোজী, পরজীবী, মৃতজীবী, মিথোজীবী প্রভূতি হয়। ইহারা প্রাণীদেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে। যেমন এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা বৃহদান্ত্রে আমাশয় নামক রোগ সৃষ্টি করে ।


মেটাপ্লাসিয়া ও হাইপারপ্লাসিয়া

কমেটাপ্লাসিয়া ও হাইপারপ্লাসিয়ার তুলনা :
১। হাইপারপ্লাসিয়া–দেহের কোন অঙ্গের বা কোন স্থানের কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যদি ঐ অঙ্গ বা টিস্যুর আকার বৃদ্ধি পায় তাকে হাইপারপ্লাসিয়া বলে । যেমন পিউবার্টির সময় মেয়েদের স্তন বৃদ্ধি পায় আবার গর্ভবস্থায় জরায়ূর আকার বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি ৷
২। মেটাপ্লাসিয়া— দেহের বিশেষ কোন টিস্যুর প্রকৃতিতে সম্পূর্ণ নতুনত্ব বা অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হওয়া অবস্থার নাম । যেমন অস্থিমজ্জার মধ্যে থাকা মায়েলয়েড টিস্যু বা উপাদান বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্লামা লিভারে সৃষ্টি হতে দেখা যায় ।


পারপিউরা

পারপিউরা: যদি কোন কারণে ক্যাপিলারী টিউব হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ত্বকের নীচে, মিউকাস মেমব্রেন হতে এবং ইনটারনাল কোন অর্গান হতে বিন্দু বিন্দু রক্তক্ষরণ হয় এবং চামড়ার নীচে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ আকারে রক্তজমা দেখা যায় বা ত্বকে লালচে এক প্রকার উদ্ভেদ সৃষ্টি হয় তাকে পারপিউরা বা ধুম্ররোগ বলে । এই রোগের লক্ষণ অনুসারে নিম্নের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করিতে হইবে । যথা-
ক্যালেন্ডুলা, হ্যামামেলিস, দুর্বা, মিলিফোলিয়াম, চায়না, ফেরাম- মেট ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহার করিতে হইবে ।


 

এনথ্রাক্স

এনথ্রাক্স- কিছু কিছু রোগ আছে যা পশু ও মানুষকে আক্রমন করে যেমন এনথ্রাক্স, এফ,এম,ডি, হাইড্রোফোরিয়া, দুগ্ধ রোগ, ভেরুকা (আচিল), টিটেনাস ইত্যাদি। ইহাদের মধ্যে এন্থ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ । এই ব্যাকটেরিয়ার নাম বেসিলাস। মানুষ হল এই জীবাণুর হোষ্ট এবং পশু দ্বারা এই রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত পশুর মল, মূত্র ও লালা হতে অন্য পশু ও মানুষ আক্রান্ত হয় । গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতির দেহে ব্যাপক আকারে এই রোগটি রক্তদুষণ অবস্থার সৃষ্টি করে কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে খাদ্য নালীতে ক্ষত সৃষ্টি করে থাকে । সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করিতে হইবে, যেমন এনথ্রাসিনাম, ল্যাকেসিস, সিকেলি কর, আর্সেনিক এলব ইত্যাদি ।


সেল ইনজুরি

সেল ইনজুরী– ইহা কোষের স্বাভাবিক ও স্থিতিবস্থার বিপরীত প্রভাবকারী অবস্থা যা কোষের কার্যক্রমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কর ।

ক্ষতিগ্রস্থ কোষ যে ভাবে সাড়া দেয় তা নিম্নোক্ত শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে ।

১। সেলুলার এডাপটেশন (Cellular adaptation) (ক) এট্রোপি (Atrophy)
(খ) হাইপারট্রটি (Hypertrophy) (গ) হাইপারপ্লাসিয়া (Hyperplasia) (ঘ) মেটাপ্লাসিয়া (Metaplasia)

২ । একিউট সেল ইনজুরী (Acute cell injury)

(ক) রিভারসিবল ইনজুরী (Reversible injury)

(খ) ইরিভারসিবল ইনজুরী বা কোষের মৃত্যু (Irreversible injury)
                                  (১) নেক্রোসিস (Necrosis )
                                 (২) এপোপটোসিস (Apoptosis)

৩ । সাব সেলুলার অলটারেশন এন্ড সেলইনকুলুসন (Subcellular alteration and cell inclussion)
৪ । ইনট্রাসেলুলার একুমুলেশন (Intracellular accumulation) ৫। প্যাথোলজিক ক্যালসিফিকেশন (Pathologic calcification)

সেল ইনজুরীর কারণ:
১ । হাইপোক্সিয়া (Hypoxia)
২। ফিজিক্যাল এজেন্ট (Physical agent )
৩ । ক্যামিক্যাল এজেন্ট এণ্ড ড্রাগ্স (Chemical agents and drugs) ৪ । মাইক্রোবাইওলজিক ইনফেকটিয়াস এজেন্ট (Microbiologic infectious agents)
৫ । ইমুনোলজিক রিএকশন (Immunologic reactions) ৬। জেনিটিক ডিরেঞ্জমেন্ট (Genetic derangements) ৭ । নিউট্রিশনাল ইমব্যালেন্স (Nutritional imbalances)

সেলুলার এডাপটেশন : সেলুলার এডাপটেশন কোষের এমন একটি অবস্থা যাহা স্বাভাবিক অবস্থায় আঘাতহীন কোষ এবং অতিরিক্ত পীড়নের ফলে ক্ষতি গ্রস্থ কোষের মধ্যবর্তী অবস্থা ।

ইহার ধরনগুলি নিম্নরূপঃ
১। এট্রপি (atrophy)— ইহাতে প্রাণীদেহের কোন অংশ বা সম্পূর্ন দেহ ক্রমশঃ ছোট হয়ে যায় বা কোষের সংখ্যা হ্রাস বা আকার ছোট হয়ে যায় – যেমন বৃদ্ধ বয়সে যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যায় । ২। হাইপারট্রপি (Hypertrophy) – দেহের কোন অংশের টিস্যুর আকার বৃদ্ধি পাইয়া সেই অঙ্গের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়াকে হাইপারট্রপি বলে । যেমন হৃৎপিন্ডের বিবৃদ্ধি ।
৩ । হাইপারপ্লাসিয়া (Hyperplasia ) – কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কোন অর্গান বা টিস্যুর’ আয়তন বৃদ্ধি পেলে যেমন যৌবনকালে মেয়েদের স্তন বৃদ্ধি ।
৪। মেটাপ্লাসিয়া (Metaplasia)- ইহাতে সম্পূর্নভাবে গঠিত একশ্রেণীর টিস্যু ইহার বৈশিষ্ট্য হারাইয়া অন্য শ্রেণীর টিস্যুতে পরিণত হয় । যেমন ক্ষতচিহ্ন ।


থ্রম্বোসিস

থ্রম্বোসিস: কোন শিরা বা ধমনীতে প্রবাহিত রক্তের ভিতর একটি রক্তের দলা বা ক্লট সৃষ্টি হওয়া অবস্থার নাম । এইরূপ রক্তের দলা সৃষ্টি হয়ে দেহের যে কোন অংশের ধমনীর পথ অবরুদ্ধ হয়ে টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- করোনারী থ্রম্বোসিস, সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস ইত্যাদি
থ্রম্বোসিসের কারণ :
১। রক্ত বহা নালীর এন্ডোথিলিয়াম আঘাত প্রাপ্ত হলে ।
২। রক্তের স্বাভাবিক গতি পরিবর্তন হলে
৩ । রক্তের উপাদানের পরিবর্তন হলে

থ্রম্বোসিস এর টাইপসমূহ:
রঙের ভিত্তিতে (Based on colour)- (ক) সাদা থ্রমবাস ।
(খ) লাল থ্রমবাস ।
(গ) মিশ্রিত রঙের থ্রমবাস
গঠনের ভিত্তিতে (Based on mode of formation ) – (ক) নন-অকুসিভ থ্রমবাস (Non-occlusive)।
(খ) অক্লুসিভ থ্রমবাস ।
(গ) প্রপাগেটিং থ্রমবাস (Propagating)।
(ঘ) স্যাডল থ্রমবাস (Saddle) ।
(ঙ) পেডানকুলেটেড থ্রমবাস (Pedunculated)। (চ) বল থ্রমবাস (Ball) |
স্থায়িত্বের ভিত্তিতে (Based on duration) – (ক) নতুন (Fresh)।
(খ) পুরাতন (Old) ।
রোগ সংক্রমণের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে (Based on presence or absence of infection)-
(ক) সেপটিক/ইনফেকটিভ (Septic / Infective) । (খ) অক্ষতিকারক (Bland)


 রক্তের কণিকা

রক্ত কণিকার স্বাভাবিক মাত্রা : (ক) আর.বি.সির স্বাভাবিক মাত্রা ৷
পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ=৪.৫-৫.৫ মিলিয়ন/Cumm পূৰ্ণ বয়স্ক মহিলা=৪.০-৫.০ মিলিয়ন/Cumm শিশু =৬.০-৭.০ মিলিয়ন/Cumm
(খ) ডব্লিউ.বি.সি.স্বাভাবিক মাত্রা
৪০০০-১১০০০ / Cumm
(গ) প্লাটিলেটের স্বাভাবিক মাত্রা ।
১,৫০,০০০–৩,৫০,000/Cumm

ইওসিনোফিলিয়া- রক্তের শ্বেত কণিকার (WBC) একটি উপাদান হল ইওসিনোফিল । ইহার WBC এর উপাদানের ১-৪% এর মধ্যে থাকে । রক্তে ইওসিনোফিলের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তাকে বলে ইওসিনোফিলিয়া ।
ইহার কারণগুলি হলো:
১ । হুক ওয়ার্ম, রাউন্ড ওয়ার্ম, টেপ ওয়ার্ম ।
২ । হে-ফিভার, এ্যাজমা ।
৩ । একজিমা, ইউটিকেরিয়া ।
৪ । ফাইলেরিয়া ।
৫। হজকিনস ডিজিস।

ডি.সি (DLC) অফ ডব্লিউ.বি.সির নরমাল মাত্ৰা :

(ক) পলিমরফস (Polymorphs) = 80-70%

(খ) লিম্ফোসাইট (Lymphocytes) = ২০-৫০%

(গ) ইয়োসিনোফিলস (Eosinophils)=২-১০%

(ঘ) মনোসাইট (Monocytes)=১-৬%

(ঙ) বেসোফিল (Basophil) < ১%

ই.এস.আর বৃদ্ধির কারণসমূহ:

(ক) টিউবারকিউলোসিস (Tuberculosis)।
(খ) রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis)।
(গ) রিউমেটিক ফিভার (Rheumatic fever)।
(ঘ) ম্যালিগন্যান্সি (Malignancy)।
(ঙ) মালটিপোল মাইলোমা (Multiple myeloma)।
(চ) করোনারী থ্রম্বোসিস (Coronary thrombosis)। (ছ) হ্যামোরেজ (Haemorrhage)।
(জ) টিস্যু নেকরোসিস (Tissue necrosis ) । (ঝ) প্রেগনেন্সী (Pregnancy)। (ঞ) এনিমিয়া (Anaemia)। .
(ট) এস এল ই (SLE) ইত্যাদি ।

রক্ত পরিসঞ্চালনের ছয়টি ক্ষেত্র /ইন্ডিকেশন(Indications ):
১। হ্যামোরেজ বা মারাত্মক রক্ত ঘাটতি হলে
২ । মারাত্মক কোন অস্ত্রপচারের জন্য
৩ । মারাত্মকভাবে দেহ পুড়ে গেলে যেখানে দেহে পানিশূন্যতা ও রক্ত কোষ নষ্ট হয়ে যায় ৷
৪। রোগীর এনিমিয়া দেখা দিলে
৫। গর্ভবস্থা প্রসবের পর বিভিন্ন জটিলতার ব্যবস্থাপনায় রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় ।
৬ । ল্বিউকেমিয়া (Leukaemia) হলে ।

রক্ত পরিসঞ্চালনের বিপত্তিসমূহ (Hazards of Blood Transfusion):
১ । ইনফেকশন
২। এলার্জিক রিএকশন ৩ । চুলকানি
৪ । জ্বর
৫। সরবরাহকৃত রক্তে পূর্ব হতেই কোন রোগ জীবাণু থাকা ইত্যাদি ।


আর.বি.সি (RBC)

আর,বি,সি (RBC)— রক্তের উপাদান তিনটি যথা- WBC, RBC এবং প্লাটিলেটস । RBC এর অপর নাম ইরিথ্রোসাইট । একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির রক্তে ইহাদের সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে প্রায় ৫০ লক্ষ। ইহার জীবনকাল প্রায় ১২০দিন । ইহা হিমোগ্লোবিন, বহনকারী থলে রূপে কাছ করে । ইহা অক্সিজেন ও কার্বনডাইঅক্সাইড বহন করে শ্বাস –প্রশ্বাসে সহায়তা করে । ইহা রক্তের অম্লত্ব ও ক্ষারের মধ্যে সমতা বজায় রাখে ।


থ্রমবাস ও এমবোলাস

ধ্রমবাস ও এমবোলাসের মধ্যে পার্থক্য :

থ্রমবাস (Thrombus )– 

১। রক্তবহা নালীতে বা হার্টের চেম্বারে রক্ত জমাট বেঁধে বিশেতঃ প্লেটলেট ও প্লাজমা জমাট বেঁধে রক্তের যে দলা বা ক্লট সৃষ্টি করে তাকে থ্রমবাস বলে ।
২। থ্রমবাসের কারণ:

      ক) রক্তবহা নালীর অন্তঃঝিল্লী, আঘাত প্রাপ্ত হলে ।
      খ) স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহের পথ পরিবর্তন হলে

      গ) রক্তের উপাদানের পরিবর্তন হলে ।
৩। ইহা হতে পারে সাধারনতঃ হার্টের ভেন্ট্রিকলে, হার্টের ভাল্বে, এওরটিক ভাল্বে ইত্যাদি প্রশ্বস্থ রক্তবহা স্থানে

এমবোলাস (Embolus )-

১। দেহের যে কোন অংশের ধমনীর মধ্যে রক্ত চলাচল করতে থাকা অবস্থায় রক্তের মধ্যে যদি কোন কঠিন, তরল বা বায়বীয় পদার্থ নিজ অবস্থান হতে স্থানচ্যুত হইয়া মুক্তভাবে রক্ত প্রবাহে ভাসিয়া বেড়ায় তাকে এমবোলাস বলে ।
২। এমবোলাসের কারণ
     ক) কঠিন পদার্থ- মৃত ব্যাকটেরিয়া, ক্ষয়িত টিউমার, সংক্রামিত থ্ৰমবাস ।
     খ) তরল- অস্থিমজ্জার চর্বিখন্ড, ফ্যাট টিস্যু ।
     গ) বায়বীয়- বাতাস, নাইট্রোজেন রুদ্ধ হয়ে ।
৩। ইহা সাধারণতঃ ফুসফুসের পালমোনারী আর্টারী, হার্টের করোনারী আর্টারী বা মস্তিষ্কের সেরিব্রাল আর্টারিতে হয়ে থাকে, যেখানে রক্তবহা নালী সরু ।


রক্ত জমাট বাঁধা

রক্ত জমাট বাঁধা: শরীরের কোন স্থান কেটে গেলে ক্ষতস্থান থেকে বের হওয়া রক্তের রক্তকণিকা ভেঙ্গে থ্রম্বোকাইনেজ বের হয় । ঐ থ্রম্বোকাইনেজ Ca আয়ন এবং ভিটামিন k এর সাহায্যে প্রথমবিনকে থ্রমবিন নামক এনজাইমে পরিণত করে । থ্রমবিন তখন প্লাজমার ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন নামক শক্ত, সরু, জালিকায় পরিণত করে । ঐ ফাইব্রিন জালে অনুচক্রিকাগুলি ও মৃত লৌহিত কণিকাগুলি আটকে জমাট বেঁধে উঠে ।


ফ্যাগোসাইটোসিস

ফ্যাগোসাইটোসিস: লিউকোসাইট কর্তৃক শ্বেতকণিকা ও অন্যান্য কোষের বীজাণু ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থকে গিলে ফেলা ও তাদের বিনষ্ট করে ফেলার প্রক্রিয়ার নাম ফ্যাগোসাইটোসিস। ফ্যাগোসাইটোসিসের তিনটি ধাপ
১। লিউকোসাইট যে বস্তুকে গিলে ফেলবে তাকে শনাক্ত করে ও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করে ।
২। অবাঞ্ছিত বস্তুটিকে গ্রাস করার পর একটি ফ্যাগোসাইটিক ভ্যাকুওল (Vacuole- সাইটো প্লাজমের ভিতরে থাকা শূন্য স্থান) সৃষ্টি করে ।
৩। গ্রাস করা বস্তুটিকে মেরে ফেলে বা অকার্যকর করে ফেলে ।
Bacterium.
Bacterium engulfed
Enzymes destroy bacterium
Products absorbed by cell
ফ্যাগোসাইটোসিস


সিমেন

সিমেন এনালাইসিস এর নরমাল মাত্রা :
ক) পরিমাণ= ২-৫ সিসি
খ) রঙ= সাদাটে

গ) pH= আলকালাইন
ঘ) ভিসকোসিটি=চটচটে/আঠাল

ঙ) গন্ধ= ফিশি বা আঁশটে গন্ধযুক্ত
চ) শুক্রের সংখ্যা= ৪০-১১০ মিলিয়ন/সিসি
ছ) মোটাইলিটি (নড়াচড়াক্ষম= প্রাথমিকভাবে ৮০-৯০% 

      ১ । ২ ঘণ্টা পর= ৭৫-৮৫%
      ২। ৪ ঘণ্টা পর= ৭০-৮০%
জ) স্বাভাবিক গঠন/আকৃতি =৭৫-১০০%


ব্যাকটেরিয়া ও মায়াজমের সম্পর্ক আলোচনা :
মায়াজম-

১ |ইহা চিররোগ উপবিষ

২| ইহাকে কোন অবস্থাতেই  দেখা যায় না |

৩। মায়াজম শুধু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাতে ধ্বংস প্রাপ্ত হয় | 

৪ | ইহা একটি ধারণা । যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে মায়াজম বুঝানো হয়।

৫| ইহা বংশানুক্রমিকভাবে এক দেহ হতে অন্য দেহে যায় ৷

ব্যাকটেরিয়া-

১ | ইহা জীবন্ত রোগ জীবাণু ।
২ সাধারণ মাইক্রোসকোপেই ব্যাকটেরিয়া দেখা যায় ।

৩। ব্যাকটেরিয়া হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথি উভয় ঔষধেই ধ্বংস প্রাপ্ত হয় । 

৪ | ইহার উপস্থিতি গবেষণাগারে সহজেই প্রমাণিত হয় ।
৫| সংক্রামণের ফলে এক দেহহতে অন্য দেহে যায় ৷

পেনিসিলিয়াম নোটেটামের বর্ণনা:
পেনিসিলিয়াম নোটেটাম ছত্রাকের একটি গণবিশেষ । পেনিসিলিয়াম থেকে পেনিসিলিন নামক ঔষধ তৈরী হয় । পচা রুটি বা ফল হতে ঐ ধরনের ছত্রাক সৃষ্টি হয় যা খেলে ত্বক ও শ্বাস পথের রোগ সৃষ্টি হয়। পেনিসিলিয়াম নোটেটাম যৌন ও অযৌন উভয় প্রক্রিয়ায়ই বংশ বৃদ্ধি করে । সাধারণতঃ খাদ্যাভাব এবং প্রতিকূল পরিবেশে সংশ্লেষণের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। যৌন প্রজননের সময় হাইপার উপর একটি বড় কোষের সৃষ্টি হয় । উহাতে খাদ্যরস সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয় এবং বিভেদ প্রাচীর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রত্যেকটি দুইটি অংশে বিভক্ত হয়। গোড়ার দিকের অংশটিকে সাসপেন্সর এবং উপরের দিকের স্ফীত অংশকে গ্যামেট্যানজিয়াম বলে- ইহা স্ত্রী যৌনাঙ্গ। স্ত্রী অঙ্গ গঠিত হওয়ার পর উহার নিকট এন্থেরিডিয়াম নামে পুং যৌনাঙ্গ গঠিত হয় । ইহা স্ত্রী অঙ্গের গা বাহিয়া উহার সরু অগ্রভাগটি স্ত্রী জনন কোষের সংস্পর্শে আসে । স্পর্শের ফলে উক্ত স্থানটি ছিদ্রযুক্ত হয় এবং ঐ পথে পুং কেন্দ্রিকাটি স্ত্রী অঙ্গে প্রবেশ এবং বিভক্ত হইয়া সংখ্যায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় । অতঃপর স্ত্রী অঙ্গটি বহু কোষে বিভক্ত হয়। প্রতিটি কোষে দুইটি করিয়া কেন্দ্রিকা থাকে । উক্ত কোষ যে এক্সাসের সৃষ্টি করে উহার প্রতিটিতে ৪-৬টি এক্সারেণু থাকে । অংকুরোদগমের মাধ্যমে এই এস্কারেণু নূতন ছত্রাকের জন্ম দেয়।


থ্রোমবাস ও ক্লোট-এর মধ্যে পার্থক্য:
ক্লোট-

  1. ইহা ফাইব্রিনের জমাট বাধা টুকরা । ইহাতে প্লাটিলেট আটকে থাকে না ।
  2. ক্লোট তৈরী হয় জীবন্ত দেহে বা টেস্ট টিউবে ।
  3. রক্তের গতিহীন অবস্থায় তৈরী হয় ।
  4. ইহা ভঙ্গুর এবং আঠাল ।
  5. যে গাত্রে লেগে থাকে সেখান থেকে সহজেই সরানো যায় ।

থ্রোমবাস-

  1. ইহা প্লাটিলেট এবং ফাইব্রিনের জমাট বাধা টুকরা । ইহাতে প্লাটিলেট আটকে থাকে ।
  2. থ্রোমবাস শুধুমাত্র জীবন্ত দেহে তৈরী হয়।
  3. চলমান রক্তে তৈরী হয় ।
  4. ইহা তত ভঙ্গুর নয় ৷
  5. গাত্রের দেওয়ালে শক্ত করে লেগে থাকে ।

 


নিওপ্লাসিয়া– ইহার আক্ষরিক অর্থ- নতুন কিছুর জন্ম হওয়া এবং নতুন জন্ম নেওয়া বস্তুটি হল- নিওপ্লাজম । যেমন-‘ টিউমার । নিওপ্লাজম শারীরবৃত্তীয় কারণে হয় না ।
ইহার কারণ-
ক) আয়োনাইজিং (Ionizing=বিশেষ এক ধরনের বৈদ্যতিক চিকিৎসা, যাতে বিদ্যুৎ প্রবাহের সাহায্যে দেহের ভিতরের কোন টিস্যুতে বিশেষ ধরনের রোগ নিরামক ঔষধ প্রেরণ করা হয়)।

খ) রেডিয়েশন এবং ক্যামিক্যাল কার্সিনোজেন
(সিগারেট, চুরুটের ধোয়ায় বর্তমান) বা ভাইরাল ইনফেকশন। একবার নিওপ্লাসিয়া শুরু হলে নতুন আর উত্তেজকের দরকার হয় না । ইহার বৃদ্ধি অপ্রতিহতভাবে চলিতেই থাকে। ইহার ফলাফল চরম ক্ষতিকর অবস্থা ।


কার্সিনোমার (ক্যান্সার) কারণ ও প্রকারভেদ:
কার্সিনোমা— যে কোন মারাত্মক বা ম্যালিগন্যান্ট ধরনের টিউমার বা ক্ষতকে ক্যান্সার বা কার্সিনোমা বলে । যেখানে অস্বাভাবিক ধরনের কোষ ও টিস্যুর সৃষ্টি এবং বৃদ্ধি ঘটে এবং দেহের আক্রান্ত অংশ থেকে দেহের অন্যান্য দূরতম অংশেও তার বিস্তার বা মেটাসটেসিস ঘটতে দেখা যায় ।

যেমন-কার্সিনোমা, সারকোমা ইত্যাদি ।
কার্সিনোমার কারণগুলি নিম্নরূপ
১। রাসায়নিক কার্সিনোজেন (Carcinogen এমন একটি পদার্থ যা দেহের কোন কোষ বা টিস্যুর সংস্পর্শে এলে সেখানে কার্সিনোমার সৃষ্টি করে। যেমন- সিগারেট বা চুরুটের ধোয়া) ।
২। ফিজিক্যাল কার্সিনোজেনিক এজেন্ট ।

৩ । ভাইরাস ।
৪ । বংশগত ।
৫ । হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ।

৬ । কোন ক্রনিক ডিজিজের পর সৃষ্ট ক্ষত ইত্যাদি ।

কার্সিনোমার (ক্যান্সার) প্রকারভেদ-
টিস্যু বিনষ্ট হওয়ার হার অনুসারে তথা এনাপ্লাসিয়ার((Anaplasia দেহের কোন অংশের কোষের নিজস্ব স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য এমনভাবে লোপ পায় যে আদি কোষের গঠন প্রকৃতি কিরূপ ছিল তা কোন ভাবেই বুঝা না যাওয়ার অবস্থা) বৃদ্ধি অনুসারে কার্সিনোমাকে নিম্নোক্ত শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। যেমন-
গ্রেড – ১ = ৭৫%-এর অধিক এনাপ্লাসিয়া
গ্রেড – ২ = ৫০ – ৭৫% এনাপ্লাসিয়া-
গ্রেড – ৩ = ২৫ – ৫০% এনাপ্লাসিয়া
-গ্রেড – ৪ = ২৫%-এর কম এনাপ্লাসিয়া


ইমিনোগ্লোবিনের শ্রেণী বিভাগ:
গামা গ্লোবিউলিনের মত বিশেষ কোন প্রোটিন যা দেহে রোগ প্রতিরোধক এন্টিবডি রূপে কাজ করে তাকে বলা হয় ইমিনোগ্লোবিন । যাহা Ig দ্বারা প্রকাশ করা হয় । .
ইমিনোগ্লোবিন ৫ ধরনের যথা- ১ । Ig G (G=gamma)
2 । Ig M (M=mu)
৩। Ig A (A=alpha )
4.। Ig E (E=epsilon)

৫ । Ig D (D=delta)


হেমচুরিয়া- মূত্রে রক্ত তথা লোহিত কনিকা থাকিলে তাকে হেমচুরিয়া বলে। কিডনীর প্রদাহ, মূত্রথলির প্রদাহ, মূত্র পাথরী, কিডনীর ক্যান্সার, মূত্রনালী পথে টিউমার ইত্যাদি কারণে হেমচুরিয়া দেখা দেয় ৷



সেপটিসেমিয়ার কারণ :
সেপটিসিমিয়া:  রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের সর্বত্র জীবাণু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াকে সেপটিসিমিয়া বা রক্ত দূষণ বলে । সাধারণতঃ কোন একটি নির্দিষ্ট সংক্রমিত অঙ্গ থেকে রক্তপ্রবাহে এই রকম জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে । সেপটিসিমিয়া একটি গুরুতর অবস্থা। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, কাঁপুনি এবং মারাত্মক শারীরিক দুর্বলতা থাকতে পারে। এছাড়া কিডনী, ফুসফুস কিংবা অস্থিসন্ধিতে জীবাণু সংক্রমণের উপসর্গ থাকতে পারে । চিকিৎসা না করলে এর ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশী । তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সদৃশ লক্ষণ অনুসারে চিকিৎসা করলে অনেকের জীবনহানি রোধ করা যায় ।


ভিডিআরএল (VDRL) – Venereal disease research laboratory test) |
ইহা রক্তে সিফিলিস জীবাণুর উপস্থিতির একটি পরীক্ষার নাম যেখানে পদ্ধতিটার উন্নয়ন করেছিল ইপোনাইমাস (Eponymous lab) নামক একটি পরীক্ষাগার। এ পদ্ধতিতে রক্তে সিফিলিস জীবাণুগুলি আলাদা করে ফেলা হয় কিন্তু অন্যান্য সিফিলিস পরীক্ষাতে সিফিলিস রোগ সনাক্ত করা হয় ।


 


 


এক্সজুডেট ও ট্রান্সজুডেট এর মধ্যে পার্থক্য:
এক্সজুডেট – দেহের কোন প্রদাহ বা ক্ষতস্থান থেকে যে রস বা পুঁজ নির্গত হয় তাকে একজুডেট বলে ।

ট্রান্সজুডেট – ক্যাপিলারীর পাতলা পর্দাযুক্ত দেওয়ালের ভিতর দিয়ে যে প্রক্রিয়ায়, রক্ত টিস্যুতে বা কোষে পরিচালিত হয় তাকে ট্রান্সজুডেট বলে ।


লিওকেমিয়ার কারণসমূহ :
ক) প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায় নাই
খ) আনুষঙ্গিক কারণগুলি হল :
১। অনকোজেনিক ভাইরাস (Oncogenic Virus ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে) ।
২। ম্যালিগন্যান্ট নিওপ্লাজম (Malignant Neoplasm  যার ফলে কোন কোষ অস্বাভাবিক পরিমাণে সৃষ্টি হতে থাকে) যা ক্যানসার তৈরির উপাদান ।
৩ । দেহে কোন বিকিরণের ইতিহাস থাকিলে ।
৪ । বংশগত প্রবণতা থাকিলে ।


অটোক্লেভ এর নীতিগুলি:
ক) অটোক্লাভের ভিতর উচ্চ চাপে, উচ্চ তাপের বাষ্প (Steam) পরিচালিত হয় । ফলে রোগ জীবাণু মরে যায় ।
খ) উচ্চ চাপের ফলে পানির বয়লিং (Boiling point) পয়েন্ট বেড়ে যায় যার ফলে নিখুঁত ষ্টেরিলাইজেশন হয় ।


নিওপ্লাজমের সংজ্ঞা:
দেহের কোন অস্বাভাবিক কোষ কলার বৃদ্ধিকে নিওপ্লাজম বলে । ইহারা বেনিন বা মেলিগন্যান্ট হতে পারে । যেমন টিউমার । নিওপ্লাজমের শ্রেণিবিভাগ-
ইহারা দুই প্রকার যেমন-
১। ভদ্র বা সাধারণ নিরাপদ কোষ বৃদ্ধি (Benign) যেমন বেনাইন টিউমার, ইহারা ক্যানসার কোষ উৎপাদন করে না ।
২। মারাত্মক ধরনের নিওপ্লাজম (Malignant)। ইহারা ক্যানসার কোষ উৎপাদন করে এবং এক অঙ্গ হতে অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করে ।


উইডাল টেস্ট / ভিডাল টেস্ট:
কোন রোগীর এনটারিক ফেবার বা টাইফয়েড জ্বর হয়েছে কিনা তা নির্ণয়ের পদ্ধতি । উইডাল টেস্টের রেজাল্ট যখন-
TO Antigen Titer = 1 : 160 বা
TH Antigen Titer = 1 : 160 বেশী হয় তাকে পজিটিভ উইডাল টেস্ট বলে ।


হাইপারসেনসিটিভিটি (Hypersensitivity):
হাইপারসেনসিটিভিটি বা অতি সংবেদনশীলতা— মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণীর শরীরের ভিতর নানা অ্যালার্জেন প্রবেশ করলে যে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে তা অতি সংবেদনশীলতা নামে পরিচিত। অ্যালার্জেন বলতে শরীরের ভিতর শ্বাসের সঙ্গে, খাদ্যের সঙ্গে, ত্বক দিয়ে কিংবা ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢোকা বিভিন্ন রকম পদার্থকে বুঝান হয় যা এক রকম অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে । অ্যালার্জেন দ্বারা সৃষ্ট শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া অ্যালার্জি নামেও পরিচিত । এজমা, হে-ফিভার, একজিমা, স্পর্শজনীয় ত্বকীয় প্রদাহ প্রভৃতি অ্যালির্জির উদাহরণ। অ্যালার্জেনসমূহ সাধারণত বিষাক্ত নয়। প্রথমবার শরীরে ঢোকার পরে এরা কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না । কিন্তু দ্বিতীয় কিংবা তারপর শরীরে ঢুকলে এরা মাত্ৰা ও তীব্রতা ভেদে নানা রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড, ঔষধ, রাসায়নিক পদার্থ এবং ধাতুর লবণ অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করতে পারে ।

Disclaimer:
This blog post is for study purposes only. It is not a substitute for professional medical advice. Please consult a healthcare professional for personalized guidance and treatment. Self-medication is strongly discouraged.

Scroll to Top