হোমিওপ্যাথিতে প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন এর গুরুত্ব :প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন বা ব্যবহারিক চিকিৎসা বিধান ওষুধ বিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে একটি রোগের সংজ্ঞা, কারন, মানসিক ও শারীরিক লক্ষণ ,আক্রান্ত অঙ্গের টিস্যুর ধরন ও বিকৃতি, রোগের সঙ্গে আনুষঙ্গিক ও পরবর্তী উপসর্গ, রোগের ভাবি ফল ও চিকিৎসা সম্ভাব্য ওষুধ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় ।
হোমিওপ্যাথি একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। যে চিকিৎসক প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন সম্পর্কে যত বেশি দক্ষ চিকিৎসায় তত বেশি সফল। প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন এর জ্ঞন ছাড়া চিকিৎসক হওয়া যায় না। কারণ আদর্শ চিকিৎসকের সংজ্ঞা হতে আমরা জানি – যে চিকিৎসক রোগীর স্বাস্থ্য বিকৃতি সাধনকারী এবং রোগ উৎপাদক কারণসমূহ অপসারণ করে রোগীর সুস্থ থাকার উপায় সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তিনি প্রকৃত আদর্শ চিকিৎসক। একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কে অবশ্যই রোগ, রোগী ওষুধপত্র পথ্য , ঔষধের শক্তি, মাত্রা এর উপর জ্ঞান থাকতে হবে। আর এই সকল বিষয় প্র্যাকটিস অফ মেডিসিনের আলোচ্য বিষয়। সুস্থ ও অসুস্থ অবস্থায় সৃষ্ট লক্ষণসমূহ জানতে হলে প্র্যাকটিস অফ মেডিসিনের দক্ষ হতে হবে। প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে ঔষধ নির্বাচন সহজ হয়। ডাক্তার হেনিম্যান তার অর্গানন অফ মেডিসিন গ্রন্থের ৩ নং সূত্রে একজন আদর্শ চিকিৎসকের গুণাবলী সম্পর্কে বলেছেন যে একজন আদর্শ চিকিৎসককে রোগ সম্পর্কে জ্ঞান, ওষুধ সম্পর্কে জ্ঞান এবং ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলতে পারি যে হোমিওপ্যাথিতে প্র্যাকটিস অফ মেডিসিনের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় একটি রোগের সংজ্ঞা, রোগের কারন, মানসিক ও শারিরীক লক্ষন, আক্রান্ত অঙ্গের টিস্যুর ধরণ ও বিকৃতি, রোগের সঙ্গে আনুষঙ্গিক ও পরবর্তী উপসর্গ, রোগের ভাবী ফল ও চিকিৎসার সম্ভাব্য ঔষধ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে প্রাকটিস অব মেডিসিন বলে ।
ফাষ্ট এইড– হঠাৎ কেহ সাংঘাতিকভাবে অসুস্থ্য হইয়া পড়িলে, দুঘটনায় পড়িলে, পুর্নাঙ্গ চিকিৎসার পূর্বে প্রাথমিক ভাবে রোগীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য যে সব ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় তাকেই ফাস্ট এইড বলে ।
ফাষ্ট এইডের গুরুত্ব- আধুনিক এই যন্ত্র সভ্যতার যুগে প্রতি মুহুর্তে মানুষ বাড়ী-ঘর, রাস্তাঘাট, যান বাহন, কলকারখানায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরপরই হাতের কাছে চিকিৎসক পাওয়া নাও যেতে পারে বা ডাক্তারের নিকট পৌঁছাতে বিলম্ব হয়ে যেতে পারে । অতি সাধারণ একটি দুর্ঘটনায়ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু বা মারাত্মক অঙ্গহানি হয়ে যেতে পারে । তাই প্রতিটি নাগরিকের ফাষ্ট এইড সম্বন্ধে ধারনা থাকা অতি জরুরী ।
প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধের লক্ষণ ভিত্তিক আলোচনা–
১। সাইনোডন ড্যাটাইলোন (দুর্বা)- শরীরের কোন স্থান কাটিয়া গেলে বা থেঁতলাইয়া গেলে সেই স্থানে দুর্বার রস লাগাইয়া দিলে তৎক্ষনাৎ রক্ত স্রাব বন্ধ হয় ও শীঘ্রই ক্ষত শুকাইয়া যায় ।
২। এমিল নাইট্রাইট-হিষ্টিরিয়া, মৃগীর ফিট, হাঁপানির টান, মুর্ছা, তড়কা, আক্ষেপ, ধনুষ্টঙ্কার প্রভৃতি রোগে ইহার আঘ্রান নিলে আশু উপশম হয় ।
৩ । হাইপারিকাম-স্নায়ুময় অংশে বিশেষতঃ হাতের ও পায়ের আঙ্গুল ও নখ থেঁতলাইয়া গেলে । আঙ্গুলের ডগায় পিন, কাটা বা কোন ছুচালো জিনিস বিধিয়া ধনুষ্টঙ্কার হইবার উপক্রম হইলে হাইপারিকাম উপকারী ।
৪ । ক্যালেন্ডুলা- কোন স্থান কাটিয়া গেলে, আঘাত লাগিয়া ছিন্নভিন্ন হইয়া গেলে বা অন্য কোন, প্রকারে ঘা হইলে গাঁদা ফুলের পাতার রস লাগাইলে পুঁজ জন্মিতে পারে না এবং শীঘ্র আরোগ্য হইয়া যায় ।
৫। ক্যান্থারিস-মূল আরক পানির সহিত বা সূরাসারে মিশ্রিত করিয়া আগুনে পোড়া ক্ষতে লাগাইলে শীঘ্রই ক্ষত শুকাইয়া যায় ।
৬ । আর্ণিকা- কোন অঙ্গের অতিরিক্ত ব্যবহার বা আঘাতের দরুন ব্যথা হলে আর্ণিকা সেবন করিলে ব্যথা দূর হয়ে যায় ৷
উদারাময়: বার বার কুন্থনহীন তরল মলত্যাগ করাকে উদরাময় বলে । যে কোন কারনে ক্ষুদ্রান্ত বা বৃহদান্ত্রের প্রদাহ হলে ঐ সকল স্থানের মিউকাস মেমব্রেন হতে অতিরিক্ত মিউকাস নিঃসৃত হয় । ফলে খাদ্য দ্রব্য ঠিকমত হজম না হইয়া উদারাময় হয় ।
উদারাময়ের কারণ সমূহ :
১। গুরুপাক খাদ্য গ্রহন, অতিভোজন, চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহন ।
২। বাসি পচা খাবার গ্রহন ।
৩ । অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরমের ফলে ।
৪ । অত্যন্ত গরমের পর ঠান্ডা পানি দিয়া গোছল করিলে বা বরফ ঠান্ডা পানি পান করিলে ।
৫। কোষ্ঠ পরিস্কার করার জন্য বার বার জোলাপ গ্রহন করিলে ।
৬। কোন জীবানুর আক্রমনের ফলে ।
৭। সুগভীর শোক, দুঃখ, ভয় ও ক্রোধের কারণে ।
৮ । অন্ত্রের ক্ষত, লিভার/প্লীহা আক্রান্ত হলে ।
৯ । কোন কোন সময় টাইফয়েড আক্রমনের প্রাথমিক লক্ষন ।
১০। ধাতুগত কারণেও (Constitutional) উদারাময় হতে পারে ।
উদরাময়ের প্রতিষেধক ব্যবস্থা সমূহ নিম্নে আলোচিত হল:
১। রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হবে ।
২। প্রায় ক্ষেত্রেই রোগীর পেটে গরম সেক দিলে আরাম · অনুভব করে ।
৩। এক ড্রাম ব্রান্ডি পানির সাথে মিশিয়ে খেলে পেটের ব্যথার উপশম হয় ।
৪। ডিহাইড্রেশন রোধ করার জন্য অবিলম্বে স্যালাইন খেতে দিতে হবে ।
৫ । তীব্রতা কমার পূর্ব পর্যন্ত সমস্ত খাবার বন্ধ রাখতে হবে ।
৬ । তীব্রতা কমে আসলে নরম ও সহজ প্রাচ্য খাবার দিতে হয় ।
৭। রোগ ভাল হলেও অনেকদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
উদারাময়ের চিকিৎসা পদ্ধতি:
সদৃশ্য লক্ষন অনুসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করতে হবে । যেমন-
পালসেটিলা– ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভাব, প্রতিবার মলের রঙ ও ঘনত্ব পরিবর্তন হয়। পূর্বের গ্রহণ করা খাদ্যের স্বাদযুক্ত ঢেকুর ইত্যাদি ।
ইপিকাক-উদারাময়ের সহিত বমি ।
একোনাইট-পিপাসায় পানি ব্যতীত সব তিক্ত বোধ। অস্থিরতা, ছটফটানি ও মৃত্যুভয় দেখা দেয়। সর্বাঙ্গে প্রদাহ। শিশুর একগাল রিবর্ণ অন্য গাল লাল ।
জেলসিয়ম-অন্যান্য লক্ষণের সহিত মাথা ব্যথা থাকে ।
আর্সেনিক এলবাম- আহার ও পানের পর বমি। ঘন ঘন পিপাসায় বার বার অল্প পরিমানে পানি পান করে। রোগী অত্যন্ত দুর্বল হইয়া পড়ে ।
এলো-সকোট্রিনা – পানাহারের পর বাহ্যের বেগ, পেটে গড়গড় শব্দ, মলের সহিত বায়ু নিঃসরন। পেটের বায়ূ বের হওয়ার সময় বা মূত্র ত্যাগের সময় অসাড়ে মলত্যাগ বা পোঁদগলা ।
এন্টিম ক্রুড-জিহ্বায় ঘন সাদা লেপ, অজীর্ণ ভুক্ত খাদ্য মলের সঙ্গে নির্গমন (Lienteria), শিশু ডাক্তারকে দেখলে ঘ্যান ঘ্যান করে ।
আর্জে নাই– মলত্যাগ কালে মলের সঙ্গে বায়ূ নিঃসৃত হয় । অনবরত মলের রঙ ও ঘনত্ব পরিবর্তন হয় ।
চায়না- বেদনাহীন, অজীর্ণ ভুক্ত খাদ্য নির্গমন।
উদারময়ের ভাবীফল:
একিউট উদরাময়- এর ভাবীফল ভাল, সঠিক সদৃশ চিকিৎসাতে রোগী সম্পূর্ণ রোগমুক্ত হয়ে যায় ।
ক্রনিক উদরাময়- দূর্বলতা- ক্লান্তিকর ও বিরক্তিকর । কোন কোন সময় টাইফয়েড সহ অন্যান্য রোগের আক্রমণে সংকেত দেয়। উদরাময় দীর্ঘদিন থাকলে আমাশয়ে রূপান্তরিত হয় ।
উদরাময়ের প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
উদরাময়ের অন্যতম কারণ এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন। বিশেষতঃ Board spectrum এন্টিবায়োটিক যেমন- Clindamycin, ইহা ব্যবহারের ফলে Intestinal flora-এর স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে মল শক্ত না হয়ে তরল হয়ে যায়। তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
খ) কোন কোন শিশুর খাদ্যে ল্যাকটোজ, মিল্ক গোটিন এলার্জি, (বিশেষতঃ গরুর দুধ) অতিরিক্ত খাবার দেওয়া, অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার ইত্যাদিতে ডায়রিয়া হয় । শিশুর খাদ্য তালিকার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে ।
গ) এলিমেনটারী ক্যানেলে (মুখ হতে মলদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত খাদ্যনালী) রোগ সংক্রমণ ঘটিলে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে । সংক্রমণের কারণ দ্রুত অপসারণ করতে হবে । ঘ) নিউমোনিয়ার ফলে; বিশেষতঃ শিশুদের ডায়রিয়া হতে পারে। নিউমোনিয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে ।
ঙ) কৃমির আক্রমণে তরল পায়খানা হয় । কৃমি নির্মূলের ব্যবস্থা নিতে হবে । চ) আহার ও পানীয় ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হতে হবে।
ছ) অতিরিক্ত উন্নত মানের ও নিকৃষ্টমানের তথা কুপথ্য বর্জন করতে হবে । জ) শরীরের বাহিরের অঙ্গগুলি অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা হতে রক্ষা করতে হবে । ঝ) সুগভীর মানসিক উদ্বেগ/দুঃশ্চিন্তা হজম শক্তিকে দুর্বল করে, ফলে মল পাতলা হয়ে যায় । ইহা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে ।
শিশু উদরাময়-শিশুরা যখন বার বার পানির মত তরল মলত্যাগ করিতে থাকে তাকে শিশু উদরাময় বলে ।
শিশু উদরাময়ের কারণ সমূহ-
১। ডাইয়িটেটিক ডায়রিয়া (Dietetic Diarrhoea) – শিশু অনুপযোগী খাদ্য খেয়ে উদরাময় ।
২। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance)- যে সব শিশু দুধের ল্যাকটোজ হজম করিতে পারে না ।
৩। মিল্ক প্রোটিন এলার্জি (Milk portein allergy) – বিশেষ করে যে সব শিশু গরুর দুধ হজম করতে পারে না ।
৪। ওভার ফিডিং (Over feeding)- প্রয়োজনাতিরিক্ত খাবার খেলে ।
৫। অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলে
৬। প্যারেনটেরাল ডায়রিয়া (Parenteral diarrhoea)
৭। ইনফেকটিভ ডায়রিয়া (Infective diarrhoea)
শিশু উদারাময়ের লক্ষণাবলী :
১ । বার বার তরল বা পানির মত তরল মলত্যাগ ।
২। প্রথম প্রথম মলের রঙ ও ঘনত্ব স্বাভাবিক থাকে, ধীরে ধীরে মলে পানির পরিমান বেড়ে যায় ।
3। মলের রঙ হলদে থেকে সবুজে পরিণত হয় ।
৪ । মলের সঙ্গে দই/ছানার মত পদার্থ থাকে,
৫ । অল্প দুর্ঘন্ধযুক্ত মল ।
৬। উদরাময়ে বমি হতে পারে
৭ । প্রথম দিকে স্বাভাবিক থাকে । শেষের দিকে শিশু খাদ্য গ্রহন বন্ধ করে দেয় ও দুর্বল হয়ে পড়ে ।
শিশু উদরাময়ে ব্যবহৃত ৪টি ঔষধের লক্ষনাবলী:
রিউম— দাঁত উঠার সময় উদরাময়, মলে টক গন্ধ, শিশুর সর্বাঙ্গে টক গন্ধ । মাথার ঘামে চুল ভিজে যায়। শিশু রাতে – চিৎকার করে কাঁদে, মুখ হতে লালা পড়ে । খেলাধূলায় অনাগ্রহ ।
ইথুজা— শিশুদের দাঁত উঠার সময় উদরাময়, শিশুদের বহুরোগে ইহা ব্যবহৃত হয় । শিশু ক্রন্দনশীল, কুকুর, বিড়াল ইঁদুর দেখলে ভয় পায়। দুধ মোটেই সহ্য করিতে পারে না, পান করামাত্র তা বমি করে ফেলে দেয়। বমি দইয়ের মত চাপ চাপ এবং টক গন্ধযুক্ত । বমি করা মাত্র শিশু ঘুমাইয়া পড়ে এবং জেগে উঠে দুধ পান করে । মল পাতলা সবুজবর্ণ ।
ভিরেট্রাম এলবাম— সকল পীড়ার সহিত কপালে ঠান্ডা ঘাম, মুখ মন্ডল বরফের মত ঠান্ডা । পানির মত সবুজাভ পাতলা মল ভুক্ত দ্রব্য সহ সবেগে নির্গত হয়। বাহ্যে বমি যখন এক সঙ্গে দেখা দেয়। রাক্ষুসে ক্ষুধা, ঠান্ডা পানি পানের পিপাসা, নিঃশ্বাস ঠান্ডা ।
ক্যাক্ষর– সমস্ত শরীর বরফের মত ঠান্ডা অথচ গায়ে কোন কাপড় রাখিতে পারেনা । মল কালচে, অসাড়ে নির্গত হয় । ঠান্ডা পানি পান করিতে চায় নিঃশ্বাস ও জিহ্বা ঠাণ্ডা ।
লিভার সিরোসিস- কোন কারনে লিভারের প্রদাহের ফলে যদি লিভারের হেপাটিক সেলগুলি ধ্বংস হয়ে লিভারের আকার কুচকাইয়া ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে তাকেই লিভার সিরোসিস বলে ।
ইহার কারন ইডিওপ্যাথিক তথা মায়জম ঘটিত কোন চিররোগ উপবিষের প্রবণতা দ্বারা । অতিরিক্ত Strong alcohol গ্রহন করিলেও এই রোগ হতে পারে । ইহার আর এক কারন লিভারে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন ।
লিভাবে বেদনা, ডানদিকে ব্যথা, ডান কাঁধে, ডান বুকে ও ডান পেটে ব্যথা থাকে । সেই সঙ্গে ক্ষুধার অভাব, মুখে তিক্ত স্বাদ, বমি ও গা-বমি-বমি ভাব, তিক্ত বমন, দেহের শীর্ণতা কিন্তু পেট ও পা এর শোথ, কাল বর্ণে র ভেদ বমি, কোষ্ঠবদ্ধতা বা উদরাময় ইত্যাদি থাকে ।
যেহেতু লিভার ফ্যাট জাতীয় খাবার বিপাক করিতে পারে না তাই লিভার সিরোসিসের রোগীকে চর্বি জাতীয় খাবার বর্জন করিতে হয় এবং উচ্চ কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খেতে হয় ।
লিভার সিরোসিসের কারণ :কোন কারনে লিভারের প্রদাহের ফলে যদি লিভারের হেপাটিক (hepatic from the Greek word for liver.)সেলগুলি ধ্বংস হয়ে লিভারের আকার কুচকাইয়া ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে তাকেই লিভার সিরোসিস বলে ।
লিভার সিরোসিসের কারণ :
১। ইডিওপ্যাথিক (Idiopathic) তথা মায়াজম ঘটিত কোন চিররোগ বিষের প্রবণতা দ্বারা ।
২। কোন কড়া এলকোহল (Strong alcohol) বার বার অতিরিক্ত পরিমানে পান করা ।
৩ । কোন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন দ্বারা ।
লিভার সিরোসিসের লক্ষণ ঃ
১। রোগের আক্রমন হয় খুব ধীরে ধীরে ।
২। লিভারে ব্যথা, ডানদিকে ব্যথা, ধীরে ধীরে ডান কাঁধে, ডান বুকে ও ডান পেটে ব্যথা ।
৩। ক্ষুধাহীনতা, মুখের স্বাদ তিক্ত, ঢেকুর উঠে ।
৪ । বমি ও গা বমি বমি, পিও বমি ।
৫। উদরাময় বা কোষ্টকাঠিন্য- কাদার মত বা সাদা রঙের মল ।
৬। শীর্ণতা দেখা যাবে কিন্তু পা ও পেট ফুলে যায় ।
৭। শীর্ণতা, দূর্বলতা, রক্তশূন্যতা দেখা দেয় ।
৮। অর্শ- রক্তস্রাবযুক্ত।
৯। মেলিনা- কাল বর্ণের ভেদ/বমি।
১০ । মহিলাদের ঋতুবদ্ধতা (Amenorrhea)।
১১ । পুরুষদের ধ্বজভঙ্গ (Impotence)।
১২। লিভারের কোন অংশে Solid lump বা Nodule অনুভূত হয় ।
১৩। লিভারের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়- আকারে ছোট বা বড় হয়ে যেতে পারে ।
১৪ । পেটের শিরাগুলি মোটা হয়ে যায় ।
১৫ । প্লীহা বড় হয়ে যায় ।
১৬। মূত্র পরিমানে কমে যায়। উজ্জ্বল রঙের এলবুমেন থাকতে পারে । প্রস্রাব কষ্টকর ।
১৭। পরিশেষে ডিলিরিয়াম (Delirium),অচেতন (Stupor) ও কমা (Coma) দেখা দিতে পারে ।
লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা পদ্ধতি:
১। রোগীর অভ্যাসগুলি সংশোধন করতে হবে ।
২। কমপ্লিট বেড় রেষ্ট নিতে হবে ।
৩। এলকোহল এবং মসল্লাযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে ।
৪ । মাংস ভক্ষণ সীমিত পরিমানে রাখতে হবে ।
৫। সুষম এবং উচ্চ কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খেতে হবে ।
৬। এই অবস্থায় লিভার ফ্যাট জাতীয় খাবার বিপাক (Metabolised) করতে পারে না । তাই উহা বর্জন করতে হবে ।
৭। লিভার সিরোসিস রোগীর উপযোগী বিশেষ ধরনের দুধ, ডিম, সবজি এবং শস্য জাতীয় খাবার রোগীর জন্য ব্যবস্থা করতে হবে ৷
৮। কোষ্ঠ কাঠিন্য থাকলে Laxatives এবং প্রস্রাব কমে গেলে Diuretics উপকারী ।
লিভার সিরোসিসের ইনভেষ্টিগেশন:-
১। হিমোগ্লোবিন-স্বাভাবিকের চেয়ে কম
২। টি.সি.এল (T.C.L) লিউকোপিনিয়া-(Leucopenia- WBC এর পরিমাণ কমে যাওয়া)
৩। প্লাটিলেটস-কর্ম
৪ । ই.এস,আর বেশী
৫ । প্রোথমবিন টাইস-দীর্ঘস্থায়ী
৬। বিলিরুবিন-বেশী
৭। ইউ,এস,জি (USG) লিভার কোচকান, প্লীহা বড়, এসসাইটিস (Ascites) বা উদরী ।
সদৃশ লক্ষণ অনুযায়ী লিভার সিরোসিসে নিম্নোক্ত ঔষধ ব্যবহার:
১। এপিস— শোথের সঙ্গে প্রসাব কমে যাওয়া, পিপাসাহীনতা, ঘর্ম হীনতা, লিভার প্রদেশে হুল ফোটান জ্বালা, স্পর্শ সহিষ্ণুতা ।
২। এপোসাইনাম– মদ্যপায়ীদের শোথ, প্রস্রাব ও ঘর্মের অভাব । প্রস্রাব হইতে থাকিলে বা ঘর্ম দেখা দিলে শোথ কমিয়া যায় । পিপাসা আছে কিন্তু ঠান্ডা পানি সহ্য হয় না, বমি হইয়া যায় ।
৩। আর্সেনিক এলবাম– শীতকাতর, পিপাসায় অল্প অল্প পানি পান করে, গরমে উপশম হলেও মাথা ব্যাথায় ঠান্ডায় উপশম । রোগ লক্ষন মধ্য দিবস ও মধ্য রাত্রিতে বৃদ্ধি ।
৪। মার্কসল- তৈলাক্ত ঘর্ম, ঘর্মে উপশম হয় না বরং উপসর্গের বৃদ্ধি হয় । লিভার বড় হয়ে যায় ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর ।
৫। চায়না– লিভার বর্ধিত ও শক্ত হয়ে যায়, মুখের স্বাদ তিতা ।
লিভার সিরোসিসে ব্যবহৃত ঔষধ -কার্সিনোসিন, সালফার, সিফিলি, থুজা, কার্ডয়াস- মেরিনাস, কোলেসটেরিনাম, কোনিয়ম, ক্রোটেলাস, হাইড্রাসটিস, ল্যাকেসিস, লাইকো, মার্কসল, নাক্স-ভম, ফসফরাস, ট্যারেক্সকাম, ওপিয়াম.
লিভার সিরোসিসের ভাবীফল ঃ ইহার ভাবীফল অশুভ যাহা রোগের তীব্রতা ও বিস্তারশীলতার উপর নির্ভরশীল। লিভারের অতিরিক্ত ক্ষয়জনিত ক্লান্তি, ইহার সহিত কোন ইন্টারকারেন্ট বা এসোসিয়েটেড কোন রোগের কারনে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে ।
ফ্যারিনজাইটিস– ফ্যারিংক্স, (Soft Plate) এবং টনসিলের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর প্রদাহকে ফ্যারিনজাইটিস বলে।
ফ্যারিনজাইটিসের লক্ষণাবলী:
১ । সামান্য জ্বর এবং গা ম্যাজ ম্যাজ ভাব থাকে।
২ । বার বার সর্দি, ঠান্ডা, জ্বর, হাঁচি হয় ।
৩ । গলা ব্যথা, গলার মধ্যে কোন কিছু আটকে আছে এমন বোধ,গলার মধ্যে চুল আটকে আছে বা কাঁটা ফোটার মত বোধ।
৪ । গলার স্বর ভেঙ্গে যায় । কফ বের করার জন্য রোগী বার বার গলা খাকারী দেয় এবং বার বার ঢোক গিলে ।
৫। রোগী হা করলে মুখগহবরের আক্রান্ত অংশে রক্ত সঞ্চয়ের লাল আভা দেখা যায় ।
ফ্যারিংজাইটিসের কারণ:
(ক) ঠান্ডা লাগলে ।
(খ) উত্তেজক জলীয় বাষ্প মুখ দিয়া প্রবেশ করিলে ।
(গ) স্বরযন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহারে ।
(ঘ) তামাক তথা ধূমপান করিলে ।
(ঙ) হজম ক্রিয়ার ব্যাঘাতের ফলে ।
(চ) ধাতুগত রোগ প্রবণতার ফলে, যেমন— গেঁটেবাত ।
(ছ) অতিরিক্ত এলকোহল পান করিলে ।
ফ্যারিংজাইটিসের জটিলতা– বার বার আক্রমণ হলে ক্রনিক গলক্ষত হতে পারে ।
ল্যারিনজাইটিস (Laryngitis) ল্যারিংক্স বা ভোকাল কর্ডে ঠান্ডা লাগা, বীজাণু সংক্রামণ অথবা অন্য যে কোন কারণে প্রদাহযুক্ত অবস্থা সৃষ্টি হওয়া এবং তার ফলে ল্যারিংক্সে বেদনা, গলার স্বর কর্কশ, ফ্যাসফ্যাসে হওয়া বা স্বর বসে যাওয়া প্রভৃতি উপসর্গসহ যে অবস্থা সৃষ্টি হয় তার নাম ল্যারিনজাইটিস ।
ল্যারিনজাইটিসের কারণ :
১। স্বরযন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার ।
২ । উত্তেজক কোন গ্যাস বা বাষ্প নাক দিয়া প্রবেশ করিলে ।
3। অতিরিক্ত এলকোহল পান ৷
৫ । কোন এলার্জির কারনে ।
৬ । শ্বাসতন্ত্রের অন্য কোন রোগ থাকলে ।
৭ । ধাতুগত কারণ তথা কোন চিররোগ উপবিষের প্রবণতা থাকিলে
ল্যারিনজাইটিসের লক্ষণাবলী :
১। ক্রনিক স্বরভঙ্গ ।
২ । গলার স্বরের বিকৃতি
৩ । গলায় ক্ষত ।
৪ । গলার ব্যথায় কোন কিছু গিলিতে কষ্ট ।
৫ । কথা বলিতে কষ্ট ।
৬ । শুষ্ক বা শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি ৷
ল্যারিনজাইটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি:
১ । যতদূর সম্ভব কম কথা বলে স্বরযন্ত্রের বিশ্রাম দিতে হবে ।
২ । ধুমপান ও এলকোহল পান বর্জন করিতে হইবে ।
৩ । ঠান্ডা থেকে দূরে থাকতে হবে। গরম ঘরে অবস্থান করতে হরে ।
৪ । গরম পানির বাষ্প নাক দিয়ে গ্রহন করতে হবে ।
৫ । গরম পানি, গরম দুধ পান করতে হবে । সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করিতে হইবে। যেমন এলুমেন, আর্জে মেট, আর্নিকা, ড্রসেরা, সেলিনিয়াম, কষ্টিকাম, কেলি বাইক্রম, সালফার ইত্যাদি ।
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে ল্যারিনজাইটিসের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ :
আর্জে-মেট– গায়ক, বক্তাদের লেরিংজাইটিস ।
সেলিনিয়াম- বৃদ্ধদের স্বরভঙ্গের সহিত ল্যারিনজাইটিস ।
আর্নিকা- স্বরযন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহারে ।
ড্রসেরা- রাতে বালিশে মাথা দেওয়া মাত্র কাশি ৷
এলুমেন- রোগী শীতকাতুরে কিন্তু শিরঃপীড়ায় ঠান্ডায় উপশম । শরীরের কোন স্থান প্রদাহিত হইলেই সেই স্থানটি ফুলিয়া কঠিন হইয়া উঠে । বহুদিন পর্যন্ত বাহ্যের বেগ হয় না। মল মার্বেলের মত, শুষ্ক, কঠিন, বৃদ্ধদের প্রাতঃকালীন কাশি ।
সেলিনিয়াম— মানসিক পরিশ্রমের ফলে দুর্বলতা, কোন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হবে এই ভয় বা আসন্ন রোগীভীতি, কাহারও সঙ্গ পছন্দ করে না, এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের এড়িয়ে চলে, চা বা এলকোহল পানের কুফল, দেহের সমস্ত অঙ্গের চুল ঝড়ে যায়, নোনতা জিনিষ পছন্দ করে না, মাথার চুলে স্পর্শাসহানুভূতি । যৌন কাজের তীব্র ইচ্ছা কিন্তু শক্তির অভাবে সঙ্গম চেষ্টায় লিঙ্গ শিথিল হয়ে পড়ে ৷ স্বরভঙ্গের সহিত কোষ্টকাঠিন্য । প্রাতঃকালীন কাশি । |
কেলিবাইক্রম- শেষ রাত ৩ টায় শুকনো ও কষ্টকর কাশি, তার সঙ্গে বুকে খোচা মারা ব্যথা, কাশি- শ্লোম্মা আঠার মতো, দড়ির মতো ঝুলে থাকে । বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হয় ।
স্পঞ্জিয়া— মনে হয় স্পঞ্জের ভিতর দিয়ে শ্বাস নিতেছে, বুকে ঘড় ঘড় শব্দ, করাত দিয়ে কাঠ চিরার মতো শব্দ । রোগী বিছানা থেকে উঠে সামনের দিকে ঝুঁকে বসতে বাধ্য হয় ।
ফ্যারিনজাইটিস (Pharyngitis) ও ল্যারিনজাইটিসের, (Laryngitis) মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
১| ল্যারিংক্স বা ভোকাল কর্ড ও এর চারপাশের ‘টিস্যুর প্রদাহকে ল্যারিনজাইটিস বলে।
ফ্যারিংক্স, Soft plate এবং টনসিলের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর প্রদাহকে ফ্যারিনজাইটিস বলে ।
২ | স্বরযন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার, উত্তেজক কোন গ্যাস বা বাষ্প দ্বারা, অতিরিক্ত ধুমপান ও এলকোহল পান, এলার্জি, শ্বাস তন্ত্রের অন্য কোন রোগের জন্য; ধাতুগত রোগ প্রবণতার ফলে ল্যারিন জাইটিস দেখা দেয়।
ঠান্ডা লাগলে, তামাক খেলে, পান খেলে, উত্তেজক কোন গ্যাস/ বাষ্প মুখ দিয়া প্রবেশ করলে, অতিরিক্ত এলকাহল পান করিলে, হজম ক্রিয়ার ব্যাঘাতের ফলে, ধাতুগত কোন রোগ প্রবণতার ফলে ফ্যারিনজাইটিস দেখা দেয় ।
৩। ভাবীফল রোগের কারণের উপর নির্ভরশীল।
ভাবীফল শুভ ।
8। Aphonia বা গলার স্বর লোপ পেতে পারে।
বার বার আক্রমন হলে ক্রনিক গলক্ষত হতে পারে ।
পালমোনারী টিউবারকিউলোসিস: মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস জীবাণু দ্বারা যখন ফুসফুস আক্রান্ত হয় তখন তাকে যক্ষ্মা বা পালমোনারী টিউবারকিউলোসিস বলে। এই রোগ দ্বারা ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ার ফলে দেহের বিভিন্ন অংশের ক্ষয় হতে থাকে তাই একে বাংলায় ক্ষয় রোগ বলে ।
ইহার আক্রমন খুব ধীরে ধীরে হয়। প্রথমে সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর থাকে । ক্রমান্বয়ে দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া । অক্ষুধা, নৈশ ঘর্ম, বৈকালিক জ্বর ইত্যাদি হয় । পরবর্তীতে রোগীর দেহ শুকিয়ে যায় ৷ কাশি— কফের সহিত পূজ রক্ত বের হয়, শ্বাস কষ্ট দেখা দেয় । ধীরে ধীরে রোগ জীবানু ত্বক, কিডনী, মস্তিস্ক, হাড় ইত্যাদি আক্রমণ করে ।
পালমোনারী টিউবারকিলোসিসের কারণ:
ইহা একটি ড্রপলেট সংক্রামক ব্যধি। এই রোগের জীবানুর নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস ।
ইহা ছড়ানোর কারণ:
১ । ঘন বসতির জন্য ।
২। স্যাতস্যাতে ও নোংরা স্থানে বসবাস ।
৩। পুষ্টিহীনতা ।
৪ । ধুমপান ।
৫ । এলকোহল পান
৬। ডায়াবেটিস মেলিটাস ।
৭। ধাতুগত রোগ প্ৰবণতা ।
পালমোনারী টিউবারকুলোসিস এর ক্লিনিক্যাল ফিচার লিখ (লক্ষণ):
১। মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক জীবানুর আক্রমণ ।
২। ইহার আক্রমণ হয় অতি ধীরে ধীরে।
৩। প্রাথমিক স্তরে- সামান্য কারণে সর্দি, কাশি, জ্বর থাকে ।
৪। ২য় স্তরে- দুর্বলতা, গা ম্যাজ ম্যাজ ভাব, ওজন কমে যাওয়া, অক্ষুধা, নৈশ ঘর্ম, বৈকালিক জ্বর, মেয়েদের মাসিকের গোলযোগ, শ্লেষ্মাযুক্ত থুথু বা কফ এবং বুকে ব্যথা হয় ।
৫। সর্বশেষ বুকে ব্যথা, কাশি হলদে, ঘন পূঁজযুক্ত, তার পর ক্রমশঃ কফের সাথে রক্ত বের হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় ।
৬। রোগীর দেহ শুকিয়ে যায় । নাড়ীর গতি বৃদ্ধি ও এনিমিয়া দেখা দেয় ।
পালমোনারী টিউবারকুলোসিস এর প্রকারভেদ :
ইহা প্ৰধানত ঃ ২ প্রকার যথা ঃ
১ । প্রাইমারী টিউবারকিউলোসিস
২। পোষ্ট প্রাইমারী টিউবারকিউলোসিস
প্রাইমারী টিউবারকিউলোসিসের ৩টি টাইপ- যথা ঃ
(ক) এসিমপটোমেটিক টাইপ- যাতে কোন লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায় না, শুধু MT তে পজিটিভ পাওয়া যায় ।
(খ) ফেব্রাইল টাইপ-যাতে জ্বর ১-২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে, ESR বেড়ে যায় ।
(গ) প্রোগ্রেসিভ টাইপ-যা ক্রমশঃ জটিল আকার ধারণ করতে থাকে ।
টিউবারকিউলোসিসের ব্যবস্থাপনা :
ক। অক্সিজেন যুক্ত মুক্ত বাতাসপূর্ণ স্থানে বসবাস করতে হইবে। দেহের বাহিরে টিউবারকিউলোসিসের জীবানু দ্রুত অক্সিজেন দ্বারা ধ্বংস হয় ।
২ । যথেষ্ট আলো প্রবেশ করে এমন ঘরে রোগীকে রাখতে হবে ।
৩ । উচ্চ ক্যালরী ও উচ্চ প্রটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে ।
৪ । স্বাস্থ্য বিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে ।
৫ । পরিপূর্ণ শারিরীক ও মানষিক বিশ্রাম নিতে হবে ।
পালমোনারী টিউবারকিউলোসিসের জটিলতা:
সঠিক সময় রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা না দিলে নিম্নোক্ত জটিলতা দেখা দেয় ৷
১ । ল্যাঙ্গ এবসেস (Lung abscess) ফুসফুসের ফোড়া ।
২। ব্রংকিয়্যাকটাসিস (Bronchiectasis)- শ্বাস-নালীর শাখা প্রশাখার প্রসারণ ।
৩। টিউবারকিউলোসিসের জীবানু অন্যান্য অঙ্গে ছড়াইয়া পড়ে যেমন-হাড়, মস্তিস্ক, কিডনী, চামড়া ইত্যাদি ।
৪ । শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় ৷
৫। ফুসফুসের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয় ।
টিউবারকিউলোসিসের অনুসন্ধান (Investigations ):
১। ESR
2। MT
3। X-RAY
8 | TCL
৫ । DLC
পালমোনারী টিউবারকুলোসিসের ভাবিফল:
কোন কোন ক্ষেত্রে ভাবীফল অশুভ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপযুক্ত চিকিৎসায় সম্পূর্ন ভাল হয়ে যায় ।
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ:
যেমন- আর্সেনিক-এ, ক্যালকার্ব, ড্রসেরা, আয়োডিয়াম, পালসেটিলা, সাইলি ইত্যাদি ।
ভাবীফল- সদৃশ বিধান অনুসারে চিকিৎসা করিলে ভাবীফল শুভ ।
সিস্টাইটিস: মূত্র থলির অভ্যন্তরস্থ মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহকে সিস্টাইটিস বলে ।
সিস্টাইটিসের কারণতত্ত্ব:
১। ক্যাথেটার ব্যবহারের ফলে ।
২ । মূত্র নিঃসরন নালীপথে কোন রোগ জীবানুর সংক্রামন ঘটিলে ।
৩ । ঠান্ডা লাগার ফলে ।
৪ । মূত্রথলিতে আঘাত লাগিলে ।
৫ । মূত্র নিঃসরন নালীর সংকোচন ।
৬। বিশেষ কোন ঔষধ ব্যবহারের ফলে যেমন ক্যানথারাইডিস (Cantharides)
৭। প্রষ্টেট গ্রন্থির বিবৃদ্ধি ।
সিস্টাইটিসের লক্ষণ:
১ । বার বার মূত্রবেগ এবং মূত্র ত্যাগকালে ব্যথা ৷
২ । প্রস্রাব ত্যাগ করার জন্য কোথ দিতে হয় ।
৩ । মূত্র ত্যাগের পূর্বে, সময় ও পরে মূত্রনালীতে জ্বালা ।
৪ । নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়ে এবং শয়ন করিলে কম বোধ হয় ।
৫ । কোন কোন সময় বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, জ্বর, হিক্কা, দূর্বলতা প্রভৃতি থাকে ।
সিস্টাইটিসে ব্যবহৃত পাঁচটি ঔষধের লক্ষণাবলী :
i) কোপেইভা— মূত্রনালী ও মূত্রথলির মুখের কাছে জ্বালা বোধ হয়। বারে বারে প্রস্রাবের বেগ হয় । এমনকি অনেক সময় প্রস্রাব করিবার কিছুক্ষন পরেই আবার প্রস্রাবের বেগ হয়। প্রস্রাব করিতে জ্বালা বোধ হয় এবং ফোটা ফোটা প্রস্রাব হয় । মূত্র ঘোলা ও ঝাঝাল । প্রস্রাব ভায়োলেট ফুলের গন্ধ । প্রস্রাব দ্বারের মুখ ফোলা । রোগী তীব্র শব্দ সহ্য করিতে পারে না । খাদ্য দ্রব্য অত্যাধিক লবণাক্ত বোধ হয়। নাকের পিছনে শুষ্কতা বোধ ও জ্বালা, নাকের অস্থির উপর মামড়ি পড়ে।
ii) সার্সাপারিলা– কেবলমাত্র দাঁড়াইয়া প্রস্রাব করিতে পারে । বসিয়া করিলে ফোঁটা ফোটা প্রস্রাব পড়ে । প্রত্যেকবার প্রস্রাব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রনালীতে অসহ্য যন্ত্রণা। শিশু প্রস্রাব ত্যাগের আগে কাঁদিয়া উঠে । জিভ সাদা, তৃষ্ণাহীনতা, মুখ হইতে লালা পড়ে। মুখমন্ডল ও উপর ঠোঁটে উদ্ভেদ । মহিলাদের স্তনের বোটা ছোট, শুকিয়ে ভিতরে প্রবিষ্ট হয় । ঋতুর আগে কপালে চুলকানি । রোগী শীর্ণ । বদমেজাজী, এবং মনমরা ।
iii) থুজা– মূত্র ত্যাগের সময় প্রস্রাব দ্বারে আগুনে পুড়িয়া ফোস্কা পড়ার মত জ্বলিয়া যায়, তীব্র কেটে ফেলার মত ব্যথা । প্রস্রাব দুই ধার হইয়া পড়ে । মূত্র দ্বার দিয়া মূত্র অথবা অন্য কোন পদার্থ বাহির হইয়া আসিতেছে এইরূপ বোধ হয়। প্রস্রাবের বেগ ধারন করিতে পারে না । যৌনিপথ অত্যন্ত স্পর্শকাতর । স্বামী সহবাসের সময় কষ্ট পায় । অন্তকোষ ফোলা, প্রষ্টেটগ্রন্থি ফোলা । কোন ভ্রান্ত বদ্ধমূল ধারণা ।
iv) ক্যানাবিস ইন্ডিকা— প্রস্রাব করার পূর্বে, প্রস্রাব করার সময় ও পরে মুত্রনালীতে জ্বালা । কিছুক্ষণ পর পরই প্রস্রাবের বেগ । মুত্রের পরিমাণ অত্যন্ত কম । প্রস্রাব করার জন্য কোঁথ দিতে হয়। প্রস্রাব ত্যাগের পূর্বে কিছুক্ষন অপেক্ষা করিতে হয় । রোগী-সামান্য কোন কথায় অত্যন্ত হাঁসে, হাসি চাপিয়া রাখিতে পারে না। হাসিবার সময় কিডনীতে জ্বালাবোধ, অত্যন্ত শব্দকাতরতা । কোন জিনিসকে বড় দেখে কয়েক হাতকে অনেক দূর মনে করে । এক সেকেন্ডকে একযুগ মনে করে ।
v)লাইকোপোডিয়াম– প্রস্রাব ত্যাগের পূর্বে পিঠে ব্যথা । প্রস্রাব ত্যাগের পর ব্যথা উপশমিত হয় । প্রস্রাবের জন্য কোঁথ দিতে হয় । প্রস্রাব ধীরে ধীরে আসে । শিশু প্রস্রাব ত্যাগ করার পূর্বে কেদে উঠে । মুত্রে লাল ইটের মত তলানী পড়ে।
সিসটাইটিস বা মূত্রথলির প্রদাহের চিকিৎসা:
১। রোগীকে বিছানায় বিশ্রাম নিতে হবে এবং পথ্য হবে দুধ । তরল ও সুষম পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে ।
২। এলকোহল, কফি, এবং মসলাযুক্ত গুরুপাক খাবার বর্জন করিতে হইবে ।
৩। প্রচুর পানি পান করার জন্য রোগীকে উৎসাহিত করতে হবে ।
৪ । গরম পানিতে গোছল করিতে হবে এবং তলপেট গরম সেক দিতে হবে
৫ । প্রয়োজনে মূত্রথলি ইরিগেট (Irrigate) করতে হবে ।
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হতে রেমিডি নির্বাচন করতে হবে।
যেমন— বেলেডোনা, ক্যান্থারিস, মার্ক-কর, লাইকোপোডিয়াম, এপিস, বেনজোয়িক-এসিড, বার্বারিস ভাল, ক্যাম্ফর, ক্যামোমিলা, ইকুইসেটাম, ইপিজিয়া, ‘ নাক্স ভম, পেরিরা-ব্রাভা, টেরিবিছিনা, আর্সে-এলবাম, ক্যানাবিস-স্যাট, কোনিয়ম, হায়োসিয়ামস, পালসেটিলা, ইউভা-উর্সি, সালফার ইত্যাদি।
ইকুইসটাম-
১। রোগী ক্রোধ প্রবণ, বৈকালে অস্থিরতা, মনে হয় সে নীচে পড়ে যাবে, অধিকাংশ লক্ষণ ডানদিকে প্ৰকাশ পায় । ২। বার বার প্রস্রাবের বেগ হয়, প্রস্রাব ফোটা ফোটা করে পড়ে, প্রস্রাব ত্যাগকালে প্রস্রাব মার্গে তীব্র জ্বালাকর কেটে ফেলার মত ব্যথা । প্রস্রাব ত্যাগের পর তীব্র ব্যথা ।
৩। প্রস্রাব ত্যাগের পরও মনে হয় মূত্র থলি প্রস্রাবে পূর্ণ ।
ইউভা উসি— বার বার প্রস্রাবের বেগ, পিচ্ছিল প্রস্রাবের পর জ্বালা,
Gastro-enteritis, একই সঙ্গে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্র অন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহ সৃষ্টি এবং তার ফলে বমি হওয়া, পাতলা পায়খানা বা উদারাময়, খুব বেশী দুর্বলতা প্রভৃতি সৃষ্টি হওয়ার অবস্থাকে বলে গ্যাস্ট্রো এন্টারাইটিস।
ক্ষুদ্র অন্ত্রের প্রদাহকে বলে এন্টেরাইটিস (Enteritis)।
বৃহদান্ত্রের প্রদাহকে বলে কলাইটিস (Colitis)।
উভয় অস্ত্রের প্রদাহকে বলে (Entero Colitis)।
পাকস্থলীর প্রদাহকে বলে (Gastritis)।
গ্যাসট্রো এন্টারাইটিসের কারণতত্ত্ব:
গ্যাসট্রো এন্টারাইটিসের (Food poisioning) কারণ দুইটি ।
যথা- ইনফেকটিভ ও নন ইনফেকটিভ।
ইনফেকটিভ— ইহাকে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা হইয়াছে,
১ । নন-টক্সিন মেডিএটেড
(ক) সালমোনিলা স্পেসিস (Species)
(খ) ক্যামপাইলোব্যক্টর (Campylobacter) জেজুনি (Jejuni)
(গ) ব্যাসিলাস সিরকাস (Cercus)
(ঘ) ভাইরাস
২। টক্সিন মেডিএটেড
(ক) স্টাফাইলোকক্কাস আরিয়াস
(খ) ক্লসট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেনস্ (Perfringens)
(গ) ক্লসট্রিডিয়াম বটুলিনাম
৩ । নন-ইনফেকটিভ
(ক) এলার্জিক-শেল ফিশ (চিংড়ি, কাকড়া), স্টবেরী
(খ) নন-এলার্জিক –
১ । ক্রোমবোটিক্সিন (মাছ) ।
২। সিগুয়াটক্সিন (ট্রপিক্যাল ফিস) ।
৩ । ফাংগি ।
৪ । রাসায়নিক দ্রব্য- যেমন কোন কোন পাত্রে রান্নার ফলে আধাঘন্টার মধ্যে বিষ ক্রিয়া হয়ে বমি শুরু হয় ।
গ্যাসট্রো এন্টারাইটিসের লক্ষণাবলী:
কোন কারণে একই সঙ্গে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্র অস্ত্রের মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ সৃষ্টি হইয়া গা বমি বমি, বমি ও উদরাময় দেখা দিলে তাকে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস বলে । দুষিত/বিষাক্ত/সংক্রামিত মাংস, মাছ, কোন কোন সময় আইসক্রিম খেয়ে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্র অন্ত্রের এই সব লক্ষণগুলি দেখা দেয় । ·
গ্যাসট্রো এন্টারাইটিসের লক্ষণাবলী:
১। খাদ্য খাওয়ার ১-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বমি বা ডায়েরিয়া বা উভয়ই এক সঙ্গে শুরু হয় ।
2। মারাত্মক গ্যাসট্রো এন্টারাইটিসের ফলে মাথা ঘোরা, প্রলাপ, অজ্ঞান বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে ।
৩। মল পানির মত পাতলা, দুর্ঘন্ধযুক্ত, মলে রক্ত, মিউকাস বা পূঁজ থাকে ৷
৪ । পেটে সাংঘাতি pain হয় ৷
গ্যাসট্রো এন্টারাইটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি :
চিকিৎসা পদ্ধতি/খাদ্যের বিষবিক্রার প্রাথমিক চিকিৎসা
১। যততাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীর পাকস্থলী পরিস্কার করিতে হইবে বা হাসপাতালে পাঠাতে হবে ।
2। সদৃশ লক্ষণ অনুসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করিতে হইবে, যেমন ইপিকাক, পালসেটিলা, আর্সেনিক, এলবাম, ক্যাম্ফর, ভিরেট্রম-এ ।
সদৃশ বিধানে এই রোগের ঔষধগুলি হল– ইপিকাক, পালস, আর্সেনিক ইত্যাদি ।
ব্রঙ্কাসের আবরনী কলায় যখন জীবন ধ্বংকারী অস্বাভাবিক কোন নতুন কোষ বৃদ্ধি হয় তাকে ব্রঙ্কোজেনিক কার্সিনোমা বা ব্রঙ্কাসের তথা ফুসফুসের ক্যানসার বলে ।
ইহার কারণ-
১ । মিশ্র মায়াজম দ্বারা ।
২ । বংশগত প্রবণতার দরুন ।
৩ । অতিরিক্ত ধুমপান করিলে ।
৪ । বিকিরণ ছড়ায় এমন কোন খনিতে কাজ করিলে।
৫ । নিকেল, কোল গ্যাস, আর্সেনিক, এজবেষ্টর ব্যবহৃত হয় এমন কোন কারখানায় কাজ করিলে ।
৬ । শিল্প অঞ্চলের বায়ূ দোষণের কারণে ।
প্রষ্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি: পুরুষের ইউরেথ্রা ও মূত্রথলীর মধ্যবর্তী অংশে থাকা সুপারীর মত আকারের গ্রন্থিটির নাম প্রষ্টেট গ্রন্থি। ইহার উপরের দিকটা চওড়া ও নীচের দিকটা সরু । ইহা অংশিকভাবে মাংসপেশী ও আংশিক গ্লান্ডুলার টিস্যু দ্বারা নির্মিত। এটার ভিতর ছোট ছোট অনেকগুলো খন্ড থাকে যা থেকে আঠাল তরল রস ক্ষরিত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বহু ডাকট দিয়ে এসে মূত্র নালীতে বীর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে তরল করে রাখে । বাল্যকালে এই গ্লান্ডটি আকারে বেশ ছোট থাকে এবং নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং যৌবনের আগমনের সংগে সংগে যৌন হরমোনের প্রভাবে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দ্বিগুন আকারের হয় এবং পূর্ণশক্তিতে ক্রিয়াশীল হয়।
প্রষ্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির লক্ষণাবলী :
১ । ইহা সাধারণত বৃদ্ধদের রোগ ।
২। ক্রমাগত কষ্টকর প্রস্রাবের বেগ, বার বার প্রস্রাবের চেষ্টা কিন্তু অতি অল্প প্রস্রাব বের হয় ।
৩ । অনবরত কোঁথ দিলেও প্রস্রাব অল্প পরিমানে বের হয় ।
৪ । কোষ্টকাঠিন্য ।
৫। প্রস্রাব নিঃসরন একেবারে বন্ধ হইয়া প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ৷
৬। প্রস্রাবের সময় কুন্থন দিলে, তবে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নিঃসৃত হয় ৷
৭ । মূত্র বেগ ধারণের অক্ষমতা, ফলে অসাড়ে প্রস্রাব নিঃসরণ ।
৮ । প্রষ্টেট গ্রন্থির ফোলার জন্য রেকটামের উপর চাপ পড়ে । ফলে রোগীর মল ত্যাগে কষ্ট হয় ৷
৯ । অল্পদিনের মধ্যে প্রদাহের উপশম না হইলে পেরিটোনাইটিস, বার বার মূত্রত্যাগের ইচ্ছা, শীত শীত ভাব, জ্বর, প্রভৃতি অব্যাহত থাকিলে বুঝিতে হইবে যে উহাতে পুঁজ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রষ্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির (Prostatic Hyperrophy / Enlargement of Prostate) ঔষধ:– ব্যারা-কার্ব, ক্যাল-কার্ব, চিমাফিলা, কোনিয়াম, ফেরাম-পিকরিকাম, লাইকো, মেডোরি, নাক্স ভম, সেবাল- সেরুলেটা, সেলিনিয়াম, থুজা, পালস, ষ্টেফিসি, এপিস, পেরিরা-ব্রাভা, নাই-এ ।
প্রষ্টেটাইটিসের জটিলতা:
১ । বার বার মুত্র নালীর প্রদাহ দেখা দিতে পারে ।
২ । দিন দিন প্রস্রাব ত্যাগের কষ্ট বাড়তে থাকে।
৩ । আসাড়ে প্রস্রাব নিঃসরণ।
৪ । প্রস্রাবের বেগ আসিলেও অনেকক্ষন কুন্থনের পর মূত্রনিঃসরণ শুরু হয়।
৫ । প্রস্রাব নিঃসরন স্বাভাবিক বেগে হয় না।
৬ । রক্ত স্রাব হতে পারে ।
প্রষ্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির রোগ নির্ণয় ও ভাবীফল: প্রষ্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির ফলে বার বার প্রস্রাবের বেগ হয়। প্রস্রাবের বেগ ধারণের অক্ষমতা, প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় এবং বার বার ইউরিনারী ট্রাকের ইনফেকশন হয়। যত বেশী কোথ দেয় প্রস্রাব তার চেয়ে কম বের হয় ।
এনলার্জ প্রোস্টেটের চিকিৎসা:
(ক) নিয়মিত প্রোস্টেটিক ম্যাসেজ করাতে হবে ।
(খ) নিয়মিত বেগ আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাব ত্যাগ করতে হবে ।
(গ) মদপান থেকে বিরত থাকতে হবে ।
ঘ) পরিমাণে কম তরল পদার্থ পান করতে হবে ।
(ঙ) ঔষধ বিফলে প্রোস্টেট গ্লান্ড কেটে (Prostatectomy) . ফেলতে হবে ।
(চ) সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিও ঔষধ ব্যবহার করতে হবে, যেমন- ব্যারা-কার্ব, ক্যাল-কার্ব, চিমাফিলা, কোনিয়াম, লাইকো, মেডোরি, নাক্স ভম, স্যাবাল-সেরু, সেলিনিয়ম, থুজা ইত্যাদি । নিউমোনিয়া
রোগ নির্ণয় :
SIVU ২। USG
ভাবীফল:– শুভ
নিউমোনিয়ার অর্থ ফুসফুস প্রদাহ। নিউমোকক্কাস, ষ্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া, ডিপ্লোকক্কাস নিউমোনিয়া অথবা অন্য কোন বীজাণুর সংক্রামণের ফলে ফুসফুসের ভিতরের ছোট ছোট বায়ুকোষ প্রদাহ হয়ে সেখানে প্রদাহ জনিত রস জমে গিয়ে ফুসফুস শক্ত হয়ে পড়া অবস্থার নাম ।
নিউমোনিয়ার কারণগুলি লিখ।
কারণ—
১। জীবাণুর সংক্রামণ ।
২। আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত জিনিস অন্যরা ব্যবহার করিলে ।
৩। অতিরিক্ত এলকোহল পান করিলে ।
৪। অতিরিক্ত পরিশ্রম ।
৫ । ঠান্ডা লাগিলে, অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভিজা কাপড়ে থাকিলে ।
৬। পুষ্টিহীনতা ।
৭। সর্দিজ্বর, ব্রংকাইটিস, কাশি, ফারিনজাইটিস প্রভৃতি রোগে ভোগার পর ।
৮। ঋতু পরিবর্তন।
৯। স্যাতস্যাতে মাটিতে শয়ন করিলে ।
১০ ।বুকে আঘাত লাগিলে ।
১১ ।হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে গেলে ।
নিউমোনিয়ার লক্ষণ :
১। হঠাৎ রোগের আক্রমণ শুরু হয় ।
২। শীত ও কাপুনি দিয়া জ্বর আসে ।
৩।. দুর্বলতা ও গা ম্যাজ ম্যাজ করে ।
৪ । মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বুকে ব্যথা।
৫। খাদ্যে অরুচি ।
৬। কাশির সহিত মরিচার মত কফ
৭। শ্বাসকষ্ট (Dyspnoea) ।
নিউমোনিয়ার ভাবীফল:
১। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১০% রোগী মারা যায় ।
২। মৃদ অবস্থায় ভাবীফল ভাল ।
৩। জটিল অবস্থায় উপযুক্ত যত্ন নিতে হবে এবং সতর্কতার সহিত চিকিৎসা দিতে হবে ।
৪। চিকিৎসা দিতে দেরী হলে জটিল আকার ধারণ করে ।
লোবার নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কো নিউমোনিয়ার পার্থক্য কি?
ব্রঙ্কো নিউমোনিয়া- যখন শ্বাসনালী এবং ফুসফুসের প্রধান নালীগুলি নিউমোকক্কাস নামক রোগ জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয় তাকে ব্রঙ্কো নিউমোনিয়া বলে ।
লোবার নিওমোনিয়া- যখন ফুসফুসের এক বা একাধিক লোব বা Air Sac বা Alveoli গুলি নিউমোকক্কাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তাকে লোবার নিউমোনিয়া বলে ।
লোবার নিউমোনিয়ার কারণ :
(ক) সুনির্দিষ্ট কারণ- ফুসফুসের এক বা একাধিক লোব নিউমোকক্কাস দ্বারা আক্রান্ত হলে ।
(খ) বিশেষতঃ জীবাণুটি টেলিফোন যন্ত্রের মাধ্যমে একদেহ হতে অন্য দেহে ছড়ায় ।
(গ) বারবার খোলা বাতাসে ঠাণ্ডা লাগিলে ।
(ঘ) অতিরিক্ত পরিশ্রম।
(ঙ) মদ্য পান ।
(চ) টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েনজা, হাম ও টিউবারকিউলেসিস ইত্যাদি রোগের আক্রমণের পর ।
লোবার নিউমোনিয়ার লক্ষণাবলী :
(ক) আক্রমণের সূত্রপাত হয় শীত, উচ্চতাপ এবং মুখে ‘ গরমে ঝলকা দিয়ে।
(খ) তাপমাত্রা 103°-105°F পর্যন্ত উঠে
(গ) অবসন্নতা দেখা দেয় ৷
(ঘ) সাধারণতঃ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খাবি খায় না কিন্তু শ্বাস-প্ৰশ্বাস দ্রুত এবং ঘন ঘন হয় ।
(ঙ) শুরুতে সাধারণতঃ কাশি ও বুকের ব্যথা থাকে না ।
(চ) দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুপাতের সহিত নাড়ীর গতি বাড়ে না ।
লোবার নিউমোনিয়ার ভাবীফল:
(ক) আক্রান্ত রোগীর প্রায় ১০% মারা যায় ।
(খ) অধিক বয়স্ক এবং কম বয়স্ক রোগীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ।
(গ) অধিকাংশ রোগীই শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায় ।
(ঘ) নিউমোনিয়াতে সবচেয়ে বিপজ্জনক হল হার্টের কার্যক্রম- রোগীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসলেও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বিছানায় উঠে বসার অনুমোদন দেওয়া যাবে না ।
লোবার নিউমোনিয়ার চিকিৎসা :
(ক) লোবার নিউমোনিয়ার সবচেয়ে উত্তম’ প্রতিষেধক চিকিৎসা হল হঠাৎ শরীরের ঠাণ্ডা লাগতে পারে এমন অবস্থা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা। যেমন, গরম আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা ঘরে প্রবেশ করা ।
(খ) যাতে অন্যরা সংক্রামিত না হয় তার জন্য রোগীর দেহ নিঃসৃত সমস্ত স্রাব ধ্বংস করতে হবে।
(গ) পুনঃ আক্রমণের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে ।
(ঘ) রোগীকে এমন ঘরে রাখতে হবে যেখানে তাপমাত্রা আরামদায়ক ও মুক্ত খোলা বাতাস প্রবেশ করে ।
(ঙ) রোগীর বিছানার চাদর ও পড়ার কাপড়-চোপড় আরামদায়ক হতে হবে।
(চ) গায়ের তাপমাত্রা যাতে বেড়ে না যায় তার জন্য দিনে কয়েকবার শরীরে স্পঞ্জ বাথ (Sponge baths) করতে হবে ।
(ছ) প্রলাপ দেখা দিলে মাথায় আইস ক্যাপ (Ice Cap) দিতে হবে ।
(জ) রোগীকে তরল খাবার দিতে হবে । বিশেষতঃ দুধ, সুপ ইত্যাদি।
(ঝ) সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিও ঔষধ ব্যবহার করতে হবে । যেমন, ফেরাম-ফস, একোনাইট, ফসফরাস, ইপিকাক, এন্টিম- টার্ট, এমন-কার্ব, কেলি-বাইক্রম, বেলেডোনা, নেট্রাম-সালফ, হায়োসি, সালফার, আর্সে-এ, নাক্স ভমিকা ইত্যাদি ।
ব্রঙ্কো নিউমোনিয়ার লক্ষণাবলী :
যখন শ্বাসনালী এবং ফুসফুসের প্রধান নালীগুলি, নিউমোকক্কাস নামক রোগ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন তাকে ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া বলে ।
ইহার লক্ষণাবলী-
১ । হঠাৎ রোগের আক্রমন শুরু হয় ।
২ । শীত ও কাপুনিসহ জ্বর ।
৩। দুর্বলতাসহ গা ম্যাজ ম্যাজ করে ।
৪ । মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা ।
৫ । ক্ষুধাহীনতা ।
৬ । বুকে ব্যথা ।
৭ । কাশি-কফ মরিচাযুক্ত ।
৮ । শ্বাস রোধভাব, শ্বাসকষ্ট ।
ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ার কারণ :
১ । অতিরিক্ত পরিশ্রম করিলে ।
২ । ঠান্ডা লাগাইলে ।
৩। ডায়েবেটিস মেলিটাস হলে ।
৪ । অপুষ্টি ।
৫ । নোংরা ও স্যাতস্যাতে স্থানে বসবাস ।
৬ । শ্বাসতন্ত্রের কোন রোগে ।
৭ । ধাতুগত রোগ প্রবণতার দরুন ।
ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ার চিকিৎসা :
১ । শরীরে যাতে ঠান্ডা না লাগে বা খোলা ঠান্ডা আবহাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে ।
২ । রোগীর ঘর খোলা ও আলো বাতাস যুক্ত হবে ।
৩। রোগীর যাতে রাত্রে ঠান্ডা না লাগে তার জন্য যথেষ্ট লেগ- তোষকের ব্যবস্থা রাখতে হবে ।
৪ । রোগীর গায়ের তাপমাত্রা যাতে বেশী না উঠে তার জন্য বার বার শরীর স্পঞ্জ করে দিতে হবে।
৫ । ভুলবকা শুরু হলে মাথায় আইসব্যাগ দিতে হবে ।
৬ । দুধের মত তরল খাবার রোগীর জন্য উত্তম।
৭ । প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে।
৮। সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে রোগীরকে একোনাইট, ফসফরাস, ইপিকাক, সালফার ইত্যাদি দিতে হবে ।
অন্ননালীর ক্যানসার (Oesophagal Carcinoma):
অন্ননালীর ক্যানসার- অন্ননালীতে অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি যাহা সাংঘাতিক অবস্থা ধারণ করে মৃত্যু ডেকে আনে ।
কারণ-
১ । প্রকৃত কারণ জানা যায় না ।
২ । মিশ্র মায়াজমের প্রভাবে ।
৩ । ধুমপান করলে ।
৪ । এলকোহল পান করিলে ।
৫ । যদি অন্যত্র ক্যানসার থাকে ।
ক্লিনিক্যাল ফিচার :
১ । পীড়ার আক্রমণ ধীরে ধীরে হয় ।
২। ডিসফেগিয়া বা জিহ্বা, গলা, মুখ, ইত্যাদির কোন অংশের প্রদাহ ।
৩ । প্রথম দিকে শক্ত খাবার বিশেষতঃ মাংশ খেলে মনে হয় গলায় আটকিয়ে যায় এবং শেষের দিকে নরম এবং তরল খাদ্য খেতে গেলেও গলায় আটকায় ।
৪ । রোগীর গলায় কোথায় আটকায় তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ।
৫ । অক্ষুধা ।
৬ । দুৰ্বলতা ।
৭ । দ্রুত ওজন কমতে থাকে ।
ইনভেষ্টিগেশন :
১। এনডোসকপি- টিউমার আছে কিনা
২। বয়পসি (Biopsy)
৩ । CT স্ক্যান
৪ । বেরিয়াম X-Ray
জটিলতা- :
১। ব্রঙ্কো নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে
২। Metastases বা রক্ত প্রবাহে সাথে মিশে অন্যত্র আক্রান্ত করে মৃত্যু ডেকে আনতে পারে ।
৩ । শীর্ণতা দেখা দেয় ।
অন্ননালীর ক্যান্সারের ভাবীফল লিখ– ভাবীফল সাধারণতঃ খারাপ।
অন্ননালীর ক্যান্সারের ব্যবহৃত ঔষধ:
– বিসমাথ, আর্সেনিক, কোনায়াম, কার্বো-এ, ক্যাডমিয়াম- সালফ, ফসফসার, ক্রিয়োজোট, হাইড্রাসটিস, ল্যাকেসিস, এসেটিক-এ, ব্যাপটিসিয়া, কার্সিনোসিন, কনডিউর্যাঙ্গো, কেলি- বাই, সালফার, সালফিউরিক-এসিড প্রভৃতি ।
ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিসের সংজ্ঞা :
প্যানক্রিয়াসের বিটাসেল বা এন্ডোক্রাইন অংশ থেকে ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, এই হরমোন গুকোজকে বিপাকিত করে। যদি এই হরমোন নিঃসরন স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে গ্লুকোজ প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়, ইহাকেই ডায়বেটিস বলে ।
ডায়াবেটিসের শ্রেণীবিভাগ :
ডায়াবেটিস ২ প্রকার যথা-
১ । ডায়াবেটিস মেলিটাস- কোন কারণে প্যানক্রিয়াস থেকে সৃষ্ট হরমোন “ইনসুলিন” এর পরিমাণ কমে যাবার ফলে দেহে কার্বো-হাইড্রেট সঠিকভাবে শোষিত হতে না পাবার ফলে রক্তে গুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে তাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে ।
২ । ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস- পিটুইটারী গ্লান্ড স্বাভাবিকের চেয়ে কম ADH (Anti-diuretic hormone) তৈরী করিলে কিডনী স্বাভাবিক পরিমাণ প্রস্রাব তৈরীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে । ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু এতে প্রস্রাবে গুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় না ।
ডায়াবেটিসের কারণ ঃ
১ । প্রকৃত কারণ অজানা ।
২ । বংশগত / ধাতুগত রোগ ।
৩ । অবিসিটির কারণে ।
৪ । বয়সজনিত কারণ ।
৫ । অতিরিক্ত শারিরীক ও মানসিক চাপ থাকিলে ।
ডায়াবেটিসের লক্ষণাবলী :
১। প্রস্রাব পরীক্ষা করলে প্রস্রাবে সুগার, ইউরিয়া ও ইউরিক এসিড পাওয়া যায় ৷
২ । অত্যাধিক পিপাসা ও ক্ষুধা থাকে ।
৩ । দেহশীর্ণ হয়ে যায় ।
৪ । গায়ে জ্বালাপোড়া থাকে ।
৫ । ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, বিশেষতঃ রাতে ।
৬ । মুখ শুষ্ক মনে হয়, দাঁতের ক্ষয় হয় ।
৭। বমি ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে ।
৮ । যৌনশক্তি কমে যায় ৷
ডায়াবেটিসের জটিলতা ডায়াবেটিসের জটিলতা সমূহ :
১। চোখের দৃষ্টি শক্তি লোপ পায় (Retinopathy) চোখে ছানি পড়ে ।
২।ডায়েবেটিক অধিকাংশ মহিলারা বন্ধা হয়ে যায় ।
৩। গর্ভবর্তীদের এমনিয়টিক সেকে অতিরিক্ত ফ্লুয়িড জমা হয় (Polyhydraminos)
৪। প্রিএকলামসিয়া ।
৫ । প্রসবের সময় সিজারিয়ান সেকশনের প্রয়োজন হয় ৷
৭ । গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
৮ । ভ্রুণের বৃদ্ধির অস্বাভাবিকতা ।
৯ । মৃত শিশু জন্মে (Stillbirth)।
১০ । ফোড়া বা কার্বঙ্কল হওয়ার প্রবণতা ।
১১ । চুল ও নখ পড়ে যেতে পারে ।
১২। পায়ের আঙ্গুলের ক্ষত থেকে গ্যাংরিন ।
১৩। পায়ে শোথ ।
১৪ । হৃৎপিন্ডের দুর্বলতা, আর্টারীর গাত্র শক্ত হয়ে পড়ে (Arterio Sclerosis)।
১৫। ডায়েবেটিসের সঙ্গে প্রায়ই যক্ষ্মা দেখা দেয় ৷
১৬ । দাতের পায়োরিয়া ।
১৭। অতিরিক্ত ক্ষুধা, অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পাকস্থলী ঝুলে পড়ে (Dilated stomach)।
১৮। প্রচন্ড পিপাসা ।
১৯ । সাধারণতঃ কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, কোন কোন সময় ডায়েরিয়া হয় ।
২০ । লিম্ফ গ্লান্ড ফুলে যায় ।
২১ । চুলকানি যুক্ত চর্মরোগ, ঘা শুকাতে দেরী হয় ।
২২। অকালে যৌন দুর্বলতা দেখা দেয় ।
ডায়াবেটিসের চিকিৎসা/ব্যবস্থাপনা ও পথ্য-পথ্যাদি সম্বন্ধে লিখ :
বহুমূত্রের ব্যবস্থাপনা :
১ । যথেষ্ট শারিরীক ও মানসিক বিশ্রাম নিতে হবে
২ । অবিসিটি থাকিলে ওজন কমাতে হবে
৩ । এলকোহল ও ধুমপান বর্জন করিতে হইবে
৪ । নিয়মিত ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার, সিরাম কোলেসটিরল, সিরাম ক্রিয়েটিনাইন পরীক্ষা করিতে হইবে ।
৫ । নিয়মিত ফানডাসকপিক পরীক্ষা করাতে হবে
৬ । খোলা জায়গায় হালকা ব্যায়াম করতে হবে ।
ডায়াবেটিসের পণ্য পথ্যাদি:
১। ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্য যেমন চিনি, আখের গুড়, মিষ্টি জাতীয় খাবার প্রয়োজনের বেশী গ্রহণ করিতে পারিবে না ।
২। প্রাতরাশ-ডিম, চা বা কফি, দুধ, ফল ইত্যাদি ।
৩। দুপুরে খাবার-মাংশ, সবুজ শাক-সবজী, পনির, চা, অল্প ভাত বা রুটি ।
৪ । বৈকালের নাস্তা-চা, ফল ইত্যাদি ।
৫। রাতের খাবার-চিকেন স্যুপ, ননীবিহীন দুধ, পাউরুটি, অল্প ভাত বা রুটি ।
সদৃশ লক্ষণে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ :
ডায়াবেটিসের ঔষধ ইনসুলিন, সিজিজিয়াম, ইউরেনিয়াম ভ্যানাডিয়াম, কারসিনোসিন, থেলিয়াম, কিউরারি, ওসমিয়াম, ইউরিয়া, আর্সে-এ, কোনিয়াম, ল্যাক-এ, লাইকো, নে-মি, নে- সালফ, নাক্স-ভম, ফসফরাস, সালফার, সিফিলি, থুজা, ব্রথপস, ল্যাকেসিস, কেলি-বাই, ওপিয়াম ।
ডায়াবেটিসের ভাবী ফল: ভাল না, নিয়ম মেনে চললে সুগার নিয়ন্ত্রনে থাকে, অনিয়ম করলে মৃত্যু নিশ্চিত ।
ষ্টোমাটাইটিস (Stomatitis) :

স্টোমাটাইটিস (STOMATITIS)-একটি ইংরেজি শব্দ এর অর্থ হল গহ্বরের প্রদাহ। গ্রীক শব্দ “Stoma” অর্থ “Mouth” আর “Itis” অর্থ Inflammations থেকে এসেছে। অর্থাৎ Stomatitis মানে Inflammation of the mouth. মুখ গহ্বরের মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহকে স্টোমাটাইটিস বলা হয়। আর প্রদাহ গলা, মাড়ী, ঠোঁটের ভেতরে প্রবং জিহ্বায় হতে পারে। Stomatitis সাধারনত তরুনদের মধ্যে বেশি হয়। প্রায়শই ১০-১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে হয়ে থাকে।
ষ্টোমাটাইটিস কারণ :
১। ধাতুগত রোগ প্রবণতার কারণে ।
২ । মুখের ভিতর আঘাতপ্রাপ্ত হলে ।
৩ । পুষ্টিহীনতা ।
৪ । হরমোনের অস্বাভাবিকতা ।
৫.। বংশগত কারণ ।
৬। নিয়মিত দাঁত ও মুখ পরিস্কার না রাখিলে ।
৭। ধুমপান, পান চিবান, এলকোহল পান, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া ।
৮ । অন্য কোন রোগের ফলে ।
৯ । কোন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে যেমন ষ্টাপটোকক্কাই ।
১০ । ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে যেমন হার্পিস, হাম ৷
১১ । ফাংগাস দ্বারা আক্রান্ত হলে ।
১২ । এইডস, ডায়াবেটিস হলে ।
১৩ । এলার্জি দ্বারা ।
স্টোমাটাইসিসের শ্রেণীবিভাগ:
ইহা চার প্রকার, যথা-
(ক) অ্যাপথাস (Aphthous)— ইহার প্রকৃত কারণ অজানা । তবে এই রোগের আক্রান্তের প্রবণতাগুলি (Predisposing causes ) হলো- আঘাত, পুষ্টির অভাব, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বংশগত ইত্যাদি ।
(খ) ক্যাটারাল (Catarrhal)— ইহার কারণগুলো হলো— মুখের ভিতর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, ধুমপান, গুল ব্যবহার, মদ্যপান, অতিরিক্ত মসলাদার খাবার, লিউকোমিয়া ইত্যাদি ।
(গ) ইনফেকটিভ (Infective)- ইহার কারণ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফ্যাংগাসের আক্রমণ ।
(ঘ) এলার্জিক (Allergic)- ইহার কারণ শাকসবজী বা ফলমূল, কোন ঔষধ, কোন ধাত পদার্থ, বিষাক্ত দ্রব্য ইত্যাদি ।
ষ্টোমাটাইটিস লক্ষণ :
১ । জিহ্বার বর্ণ পরিবর্তিত হয় বা আস্তরণ পড়ে
২। মুখের প্রচুর দুর্গন্ধমুক্ত লালা জমে
৩। মুখে ঘা হয়, শ্লেষ্মিক ঝিল্লী রক্তবর্ণ ফোলা ও বেদনাযুক্ত
৪। মাড়ী লালবর্ণ ও ফোলে
৫ । দাঁত নড়ে, গোড়ায় পুজ হয় ও অকালে পড়ে যায়।
ক্যাটারাল ষ্টোমাটাইটিসের লক্ষণাবলী বর্ণনা কর :
যে ষ্টোমাটাইটিসে মুখের শ্লেষ্মাঝিল্লী হইতে অতিরিক্ত শ্লেষ্মাস্রাব নির্গত হয় তাকে ক্যাটারাল ষ্টোমাটাইটিস বলে । ক্যাটারাল ষ্টোমাটাইসির লক্ষণাবলী :
১ । মুখের ভিতর যেমন মাড়ি, গাল লাল বৰ্ণ হয় ৷
২। প্রচুর শ্লেষ্মা নির্গত হয় । শ্লেষ্মা ঘন পূজেঁ পরিনত হতে পারে । শ্লেষ্মায় বিশ্রী গন্ধ হতে পারে ।
৩ । মাড়ীতে ফোস্কা পড়তে পারে ও মাড়ী ক্ষয় হতে পারে ।
৪ । জিহ্বার বেদনার ফলে নড়াচড়ায় কষ্ট ।
৫ । মুখে কোন স্বাদ থাকে না বা তিক্ত স্বাদ বা অম্লস্বাদ ।
৬ । গলার গ্লান্ড ফুলিয়া উঠে ।
মুখক্ষতের ঔষধ-
আর্সেনিক-এ, হিপার, মার্কসল, নাই-এ, বেলেডোনা, সালফার, সালফিউরিক এসিডাম, ইথুজা, বোরাক্স, হাইড্রাসটিস, কেলি- ক্লোর, একোন, এসিড-মি, ল্যাকেসিস, ব্যারা-কার্ব, এরাম-ট্রাই, কেলি- বাই, এনথ্রাসিনাম, নে-মি, কষ্টিকাম, লাইকো
আলসারেটিভ স্টোমাটাইটিসের সহিত গ্যাংগ্রিনাস ষ্টোমাটাইটিসের পার্থক্য :
আলসারেটিভ স্টোমাটাইটিসে-
১ ।ইহা সাধারণতঃ শুরু হয় মাড়ী হতে, তাতে প্রদাহ হয় ও সহজে রক্তপাত হয় ।
২ । মাড়ির ঘায়ের ফলে দাঁত নড়ে ৷
৩ ।ঘন পূজঁযুক্ত শ্লেষ্মা নির্গত হয়, শ্বাস-প্রশ্বাস দুর্গন্ধযুক্ত।
৪ । সাধারণতঃ ইহা কোন রোগ জীবানুর আক্রমনে হয় ।
৫ । ইহা মহামারী আকারে দেখা |
গ্যাংগ্রিনাস ষ্টোমাটাইটিসে-
১ ইহাতে মুখের মধ্যে পচনশীল ক্ষত উৎপন্ন হয় এবং মুখের চারদিকে ছড়াইয়া পড়ে ।
২ । ক্ষতস্থানে সাপের খোলসের মত পর্দা পড়ে ও পর্দা উঠে গিয়ে গর্ত হয়ে যায় ।
প্রথমাবস্থা হইতেই মুখে দুর্গন্ধ হয় । ক্ষত হাড় পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে ।
৪ সাধারণতঃ ইহা মায়াজম ঘটিত, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের বেশী হয় ।
৫ | ইহা মহামারী আকারে দেখা দিতে পারে দেয় না ৷
হেপাটাইটিস :
যে কোন কারণে লিভাবের প্রদাহ হয়ে লিভারের ক্রিয়ার বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে হেপাটাইটিস বলে। ইহার ফলে জন্ডিসের লক্ষণের সহিত জ্বর, ক্ষুধাহীনতা, বমি বমি ভাব ও বমি ইত্যাদি দেখা দেয় ।
হেপাটাইটিসের ক্লিনিক্যাল ফিচার ক্লিনিক্যাল ফিচার ঃ
১ । অল্প জ্বর থাকে।
২। সন্ধি বেদনা (Arthralgia)।
৩ । পেশী বেদনা (Myalgia)।
৪ । ক্ষুধাহীনতা (Anorexia)।
৫ । বমি বমি ভাব।
৬ । বমি।
৭। ডায়রিয়া।
৮ । দুৰ্বলতা।
৯ । গা ম্যাজ ম্যাজ ভাব (Malaise)।
১০ । মাথা ব্যথা।
১১ । HAV (Hepatitis A Virus) হঠাৎ আক্রমন শুরু হয় ।
১২ । HBV (Hepatitis B Virus) আক্রমন শুরু হয় ধীরে ধীরে ।
১৩ । HCV (Hepatitis C Virus) সাব একডিট।
১৪ । HDV (Hepatitis D Virus) আক্রমন হয় ধীরে ধীরে।
১৫ । HEV (Hepatitis E Virus) একিউট।
হেপাটাইটিসের লক্ষণাবলী:
১। কম্পসহ জ্বর।
২ । সন্ধিবাত (Arthralgia)।
৩ । পেশী বাত (Myalgia)।
৪ । ক্ষুধাহীনতা।
৫ । বমি বমি ভাব ও বমি।
৬ । উদরাময়।
৭ । দুৰ্বলতা।
৮ । ম্যাজ ম্যাজ ভাব।
৯ । মাথা ব্যথা।
১০ । উপরের পেটে ব্যথা।
হেপাটাইটিসের চিকিৎসা :
সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হতে রেমিডি নির্বাচন করিতে হইবে-
একোনাইট, আর্সেনিক এলব, বেলেডোনা, ব্রাইয়োনিয়া, চায়না, ইউপেটোরিয়াম, জেলসিয়াম, এন্ড্রোগ্রাফাইটিস, চেলিডোনিয়াম, চিয়োন্যানথাস, ল্যাপটানড্রা, লাইকো, মার্কসল, মাইরিকা, নাক্স ভূমিকা, ফসফরাস ইয়োনাইমাস, মার্ক কর। ল্যাকেসিস, নেট্রাম-সালফ, করনাস- সারসিনেট, থেরিডিয়ন ।
ইউপেটোরিয়াম-পারফোলিয়েটাম-
১। জীর্ণ-শীর্ণ নেশাখোর রোগী। নীচুজমি, নদী বা খালের ধারে বসবাসের জন্য পীড়া ।
২। যে কোন পীড়ার সহিত হাড় ও মাংস পেশীতে বেদনা । মনে হয় সমস্ত শরীর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে ।
৩ । হামাগুড়ি দিলে কাশির উপশম
৪ । রোগের আক্রমন নির্দিষ্ট সময় হয় ।
৫। ঠোঁটের সংযোগ স্থলে ক্ষত
৬ । অস্থিরতার জন্য স্থির থাকতে পারে না ।
৭। প্রচন্ড পিপাসা অধিক পরিমানে ঠান্ডা পানি পান করে । পানি পানের পর বমি করে ফেলে ।
৮ । কথাবার্তা বললে মাথা ব্যথা কম লাগে
৯ । খাদ্য দ্রব্যের গন্ধে বমি
লেপট্যান্ডা—
১। আলকাতরার মত কালো বর্ণের অত্যন্ত দুর্গন্ধময়, প্রচুর মল
২। পিত্তথলি ও লিভারে ব্যথা-ঐ ব্যথা নার্ভি পর্যন্ত বা শিরদাড়া পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে। মেরুদন্ডে শীত শীত বোধ ।
৩। মুখের স্বাদ তিতা
৪ । বরফ ঠান্ডা পানীয় পান করিতে চায় । মাংসে অরুচি ।
থেরিডিয়ন-
১। শব্দে অত্যন্ত অনুভূতিশীল, সামান্য শব্দ ও মনে হয় শরীরের ভিতর প্রবেশ করে নানা উপসর্গের বৃদ্ধি ঘটায় । ২ । আত্মবিশ্বাসের অভাব, সময় খুব দ্রুত চলে যায় বলে মনে হয়, অস্থির, কোন কিছুতেই আনন্দ পায় না ৷ অত্যন্ত শীতকাতর । বাচালতা
৩। মাথা ঘোরার সহিত বমি বমি ভাব ও বমি, চোখ বন্ধ করিলে বৃদ্ধি । কেহ মেঝের উপর দিয়া হাঁটিলে ব্যথার বৃদ্ধি ঘটে ।
৪ । আলো সহ্য করিতে পারে না ।
৫। কলা ও কমলালেবু খাইবার প্রচন্ড ইচ্ছা মাদক দ্রব্য খাওয়ার ইচ্ছা
৬ । ক্ষুধা ও তৃষ্ণা প্রবল ।
পেরিটোনাইটিস :পেটের ভিতর পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র, যকৃত, প্লীহা প্রভৃতি অর্গানগুলি এক প্রকার পর্দার দ্বারা আবৃত ও সুরক্ষিত থাকে ইহাকে পেরিটোনিয়াম বলে । কোন কারণে পেরিটোনিয়ামের প্রদাহ হলে তাকে পেরিটোনাইটিস বলে ।


পেরিটোনাইটিসের কারণ: ক) ঠান্ডা লাগা ।
খ) আঘাত প্রাপ্ত হওয়া ।
গ) অস্ত্রোপচারের ফলে ।
ঘ) গ্যাসট্রো-ইনটেসটিনাল অর্গাননের প্রদাহ ।
ঙ) পাকস্থলী বা অস্ত্র ক্ষতের ছিদ্রের ফলে ।
চ) গনোকক্কাস বা নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের ফলে ।
পেরিটোনাইটিসের ক্লিনিক্যাল ফিচার :
ক) অলক্ষে রোগ লক্ষণ দেখা দেয় ।
খ) পেটে ব্যথা- অনবরত ঘিনঘিনে ব্যথা— চারদিকে ছড়াইয়া পড়ে । গ) ক্রমে ক্রমে পেট ফুলে উঠে ।
ঘ) হালকা জ্বর । ঙ) দুর্বলতা। চ) অবসন্নতা । ছ) বমি বমি ভাব ।
জ) কোষ্ঠবদ্ধতা বা উদরাময় । ঝ) ওজন কমে যায় ।
ঞ) মেয়েদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় ৷
পেরিটোনাইটিসের ব্যবস্থাপনা :
১ । প্রথমে কারণ নির্ণয় করে সেই অনুসারে চিকিৎসা করতে হবে ।
২ । রোগীকে সম্পূর্ণ বেড রেষ্ট দিতে হবে
৩ । স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে ।
৪ । সুষম খাদ্য গ্রহন করিতে হইবে ।
৫ । যথেষ্ট পরিমান তরল খাদ্য খেতে হবে ।
৬। নিয়মিত শরীরের তাপমাত্রা, শ্বাসক্রিয়া, নাড়ীর গতি, রক্তচাপ ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে । সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধ প্রয়োগ করিতে হইবে। একোনাইট, এপিস, আর্সেনিক-এলবাম, এপিস, বেলেডোনা, ব্রাইয়োনিয়া, কার্বোভেজ, ল্যাকেসিস, মার্কসল, রাস টক্স ইত্যাদি ।
লিভার ক্যানসার :
লিভারের মেলিগন্যান্ট নিওপ্লাষ্টিক গ্রোথকে লিভার ক্যানসার বা (Hepatocellular carcinoma/ Hepatoma) বলে ।
লিভার ক্যানসারের কারণতত্ত্ব–
১। প্রকৃত কারণ অজানা, কোন কোন সময় বংশগত ।
২ । এলকোহল পানজনিত লিভার সিরোসিস
৩ । হেপাটাইটিস-বি
৪ । হেমোক্রোমেটোসিস (Haemochromatosis)
৫ । খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি .
৬ । এনাবলিক ষ্টেরোয়েড (Anabolic steroids)
৭ । আমরা যে খাবার খাই তার মধ্যে আফলাটক্সিন থাকিলে ।
লিভার ক্যানসারের লক্ষণ:
১ । শীর্ণতা (Cachexia)
২ । এনিমিয়া
৩ । জন্ডিস 7
৪ । পেডাল এনিমিয়া (Pedal Anaemia)
৫ । ফিঙ্গার ক্লাবিং (Finger Clubbing )
৬। গাইনিকোমাসটিয়া (Gynaecomastia) বা পুরুষদের স্তন বৃদ্ধি
৭ । মুখমন্ডল ফ্যাকাশে বা হলদে বর্ণের হয় ।
৮ । ক্ষুধাহীনতা (Anorexia)।
৯ । বমি বমি ভাব ও বমি
১০ । পাকস্থলীতে ক্যানসার হলে লিভার ক্যানসারের সম্ভবনা থাকে ।
১১ । সর্বসময় ব্যথা থাকে ।
১২। লিভার ফুলে যায়। আকৃতির বিকৃতি ঘটে, শক্ত ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে ।
লিভার ক্যানসার চিকিৎসায় চারটি ঔষধের ব্যবহার লিখ:
সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধগুলি লিভার ক্যানসার পীড়ায় ব্যবহৃত হয়।
যেমন আর্সেনিক এলবাম, কার্ডয়াস মেরিনাস, কোলেসষ্টিরিনাম, কোনিয়ম, ক্রোটেলাস, হাইড্রাসটিস, ল্যাকেসিস, মার্ক সল, ফসফরাস, টেরেক্সকাম, কার্সিনোসিন, সালফার, থুজা ইত্যাদি ।
কার্ডয়াস মেরিয়েনাস- ইহাকে লিভারের ঔষধ বলা যায়। এলকোহল পানজনিত পীড়া । খনির কর্মীদের রোগ । ক্ষুধাহীতা বা সামান্য ক্ষুধা, মুখের স্বাদ তিতা বমি বমি ভাব বা বমি, বমির রঙ সবুজ এবং অম্ল গন্ধযুক্ত। পর্যায়ক্রমে কোষ্টবদ্ধতা ও উদরাময়। বাম পাশ চাপিয়া শুইলে লিভার প্রদেশে ব্যথা, মনে হয় লিভার বামদিকে ঝুলিয়া পড়িতেছে । মল অত্যন্ত শুষ্ক, অল্প, গাঁটগাঁট, কাদার মত রঙ, কষ্টে নির্গত হয় । শোথ ও শিরা স্ফীতি দেখা দেয়। রোগী শীতকাতর, ঝগড়া বিবাদ এড়িয়ে চলে, শব্দে কাতর ।
ক্রোটেলাস- ১। দুঃখিত ভাব, কাদুনে স্বভাব, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি ঘৃণা বা বিতৃষ্ণা, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির উপর অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিজের সাথে বিড়বিড় করে কথা বলে । বাচালতা, ভংঙ্কর জীবজন্তু আক্রমণ করিতেছে এমন বিভ্রান্তিতে ভোগে, যেন বিছানা হইতে পড়ে যাবে, যেন চারদিক শত্রু বেষ্টিত । লোকের নাম, জায়গার নাম ভুলে যায় । লিখতে বানান ভুল করে, কথা বলতে ভুল শব্দ বা বাক্য প্রয়োগ করে । মৃত মানুষের স্বপ্নদেখে ঘুমের মধ্যে লাফিয়ে উঠে । জাগলে দম আটকান ভাব হয় । হাই তোলে ।
২। শরীরের বিভিন্ন দ্বার হইতে রক্ত স্রাব, রক্ত কাল কিন্তু জমাট বাঁধে না ৷
৩ । ডানদিকে অধিকাংশ রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়-
৪ । আলোকাতঙ্ক- বিশেষত প্রদীপের আলো
৫। জিহ্বা আগুনের মত লাল, জিহ্বা বার করার চেষ্টা করলে কাঁপে ও ডানদিকে যায় ।
৬। খাদ্য খাওয়ার পর বমি, পিওবমি, রক্তবমি। ঋতু স্রাবের পর প্রতিনিয়ত বমি বমি ভাব ও বমি
৭ । মল কাল, পাতলা, দুর্গন্ধযুক্ত ।
৮ । মদ্যপায়ীদের লিভার ক্যানসার ৷
৯। আঙ্গুলের নখ হতে, দাঁতের মড়ি হতে চুয়াইয়া চুয়াইয়া রক্ত স্রাব ।
১০। যখন শীতের শেষে গরম আরম্ভ হয় তখনই রোগের আক্রমন।’ তাই রোগী গ্রীষ্মের আগমনে বিচলিত হইয়া পড়েন ।
১১ । শীরঃপীড়ার রোগী যত বেশী ঘুমায় তত কষ্ট ।
টেরেক্সেকাম- প্রধানতঃ লিভারের উপর কাজ করে। জিহ্বা মানচিত্রের মত, অপরিস্কার, স্থানে স্থানে ছাল উঠিয়া স্থানগুলি লাল দেখায় । ক্ষুধাহীনতা মুখের স্বাদ তিতা বা টক, আহারের পরে শীত বোধ । প্রচুর নৈশ ঘৰ্ম ৷ সর্বাঙ্গে ব্যথা, অন্ত্রের মধ্যে বুদবুদ শব্দ । আঙ্গুলের অগ্রভাগ ঠাণ্ডা ।
কোনিয়ম- ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, লোক সমাজে যেতে চায় না, আবার একাকী থাকতেও ভয় করে, কোন কিছুতেই উৎসাহ বোধ করে না। মানসিক পরিশ্রম করিতে অসমর্থ । সহজেই বিরক্ত হয়, প্ৰতিবাদ সহ্য হয় না । ফুসফুসের ক্যানসারের সহিত কোন স্থানে শক্ত টিউমার বা গ্লান্ড ফুলে শক্ত হয়ে যায়। চিরকুমার, চিরকুমারী বা বালবিধবা বা যৌন জীবনে যারা সংযম পালন করে। শুইলে এবং বিছানায় পাশ পরিবর্তন করিলে মাথা ঘোরে । থেমে থেমে প্রস্রাব নির্গত হয় । শুকনো কাশি সন্ধ্যায় ও রাতে বৃদ্ধি । স্বরযন্ত্রের কোন একস্থানে শুকনো বোধ হয় এবং সেই স্থান থেকেই কাশির উদ্রেক । ঋতুকালে স্তন ফুলে উঠে ও ব্যথা করে ।
লিভার ক্যানসারের ব্যবস্থাপনা ও ভাবীফল :
লিভারের মেলিগন্যান্ট নিওপ্লাষ্টিক গ্রোথকে লিভার ক্যানসার বা (Hepatocellular carcinoma) বলে ।
ব্যবস্থাপনা ঃ
১ । সম্পূর্ণ বেড রেষ্ট নিতে হবে ।
২ । সুষম এবং উচ্চ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেতে হবে ।
৩ । দৈনিক খাবারে 200 kcal বেশী ক্যালরী থাকতে হবে ।
৪ । ডাল, ডিম, মাছ এবং মাংশ খেতে হবে যা থেকে কমপক্ষে ৬০-৮০ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যাবে ।
৫। যদি এডিমা বা শোথ থাকে তাহলে লবন ও তরল পদার্থ সীমিত রাখতে হবে ।
ভাবীফল– সব সময় বিপদজনক ।
ডারমাটিটিস- চামড়ার প্রদাহকে ডারমাটিটিস বলে ।
কারণ :
১। প্রকৃত কারণ অজানা ।
২ । অতিরিক্ত ঠান্ডা বা হিমবহের ফলে ।
৩ । অতিরিক্ত গরমে, সূর্যকিরণ দ্বারা ।
৪ । আঘাত প্রাপ্তির ফলে ।
৫ । কোন উত্তেজক কারণে ।
৬। কোন ইনফেকশনের কারণে ।
ডারমাটিটিস লক্ষণাবলী : প্রথমে প্রদাহের ফলে চর্ম লাল আভাযুক্ত হয়, তারপর চুলকানি, পুঁজযুক্ত উদ্ভেদ বা গুটি হয় । মৃদুজ্বর থাকে, মাংস পেশীতে ব্যথা হয় ।
চিকিৎসা : সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধগুলি ব্যবহার করা যায়। এপিস, আর্নিকা, আর্সে-এ, ল্যাকেসিস, ফসফরাস, ফাইটোলক্কা, রাস-টক্স ইত্যাদি ।
পেপটিক আলসার সংজ্ঞা– যে কোন রোগ বা অবস্থায় পাকস্থলীতে পেপসিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড অস্বাভাবিক পরিমানে সৃষ্টি হতে থাকলে তাদের ক্রিয়ায় পাকস্থলী ও ক্ষুদ্র অন্ত্রের কোন অংশের মিউকাস মেমব্রেনে যে ক্ষত সৃষ্টি হয় তাকে পেপটিক আলসার বলে ।
পেপটিক আলসারের শ্রেণিবিভাগ ও কমনসাইট:
পেপটিক আলসার দুই প্রকার- যথা
১ । গ্যাসট্রিক আলসার- পাকস্থলীতে ক্ষত ।
২ । ডিওডেনাম আলসার- ডিওডেনামে ক্ষত ।
পেপটিক আলসারের- কমনসাইট
১। গ্যাসট্রিক আলসার- ইপিগ্যাসট্রিয়ামের বামদিকে ।
২ । ডিওডেনাম আলসার- ইপিগ্যাসট্রিয়ামের ডানদিকে
পেপটিক ও ডিওডেনাম আলসারের কারণ সমূহ ঃ
১ । প্রকৃত কারণ অজানা ।
২ । বংশগত ।
৩ । O গ্রুপের রক্তের রোগীরা ।
৪ । হরমোনজনিত কোন কারণ ।
৫ । দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তি
৬ । মানসিক চাপ ।
৭। ধুমপান করিলে ।
৮। এলকোহল খেলে ।
৯ । বেশী মসল্লাযুক্ত খাবার খেলে ।
১০ । অনিয়মিত আহার করিলে।
১১। লিভার সিরোসিস ।
১২ । এনিমিয়া এবং ক্লোরোসিস থাকিলে ।
১৩ । দীর্ঘদিন অম্ল রোগে ভুগিলে ।
১৪ । যে কোন কারণে অত্যাধিক পরিপাক রসের নিঃসরণ ।
১৫ । যে কোন কারণে পাকস্থলীতে অম্লীয় পদার্থ দীর্ঘক্ষণ থাকিলে বা পাকস্থলী হতে দ্রুত নিঃক্রান্ত হয়ে ডিওডেনামে বেশী ক্ষণ থাকিলে ইত্যাদি ।
১৬ । CNS আঘাত প্রাপ্ত হলে ।
১৭ । অস্ত্রপচারের ফলে ।
১৮ । NSAIDs, Steroids জাতীয় খাবার গ্রহণ করিলে ।
১৯ । পাইলোরিক অংশে ইনফেকশন হলে ।
পেপটিক আলসারের জটিলতাসমূহ :
১। পেপটিক আলসার পরিপাক তন্ত্রের ক্যানসারের অন্যতম কারণ ।
২ । ক্ষতস্থানে ছিদ্র হয়ে যেতে পারে ।
৩ । এনিমিয়া হতে পারে ।
৪ । মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে ।
৫। পাইলোরিক ষ্টেনোসিস (Pyloric stenosis)- পাইলোরিক অংশটি সরু হয়ে খাদ্য ডিওডেনামে যেতে দেরী হয়- ফলে * পেট বেদনা, পেটফুলা, ভুক্ত দ্ৰব্য বমি হয় ।
পেপটিক আলসারের ভাবীফল :
১। মোটামুটি ভাল, সঠিক চিকিৎসা এবং সতর্কতামূলক জীবন যাপন করিলে রোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়া যায়। বারবার রক্তক্ষরণ বা ছিদ্র হয়ে গেলে অপারেশনের প্রয়োগ হয় ।
২। পেপটিক আলসারের দুর্বল সতর্কতামূলক পূর্ব লক্ষণগুলো হল-
ক) সময়মত চিকিৎসা নিতে গড়িমসি ।
খ) ধূমপান বন্ধ না করা ।
গ) পূর্বেও একই অভিযোগ থাকলে
ঘ) দ্রুত আগের অনিয়মে ফিরে গেলে ।
গ্যাসট্রিক আলসারের কারণ তত্ত্ব :
১ । পাকস্থলীর স্বাভাবিক ক্রিয়ার বিঘ্নের ফলে যদি অত্যাধিক পেপসিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরণ হয় ।
২ । পাকস্থলীর বিশ্রাম অবস্থায় যদি ক্রমাগত এসিড নিঃসরণ হয় তাহলে পাকস্থলীর দেওয়ালের গাত্রের কোন স্থানে ঘা হয় ।
৩। পাইরোলিক ষ্টেনোসিস হলে পাকস্থলীর নিঃসরণ নালী সরু হয়ে যায় ফলে খাদ্য অধিকক্ষণ পাকস্থলীতে থাকার দরুন এসিডের প্রভাবে ক্ষত হয় । .
৪। উত্তেজক খাবার যথা-এলকোহল পান, অতিরিক্ত মসল্লাযুক্ত খাবার ও অনিয়মিত সময়ে আহার করিলে । গ্যাসট্রিক আলসারের ঔষধ- আর্জে-নাই, আর্সে-এ, জিরেনিয়াম, হাইড্রাসটিস, ইপিকাক, কেলি-বাই, আর্নিথোগেলাম, ফসফরাস ।
ডিওডেনাম আলসার রোগ নির্ণয় :
১। রোগীর জ্বালা যন্ত্রনা বা ব্যথা খাওয়ার ১-৩ ঘন্টা পর শুরু হয় ।
২। কিছু রোগী তার ব্যথার স্থান আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পারে ।
৩ । খেলে ব্যথার উপশম হয়
৪ । রোগীর স্বাস্থ্য সুন্দর থাকে, দেখলে রোগী বলে মনে হয় না ।
ডিওডেনাম আলসারের ঔষধ -এনাকার্ডিয়াম, কোনিয়ম, গ্রাফাই, নাক্স ভম, পালস, সিপিয়া, পেট্রোলি, চেলিডো, বিসমাথ, হাইড্রাসটিস, ক্রিয়োজোট, কার্বলিক- এসিড, ফসফরাস ।
ডিওডেনাম আলসারের জটিলতা:
ডিওডেনাম আলসারের জটিলতা ১ । ডিওডেনামের ক্ষত স্থানে ছিদ্র হয়ে যেতে পারে । ২ । ডিওডেনামে ক্যানসার হতে পারে । ৩ । মারাত্মক রক্ত ক্ষরণ হতে পারে ।
ডিওডেনাম আলসারের ভাবীফল— সঠিক চিকিৎসা ও পথ্যের দ্বারা রোগ ভাল হয় ।
গ্যাসট্রিক আলসার ও ডিওডেনাম আলসারের পার্থক্য :
গ্যাসট্রিক আলসার-
- গ্যাসট্রিক আলসার পাকস্থলীতে পেপসিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের পেপসিন, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, পিওরস, দ্বারা গ্যাসট্রিক আলসার হয় ।
2. খাওয়ার পর পরই ব্যথা শুরু হয় ।
3. ব্যথা বোধ হয় ইপিগ্যাসট্রিয়াম অংশের বাম দিকে ।
4. খালি পেটে থাকিলে বা বমি হলে উপশম ।
5. সাধারণতঃ রক্ত বমি হয়, বমির রক্ত লাল ।
6. রোগী বমির পর আরাম পায় বলে গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করে ।
7. ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে, কারণ খেতে পারে না ।
8. ইপিগ্যাসট্রিক অংশে স্পর্শ কাতরতা থাকে
9. এনিমিয়া দেখা দিতে পারে ।
10 দেহ শীর্ণ ও রোগা ।
ডিওডেনাম আলসার-
1. প্যানক্রিয়াটিক জুসের দ্বারা ডিওডেনাম আলসার হয় ।
2. খাওয়ার ১-৩ ঘন্টা পর ব্যথা শুরু হয় ৷
3. ব্যথা ইপিগ্যাসট্রিয়ামের ডান অংশে ।
4. খালিপেটে ব্যথা বাড়ে, খাওয়ার পর উপশম ।
5. সাধারণতঃ রক্ত মিশ্রিত কাল পায়খানা দেখা যায় । বমির রক্ত কাল ।
6. সাধারণতঃ বমি করে না ।
7. খাবার খেলে উপশম হয়। বলে বার বার খায়, ফলে ওজন বেড়ে যায় ।
8. রোগী ব্যথার স্থান আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পারে
9. এনিমিয়া দেখা দেয় না ৷
10 দেখতে নাদুস নুদুস, রোগী বলে মনে হয় না ।
ডিওডেনাল আলসারের দশটি লক্ষণ:
১। রোগীর জ্বালা যন্ত্রনা বা ব্যথা খাওয়ার ১-৩ ঘন্টা পর শুরু হয় । ২ । কিছু খেলে ব্যথার উপশম হয়
৩। রোগী তার ব্যথার স্থান আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পারে ।
৪ । রোগীর স্বাস্থ্য সুন্দর থাকে, দেখলে রোগী বলে মনে হয় না । ৫। ব্যথা বুকের দিকে ছড়িয়ে পড়ে ।
৬। ঘিন ঘিনে জ্বালাজনক ব্যথা ।
৭। রাতে কষ্ট বেশী হয় ।
৮ । রক্ত বমি ।
৯ । মলের সঙ্গে কালো রক্ত ।
১০ । সাধারণতঃ শীতকালে বেশী থাকে গ্রীষ্মকালে কম থাকে ।
এম্ফাইসিমা:
ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি প্রভৃতি কারণে ফুসফুসের এলভিওলি গুলি ছিড়ে গিয়ে পরস্পর যুক্ত হয়ে শ্বাস ক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটাকে এম্ফাইসিমা বলে ।
পালমোনারী এস্ফাইসিমার (Rulmonary Emphysema) কারণ:
১। ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস
২ ৷ হাঁপানি
৩। দুষিত বায়ূর প্রভাবে
৪ । যে সব কাজে জোরে শ্বাস নিতে হয় বা ছাড়তে হয় যেমন গ্লাস কারখানা
৫। যে সব বাদ্যযন্ত্রী, ফু দিয়া তাদের বাদ্যযন্ত্র বাজায় । যেমন বাঁশি, ব্যাগপাইপ ইত্যাদি ।
৬। যাহাদের উচ্চস্থানে কাজ করিতে হয় । যেমন-পাহাড়ে
৭ । বংশগত কারণ
এম্ফাইসিমার লক্ষণ সমূহ :
১। শ্বাস নিতে অল্প সময় এবং শ্বাস ফেলিতে অধিক সময় লাগে ।
২ । শীতকালে শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পায় ।
৩ । শরীর শীতল ও নারী দুর্বল হয় ।
৪ । শ্বাস কষ্টের সময় শরীর কাল বা মুখ নীল বর্ণ ধারণ করে ।
৫ ।.পরিশ্রমের কাজে শ্বাসকষ্ট বাড়ে । বিশ্রামের সময় উপশম ।
৬। কাশি ও কফ বের হয় ।
৭ । লো ব্লাড প্রেসার ।
৮ । ফিঙ্গার ক্লাবিং ।
এফাইসিমার জটিলতা:
(ক) কনজেসটিভ কার্ডিয়াক ফেইলুর
(খ) রেসপিরেটরী ফেইলুর
(গ) স্পনটেনিয়াস নিউমোথোরাক্স
ঘ) বার বার বুকের ইনফেকশন দেখা দেয় ৷
এম্ফাইসিমার চিকিৎসায় পাঁচটি ঔষধের ব্যবহার :
১ । আর্সেনিক এলবাম– অস্থিরতা, শ্বাস রোধের ভয়ে রোগী শুতে চায় না, শ্বাস কষ্ট মধ্য দিবস ও মধ্যরাত্রিতে বৃদ্ধি পায়, পিপাসায় রোগী ঘন ঘন কিন্তু অল্প পরিমানে পানি পান করে । শরীরে গরম চায় কিন্তু মাথায় ঠান্ডা চায় ।
২। লোবেলিয়া-ইনফ্লাটা— শ্বাসকষ্টের সহিত মৃত্যু ভয়, সামান্য পরিশ্রমে বৃদ্ধি কিন্তু দ্রুত হাটিলে উপশম । ঋতুস্রাব বাধাপ্রাপ্ত হইয়া পাছায় ব্যথা । গা-বমি বমি বা বমি । গরম খাদ্য খেলে বমি ও শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পায় । নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট ।
৩ । গ্রিন্ডেলিয়া- ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয় । লাফিয়ে জেগে উঠে নিঃশ্বাসের জন্য খাবি খায় । উঠে বসে শ্বাস নিতে বাধ্য হয় । শোয়া অবস্থায় শ্বাস নিতে পারে না’।
৪। কুপ্রাম মেটালিকাম— বাতাসের দিকে মুখ করে চলাফিরা করলে অত্যন্ত বৃদ্ধি হয়। কাশি, ঠান্ডা পানি পান করিলে উপশম । রাত্রির তিনটার পর শ্বাসরোধ করা কাশির বৃদ্ধি । ঋতুস্রাবের পূর্বে শ্বাস কষ্ট । হস্তদ্বয়ের শীতলতা । কোন তরল পদার্থ পান করিলে গলার মধ্য দিয়া ঘড়ঘড় করিয়া নামে । ঋতুস্রাব দেরীতে এবং দীর্ঘদিন থাকে । কোন ধারণা জন্মালে তা বদলায় না। যা বলার ইচ্ছা নেই তাই বলে ফেলে । হিংসুক স্বভাব, অন্যের দুঃখ দেখিলে সুখবোধ করে ।
৫। হিপার সালফার- রোগীর উপসর্গগুলি মধ্য রাত্রি হতে · প্রাতকাল পর্যন্ত বৃদ্ধি । শ্বাস কষ্টের সময় বিছানায় উঠে বসে মাথা পিছন দিকে হেলান দিয়ে থাকলে উপশম বোধ করে । হাঁটার সময় বিরক্তিকর কাশি । কোন স্থান কেটে গেলে পেকে গিয়ে পুঁজ হয়। টক ও ঝাল জিনিসে আকাঙ্খা। চর্বিযুক্ত খাদ্য পছন্দ করে না। রোগী শীতকাতর । সামান্য কারণে রেগে উঠে । তাড়াতাড়ি কথা বলে ।
এম্ফাইসিমার নিদানতত্ত্ব/রোগ নির্ণয় (Pathology/Diagnosis):
১ । বুক সরু হয়ে ব্যারেলের মত আকৃতি হয় ।
২। এক্সরে করলে ডায়াফ্রাম নিচু, ও ফ্লাট দেখা যায়। ফুসফুসে Bulla (ফুসফুসে বায়ুপূর্ণ একটি থলির মত অবস্থা বা হাড়ের গোলাকৃতি এবং উচু হয়ে থাকা অংশকে বুলা বলে) দেখা যায়। ফুসফুসের ফিল্ড অর্ধস্বচ্ছ দেখায়। ফুসফুসের ধমনীর ছায়া অতিরিক্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে ।
৩ । বাঁ দিকের কার্ডিয়াক ফেইলুর দেখা দিতে পারে । ৪ । পালমোনারী আটারী ফুলা দেখায় ।
৫ । ECG-RVH এর ফিচার ।
নেফ্রাইটিস: নেফ্রাইটিস (ব্রাইটডিজিস), স্টেফাইলো কক্কাস বা ষ্টেপটো কক্কাস বা বি-কোলাই জীবানু দ্বারা কিডনী আক্রান্ত হলে উহাতে যে প্রদাহ হয় তাকেই নেফ্রাইটিস বলে ।
নেফ্রাইটিস হল এমন এক অবস্থা, যাতে একটি অথবা উভয় কিডনিই ফুলে ওঠে এবং প্রদাহ হয়। কিডনি বা বৃক্ক মানব শরীরের একটি অত্যাবশ্যক অঙ্গ, যা শরীর থেকে অন্যান্য বর্জ্য পদার্থের সঙ্গে অতিরিক্ত পানি বের করতে এবং শরীরে প্রোটিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিনের মতো অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
নেফ্রাইটিস দুই ধরণের হয়:
গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস-এক্ষেত্রে গ্লোমেরুলিতে প্রদাহ হয়, ফলে শরীরের বর্জ্য এবং পানির পরিশোধন ব্যহত হয়।
ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস, এক্ষেত্রে ইন্টারস্টিশিয়াম অর্থাৎ কিডনির টিবিউলের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা কিডনির কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
নেফ্রাইটিসের লক্ষণাবলী:
১। মূত্রনালীতে জ্বালা যন্ত্রনা ও ব্যথা থাকে এবং শীত শীত করে জ্বর আসে ।
২ । কিডনীর ব্যথা মূত্রথলি পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ।
৩ । বার বার প্রস্রাবের বেগ হয় । ৪ । রোগী সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, সোজা হয়ে দাঁড়ালে বেদনা ।
৫ । প্রস্রাবের পরিমান কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় ।
৬ । শোথ দেখা দেয় ৷
৭ । ক্ষুধাহীনতা, বমি ও বমি বমি ভাব ।
৮ । শ্বাস প্রশ্বাসের ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়, শ্বাস কষ্ট ।
৯ । রক্তে ইউরিয়া বেড়ে যায় ৷
১০ । এনিমিয়া দেখা দেয় ৷
১১ । চোখ মুখ ফুলে যায় ।
১২ । চোখের পাতা থলির মত ফুলে যায় । ১৩ । পেট ফুলে যায় ইত্যাদি ।
নেফ্রাইটিসের কারণ:
গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস কারণ হতে পারে:
1. যদিও নেফ্রাইটিসের সঠিক কারণ পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি, নেফ্রাইটিসের ধরনের উপর নির্ভর করে কারণ ভিন্ন হতে পারে।
2. শরীরের রোগপ্রতিরোধক ব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ কার্যকলাপ।
3. পরিবারিক ক্যান্সারের ইতিহাস।
4. হাইড্রোকার্বন দ্রাবকের সংস্পর্শে আসা।
5. রক্ত অথবা লসিকাতন্ত্রের রোগ।
6. ভাইরাল সংক্রমণ, হৃদপিণ্ডে সংক্রমণ এবং ফোঁড়া।
7. লুপাস নেফ্রাইটিস।
8. পরিস্রাবণে ভূমিকা নেওয়া গ্লোমেরুলির বেসাল স্তরকে প্রভাবিত করা কোনও রকম রোগ।
9. অত্যধিক পেইনকিলার ব্যবহারের কারণে কিডনির অসুখ।
ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিসের কারণ হতে পারে:
1. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
2. রক্তে ইউরিক অ্যাসিড এবং ক্যালসিয়ামের অত্যধিক মাত্রা।
3. সংক্রমণ।
4. রক্তে পটাশিয়ামের অভাব।
5. অটোইমিউন ডিসঅর্ডার।
6. অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া।
নেফ্রাইটিস রোগ নির্ণয় :
১ । স্বল্পমূত্র ।
২ । মূত্র অবরোধ ।
৩ । ঘন ঘন প্রসাব ৷
৪ । গাঢ় প্রস্রাব ।
৫ । হাত, পা, চোখ, মুখ ফুলে যায় ।
৬। প্রস্রাব পরীক্ষা করলে তাতে নানা রকম রোগ জীবানু
পাওয়া যায় ।
৭ । কখনো কখনো প্রস্রাবে পুঁজ রক্ত মিশ্রিত থাকে ।
৮। প্রস্রাবে এলবুমিন থাকে ।
৯ । নাড়ীর গতি বেড়ে যায় ।
১০ । শ্বাস প্রশ্বাস ক্রিয়া দ্রুত হয় ।
বুকের এক্স-রে।
কিডনির আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিং।
ইন্ট্রাভেনাস পাইলোগ্রাম।
ক্রিয়েটিনিন নির্গমন, প্রোটিন, লোহিত রক্ত কণিকা, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি সনাক্ত করতে মূত্র পরীক্ষা।
রক্তে বিইউএন এবং ক্রিইয়েটিনিনের মাত্রা।
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট।
কিডনির আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিং।
মূত্র পরীক্ষা।
কিডনির বায়োপসি।
নেফ্রাইটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি :
নেফ্রাইটিসের চিকিৎসা কারণের উপর নির্ভর করে। কারণগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অবস্থার পরিচালনায় সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। নেফ্রাইটিসের পরিচালনায় সহায়ক কিছু উপায়:
1. রক্তচাপ কমাতে লবণ খাওয়া কমানো।
2. বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে প্রোটিনের গ্রহণ কমানো।
3. প্রদাহরোধী ওষুধ।
4. উচ্চ-রক্তচাপ কমানোর ওষুধ।
5. কিডনির সমস্যার ক্ষেত্রে ডায়ালিসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়তে পারে।
১। নাক্স-ভমিকা- অতিরিক্ত ঔষধ ব্যবহারের কুফলে, নিষ্ফল প্রস্রাব ত্যাগ প্রবৃত্তি, ফোটা ফোটা প্রস্রাব ।
২। কার্সিনোসিনাম— দেহের কোন অঙ্গের ক্যানসারের জন্য নেফ্রাইটিস
৩। নেট্রাম মিউর- দীর্ঘদিন অতিরিক্ত লবন খাওয়ার জন্য নেফ্রাইটিস
৪। ফসফরাস- শরীরের তরল পদার্থের ক্ষয়, ক্রোধ, ভয়, দুঃখ, বিরক্তি, মানসিক শ্রম, মানসিক উত্তেজনা, অতিরিক্ত লবন খাওয়ার কুফল ইত্যাদি কারনে নেফ্রাইটিস হলে
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নেফ্রাইটিস এর চিকিৎসা পদ্ধতি :
এপিস-পিপাসাহীনতা, প্রস্রাবের পরিমাণ কম, ঘর্মহীন শোথ, গরম সহ্য করিতে পারে না ।
এপোসাইনাম-পিপাসা আছে, কিন্তু পানি পান করিলে বমি হইয়া যায় ৷ রোগী ঠান্ডা সহ্য করিতে পারে না, গরম চায়, ঘর্মহীনতা, পিপাসাহীনতা, প্রস্রাবের পরিমান কম ।
আর্সেনিক এলবাম-অস্থিরতা, মৃত্যু ভয়, পিপাসায় অল্প অল্প পরিমান পানি পান করে, শরীরে গরম চায় কিন্তু মাথায় ঠান্ডা, মধ্য দিবস ও মধ্য রাত্রিতে উপসর্গের বৃদ্ধি, প্রস্রাব অল্প, জালাজনক, গরম প্রয়োগে উপশম ।
ফসফরাস-বহুমূত্র রোগীর নেফ্রাইটিস, অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা জিনিস খাওয়ার অদম্য ইচ্ছা, লবন খাবার আকাঙ্খা, রক্তস্রাব প্রবণতা, কোষ্ঠবদ্ধতা, সঙ্গম শক্তির অভাব কিন্তু প্রচন্ড সঙ্গমেচ্ছা, মূত্রে চর্বি বা মোমের মত কাস্ট (Cast) থাকে ।
টেরিবিন্থিনা- জিহবা শুষ্ক, চকচকে, লালবর্ণ, পেট ফোলে ঢাকের মত হয় । কিডনী স্থানে ব্যথা, শোথ, প্রস্রাব রক্তাক্ত, ঘোলাটে । ধোয়ার মত, এলবুমিন মিশ্রিত, প্রস্রাবে ভায়োলেট ফুলের গন্ধ । ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বেড়ে যায় । কষ্টকর উপসর্গ গুলি রাতে ও ঠান্ডায় বৃদ্ধি ।
নেফ্রোটিক সিনড্রোম- ইহা কিডনীর একটি রোগ বিশেষ । এই রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রস্রাবে প্রচুর এলবুমিন, গ্লোবিউলিন প্রভৃতি প্রোটিন পাওয়া যায় । রক্তে মোট প্রোটিনের পরিমান কমে যায়। রক্তে ফ্যাটের পরিমান বেড়ে যাওয়ার সহিত ইডিমা বা শোথ দেখা দেওয়ার অবস্থাকে নেফ্রোটিক সিনড্রোম বলে ।
নেফ্রোটিক সিনড্রমের কারণ
১। প্রকৃত কারণ অজানা ।
২ । লিম্ফ গ্ল্যান্ডের উপর ম্যালিগনেন্ট টিউমার ।
৩ । লিউকিমিয়া ।
৪ । মায়েলোমা বা হাড়ের ক্যানসার ৷
৫ । গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস ।
৬ । মৌমাছির কামড়ে ।
৭ । সেরাম সিকনেস
৮ । ম্যালেরিয়া ।
৯ । ডায়াবেটিস মেলিটাস ।
নেফ্রোটিক সিনড্রমের জটিলতা:
১ । প্রোটিন, এনার্জিজনিত পুষ্টিহীনতা ।
২ । সেকেন্ডারী ইনফেকশন ।
৩। রক্তনালীর অবরোধ ।
৪ । রেনাল ফেইলিউর ।
৫ । পালমোনারী ইডিমা ।
নেফ্রোটিক সিনড্রোমের ভাবীফল:
১ । রোগের অবস্থা অনুসারে ভাবীফল নির্ভরশীল ।
‘২ । পুনঃ প্রত্যাবর্তনের হার খুব বেশী (Relapse rate)।
৩। মেমব্রেনাস গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিসের ক্ষেত্রে ভাল হওয়ার আশা ক্ষীণ ।
নেফ্রাইটিসের নির্ণয়
গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস যে পদ্ধতির সাহায্যে নির্ণয় করা যেতে পারে: তলপেটের সিটি স্ক্যান।
বুকের এক্স-রে।
কিডনির আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিং।
ইন্ট্রাভেনাস পাইলোগ্রাম।
ক্রিয়েটিনিন নির্গমন, প্রোটিন, লোহিত রক্ত কণিকা, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি সনাক্ত করতে মূত্র পরীক্ষা।
ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস যে পদ্ধতির সাহায্যে নির্ণয় করা যেতে পারে:
রক্তে বিইউএন এবং ক্রিইয়েটিনিনের মাত্রা।
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট।
কিডনির আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিং।
মূত্র পরীক্ষা।
কিডনির বায়োপসি।
নেফ্রাইটিসের চিকিৎসা
রেনাল কলিক মূত্রপাথরী শূল: ইউরিনারী ট্রাকের যে কোন অংশে পাথর সৃষ্টি হওয়ার ফলে যেব্যথা, জ্বালা-যন্ত্রনা হয় তাকে রেনাল কলিক বলে ।
রেনাল কলিকের কারণ:
১ । প্রকৃত কারণ অজানা
২। প্রস্রাবের ঘনত্ব বেড়ে গেলে যেমন গরম আবহাওয়ায়, তরল পদার্থ কম পরিমানে গ্রহণ করিলে, ডায়রিয়া হলে, অতিরিক্ত ঘাম হলে ।
৩ । ইউরিনারী ট্রাকে কোন বাধা থাকিলে ।
৪ । ইউরিনারী ট্রাক কোন রোগ জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হলে ।
৫। ভিটামিন “এ” এর অভাবে ।
৬। ভিটামিন “ডি” এর বিষক্রিয়ায় ।
৭ । ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার অতিরিক্ত খেলে যেমন দুধ, ডিম ।
৮ । অক্সালেটযুক্ত খাবার অতিরিক্ত খেলে । যেমন-টমেটো, গাজর, চা, চকোলেট ইত্যাদি ।
৯। গেটে বাত ।
১০। ইউরিক এসিড সৃষ্টি করে এমন খাবার অতিরিক্ত খেলে “যেমন-গরুর মাংস, মাছ ইত্যাদি ।
১১ । পরিপাক বা পরিপোষণ কাজের ব্যাঘাত হেতু ।
রেনাল কলিকের লক্ষণাবলী
১ । হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়।
২ । বার বার প্রস্রাব হয় । একটু একটু করে প্রস্রাব বের হয় ৷
৩ । প্রস্রাবের সময় ও পরে লিঙ্গমুখে বেদনা ৷
৪ । প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত থাকতে পারে ।
৫। কোন ভারী জিনিস তুলতে গেলে বা রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ বেদনার উদ্রেক হয় । ৬ । অধিকাংশ স্থলে অন্ডকোষটি উর্ধদিকে আকৃষ্ট হয় ।
৭। চিৎ হয়ে শুয়ে পাছা উঁচু করে রাখলে পাথর যেন চলে বেড়াচ্ছে এমন বোধ হয় ৷
৮ । কখনো কখনো কোমরে বেদনা হয় ।
৯ । প্রচুর ঘাম হয় ৷
মূত্রপাথরী রোগের জটিলতা:
১। পাথরী নির্গম কালে যদি উহা কোন ইউরেটারে আটকিয়ে যায় তাহলে প্রস্রাব উল্টা পথে কিডনীতে গিয়ে কিডনীর বিবর্ধন ও প্রদাহ সৃষ্টি করে ।
২ । যদি উভয় ইউরেটারে আটকিয়ে যায় তাহলে প্রস্রাব নিঃসরণ বন্ধ হয়ে ইউরিমিয়া বা বর্জ পদার্থ ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, প্রভৃতি রক্তের সাথে মিশে গা-বমি বমি ভাব, বমি, অবসাদ, ঝিমুনী ইত্যাদি দেখা দেয় ৷
৩ । শোথ বা ইডিমা দেখা দেয় ।
৪ । মূত্রথলিতে পাথর আটকে সিসটাইসিস সৃষ্টি হতে পারে !
রেনাল কলিকের ভাবীফল:
১ । যে সব পাথর ৫ সে.মি. এর ছোট সেই গুলি আপনা আপনি বের হয়ে যায়
২ । যদি সংক্রামন বা কারণ দূর করা যায় তাহলে ভাবীফল ভাল । ৩ । বার বার হওয়া খুবই স্বাভাবিক ।
রেনাল কলিকের চিকিৎসা পদ্ধতি: সদৃশ্য ঔষধ পানিতে মিশায়ে প্রথমে পাঁচ মিনিট পর পর তার পর দশ মিনিট পর পর প্রয়োগ করিতে হইবে যে পর্যন্ত ব্যথা না কমে ।
ক্যালকার্ব– শীতকাতর, রোগী, মোটা, ফর্সা, থলথলে, মাথায় প্রচুর ঘাম হয়, ঘামে টক গন্ধ । যাহা সহজে হজম হয় না যেমন চক, কয়লা, পেনসিল তাহাই খায়, ডিম, লবন ও মিষ্টি দ্রব্যে ইচ্ছা ও চর্বিযুক্ত খাবার পছন্দ করে না । প্রস্রাবে অম্ল গন্ধ ও রক্তমিশ্রত ।
সলিডেগো— ইহার অপর নাম হোমিওপ্যাথিক কেথিটার। যক্ষ্মা- হাপানির রোগী, কষ্টকৃত স্বল্প প্রস্রাব, শোথ ।
বার্বেরিস ভালগারিস– দ্রুত লক্ষণ সমূহ’ পরিবর্তিত হয়, ব্যথা স্থান ও উহার প্রকৃতি পরিবর্তন করে । রোগী একবার তৃষ্ণার্ত হয় আবার পিপাসা শূন্য হইয়া পড়ে। একবার খিদে পায়।. আবার ক্ষিদে মরে যায় । ব্যথা কোন এক স্থান হতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে । মেরুদন্ডের নীচ হতে ব্যথা সমস্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথা চাপ দিলে বাড়ে না, কিন্তু অবস্থান পরিবর্তন করিলে ‘ বিশেষতঃ দাঁড়ালে বা অঙ্গ চালনা করিলে ব্যথা বাড়ে । পুড়ে যাওয়ার মত ব্যথা, মূত্র ত্যাগের পর মনে হয় কিছুটা মূত্র রয়ে গেল’। কিডনীতে বুদবুদ উঠার মত ব্যথার অনুভূতি । ব্যথা সাধারণ বামদিকেই বেশী হয় । উপুড় হইয়া বসিয়া থাকিলে ব্যথার উপশম বোধ হয় । একাকী অন্ধকারে যাইতে চাহে না। নানাবিধ ভীতিপ্রদ মূর্তি দেখিতে থাকে, অত্যাধিক ভূতের ভয় ।
ওসিমাম ক্যানাম- সাধারণতঃ ডানদিকে ব্যথা। ব্যথার সহিত বমি বমি ভাব বা বমি। প্রস্রাবে তীব্র অম্ল গন্ধ বা কম্ভরীর গন্ধ । প্রস্রাব রক্তমিশ্রিত এবং ইটের গুড়ার মত হলুদ বা লাল তলানি পড়ে । স্তনগ্রন্থি ফোলে, স্তনের বোটায় স্পর্শ করিলেই ব্যথা, প্রলাপস্ ।
প্যারিরা ব্রাভা— ব্যথা সাধারণতঃ বামদিকের কিডনী হতে শুরু করে কুচকী পর্যন্ত প্রসারিত হয় এবং ঐ ব্যথা উরু পর্যন্ত ছাড়াইয়া পড়ে । সর্বদা প্রস্রাবের বেগ । প্রস্রাব কাল, রক্তাক্ত । কেবলমাত্র মেঝেতে হাঁটু গেঁড়ে, মেঝেতে মাথা চেপে রেখে প্রস্রাব করিতে পারে ।
ইউরেথ্রাইটিসের চারটি কারণ:
১। সাইকোটিক চিররোগ উপবিষ প্রবণতার ফলে ২। গনোরিয়ার জীবানু গনোকক্কাস, সিফিলিসের জীবানু ট্রোপোনোমা পেলিডিয়াম ইত্যাদি যৌন রোগের জীবানু দ্বারা মূত্রনালী আক্রান্ত হলে ।
৩। মূলনালী কোন কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হলে যেমন-কিডনী থেকে পাথর বের হওয়ার সময়, ক্যাথিটার ব্যবহার করিলে ।
৪ । রাসায়নিক কারণ-জন্মনিয়ন্ত্রণের ফোম বা জেলীর ব্যবহারের ফলে ।
মূত্রপাথরীর ব্যবস্থাপনা :
১ । রোগীকে প্রচুর তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে, সারাদিনে চার
লিটারের বেশী ।
২ । যদি পাথর ইউরিক এসিড এবং ইউরেটের কারণে হয় তাহলে মাংশ, খোসাযুক্ত মাছ, ডাল, শাক জাতীয় খাবার বর্জন করিতে হইবে ।
৩ । যদি পাথর অক্সালেট এর কারণে হয় তাহলে শাক, মিষ্টি আলু, বিট, আঙ্গুর ফল, গাজর, ডুমুর, কাজুবাদাম ইত্যাদি বর্জন করিতে হবে ।
কিডনী পাথুরী (Nephrolithiasis / Renal Calculi / Urolithiasis) রোগীর রোগ নির্ণয়:
ক) কিডনীর সামনের অংশে এবং পিছনের অংশে তীব্র কর্তনবৎ বেদনা ।
খ) কিডনী হতে ব্যথা পেটের নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে ।
গ) ব্যথা নড়াচড়া করলে, পার্শ্ব পরিবর্তন করিলে, সিড়ি বাহিয়া উপরে উঠিলে বৃদ্ধি পায় ৷
ঘ) রক্তমূত্র ।
ঙ) বমি ও বমি বমিভাব ।
চ) জ্বর !
ছ) শীত ও কম্প।
পিত্তপাথরী (Gall stone / cholelithiasis / Hepatic colic) কোন কারণবশতঃ পিত্তথলিতে পিত্তরস জমাট বেঁধে পাথর কণা সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন আকার ও রঙের পাথরে পরিণত হওয়াকে পিত্তপাথরী বলে ।
পিত্তপাথরীর শ্রেণীবিভাগ-পিত্তপাথরী সৃষ্টি হওয়ার কারণ ও পাথরের উপাদানের ভিত্তিতে পিত্তপাথরী তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়
১। সলিটারী ষ্টোন (Solitary stones) পিত্তরসের অন্যতম উপাদান কলেসষ্টেরল সল্ট এর তলানী জমে সৃষ্টি হয় । ২। বিলিরুবিন ষ্টোন (Bilirubin stones) -RBC স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমাণ ভেঙ্গে যখন অতিরিক্ত বিলিরুবিন পিত্তথলিতে জমে তা তলানী পড়ে সৃষ্টি হয় ।
৩ । মিক্সড ষ্টোন (Mixed stone) – ক্যালসিয়াম, বাইল পিগমেন্ট এবং কোলেসটেরল তলানী পড়ে যে পাথর সৃষ্টি হয় ।
পিত্তপাথরীর কারণতত্ত্ব:
১। সাধারণ মধ্যবয়সী নারী যাদের বাচ্চা হয়েছে তাদের পিত্তপাথরী বেশী হয় ।
২। পিত্তরসের উপাদান কোলেসষ্টেরল সল্ট, বিলিরুবিন, ক্যালসিয়াম, বাইল পিগমেন্ট ইত্যাদির তলানী পড়ে পিত্তথলিতে পিত্তপাথর গঠিত হয় ।
৩। পিত্তপাথরীর জটিলতা বর্ণনা কর ।
পিত্তপাথরীর জটিলতা:
১ । পিত্তথলি, পিত্তনালী, অন্ত্র নালী ছিদ্র হয়ে যেতে পারে । ২।ক্যানসার হতে পারে
৩ । পিত্তথলির প্রদাহ এবং প্যানক্রিয়াসের প্রদাহ হতে পারে । ৪। অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস হতে পারে
৫। মিউকোসিল (Mucocele)- পিত্তনালী পিত্তপাথর দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পিত্তরস পিত্তথলিতে জমার ফলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় ।
পিত্তপাথরীর ব্যবস্থাপনা:
১। যে পর্যন্ত প্রদাহের লক্ষণ ও জ্বর প্রশমিত না হয় সে পর্যন্ত রোগীকে পূর্ণাঙ্গ বেড রেষ্ট নিতে হবে ।
২। যে পর্যন্ত বমি বমি ভাব বা বমি প্রশমিত না হয় সেই পর্যন্ত মুখ
দ্বারা খাবার গ্রহণ বন্ধ রাখিতে হইবে ।
৩ । তারপর তরল খাবার এবং চর্বিমুক্ত খাবার দিতে হবে । ৪ । আক্রান্ত অংশে গরম ছ্যাক (Local heat) দিতে হবে ৫ । মাংস, কফি এবং এলকোহল বর্জন করিতে হইবে। সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধগুলি প্রয়োগ করিতে হইবে ।ক্যাল-কার্ব, চেলিডোনিয়াম, বার্বারিস ভালগারিস, কার্ডয়াস মেরি চিয়োন্যানথাস, সিঙ্কোনা, ডায়স্কোরিয়া কোলেষ্টারিনাম, অর্নিকা, বেলেডোনা, হাইড্রাসটিস, লাইকো, নাক্স ভম, থুজা ।
কলিলিথিয়াসিসের রোগ নির্ণয় :
১ । এবডোমেনের USG ও X-Ray
২। রক্ত পরীক্ষা- ESR বৃদ্ধি পায় ।
মূত্র পাথরী ও পিত্তপাথরীর মধ্যে পার্থক্য:
মূত্রপাথরী (Renal Stone):
১ | মূত্রগ্রন্থিতে যে পাথর সৃষ্টি হয় তাকে মূত্রপাথরী বলে ।
২| সাধারণতঃ বমি থাকে না ।
৩|পাথর অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায় ৷
৪|মুখে তিক্ত আস্বাদ থাকে না
৫ কিডনী হতে বেদনা মূত্রথলি, মূত্র নালী, লিঙ্গ কোষে ছড়াইয়া পড়ে ।
৬ সাধারণতঃ পুরুষদের বেশী হয় ।
৭ ঘন ঘন জ্বালা বা ব্যথাযুক্ত প্রস্রাব । ৮ | প্রস্রাব নিঃসরনের বাধাপ্রাপ্ত | ৯ | পাথর সৃষ্টির হওয়ার প্রকৃত কারণ অজানা |
পিত্তপাথরী (Gall Stone):
১ | পিত্তথলিতে যে পাথর সৃষ্টি হয় তাকে পিত্তপাথরী বলে ।
২|বমি বমি ভাব বা বমি হয়
৩| পাথর অনেক সময় মলের সঙ্গে বের হয়ে যায় ।
৪| মুখে তিক্ত আস্বাদ থাকে ।
৫ লিভার প্রদেশ হতে বেদনা ডান কাধের দিকে প্রসারিত হয় ।
৬ সাধারণতঃ মেয়েদের বেশী হয় ৷
৭ কোষ্টকাঠিন্য থাকে ।
৮ | পিত্তরস নিঃসরনে বাধাপ্রাপ্ত হয়
৯ | পাথর সৃষ্টি হওয়ার প্রকৃত কোলেসষ্টেরল ।
কলিলিথিয়েসিসের দশটি লক্ষণ:
১ । মারফিস সাইন পজিটিভ (Murphy’s sign positive) । ২। সোয়াস সাইন পজিটিভ (Psoas’s sign positive) ।৩ । ডান হাইপোকনড্রিয়ামে ব্যথা ।
৪ । ব্যথা ডান পিঠের ডানা (Scapular region) পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ।
৫ । খাওয়ার পর কষ্ট বেড়ে যায় ।
৬ । বমি হয় ।
৭ । বমি বমি ভাব ।
৮ । পেটে গ্যাস জমে ঢেকুর উঠে
৯। ঢেকুর উঠিলে উপশম ।
১০ । তৈলাক্ত খাবারে কষ্ট বৃদ্ধি পায় ।
পিত্তথলির প্রদাহ (Cholecystitis/Hepatic Colic/ Colic of Gall stones):
পিত্তথলির প্রদাহ-পিত্তথলিতে পাথর সৃষ্টি হলে বা পিত্তথলি থেকে আগত সিসটিক ডাকট কোন পাথর দ্বারা অবরুদ্ধ হলে পিত্তথলিতে যে প্রদাহ হয় তাকে পিত্তথলির প্রদাহ বলে ।
কলিসিসটাইটিসের (পিত্ত থলির প্রদাহ) কারণতত্ত্বঃ
১ । পিত্তথলিতে পাথর সৃষ্টি হলে ।
২। সিসটিক ডাকটে কোন পাথর আটকে গেলে ।
৩ । পিত্তথলি কোন রোগ জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হলে ।
৪ । সাধারণতঃ মধ্যবয়সী মহিলা যাহাদের সন্তান হয়েছে তাদের পিত্তথলির প্রদাহ হয় ।
পিত্তথলি প্রদাহের /কলিসিসটাইটিসের লক্ষণাবলী:
১। জন্ডিসের মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে, ফলে চোখ মুখ, জিহ্বা হলুদ হয়ে যায় । এমনকি প্রস্রাব পর্যন্ত হলুদ হয়ে যায় ।
২। বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে, বমির স্বাদ তিক্ত
৩। লিভার প্রদেশে বেদনা- জ্বালা, বেদনা হঠাৎ আরম্ভ হয়, ডান কাধ পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে ।
৪ । ব্যথা কয়েক ঘন্টা থাকে
৫ । সাধারণতঃ খাওয়ার পর বৃদ্ধি পায়। বিশেষতঃ চর্বি জাতীয় খাবার খেলে ।
৬ । খাওয়ার পর পেট ভারবোধ হয়
৭ । পেটে বায়ু জমে, ঢেকুর উঠে । বায়ূ নির্গত হয় । ঢেকুর উঠিলে উপশম বোধ করে । ·
৮। রোগী স্থির ভাবে শুয়ে থাকে, গরম পানির বোতলে সেক দিলে আরাম বোধ করে ৷
পিত্তথলির প্রদাহে ব্যবহৃত চারটি ঔষধের লক্ষণাবলী :
১। ভিরেট্রাম-ভিরিডি-রক্ত প্রধান ধাতুর রোগী । রোগী ঝগড়াটে । জিহ্বা সাদা বা হলুদ বর্ণ মাঝ বরাবর একটি লালবর্ণ রেখা বর্তমান থাকে। সামান্য খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করিলে তৎক্ষনাৎ তা বমি হয়ে যায় । অত্যন্ত কষ্টকর হিক্কা ।
২। কেলি- কার্বোনিকাম– রোগী ভীতু, একা থাকতে পারে না, তাই কুকুর, বিড়াল পোষে। স্থূলদেহী কিন্তু অত্যন্ত দুর্বল, প্রচুর ঘাম হয়, অত্যন্ত আদর্শবান, নিজ কর্তব্য ও সিদ্ধান্তে স্থির থাকে । কখনই আদর্শচ্যুত হয় না । শীতকাতর, আক্রান্ত অঙ্গে সূচ ফোটান ব্যথা, শেষ রাতে ২-৪টা পর্যন্ত রোগের বৃদ্ধি, আক্রান্ত অঙ্গে স্পর্শকাতরতা। বমি বমি ভাব, শুয়ে থাকলে উপশম ।
৩। ডায়স্কোরিয়া-ভিল্লোসা-একা থাকতে পছন্দ করে। কথা বলতে ভুল শব্দ বা বিপরীত শব্দ ব্যবহার করে ফেলে। অত্যাধিক চা পান করে । ব্যথা এক স্থানে আরম্ভ হয়ে দূরবর্তী স্থানে চলে যায় । লিভার প্রদেশের বেদনা, তীরের মত ডান স্ত নের বোটা পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে । সামনের দিকে ঝুকলে ব্যথা বাড়ে কিন্তু ‘হাত-পা ছড়াইয়া চিৎ হইয়া শুইয়া থাকিলে বা সোজা হইয়া দাঁড়াইলে কিংবা বেড়াইলে ব্যথার উপশম হয় ।
৪। কার্ডয়াস-মেরিয়ানাস-লিভার ও পিত্তথলির যে কোন রোগ । রোগী ঝগড়া বিবাদ এড়িয়ে চলে । শব্দে কাতর । বাম পাশ চাপিয়া শুইলে লিভার প্রদেশে ব্যথা। মল অত্যন্ত শুষ্ক, অল্প, গাঁট গাঁট, কাদার মত রং। কষ্টে নির্গত হয় । শোথ ও শিরাস্ফীতি দেখা দেয় ।
৫। চেলিডোনিয়াম মোজাস-ইহার প্রধান ক্রিয়া লিভারে । রোগী অলস প্রকৃতির কোন প্রকার দৈহিক কাজে তার উৎসাহ থাকে না। আবহাওয়ার পরিবর্তনে রোগাক্রমন ঘটে। বিশেষতঃ ঠান্ডা ঋতুতে রোগের বৃদ্ধি । রোগী দুধের তৈরী খাবার পছন্দ করে। লিভার প্রদেশ হতে ব্যথা ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাথা ঘোরে, মনে হয় সামনের দিকে পড়ে যাবে । জিহ্বা হলুদ বর্ণ- দাঁতের ছাপযুক্ত, বৃহদাকার এবং থলথলে । মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। গরম পানাহারে ব্যথার উপশম উপসর্গগুলি সকাল ৪টা ও বৈকাল ২-৪টার মধ্যে বৃদ্ধি পায় । কোষ্ঠবদ্ধ- মল শক্ত, ভেড়ার নাদির মত, আঠার মত, মাটির রঙ । ডান পায়ের পাতা বরফের মত ঠান্ডা, বাম পায়ের পাতার উত্তাপ স্বাভাবিক৷
কলিলিথিয়াসিস (পিত্তপাথরী) ও কলিসিসটাইটিসের (পিত্তথলির প্রদাহ) পার্থক্য:
কলিলিথিয়াসিস (Cholelithiasis) – পিত্তথলিতে পাথর জমা হওয়ার অবস্থাকে কলিলিথিয়াসিস বলে ।
ইহা তিনটি অবস্থায় থাকে যথা—
(ক) নীরব পিত্তপাথরী— ইহার কোন লক্ষণ বা কষ্ট থাকে না । (খ) তরুণ পিত্তপাথরী- হঠাৎ তীব্র কষ্টযুক্ত উপসর্গ আবার হঠাৎ চলে যায় ।
(গ) ক্রোনিক পিত্তপাথরী— ধীরে ধীরে উপসর্গ শুরু হয়, দীর্ঘ দিন থাকে ও ধীরে ধীরে কমে আসে।
কলিসিসটাইটিস (Cholecystitis) – পিত্তথলির তীব্র প্রদাহ, ডান দিকের পেটের উপরের দিকে স্পর্শকাতর ব্যাথা, যা ডান স্কাপুলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয় । সেই সঙ্গে বমি বমি ভাব ও বমি, আহারে বৃদ্ধি পায় এবং Murphy’s sign পজেটিভ হয় ।
ইউরিমিয়া (Uraemia) : কিডনী হতে প্রস্রাবের মাধ্যমে যে সকল দুষিত পদার্থ (বিশেষতঃ ইউরিয়া ও নাইট্রোজেনের যৌগিক পদার্থ) সুস্থ্য অবস্থায় শরীর হতে পরিত্যক্ত হয় তা যদি বের হতে না পেরে রক্তের সাথে মিশে যায় তাকে ইউরিমিয়া বলে।
ইহার ফলে নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দেয় ৷
১। বমি বমি ভাব ও বমি, পিপাসা, ক্ষুধাহীনতা
২। মাথা ব্যথা/মাথা ঘোরা
৩ । হিক্কা, ৪ । দুর্বলতা ৫ । ঝাপসা দৃষ্টি
৬ । তড়কা/আক্ষেপ বা অজ্ঞান
৭ । মূত্ররোধ, মূত্র স্বল্পতা
৮ । শ্বাসকষ্ট
৯ । নিঃশ্বাসে এমোনিয়ার গন্ধ
১০। রোগীর ঘাম, জামা-কাপড়, বিছানাপত্র হতে মূত্রের গন্ধ বের
হয় ।
ইউরিমিয়ার কারণ ও ভাবীফল:
কারণ-
(ক) ক্রনিক গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস
(খ) ক্রনিক পাইয়িলোনেফ্রাইটিস
(গ) রেনাল ভ্যাসকুলার ডিজিস (ঘ) ডায়াবেটিস মেলিটাস
(ঙ) হাইপারটেনশন
(চ) পলিসিষ্টিক কিডনী ডিজিস
ছ) মায়াজম ঘটিত চিররোগ প্রবণতা ।
ভাবীফল- অশুভ, নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি হয়ে রোগীর মৃত্যু হয় ।
৩। ইউরিমিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি
(ক) সদৃশ লক্ষণ অনুসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে ।
(খ) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।
(গ) প্রয়োজনে রক্তের ডায়ালিসিস করতে হবে ।
(ঘ) দেহের ওজন অনুযায়ী প্রোটিন খাদ্য হবে ০.৫ গ্রাম/ কেজি । সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধ ব্যবহৃত হয় যেমন, এপোসাইনাম, আর্সে-এ, ওপিয়াম, ইউরিয়া, এপিস মেল, ক্যান্থারিস, আয়োডিন, ল্যাকেসিস, ডিজিটেলিস, ফসফরাস, ক্যানাবিস ইন্ডিকা, ইত্যাদি ।
,
ইউরেথ্রাইটিস:
ইউরেথ্রার প্রদাহ জনিত অবস্থাকে ইউরেথ্রাইটিস বলে। মূত্রনালীতে গনোরিয়া বা সিফিলিস রোগ হলে, ক্যাথিটার প্রবেশ করানো হলে, কিডনীর পাথর বাহির হওয়ার ফলে বা অন্য কোন কারণে আঘাত লাগাহেতু মূত্রনালীতে প্রদাহ হলে তাকে ইউরেথ্রাইটিস বলে । ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণের কারণেই এটি বেশি হয়। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)এর থেকে এটি আলাদা, তাতে মূত্রাশয় থেকে শুরু করে মূত্রনালী পর্যন্ত মূত্র নির্গমন পথের যে কোন অংশ প্রভাবিত হতে পারে। উভয় রোগের লক্ষণ একই রকমের, কিন্তু চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা। ইউরেথ্রাইটিস সব বয়সের ব্যক্তিদেরই প্রভাবিত করে, কিন্তু পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ইউরেথ্রাইটিসের লক্ষণসমূহ :
১। প্রস্রাব করার সময় প্রচন্ড জ্বালাজনক বেদনা ।
২। বার বার মূত্র বেগ, প্রস্রাব অল্প হয় ৷
৩। প্রস্রাবের বেগ ধারণের অক্ষমতা ।
৪ । প্রস্রাব শ্লেষ্মাযুক্ত, পুঁজময়, কখনো রক্তমিশ্রিত ।
৫ । প্রস্রাব ৪/৫ ধারায় পড়তে থাকে ৬। পুরুষ লিঙ্গ শক্ত ও বেঁকে যায় ৷
তলপেটে এবং শ্রোণীতে ব্যথা। জ্বর। ফোলাভাব। যৌনসঙ্গমের সময় ব্যথা করা। মহিলাদের ক্ষেত্রে যোনির স্রাব। পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গের স্রাব। পুরুষদের ক্ষেত্রে বীর্য অথবা প্রস্রাবে রক্ত। পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গে চুলকানি। পুরুষদের ক্ষেত্রে যন্ত্রণাদায়ক বীর্যপাত। মহিলাদের ক্ষেত্রে লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি ততটা স্পষ্ট নাও হতে পারে।
ইউরেথ্রাইটিসের কারণ :
১ । সাইকোটিক চিররোগ উপবিষ প্রবণতার ফলে ।
২। গনোরিয়ার জীবানু গনোকক্কাস, সিফিলিসের জীবানু ট্রোপোনোমা পেলিডিয়াম ইত্যাদি যৌন রোগের জীবানু দ্বারা মূত্রনালী আক্রান্ত হলে ।
৩। মূলনালী কোন কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হলে যেমন-কিডনী থেকে পাথর বের হওয়ার সময়, ক্যাথিটার ব্যবহার করিলে । শুক্রাণুনাশক অথবা গর্ভনিরোধক জেলি ও ফোম।
ইউরেথ্রাইটিসের রোগের নির্ণয় :
ফোলাভাব অথবা স্রাব বেরনোর মতো সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতার চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করেন। চিকিৎসা জনিত ইতিহাসের বিশদ তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি যে সমস্ত পরীক্ষা করা হয়:
- ইউরেথ্রার পরীক্ষা।
- সোয়্যাব প্রবেশ করানো এবং সংগ্রহ করা নমুনা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় পর্যবেক্ষণ।
- সিস্টোস্কোপি – মূত্রাশয়ে ক্যামেরাসহ টিউব প্রবেশ করিয়ে অস্বাভাবিকতা খোঁজা হয়।
- প্রস্রাব পরীক্ষা।
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট।
- যৌন সংক্রমিত রোগ যাচাইয়ে নির্দিষ্ট টেস্ট।
- মহিলাদের ক্ষেত্রে শ্রোণীর আলট্রাসাউন্ড।
ইউরেথ্রাইটিসের রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি:
১। রোগীর জন্য বিশ্রাম অপরিহার্য ।
২। রোদে, পানিতে বা বৃষ্টিতে ভিজা উচিত নয় ।
৩ । প্রচুর, পরিমানে ঠান্ডা পানি পান করিতে হইবে ।
৪ । নির্জন, খোলা, আলো বাতাস যুক্ত ঘরে রোগীকে রাখিতে হইবে ।
৫ । প্রত্যেক দিন গরম পানি ও সাবান দ্বারা রোগীর জামা কাপড় ধুইতে হবে ।
৬ । উগ্র ও গুরুপাক খাদ্য বর্জন করিতে হইবে ।
৭ । একই সঙ্গে যৌন সঙ্গীর চিকিৎসা করতে হবে ।
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধ প্রয়োগ করা যেতে পারে । যেমন- মেডোরিনাম, মার্কসল, পালসেটিলা, সিপিয়া, থুজা
ব্রঙ্কাইটিস-ট্রকিয়া থেকে দুই ভাগে ভাগ হয়ে দুটি বায়ু নালী দুটি ফুসফুসে প্রবেশ করে । ইহাদিগকে ব্রঙ্কাই বা প্রাইমারী ব্রঙ্কাই বলে । প্রাইমারী ব্রঙ্কাই হতে ডানদিকের ফুসফুসে ৩টি এবং বাম দিকের ২টি সেকেন্ডারী ব্রঙ্কাই ফুসফুসে প্রবেশ করে । এই সব নালীগুলিকে একত্রে ব্রঙ্কিয়াল টিউব বলে । এই ব্রঙ্কিয়াল টিউবের মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহকে ব্রঙ্কাইটিস বলে ।
ব্রঙ্কাইটিসের কারণ:
১। কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে । ২। সাধারণ সর্দি জ্বর ।
৩ । উত্তেজনাকর কোন বাস্প, ধূয়া, ধূলা, ইত্যাদি প্রবেশ করিলে । ৪। কোন সংক্রামক রোগের আক্রমনের ফলে যেমন মিজেলস, ……. ইনফ্লুয়েনজা, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া ইত্যাদি ।
৫ । ধুমপান ।
৬ । ক্রনিক মাউথ ব্রিদিং (Chronic mouth breathing)। ৭ । পেশার ধরনের জন্য যেমন-কয়লার খনিতে কাজ করিলে ।
ব্রঙ্কাইটিসের লক্ষণ
ইহা দুই প্রকার যথা ঃ
১ । একিউট
(ক) জ্বর ১০০-১০২°F পর্যন্ত উঠে (খ) অল্প অল্প শুষ্ক কাশি, কষ্টকর কাশি
(গ)কাশির সহিত শ্লেষ্মা বাহির হয় ।
(ঘ) পরে কাশি সহজ হয়, প্রচুর কফ বাহির হয় । ঙ) শ্বাস নালীতে ব্যথা হয় ৷
(চ) জিহ্বা ময়লাবৃত ।
২ । ক্রনিক ৷
(ক) প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট ।
(খ) গলা ও বুকে ঘড়ঘড় শব্দ হয় ।
(গ) চটচটে শীতল ঘাম ৷
(ঘ) হাত পা ঠান্ডা ।
(ঙ) মূত্রের পরিমান কমে যায় ৷
(চ) রোগী চিৎ হইয়া শুয়ে থাকতে পারে না ।
(জ) মুখ হতে দুর্গন্ধ বের হয় ।
(ঝ) ষ্টেথেসকোপ দিয়ে বুক পরীক্ষা করিলে শীষ দেওয়ার মত, চাবি মুখে দিয়ে, ফু দিয়ে বাজাবার মত বা কবুতরের বাচ্চার ডাকের মত শব্দ শোনা যায় ।
ব্রঙ্কাইটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি:
১। যাহাদের সহজে সর্দি লাগে তাদের উচিত খোলা বাতাসের ঠান্ডা না লাগানো
২ । ধুলা, ময়লা, বিষাক্ত ও দুষিত বাষ্প থেকে দূরে থাকা । ৩ । বিশ্রামে থাকতে হবে ।
৪ । পুষ্টিকর ও সুষমখাদ্য খেতে হবে ।
সদৃশ লক্ষণ, অনুসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করিতে হইবে যেমন একোনাইট, আর্সেনিক এলবাম, ব্রাইয়োনিয়া, কষ্টিকাম, হিপার সালফার ।
একোনাইট— ভয়, দৈহিক ও মানসিক অস্থিরতার সহিত হঠাৎ পীড়ার আক্রমন । উপসর্গগুলি একটানা চলতে থাকে, কোন পর্যায়শীলতা নাই । তরুন রোগের প্রাথমিক অবস্থা । মুখমন্ডল গরম, লাল, ফোলা, একগাল লাল অন্যগাল ফ্যকাশে । পিপাসায় ঠান্ডা পানি ছাড়া সব কিছু মুখে তিতা লাগে । কাশি, গলায় ব্যথা, কাশিবার কালে গলায় হাত দেয় । রাতে এবং মাঝরাতের পর কাশি বাড়ে । রোগী চায় না কেহ তাকে স্পর্শ করে । মৃত্যু সম্বন্ধে ভবিষ্যৎবানী করে। আলো সহ্য করিতে পারে না ।
ব্রাটা ওরিয়েনটালিস– রোগী বলিষ্ঠ ও মোটা। যক্ষ্মা বা হাঁপানী রোগীর ব্রঙ্কাইটিস । কাশির সহিত শ্বাস কষ্ট, শ্লেমা ঘন আঠা আঠা ও সহজে উঠে না । যে কোন রোগে শোথ, বৃদ্ধি- বর্ষার বৃষ্টির দিনে, আর্দ্র আবহাওয়ায় ও ঠান্ডায় ।
ডালকামারা– গ্রীষ্মের শেষের দিকে যখন দিনে গরম রাত্রে ঠান্ডা সেই সময়ের পীড়া, ঠান্ডা ও স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে বসবাসের জন্য পীড়া, সর্দিলাগা হেতু পীড়া, নাকদিয়া সর্দি ঝরে, নড়িলে চড়িলে বৃদ্ধি, চুপ করিয়া থাকিলে উপশম । রোগী অত্যন্ত তাড়াতাড়ি কথা বলে, তাড়াতাড়ি সকল কাজ করে। এমনকি তাড়াতাড়ি পানি পান করে। অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করিতে পারে । রোগী শীতকাতর ।
জেলসিমিয়াম- শুকনো কাশি, স্বরভঙ্গ, শ্বাসকার্য দ্রুত, বাতাসের নিম্নচাপে রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি পায়। সর্বাঙ্গে ও অঙ্গ প্রতঙ্গে ক্লান্তি ও ভারবোধ হয়। ডাকিলে সারা দেয় না। রোগের সহিত অবসাদ, মাথাঘোরা, তন্দ্রার ভাব ও কম্পন (D.D.D.T= Dullness, Dizziness, Drowsiness and Trembling) ।
সেনেগা— ইহাকে শ্বাস যন্ত্রের পীড়ায় একটি টনিক হিসাবে মনে করা হয়। বায়ু নালীতে শুষ্কতা অনুভব করে। সেনেগার রোগীরা পাহাড়ে উঠতে পারে না বা সিড়ি বাহিয়া উঠিলে বুকে চাপ বোধ । রোগী বাতাসের বিরুদ্ধে হাঁটিতে পারে না, তাতে তার বক্ষ লক্ষণ বৃদ্ধি ও শ্বাসকষ্ট উপস্থিত হয় । বুকে শ্লেষ্মা জমার ফলে ঘড়ঘড় বা সাই সাই শব্দ হয় ৷
স্পঞ্জিয়া– ঋতুর পূর্বে বা ঋতুর সময় শ্বাসকষ্ট। রোগী নীচু বালিশে শুইতে পারে না । রোগীর শ্বাসকষ্ট এত অধিক যে, কিছুতেই শুইয়া থাকিতে পারে না। উঠিয়া সম্মুখ দিকে ঝুকিয়া বসিতে বাধ্য হয়। রোগীর মনে হয় যেন কোন স্পঞ্জের ভিতর দিয়া নিঃশ্বাস নিতে হচ্ছে। বুকের মধ্যে সাই সাই শব্দ, করাত দিয়া কাঠ কাটার মত শব্দ, মনে হয় বায়ু নালী একদম শুষ্ক । গরম জিনিষ পানে আরাম বোধ করে । হার্টের কোন অসুখের ভয়, মরার ভয়, ভবিষ্যতের অমঙ্গলের ভয়, মধ্যরাতে ভয় পেয়ে জেগে উঠে
ব্রঙ্কাইটিসের জটিলতা:
১। এস্ফাইসিমা ।
২। ব্রঙ্কিয়েকটেসিস (Bronchiactasis) ব্রঙ্কিওলগুলির ডিলাটেশন ।
৩। করপালমনেলি (Corpulmonale) হার্টের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়া ।
৪ । কিডনীর কোন রোগ ।
৫ । হার্নিয়া ।
ব্রঙ্কাইটিসের ভাবীফল-
১ । তরুণ ব্রঙ্কাইটিসের ভাবীফল সাধারণতঃ ভাল
২। পুরাতন ব্রঙ্কাইটিসের ভাবীফল-যাহারা ধুমপান করে তাদের ভাবীফল খারাপ
জন্ডিস-
রক্তের RBC এর জীবনকাল ১২০দিন। এর পর ইহা ভেঙ্গে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরী হয়। এই বিলিরুবিন রক্তের সঙ্গে লিভারে প্রবেশ করে এবং লিভার বিলিরুবিনকে আলাদা করে পিত্তরসের সঙ্গে ক্ষুদ্রান্ত্রে পাঠিয়ে দেয়। যার ফলে মলের বর্ণ হলুদ হয় । কিন্তু কোন কারণে যদি পিত্তরস ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করতে না পারে তাহলে বিলিরুবিন রক্তের সাথে মিশে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে চোখ, মুখ, জিহ্বা, নখ, ত্বক, মিউকাস মেমব্রেন ইত্যাদি হলুদ হয়ে যায় । ইহাকেই জন্ডিস বলে ।
জন্ডিসের লক্ষণাবলী:
১ । জন্ডিসের সহিত কমবেশী গ্যাসট্রো ইনটেসটিনাল সমস্যা থাকে । যেমন বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, ক্ষুধাহীনতা, উদরাময়, কোষ্টবদ্ধতা এবং তার ফলে অবসন্নতা । ২। চোখের কনজাঙ্কটিভা, ত্বক এবং সকল মিউকাস মেমব্রেন, জিহ্বার নীচের অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে । ৩ । শরীরে চুলকানি থাকে ।
৪ । মলের রং হলুদ, সাদা বা কাদার মত হয় ৷
৫ । পেট ফাপে, মলে দুর্গন্ধ হয় ।
৬ । নাড়ীর গতি ধীর, এমনকি প্রতিমিনিটে ৩০/৪০ বার হতে পারে ।
৭ । পেটের বাম দিকে বেদনা অনুভূত হয় ।
৮ । চোখ হলুদ হওয়ার জন্য সবকিছু হলুদ দেখে ।
৯। মুখের স্বাদ তিক্ত।
১০। রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যাবে (স্বাভাবিক ০.১- ০.৯ mg/dl)।
জন্ডিসের কারণ :
১। হেমোলাইটিক (Haemolytic Jaundice) জন্ডিস- স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী R.B.C ভেঙ্গে গেলে ।
২। হেপাটোসেলুলার জন্ডিস – (Hepatocellular Jaundice) যে কোন জীবানুঘটিত সংক্রামনে লিভারের কোষগুলি ধ্বংস হলে ।
৩। অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস- (Obstructive Jaundices) বাইল ডাকটের পথ কোন কারণে যেমন প্রদাহ, পিত্তপাথর বা টিউমার দ্বারা অবরুদ্ধ হলে ।
জন্ডিসের জটিলতা:
১ । অনেক সময় লিভারে ফোঁড়া হতে পারে ।
২ । লিভার সিরোসিস হতে পারে ।
৩ । লিভার ক্যানসার হতে পারে ।
৪ । নাক হতে রক্তপাত হতে পারে ।
জন্ডিসে নেট্রাম-সালফ ও চেলিডোনিয়ামের লক্ষণাবলী :
নেট্রাম সালফ— রোগী আর্দ্রতা একেবারেই সহ্য করিতে পারে না, বর্ষার আর্দ্র হাওয়ায় রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি পায় । রোগী অতিশয় বিষন্ন ও খিটখিটে কাহারও সহিত কথা বলিতে চায় না । কোষ্ট কাঠিন্য থাকিলে পাতলা মল নিঃসরনের পর মন প্রফুল্ল হয় । যে সকল লোকের সহিত তাহার মতের মিল হয় না তাহাদিগকে দেখিতে পারে না। মুখের স্বাদ তিক্ত, পিত্ত বমন । লিভার প্রদেশে সামান্য স্পর্শে বেদনা। বামদিক চাপিয়া শয়নে লিভার প্রদেশে বেদনা । কোমরে কাপড় এঁটে পড়তে পারে না ।
চেলিডোনিয়াম— পিত্ত প্রধান ধাতুর রোগী। ডান কাঁধের নীচে ব্যথা । ডান পায়ের পাতা বরফের মত ঠান্ডা । বাম পায়ের পাতার উত্তাপ স্বাভাবিক। নাকের পাখনা নিশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে পাখার মত নড়ে । মাথা ঘোরে । মলের রঙ হলদে বা কাদার মত। গরম পানাহারে লিভারের উপসর্গগুলির উপশম । ডানপাশ চাপিয়া শয়নে লিভার প্রদেশে বেদনা ।
জন্ডিসের চিকিৎসা পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
১ । জন্ডিসে বিশ্রাম হল সবচেয়ে বড় চিকিৎসা ।
২ । রোগীকে চর্বিমুক্ত খাবার দিতে হবে ।
৩ । দুধ, ঝোল জাতীয় খাবার, শস্য জাতীয় খাবার, চর্বিহীন মাংস, রুটি ইত্যাদি খেতে হবে ।
৪। চুলকানি হলে চামড়ায় লেবু ঘষে দিতে হবে এবং ঠান্ডা পানিতে গোছল করিলে রোগী উপশম বোধ করিবে ।
৫ । মসলাযুক্ত খাবার, ঘি, তৈল, চর্বিযুক্ত মাংস, ইলিশ মাছ বর্জন করিতে হইবে । !
সদৃশ লক্ষণ অনুযায়ী নিম্নোক্ত ঔষধ গুলি ব্যবহার করিতে হইবে । লাইকোপোডিয়াম, মার্ক-সল, ব্রাইয়োনিয়া, নাক্সভম, পডোফাইলাম ইত্যাদি ।
জন্ডিসে নাক্স-ভূমিকার লক্ষণাবলী :
রোগী ক্রোধপরায়ণ ও হিংসাপরায়ণ । আলো, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শ পছন্দ করে না । সামান্য অসুখে অস্থির হয়ে পড়ে । টক ও তিতা ঢেকুর, গা বমি বমি ও বমি। কোষ্ঠবদ্ধতা, তার সঙ্গে বার বার মলবেগ, কিন্তু মলত্যাগ অসম্পূর্ণ, মনে হয় খানিকটা মল ভিতরে রয়ে গেল, মনে হয় আর একটু হলে ভাল হত। অল্প অল্প * মলত্যাগ, মল সামান্য কিন্তু কোঁথানি প্রচুর । জন্ডিসের সহিত উদরাময়ও থাকতে পারে ।
জন্ডিসের নিদানতত্ত্ব (Pathology):
(ক) সাধারণতঃ বাইল ডাক্টগুলি (Bile ducts) ফুলে যায় ।
(খ) পিত্তরস স্বাভাবিক নির্গমন পথে বাধাপ্রাপ্ত হইয়া থোরাসিক-ডাক্ট · (Thoracic duct) এবং লিম্ফ পথে (Lymphatics) নিক্ষিপ্ত হয়ে সারা দেহে ছড়াইয়া পড়ে ।
(গ) লিভার ফোলে যায় ৷
(ঘ) লিভার নরম (Tender) স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে ৷
(ঙ) প্লীহা ফোলে যায় ৷
(চ) প্লীহা নরম ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে।
জন্ডিসের ছয়টি কারণ:
১।হেমোলাইটিক (Haemolytic Jaundice) জন্ডিস- স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী R. B C ভেঙ্গে গেলে । ২। হেপাটোসেলুলার জন্ডিস- (Hepatocellular Jaundice) যে কোন জীবানুঘটিত সংক্রামনে লিভারের কোষগুলি ধ্বংস হলে । ৩। অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস – (Obstructive Jaundices) বাইল, ডাকটের পথ কোন কারণে যেমন প্রদাহ, পিত্তপাথর বা টিউমার দ্বারা অবরুদ্ধ হলে ।৪। হ্যাপাটাইটিস A ভাইরাস (HAV) ৫। হ্যপাটাইটিস B ভাইরাস (HBV) ৬। হ্যাপাটাইটিস C. ভাইরাস (HCV)
হেপটাইটিসের চিহ্ন:
১। তাল্প জ্বর থাকে
২। বমি বমি ভাব ৩ । বমি
৪ । ডায়রিয়া
৫ । পালস-ধীরগতি
৬ । চোখ এবং চর্ম হলদে হয়ে যায় ৭। লিভার বড় হয়ে যায়
৮। প্লীহা বড় হয়ে যায় ।
৭। হেপটাইটিসের জটিলতা এবং ভাবীফল বর্ণনা ৷ জটিলতা–
১ । রক্তক্ষরণ
২। সেকেন্ডারী ইনফেকশন,
৩ । হেপাটিক ফেইলিওর
৪ । বারবার ফিরে আসে এবং ক্রনিক হেপটাইটিস
ভাবীফল-
১। HAV এবং HEV ইনফেকশনের ভাবীফল ভাল ২। HBV এবং HDV ইনফেকশনের ভাবীফল খারাপ ৩ । HCV ইনফেকশনের ভাবীফল পরিবর্তনশীল
হাঁপানি (Asthma): হাঁপানি (Asthma) বা শ্বাস-যন্ত্রাদির গোলযোগ, গোলযোগ বা হৃত্যন্ত্রের গোলযোগের সহিত যদি কোন কারণে সূক্ষ্মতর ব্রঙ্কিওলগুলির (Bronchioles) মাংসপেশীর আক্ষেপ বা খিচুনি বা সঙ্কোচন (Spasmodic Contraction) হয় এবং তার ফলে যে কষ্টকর শ্বাসক্রিয়া হয় তাকে হাঁপানি বলে । শ্বাস যন্ত্রাদির গোলযোগজনিত হাঁপানিকে ব্রঙ্কিয়াল এজমা, হার্টের গোলযোগজনিত শ্বাস-কষ্টকে কার্ডিয়াক এজমা এবং কিডনির গোলযোগজনিত শ্বাস কষ্টকে রেনাল এজমা বলে ।
হাঁপানির কারণতত্ত্ব ঃ
১। প্রকৃত কারণ অজানা । ২। সাধারণতঃ বংশগত ।
৩ । এলার্জি, একজিমা বা আমবাতের ফলে ।
৪। ঘরের ধূলাবালি, পুষ্পরেণু, পশুর চুল, পাখীর পালক, সিগারেট, ধূয়া ইত্যাদি শ্বাসক্রিয়ার সময় ফুসফুসে প্রবেশ করিলে ।
৫। কোন কোন খাদ্য খাওয়ার ফলে যথা-ডিম, মাছ, চিংড়ি মাছ, কাকড়া, দুধ, বাদাম, ব্যাঙের ছাতা, চকোলেট ইত্যাদি ।
৬ । রাগ বা ঝগড়া বা প্রচন্ড মানসিক আবেগে ।
৭ । অতিরিক্ত শারিরীক পরিশ্রম করিলে ।
৮। আবহাওয়ার পরিবর্তনে ।
৯ । খোলা ঠান্ডা বাতাসে গমন করিলে । ১০ । অতিরিক্ত ভক্ষণ করিলে ।
১১ । ধুমপান করিলে ।
১২ । শ্বাসপথে কোন নেশাদ্রব্য গ্রহন করিলে । ১৩ । ঋতুস্রাবের পূর্বে, মেনোপজের পর ।
১৪ । যৌনক্রিয়ার ফলে ।
১৫ । রক্তের ইয়োসিনোফিল ( Eosinophil) বেড়ে গেলে । ১৬। ফুসফুসের এলভিওলিগুলি (Alveoli) সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে ।
১৭ । সাধারণতঃ শেষ রাতে এবং সকালে শুরু হয় ৷
১৮ । শ্বাস কষ্টের সময় রোগী খোলা বাতাস পছন্দ করে ।
১৯ । নাড়ীর গতি দ্রুত হয় ও ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায় ।
২০ । শ্বাসকষ্টের সময় ঘাম হয় ।
এ্যাজমার লক্ষণ-
১ । হঠাৎ শুরু হয় ।
২ । সাধারণতঃ শেষ রাতে অথবা খুব সকালে শুরু হয় ৷
৩ । তীব্রতা শুরু হওয়ার পূর্বে বুকে চাপবোধ অনুভূত হয় ।
৪ । শ্বাস-কষ্ট বা দম আটকান ভাব, বসে থাকতে বাধ্য হয়, টানিয়া টানিয়া শ্বাস নেয়, খোলা বাতাস চায়, দরজা জানালা খুলে দিতে বলে ।
৫ । অস্থিরতা ।
৬ । শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁই সাঁই শব্দ হয় ।
৭ । হঠাৎ হঠাৎ কাশি (Paroxysmal Cough)। ৮ । কফ- কষ্টে কফ উঠে, পরিমাণে অল্প, চটচট্টে । ৯ । অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তীব্রতা কমে আসে । ১০ । বিরতির সময় রোগীর অনুভূতি স্বাভাবিক ।
হাঁপানীতে ব্যবহৃত চারটি ঔষধ লক্ষণসহ লিখ:
১ । এরালিয়া রেসিমোসা-এক ঘুমের পর মধ্যরাত্রে (রাত ১১ টার সময়) কাশির বৃদ্ধি, রোগী শুয়ে থাকতে পারে না, নিঃশ্বাস ফেলিতে তত কষ্ট হয় না, কিন্তু শ্বাস নেওয়ার সময় খুব কষ্ট হয় । শ্বাসকষ্টের সময় প্রচুর ঘাম হয় । বুকে সঙ্কোচন বোধ, মনে হয় যেন গলার ভিতর কোন বস্তু আটকে আছে । অবিরত হাঁচি, নাক দিয়া প্রচুর পানির মত সর্দি বের হয়, সর্দি হাজাকারক । খোলা বাতাসে উপশম বোধ করে। প্রদর স্রাব হাজাকারক ।
২। রাটা ওরিয়েনটালিস– রোগী বলিষ্ঠ ও মোটা, কাশির সহিত শ্বাস কষ্ট । শ্লেষ্মা ঘন, আঠা আঠা, সহজে উঠে না । হাঁপানির সহিত শোথ, বৃদ্ধি- বর্ষার দিনে, আর্দ্র আবহাওয়ায় ও ঠান্ডায় ।
৩। ব্রোমিয়াম-রোগী ঝগড়াটে । কোন অপরিচিত লোক যেন তার কাঁধের উপর দিয়ে চেয়ে আছে। মুখ ফেরালেই সে তাকে দেখতে পাবে, এই অনুভূতি যখন সন্ধা বেলা একা থাকে তখন অনুভূত হয় । রোগী দেখতে সুন্দর, তার গ্রন্থি স্ফীতির প্রবণতা থাকে । গ্রন্থি শক্ত হয়ে থাকে, কিন্তু পাকে না। প্রচুর ঘাম হয় । নাকের পাতা পাখার মত উঠানামা করে । শ্বাস নিতে কষ্ট, ফেলিতে তত কষ্ট হয় না। সমুদ্রে ভাল থাকে, স্থলে আসিলেই হাঁপানির কষ্ট। অতিরিক্ত ব্যায়াম করার ইতহাস আছে । ঋতুস্রাবের সঙ্গে ঝিল্লীর মত খন্ড খন্ড বস্তু বের হয় । স্তনে টিউমার- সূচ ফোটান ব্যথা, বামদিকের স্তন বেশী আক্রান্ত হয় ।
৪ । সেনেগা-ইহাকে হাঁপানি পীড়ার একটি টনিক হিসাবে মনে করা হয়। বায়ূ নালীতে শুষ্কতা অনুভব করে । সেনেগার রোগীরা পাহাড়ে উঠতে পারে না বা সিড়ি বাহিয়া উপরে উঠিলে বুকে চাপবোধ হয়। রোগী বাতাসের বিরুদ্ধে · হাঁটিতে পারে না, তাতে তার বক্ষ লক্ষণ বৃদ্ধি ও শ্বাসকষ্ট উপস্থিত হয় । বুকে শ্লেষ্মা জমার ফলে ঘড়ঘড় বা সাই সাই শব্দ হয় ।
হাঁপানিতে ব্যবহৃত ঔষধ– আর্সে-এ, কোকা,কক্কাস, ডালকা, গ্রিনডিলিয়া, ইপিকাক, কেলি-কার্ব, লোবেলিয়া, নে- সালফ, পোথোস-ফিটিডাস, স্পঞ্জিয়া, এন্টিম-টার্ট, কার্বোভেজ, কিউপ্রাম-মেট, প্যাসি- ফ্লোরা, মেডোরি, নাক্স-ভম, সোরিনাম, সালফার, থুজা, টিউবারকুলিনাম ।
এ্যাজমার ভাবীফল:
(ক) দক্ষতার সাথে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করলে রোগী সুস্থ হয়ে যায়’।
(খ) নিয়ন্ত্রণের অভাবে লক্ষণ বৃদ্ধি পেয়ে জটিলতার সৃষ্টি করে ।
এ্যাজমার জটিলতা:
(ক) শ্বাসকষ্টের জটিলতার দরুণ হঠাৎ মৃত্যু ঘটতে পারে ।
(খ) সেকেন্ডারী ইনফেকশন দেখা দিতে পারে ।
(গ) এম্ফাইসিমা, ব্রঙ্কাইটিস দেখা দিতে পারে ।
(ঘ) শিশু বয়সে বারবার এ্যাজমার আক্রমণ হলে বুকের খাচার হাড় কবুতরের বুকের মত (Pigeon breast) উঁচু হয়ে উঠে ।
এ্যাজমার চিকিৎসা পদ্ধতি :
(ক) শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে থাকতে হবে।
(খ) পীড়ার আক্রমণের কারণ জানা থাকলে তা পরিহার করতে হবে । (গ) নাক ও গলার সঠিক পরিচর্যা করতে হবে ।
(ঘ) রোগীকে এমন স্থানে অবস্থান করতে হবে যেখানে বাতাস নির্মল, ধূলাবালিমুক্ত এবং ক্ষতিকর কোন গন্ধ নাই । যেমন, সমুদ্র বা নদী তীরে, কোলাহলমুক্ত পাহাড়ী এলাকা বা কোন দ্বীপ এলাকায় ।
(ঙ) পুষ্টকর খাবার খেতে হবে, চর্বিযুক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে। ভারী খাবার (Heaviest meal) মধ্য দিবসে খেতে হবে। .
(চ) বারবার ধুয়ে বা গোছল করে চর্ম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । (ছ) ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে ।
(জ) নিয়মিত বারবার গভীরভাবে শ্বাস নিতে হবে ।
(ঝ) সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিও ঔষুধ ব্যবহার করতে হবে । যেমন, ক্যাল-কার্ব, ইপিকাক, ফসফরাস, নেট্রাম-সালফ, এরালিয়া রেসিমোসা, আর্সে-এ, ব্লাটা-ওরিয়েনটালিস, ব্রোমিয়ম, স্পঞ্জিয়া, ডলকামারা ইত্যাদি ।
পাকাস্ত্র প্রদাহ (Gastritis / Gastric pain in the stomach)– হজমের কোন রূপ গোলযোগের ফলে পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেনের যে প্রদাহ হয় তাকে পাকাস্ত্র প্রদাহ বলে ।
পাকাস্ত্র প্রদাহের কারণ :
১। NSAIDS জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করিলে যেমন-এসপিরিন
২ । এলকোহল পান করিলে ।
৩। ধুমপান করিলে ।
৪ । অতিরিক্ত মসল্লাযুক্ত খাবার খেলে ।
৫ । অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষার জাতীয় খাবার খেলে ।
৬। পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেন পুড়ে গেলে, আঘাত বা শক লাগলে ।
৭ । পারনিসিয়াস এনিমিয়া হলে ।
৮ । পাকস্থলীর আলসার ।
৯ । পাকস্থলীর ক্যান্সার ।
১০। কোন কারণে পাইলোরাস সরু হলে (Pylorous Stenosis), পাইলোরাসের সঙ্কোচন (Pyloric spasm), পাইলোরাসে কোন বাধা (Pyloric obstruction) ইত্যাদি ।
পাকাস্ত্র প্রদাহের লক্ষণাবলী গ্যাসট্রাইটিসের লক্ষণাবলী:
১। খাওয়ার পর বুক ব্যথা । ২ । ক্ষুধাহীনতা । ৩ । বমি বমি ভাব বা বমি ৷
৪ । পেটের উপরের অংশে ব্যথা ।
৫ । রক্ত বমি এবং কাল পায়খানা ।
৬ । হিক্কা বা উদগার উঠে ।
৭ । জিহ্বা লেপাবৃত এবং খাবারের প্রকৃত স্বাদ পায় না ।
৮। কোন কোন খাবারের স্বাদ দীর্ঘক্ষণ ধরে মুখে থেকে যায় ৷
৯ । মুখ হতে দুর্গন্ধ বের হয় ।
১০ । উদরাময় বা কোষ্টকাঠিন্য ।
গ্যাস্ট্রাইটিসের আনুষঙ্গিক চিকিৎসা বর্ণনা কর গ্যাস্ট্রাইটিসের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা:
১ । যথেষ্ট শারিরীক ও মানসিক বিশ্রাম নিতে হবে ২। তরল, নরম ও সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে
৩ । খাবারের নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে
৪ । যে সব খাবারে উপসর্গ বৃদ্ধি করে তা বাদ দিতে হবে ।
৫ । এনিমিয়া থাকিলে চিকিৎসা করাতে হবে
৫ । সম্পূর্ণরূপে এলকোহল পান বন্ধ করতে হবে ।
৬। ধুমপান বর্জন করিতে হইবে ।
৭। খাবার খাওয়ার একঘন্টা পূর্বে কুসুম কুসুম গরম পানি ধীরে ধীরে খেতে হবে
৮। প্রতি ২-৩ ঘন্টা পর পর অল্প অল্প করে খাবার খেতে হবে । ৯ । সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করিতে হইবে যেমন একোনাইট, আর্সেনিক, ইপিকাক, পালসেটিলা, কার্বো-ভেজ, নাক্স ভমিকা, চায়না, ফসফরাস, ক্রিয়োজোট ।
আর্টিকেরিয়া (আমবাত )(Urticaria/Nettle rash / hives):
চিংড়িমাছ, কাকড়া, বেগুন, ইলিশ ইত্যাদি বিশেষ কোন খাদ্য গ্রহনের ফলে যদি দেহের চামড়ার উপর অস্থায়ী লাল বা সাদা চাকা চাকা উদ্ভেদ সৃষ্টি হয় এবং তার ফলে চুলকানি, জ্বালাজনক অবস্থা ও ফুলে যায় তাকে আর্টিকেরিয়া বলে ।
আর্টিকেরিয়ার লক্ষণাবলী-
১ । প্রচন্ড চুলকানি
২ । জ্বালাজনক চুলকানি
৩ । আক্রান্ত অঙ্গে গরম অনুভুত হয়
৪ । চামড়া চাকা চাকা লাল বা সাদা হয়ে ফুলে উঠে
৫ । কারণ দূর হলে কয়েক ঘন্টা বা কয়েকদিন পর বিনা চিকিৎসায়ও ভাল হয়ে যায় ।
আর্টিকেরিয়ার কারণ:
(ক) পোকামাকড়ের কামড়— বোলতা, ছারপোকা, শুঁয়াপোকা ইত্যাদি ।
(খ) গাছ-পালা-বিছুটি গাছ
(গ) অতিরিক্ত ঠান্ডা, গরম, রৌদ্রের প্রভাবে
(ঘ) এন্ডোজেনাস (Endogenous)
(ঙ) ফুড প্রিজারভেটিভ
(চ) খাদ্যদ্রব্য- (ছ) কৃত্রিম রং
জ) কোন রাসায়নিক দ্রব্য- যেমন সেলিসাইলেট, ব্রোমাইড । (ঝ) কোন পরজীবী— যেমন- ফিতাকৃমি, হুক ওয়ার্ম, ইত্যাদি । (ঞ) কোন মানসিক কারণ; যেমন বেশী আবেগ প্রবণ হলে । (ট) অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি ।
আর্টিকেরিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ঔষধের বর্ণনা:
আর্টিকেরিয়া রোগে সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত ঔষধগুলি ব্যবহৃত হয়। যেমন- এপিস, আর্সেনিক এলবাম, রাস-টক্স, সালফার, আর্টিকা ইউরেন্স, বেলেডোনা,, এন্টিম ক্রড, বোভিষ্টা, ক্যাল-কার্ব, টেরিবিছিনা, রেডিয়াম, লাইকোপোডিয়াম, একোনাইট, ইপিকাক ।
বোভিষ্টা-
১। বাচাল, সরলভাবে সত্য কথা বলে ফেলে, কলহপ্রিয়-প্রত্যেক জিনিসের মন্দভাগ দেখে, কোন সংক্রামক রোগ হবে মনে করে ভয় পায় । কথায় ও কাজে অগোছাল ।
২। হাত হতে জিনিসপত্র পড়ে যায়
৩ । মনে হয় মাথাটি যেন বড় হয়ে গিয়েছে ।
৫ । কোমড়ে কাপড় কষে পড়তে পারে না
৬ । উদর শূলে খাবারে উপশম, দ্বিভাজ হলে উপশম
৭ । বগলের ঘামে পেয়াজের গন্ধ
৮ । ঋতুর পূর্বে ও ঋতুকালে উদরাময়, ঋতুস্রাবের সময় কেবলই রাগ হতে থাকে । ঋতুস্রাব কেবলমাত্র রাতে হয়
৯ । ছুরি, কাঁচি ইত্যাদি, ব্যবহার করিলে আঙ্গুলে দাগ পড়ে
১০। উত্তেজিত হলেই আমবাত প্রকাশ পায়। সেই সঙ্গে উদরাময় উপস্থিত হয়। বিছানার গরমে চুলকানি বৃদ্ধি । সকালে বেড়াবার সময় আমবাত, গোছলে বৃদ্ধি, চুলকানির সহিত জ্বালা থাকে ।
আর্টিকা ইউরেন্স— খোসাযুক্ত মাছ যেমন চিংড়ি, কাকড়া, ইত্যাদি খেয়ে আমবাত । পর্যায়ক্রমে বাত আমবাত বা আমবাতের সহিত বার্ত । আমবাতের সহিত চুলকানি, হুল ফোটার মত ব্যথা। ঘুমাইয়া পড়িলে চুলকানি থাকে না । ঘুম ভাঙ্গিলেই চুলকানি । গোছলে বৃদ্ধি। প্রতি বৎসর রোগের আক্রমন, সর্বাঙ্গে মূত্রের গন্ধ ।
ক্লোরেলাম হাইড্রেট- রোগী নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলে । অলীক শব্দ শোনে । চোখ বন্ধ করলে এবং রাত্রে অলীক বস্তু দেখে । চর্মে কালশিরা দাগ পড়ে । মাতালদের শীতপিত্ত, এলকোহল এবং গরম পানীয়ে বৃদ্ধি পায় ৷ আমবাত রাত্রে বৃদ্ধি পায়, দিনে কমে যায় । দেহ পাথরের মত শীতল ।
এপিস- হুল ফোটান ব্যথা, পিপাসাহীনতা, ঘর্মহীনতা, প্রস্রাবের পরিমান কমে যায়। চুলকানি রাতে বৃদ্ধি, ঠান্ডায় উপশম, জিভ আগুনের মত লাল। কোন চর্মরোগ চাপ পড়িয়া আমবাত, পীড়ার আক্রমন ডান দিক হতে বাম দিকে 1
৪। আর্টিকেরিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি
(ক) উত্তেজক কারণটি খুঁজে বের করে তা পরিহার করতে হবে ।
(খ) চা, কফি, এলকোহল পান বন্ধ করতে হবে ।
(গ) কুসুম কুসুম গরম পানির সহিত সমপরিমাণ ভিনিগার মিশাইয়া লাগাইলে জ্বালা-যন্ত্রণার উপশম হয় ।
আর্টিকেরিয়ার ভাবীফল : এই পীড়া মারাত্মক নয় । কোন কোন ক্ষেত্রে আরোগ্য লাভে বেশ সময় লাগে আবার কখনো কখনো বিনা চিকিৎসায়ও সেরে যেতে পারে । হঠাৎ প্রকাশ পাইয়া কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বা কয়েকদিনের মধ্যে মিলাইয়া যায় ৷
স্ক্যাবিস (খোস পাঁচড়া) (Scabis): সারকপটিস স্কেবিআই (Sarcoptes Scabies) নামক অতি ক্ষুদ্র এক ধরনের প্যারাসাইট যখন চামড়ার নীচে সূক্ষ্ণ নালী সৃষ্টি করে সেখানে বাস করে ও উদ্ভেদ সৃষ্টি করে তাকেই স্ক্যাবিস বলে । উদ্ভেদগুলি ফোস্কার মত এবং তারপর পূঁজ ভরা বটিকায় পরিণত হয় । পুঁজ নির্গত হইবার পূর্বে এই সব উদ্ভেদে, বেশ বেদনা থাকে । বীজানুগুলি অনেক সময় ডিম পাড়ার জন্য গর্তের ভিতরে বা নালীতে প্রবেশ করে প্রদাহের সৃষ্টি করে। ইহা একটি ভীষণ ছোঁয়াছে রোগ । ইহা সাধারণত হাত, আঙ্গুলের মধ্যভাগ, কনুই, পাছা, নিমোদর, কুচকিতে বেশী হয় । ইহা শিশুদের বেশী আক্রান্ত করে । ইহার বিশেষত্ব যে ইহা মুখমন্ডলে বড় বেশী দেখা যায় না ।
স্ক্যাবিসের কারণ:
১ । ইহার মূল কারণ সোরা নামক চিররোগ উপবিষ প্রবণতা । ২। সারকপটিস স্কেবিআই নামক অতি ক্ষুদ্র এক ধরনের প্যারাসাইট চামড়ার নীচে সূক্ষ্ণ নালী সৃষ্টি করে যেখানে বাস করে ও উদ্ভেদ সৃষ্টি করে ।
৩ । ইহা একটি ভীষন ছোঁয়াছে রোগ ।
স্ক্যাবিসের লক্ষণ– এই রোগের অতি ক্ষুদ্র বীজানু গুলি চামড়ার নীচে সূক্ষ্ম নালী সৃষ্টি করে সেখানে উদ্ভেদ সৃষ্টি করে। প্রথমে উদ্ভেদগুলি ফোস্কার মত পানিপূর্ণ থাকে। পরে পূঁজভরা বটিকায় পরিণত হয়। পূজ নির্গত হইবার পূর্বে উদ্ভেদে বেদনা থাকে । বীজানুগুলি ডিম পাড়ার জন্য নালীতে প্রবেশ ও নড়াচড়ার জন্য প্রদাহ ও চুলকানি হয় । এই রোগের বিশেষ প্রিয় স্থান হল হাতের কনুই, আঙ্গুলের ফাঁক ও কুচকি। সাধারণতঃ ইহা মুখে হয় না । শিশুরা এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয় ।
ভাবীফল— শুভ
স্ক্যাবিসে ব্যবহৃত প্রধান পাঁচটি ঔষধের লক্ষণ সমূহ :
১। সালফার– চুলকানি রাতে ও বিছানার গরমে বৃদ্ধি । হাত ও পায়ের তলায় জ্বালা, ঠান্ডায় উপশম, শীতের দিনেও পায়ের তলা লেপের বাহিরে রাখে। অত্যন্ত গরমকাতর। ভাত খাওয়ার সময় পানি বেশী খায়, ভাত খায় কম ।
২। সেরিনাম– অত্যন্ত শীতকাতর, গরমের দিনেও চাদর বা কাঁথা গায় দিয়ে ঘুমায় । শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হয় ।
৩। মার্কসল-বড় বড় উদ্ভেদ, রাত্রে ও বিছানায় গরমে চুলকানি বৃদ্ধি । রোগীর অতি ঠান্ডা বা অতি গরম উভয়ই অসহ্য । ঘাম চটচটে, আঠা আঠা, ঘর্মে কোনরূপ উপশম না হইয়া উপসর্গের বৃদ্ধি হয় ।
৪। হিপার সালফ– অত্যন্ত শীতকাতর, শরীরের কোন স্থান কেটে গেলে ক্ষত স্থান পেকে পুঁজ জমে । ক্ষতে অত্যন্ত স্পর্শ কাতরতা থাকে।
৫। আর্সেনিক এলব– রোগী শীত কাতুরে, কিন্তু মাথায় ঠান্ডা চায় । অত্যন্ত পিপাসা ঘন ঘন অল্প পরিমান পানি পান করে । চুলকানি মধ্যরাতে ও মধ্য দিবসে বৃদ্ধি পায়।
খোস পাচড়ার চিকিৎসা:
(১) সাবান দিয়ে গোছল করতে হবে ।
(২) সমস্ত গা গরম পানি ও সাবান দ্বারা রগড়াইয়া পরিস্কার করতে হবে।
(৩) প্রতিদিনের ব্যবহৃত জামা কাপড় সাবান দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে ।
আর্টিকেরিয়া ও স্কেবিসের মধ্যে পার্থক্য:
আর্টিকেরিয়া-
১| চিংড়ি মাছ, কাকড়া, বেগুন, ইলিশ ইত্যাদি বিশেষ কোন খাদ্য গ্রহনের ফলে যদি দেহের চামড়ার উপর অস্থায়ী লাল/ সাদা, চাকা চাকা উদ্ভেদ সৃষ্টি হয় এবং তার ফলে জ্বালা ও চুলকানি জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়ে ফুলে যায় তাকে আর্টিকেরিয়া বলে । ২| উদ্ভেদগুলি চাকা চাকা ফোলা । ৩| ইহা ছোঁয়াচে নয় । ৪| ইহা সমস্ত অঙ্গেই দেখা দিতে পারে । ৫|কারণ দূর হলে কয়েক ঘন্টা বা দিন পর বিনা চিকিৎসায় উপশম হতে পারে ।
৬ |ইহাতে কোন ক্ষতের সৃষ্টি হয় না ।
স্কেবিস-
১ সারকপটিসস্কেবিআই নামক অতি ক্ষুদ্র এক ধরনের প্যারাসাইট যখন চামড়ার নীচে সূক্ষ্মনালী সৃষ্টি করে সেখানে বাস করে ও উদ্ভেদ সৃষ্টি করে তাকেই স্কাবিস বলে ।
২| উদ্ভেদগুলি ফোস্কার মত, তার নীচে পুঁজ থাঁকে । ৩| ইহা ছোঁয়াচে ।
৪| ইহা সাধারণতঃ মুখমন্ডলে দেখা যায় না
৫| বিনা চিকিৎসায় উপশম হয় না ৷
৬ | ইহাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয় ।
গ্লোসাইটিস (Glossitis): গ্লোসাইটিস (Glossitis) জিহ্বার প্রদাহকে গ্লোসাইটিস বলে ।
গ্লোসাইটিসের কারণ-
১ । জিহ্বায় আঘাতের ফলে, পুড়ে গেলে ।
২ । কোন বিষাক্ত পদার্থের ফলে ।
৩ । কোন সংক্রামনের ফলে যেমন ডেন্টাল কেরিজ, পারদের বিষক্রিয়া, হামজ্বর/স্কারলেট জ্বর, নিউমেনিয়া
৪ । ভিটামিন B এর অভাব হলে ।
৫ । সিফিলিস রোগের ফলে ।
৬। অতিরিক্ত এলকোহল পান করিলে ।
৭ । মুখ কোন রোগে সংক্রামিত হলে ।
৮। পাকস্থলীতে প্রয়োজনের তুলনায় কম হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকিলে ।
৯ । অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করিলে ।
১০ । পানের সঙ্গে অতিরিক্ত চুন খেলে ।
১১। অতিরিক্ত অম্ল জাতীয় খাবার খেলে ।
গ্লোসাইটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা:
১ । প্রদাহের কারণ নির্ণয় করে তা সংশোধন করতে হবে । ২ । অধিক চুন মিশান পান বর্জন করিতে হবে
৩ । জিহ্বায় প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এমন পদার্থ বর্জন করিতে হবে । ৪ । সুষম, ভিটামিনযুক্ত তরল খাবার খেতে হবে ।
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হতে রেমেডি নির্বাচন করিতে হইবে।
যেমন ল্যাকেসিস, সালফিউরিক এসিড, এপিস, মিউরিয়েটিক এসিড, একোনাইট, সালফার, আর্সেনিক এলব, আর্টিকা ইউরেন্স, মার্কসল, এনথ্রাসিনাম, কেলি মিউর, নেট্রাম সালফ ।
.
আর্টিকা ইউরেন্স- আগুনে পুড়ে গিয়ে জিহ্বা প্রদাহ, ছাল উঠে- যায় । কাঁকড়া বা চিংড়ি মাছ খাওয়ার মন্দ ফল ।
আর্নিকা— আঘাত লাগিয়া প্রদাহ হলে । মুখ হতে দুর্গন্ধ বাহির হয়, মুখের অভ্যন্তর ভাগ শুষ্ক ও পিপাসার্ত
এনথ্রাসিনাম– জিহ্বার উপর কাল ফোস্কা, পচনশীল ক্ষত, তীব্র জ্বালা ৷
কেলি-মিউর- জিহ্বার উপর সাদা প্রলেপ। জিহ্বা স্ফীত এবং প্রদাহ ৷
মার্কসল- মুখ হতে লালা পড়ে, দুর্গন্ধ বাহির হয়, জিভের উপরি ভাগে লম্বা লম্বি গভীর দাগ, জিহ্বায় দাঁতের ছাপ পড়ে, মুখ সরস কিন্তু যথেষ্ট তৃষ্ণা ।
গ্লোসাইটিসের লক্ষণ—
(ক) জিহ্বা লাল হয়ে ফোলে যায় ও ব্যথা করে। লবণ, ঝাল, মশলাযুক্ত খাবার খেলে কষ্ট পায় ।
(খ) অনেক সময় জিহ্বা ফোলে মুখের বাইরে আসে ।
(গ) জিহ্বা ফুলে উঠে মসৃণ দেখায়, শ্বাস রোধ ভাব হয় ।
(ঘ) জিহ্বা হতে লালা পড়ে, জিহ্বায় ফোস্কা পড়ে ৷ (ঙ) পানাহার করা, কথা বলা ও ঢোক গিলতে কষ্ট হয় । (চ) সারভাইক্যাল গ্লান্ডগুলি ফুলে
উঠে।
(ছ) জিহ্বায় দাঁতের দাগ পড়ে ও ঐ দাগে ক্ষতের সৃষ্টি হয় । (জ) কখনো কখনো মাথা ধরে, জ্বর জ্বর ভাব হয় ।
গ্লোসাইটিসের জটিলতা :
(ক) জিহ্বার প্রদাহ ফ্যারিংক্স, ইসোফেগাসে ছড়াইয়া পড়তে পারে ।
(খ) বারবার দেখা দিয়ে ক্ষতে পরিণত হতে পারে । (গ) জিহ্বাতে ফাটল (Fissure) দেখা দিতে পারে । (ঘ) এখান থেকে ক্যানসারের সূচনা হতে পারে ।
স্টোমাটাইটিসে (Stomatitis) ব্যবহৃত পাঁচটি ঔষধের নির্দেশক লক্ষণাবলি‘:
আর্সেনিক-এলব– মাড়ী হতে সহজেই রক্ত পড়ে, শুষ্কতাবোধ, জ্বালাকর উত্তাপ ও জ্বালাকর ব্যথা। রক্তাক্ত লালাস্রাব, জিহ্বা সাদা, গরম প্রয়োগে উপশম ।
সালফার- জিহ্বা সাদা; অগ্রভাগ লাল এবং ধারগুলি লাল । মুখের ভিতর গরম, শুষ্ক এবং জ্বালা অনুভূত হয়। পিপাসা প্রচুর পানি পান করে । মুখের স্বাদ টক । মুখে লালা জমে ।
নাক্স- ম— মুখে ছোট ছোট ক্ষত, তা থেকে রক্তাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত লালা স্রাব, রাতে বৃদ্ধি, জিহ্বার প্রথম অংশ পরিষ্কার কিন্তু ভিতরের অংশ কাটা কাটা ছ্যাৎলা (Fur), জিহ্বা ফাটা ফাটা। শিশুদের মুখের ঘা । গিলিতে কষ্ট । মুখ হতে টক গন্ধ বের হয় ।
মার্ক-গ— মুখে ধাতব স্বাদ, লালা রক্তাক্ত, আঠা আঠা দুর্গন্ধযুক্ত, চিবানোর সময় ব্যথা, দাঁত লম্বা মনে হয়। জিহ্বার উপরিভাগে লম্বা দাগ । জিহ্বার দাঁতের ছাপ । পিপাসা বেশী, মুখ ভিজা ।
ব্যাপর্টেসিয়া– সামান্য মাত্র শক্ত খাদ্যও গলায় আটকে যায় । কেবলমাত্র তরল পদার্থ পান করিতে পারে। জিহ্বার উপরের দিকে ফাটা ফাটা এবং ব্যথা। মুখে স্বাদ পায় না। মুখে দুর্গন্ধ, মুখ পুড়ে গিয়েছে বলে মনে হয় । জিহ্বা বাদামী বর্ণ, ধারগুলি লাল ।
টনসিলাইটিসের জটিলতা সমূহ:
টনসিল গ্লান্ডের প্রদাহকে টনসিলাইটিস বলে ।
১। বার বার টনসিল প্রদাহের পর টনসিল ফোলে ক্রনিক অবস্থার সৃষ্টি হয় ।
২। টনসিলে ফোলে ব্যথা হয়, ভিতরে পূজ জমে কুইনজি (Quinsy) তে পরিণত হয় ।
৩ । ইহার ফলে কানে ব্যথা করে ।
৪ । টনসিল ফোলে গলনালী অবরুদ্ধ হলে ঢোক গিলতে বা খাদ্য খেতে অসুবিধা হয় ।
টনসিলাইটিসের কারণসমূহ : (ক) আক্রমণকারী রোগ জীবাণু ।
১ । বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস .
২ । স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস
(খ) শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়ার পরক্ষণের অতিরিক্ত ঠান্ডার কুফল ।
(গ) বাতজ্বরের পর
(ঘ) ডিপথেরিয়া, ইনফ্লুয়েনজা যখন মহামারীরূপে দেখা দেয় তখন ঐসব পীড়ার পরিণতি হিসাবে দেখা দেয় । (ঙ) টনসিল নামক গ্রন্থি আঘাত প্রাপ্ত হলে (চ) ঋতু পরিবর্তন ।
টনসিলাইটিসের লক্ষণাবলী:
তরুণ অবস্থায়-
(ক) জ্বর, ম্যাজম্যাজে ভাব ।
(খ) গলা ব্যথা, যা কান পর্যন্ত প্রসারিত হয় । (গ) কোন কিছু গিলিতে কষ্ট
(ঘ) গলার স্বরের বিকৃতি
(ঙ) অরুচি
(চ) টনসিল ফুলিয়া লাল হইয়া উঠে, পরে পেকে ফেটে যায় ।
পুরাতন অবস্থা-
বারবার আক্রান্ত হলে জটিলতা সৃষ্টি হয়ে স্থায়ী বিবৃদ্ধি ঘটে । শ্বাস- প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে রোগী ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়া শ্বাস নেয় ।
টনসিলাইটিসের চিকিৎসা:
(ক) জ্বরের সময় বেড রেষ্ট নিতে হবে ।
(খ) ঠান্ডা লাগা থেকে, ঠান্ডা খাবার থেকে সতর্ক থাকতে হবে ।
(গ) কুসুম কুসুম লবণ পানি দ্বারা গড়গড়া করতে হবে ।
(ঘ) ক্যালেন্ডুলার-৪ কুসুম কুসুম পানির সঙ্গে মিশ্রিত করে গড়গড়া করতে হবে ।
(ঙ) তরুণ অবস্থায় তরল নরম খাবার দিতে হবে।
(চ) সুষম পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে ।
(ছ) ভিটামিন “সি” সমৃদ্ধ খাবার বেশী খেতে হবে । সদৃশ লক্ষণে হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলি ব্যবহৃত হয় ।
টনসিলাইটিসের ঔষধসমূহ— একোন এইল্যানথাস, এপিস, বেলেডোনা, জেলসিমিয়ম, হিপার, মার্ক-বিন-আয়োড, মার্ক-প্রটো আয়োড, মার্কসল, ফাইটোলক্কা, ব্যার-কার্ব, ক্যাল-কার্ব, সোরিনাম, সাইলি, সালফার, টিউবারকুলিনাম ।
গ্লোসাইটিস ও টনসিলাইটিসের মধ্যে পার্থক্য :
গ্লোসাইটিস-
- জিহ্বার প্রদাহকেগ্লোসাইটিস বলে ।
- ইহা মাংসপেশীর প্ৰদাহ ।
- ইহার লক্ষণ প্রকাশ পায় জিহ্বার প্রদাহের মাধ্যমে ।
- ঋতু বা আবহাওয়ার পরিবর্তন কোন প্রভাব বিস্তার করে না ।
- জিহ্বা ফোলে যায় ৷
- ইহা মায়াজম ঘটিত রোগ না ।
- আক্রান্ত জিহ্বা কেটে বাদ দেওয়া যায় না ।
টনসিলাইটিস-
- টনসিলের প্রদাহকে টনসিলাইটিস বলে ।
- ইহা লিম্ফগ্রান্ডের প্রদাহ । ইহার প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায় গলা ব্যথার মাধ্যমে ।
- ইহা লিম্ফগ্লান্ডের প্রদাহ ।
- সাধারণতঃ নির্দিষ্ট · ঋতু বা আবহাওয়ায় ইহার প্রকোপ বৃদ্ধি পায় ৷
- ইহাতে টনসিল ফোলে যায় । ইহা একটি মায়াজম ঘটিত রোগ ।
- মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত টনসিল কেটে বাদ দেওয়া যায় ৷
টনসিলাইটিসে ব্যবহৃত ৫টি ঔষধের ব্যবহার :
হিপার সালফার- রোগী শীতকাতর, দ্রুত কথা বলে, ছোট শিশুরা ডাক্তার দেখলে ভয়ে কাঁদতে থাকে, গলায় কাটা ফোটার ন্যায় বেদনা, সর্দির প্রবণতা ।
বেলেডোনা– আক্রমণের শুরুতে, যখন ফোলে লাল হয় কিন্তু পূজ জমে নাই ৷ ব্যথা হঠাৎ আসে হঠাৎ যায়। মাথা গরম, পা ঠান্ডা । সাধারণতঃ ডানদিকের টনসিল আক্রান্ত হয়। জিহ্বা জাম খাওয়ার মত রং ।
এপিস-মেল– পিপাসাহীনতা, ঘর্মহীনতা, ক্ষুধাহীনতা ও স্বল্পমূত্র। শুরু হয় ডানদিকে, পরে বাম দিকে যায় । ঠান্ডা প্রয়োগে উপশম । জিহ্বা আগুনের মত টকটকে লাল । মার্ক-সল– মুখে দুর্গন্ধ, মুখের লালায় বালিশ ভিজে যায়। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম কোনটাই সহ্য করিতে পারে না । জিহ্বা সরস কিন্তু প্রচুর পিপাসা, প্রদাহিত টনসিল ঠান্ডা। বেদনা তেমন থাকে না ৷
সাইলি- পায়ের ঘাম বন্ধ হইয়া টনসিলের পীড়া । ঠান্ডা খাদ্য পছন্দ করে । সামান্য আচড় লাগিলে চর্মে ঘা হয় । বেদনা রাতে ও ঠান্ডায় বৃদ্ধি । রাতে শয়নে মাথা ঘামে ভিজে যায় ৷
টনসিলাইটিসের ভাবীফল:
তরুণ অবস্থায় ৩-১০ পর্যন্ত কষ্ট থাকে । ভালভাবে চিকিৎসা না হলে বার বার আক্রান্ত হয় । পেকে পূজ হয়। সদৃশ লক্ষণের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায় ।
একজিমা (Eczema): ইহা একটি ক্রনিক, সংক্রামক চর্ম রোগ । ত্বকের প্রদাহযুক্ত উদ্ভেদকে একজিমা বলে । প্রথমে আক্রান্ত ত্বকের অংশে লাল ফুস্কুড়ি উঠে, রস ঝড়ে, খুব চুলকায় এবং ত্বকের ঐ অংশ পুরু হয়ে যায় ।
একজিমার কারণতত্ত্ব :
১ । প্রকৃত কারণ অজানা
২ । মায়জম ঘটিত/বংশগত
৩। কোন ফাঙ্গাস দ্বারা সংক্রামিত হলে
৪ । ষ্টেফাইলো কক্কাস এবং ষ্টেপটোকক্কাস দ্বারা সংক্রামিত হলে ।
৫ । নোংরা স্যাতস্যাতে স্থানে বসবাস করলে
৬। হাইপারহাইড্রোসিস হলে (Hyperhydrosis) ৭ । চর্ম আঘাত প্রাপ্ত হলে
৮। অতিরিক্ত গরম/অতিরিক্ত ঠান্ডার প্রভাবে ।
একজিমার লক্ষণাবলী:
১ । চর্মে প্রদাহ হইয়া ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দেয় ।
২। অত্যন্ত চুলকায়, ফুসকুড়ি হতে রস পড়ে ফুসকুড়ির উপর মামড়ি পড়ে ।
৩। সময় সময় ফুসকুড়িতে পুঁজ জমে, ব্যথা করে ।
৪ । পুঁজপূর্ণ ফুসকুড়ি চুলকালে ভাল লাগে কিন্তু পরে জ্বালা পোড়া করে ।
৫ । উদ্ভেদ থেকে যে রস ঝড়ে তা অন্য স্থানে লেগে বিস্তার ‘লাভ করে এবং ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে
৬। আক্রান্ত স্থানের চামড়া কাল, পুরু হয়ে বিশ্রী দেখায় । একজিমার ভাবীফল-যদিও ইহা একটি ক্রনিক ডিজিজ তথাপি সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে, চিকিৎসা করিলে সম্পূর্ণরূপে উপশম হয় ।
একজিমার চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা :
.১ । রোগের কারণ সম্বন্ধে সচেতন হতে হবে ।
২। যেহেতু রোগটি ছোঁয়াচে তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে ।
৩ । নখ ছোট করে কাটতে হবে ।
৪ । প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে ।
৫ । মাংশ, তৈলাক্ত ও মসল্লাযুক্ত খাবার, কফি, এলকোহল ইত্যাদি যতদূর সম্ভব বর্জন করিতে হবে ।
৬। দুধ এবং সবজি জাতীয় খাবার বেশী খেতে হবে।
সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হতে রেমিডি নির্বাচন করতে হবে । যেমন-আর্সেনিক-এলব, ব্যারাইট-কার্ব, বার্বারিস, ক্রোটন, ফ্লোরিক এসিড, গ্রাফাইটিস, হিপার, কেলি-মিউর, মেজিরিয়ম, রাস-টক্স, সালফার, এলুমিনা, আর্টিকা, মার্ক-সল, মার্ক-কর, এি নাক্স-ভম, ল্যাকেসিস, নাইট্রিক এসিড, পেট্রোলিয়াম, সালফার, থুজা ।
পুরিসি (Pleurisy): বক্ষ গহ্বরের দেওয়াল ও ফুসফুসকে যে আবরণী পর্দা ঢেকে রাখে তাকে বলে পুরা (Pleura)। এই পুরার ক্যাভিটিতে তরল পদার্থ জমার ফলে যে প্রদাহ হয় তাকে বলে পুরিসি ।
পুরিসি এর লক্ষণাবলী:
১ । হঠাৎ শীত শীত করে কম্প দিয়ে জ্বর আসে ।
২। জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে বুকের একপাশে সাধারণতঃ স্তনের নিকটবর্তীস্থানে বেদনার সৃষ্টি হয় ।
৩ । বেদনা হুল ফোটান বা সূচ ফোটান বা কাটা ছেড়ার মত । নড়াচড়া করলে, কাশলে, এমনকি শ্বাস প্রশ্বাসকালে এই বেদনার বৃদ্ধি হয় । বেদনার উপশমের জন্য রোগী অনেক সময় হাত দিয়া বুক চেপে ধরে ৷
৪ । শুকনো খসখসে কাশি ।
৫ । নাড়ীর গতি বেড়ে প্রায় ১০০ বার হয়
৬। জ্বর ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে ।
পুরিসির কারণ সমূহ:
পুরিসি (Pleurisy) বা পুরাইটিস (Pleuritis) পুরাল মেমব্রেন্সের প্রদাহকে পুরিসি বলে । ইহার কারণসমূহ নিম্নরূপঃ ১। যক্ষ্মা হলে
২ । নিউমোনিয়া হলে
৩। ল্যাঙ্গ এবসেস হলে
৪ । ব্রঙ্কিওলেকটোসিস (Broncheolectasis )
৫ । ব্রঙ্কিয়েকটেসিস (Bronchiactasis )
৬ ব্রঙ্কোজেনিক কার্সিনোমা
৭ । ল্যাঙ্গ ইনফারকশন (Lung Infarction)
৮ । ভাইরাল ইনফেকশন ।
পুরিসি এবং পুরাল ইফিউশনের পাঁচটি পার্থক্য:
পুরিসি-
১ | বক্ষ গহ্বরের দেওয়াল ফুসফুসকে যে আবরণী পর্দা ঢেকে রাখে তাকে বলে পুরা (Pléura)! এই পুরার ক্যাভিটিতে তরল পদার্থ জমার ফলে যে প্রদাহ হয় তাকে বলে পুরিসি ।
২|হঠাৎ শীত শীত করে কম্প দিয়ে জ্বর আসে ।
৩|বেদনা হুল ফোটান বা সূচ ফোটান বা কাটা ছেড়ার মত। নড়াচড়া করলে, কাশলে, এমনকি শ্বাস প্রশ্বাসকালে এই বেদনার বৃদ্ধি হয়। বৃদ্ধি হয়। বেদনার উপশমের জন্য রোগী অনেক সময় হাত দিয়া বুক চেপে ধরে ।
৪| পুরিসি (Pleurisy)-পুরাল মেমব্রেন্সের প্রদাহ ।
৫|শুকনো খসখসে কাশি ।
৬|শ্বাস আটকে রাখলে উপশম লাগে |গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় কষ্ট বাড়ে ।
৭ |জ্বর ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটপর্যন্ত হতে পারে ।
পুরাল ইফিউশন-
১ | পুরাল ইফিউশন (Plural effussion) পুরার ক্যাভিটিতে যে কোন কারনে একজুডেট ফুয়িড ( Exudate fluid) জমা হওয়ার অবস্থাকে পুরাল ইফিউশন বলে ।
২| পীড়ার আক্রমণ অতি ধীরে ধীরে শুরু হয় ।
৩| বুকের আক্রান্ত অংশ ভারীবোধ হয় এবং চাপিয়া শুইলে শ্বাস কষ্ট বৃদ্ধি হয় ।
৪|পুরিসিটি (Pluricity)-পুরাল স্যাকের মধ্যে তরল পদার্থ জমা ।
৫| কাশিসহ শ্বাসকষ্ট ।
৬ | তুলনামূলকভাবে বুকের ব্যথা কমে আসে । ৭ | ক্ষুধা কমে যায় ৷
পুরাল ইফিউশন (Plural effussion): পুরার ক্যাভিটিতে যে কোন কারনে একজুডেট ফ্লুয়িড (Exudate fluid) জমা হওয়ার অবস্থাকে পুরাল ইফিউশন বলে ।
পুরাল ইফিউশনের ভাবীফল–
১ । রোগের প্রথম অবস্থা- উপযুক্ত চিকিৎসায় ভাবীফল শুভ ।
২। যক্ষ্মা হওয়ার সম্ভাবনাকে অবহেলা করা উচিত নয় ।
৩। পুরাল ইফিউশনের ফলে এম্ফাইসিমা হলেও উপযুক্ত চিকিৎসায় । ভাবীফল- শুভ ।
পুরাল ইফিউশনের কারণ:
(ক) সবচেয়ে বড় কারণ যক্ষ্মা
(খ) নিউমোনিয়া
(গ) ফুসফুসের ফোড়া,
(ঘ) ব্রাঙ্কাইটিস
(ঙ) ব্রঙ্কোজেনিক কারসিনোমা
(চ) ভাইরাসের আক্রমণ ইত্যাদি ।
পুরাল ইফিউশনের ক্লিনিক্যাল ফিচার:
(ক) পীড়ার আক্রমণ অতি ধীরে ধীরে শুরু হয় ।
(খ) পুরিসিটি
(গ) বুকের ব্যথা তেমন মারাত্মক নয় ।
(ঘ) বুকের আক্রান্ত অংশ ভারীবোধ হয় এবং চাপিয়া শুইলে শ্বাস কষ্ট বৃদ্ধি হয় ৷
(ঙ) কাশিসহ শ্বাস কষ্ট ।
পুরাল ইফিউশনের চিকিৎসা:
১ । রোগীকে বেড রেষ্টে থাকতে হবে
২। পুষ্টিকর খাবার যা সহজেই হজম যোগ্য তা রোগীদের দিতে
হবে ।
৩ । যদি মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসরোধের ভাব দেখা যায় তাহলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পুরায় জমা তরল পদার্থ বের করে আনতে
হবে ।
সদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করিতে হইবে যেমন এব্রোটেনাম, এপিস মেল, আর্সেনিক এলবাম, আর্সেনিক আয়োড, ব্ৰাইয়োনিয়া, আয়োডিয়াম, ফসফরাস, টিউবারকিউলিনাম, একোন, কেলিকার্ব, সালফার, ইত্যাদি ।
স্কুইলা-মেরিটিমা— রোগী তুচ্ছ বিষয়ে ভীষণ রাগিয়া যায় । হিংসুক, ইর্ষাপরায়ন, অহংকারী, গর্বিত, হাজাকারক সর্দিস্রাব ।
শ্বাসকষ্ট— বুকে খোঁচামারা ব্যথা, কাশির সহিত হাঁচি, কাশতে কাশতে রোগী প্রস্রাব পায়খানা করে । ফলে ঘামে শরীর ভিজে • যায়, অবশেষে দুই ‘তিনটি ছোট ছোট সাদা, আঠাল শ্লেষ্মা ডেলা তুলিতে সক্ষম হয়। পানাহারে কাশির উদ্রেক। সাধারণতঃ সকালে কাশি সরল হয় । হাত-পা বরফের মত ঠান্ডা কিন্তু দেহের বাকী অংশ গরম। বিশ্রামে বাড়ে এবং চলাফেরায় উপশম ।
টিউবারকুলিনাম— রোগীর বংশে যক্ষ্মার ইতিহাস থাকে । রোগী অনবরত ঘুরিয়া বেড়াইতে পছন্দ করে । বার বার পেশা বদল করে। চিকিৎসক বদল করে। বার বার রোগের লক্ষণ পরিবর্তন হয় । এমনকি রোগ আজ এক যন্ত্রে, কাল অন্য যন্ত্রে, লক্ষণ প্রকাশ করে । একটা রোগ সারে আবার অন্য একটা রোগ দেখা দেয় ।
মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে, সামান্য কারণে ভীষন রাগ করে । অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে, অভিসম্পাত করে এবং শপথ করে । জীব জন্তুতে ভয় বিশেষতঃ কুকুরকে ভয় করে। অত্যন্ত বাচাল । রোগীর দেহ ক্ষীণ, রাত্রে ক্ষুধা লাগে। সর্বপ্রকার খাদ্যে বিতৃষ্ণা বিশেষতঃ মাংস, রোগী শীতল বাতাসে গাড়ী ঘোড়ায় চড়িয়া বেড়াইতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে । কষ্টকর খখকে কাশি, প্রচুর ঘাম হয়। বুকের সর্বত্র ঘড় ঘড় শব্দ হয় ৷
পুরাল ইফিউশনের জটিলতা:
সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে যক্ষ্মা হবার সম্ভাবনা থাকে ।
ল্যাং এ্যাবসেস বা ফুসফুসের ফোড়া: যখন ল্যাং টিস্যু ধ্বংস হয়ে পুঁজ জমে তাকে ল্যাং এ্যাবসেস বলে ।
ল্যাং এ্যাবসেসের কারণ:
১। ফুসফুসের ক্যাভিটি হতে সংক্রমিত জলীয় পদার্থ এসপিরেটর নামক যন্ত্রের সাহায্যে বের করে আনার ফলে ।
২ । নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী জটিলতা ।
৩ । পালমোনারী ইনফারকশন (Infarction) হলে
৪ । ব্রঙ্কিয়াল অবস্ট্রাকশন হলে
৫। ফুসফুসে টিউমার হলে
৬ । পালমোনারী টিউবারকিউলোসিস হলে
৭। ফুসফুস ষ্টেফাইলো পায়োজেন্স বা ষ্টেপটো পায়োজেনস নামক বীজানু দ্বারা সংক্রামিত হলে ।
লাং এ্যাবসেসের লক্ষণাবলী:
অলখে শুরু হয়-
(ক) ঘুষঘুষে জ্বর (Low grade fever) । (খ) হালকা কাশি— প্রচুর দুর্গন্ধযুক্ত শ্লেষ্মা ।
(গ) বুকে ব্যথা ।
(ঘ) শরীর ম্যাজম্যাজ করে ।
(ঙ) খাবারে অরুচি ।
তীব্র আক্রমণে—
(ক) হঠাৎ উচ্চ তাপমাত্রা, কাপুনির সহিত শীত শীত ভাব । (খ) বুকে ব্যথা ।
(গ) তীব্র কাশি— প্রচুর দুর্গন্ধযুক্ত শ্লেষ্মা । (ঘ) রক্ত কাশি ।
(ঙ) দিন দিন দুর্বলতা বাড়তে থাকে ।
(চ) আঙ্গুলের অগ্রভাগ শক্ত হয়ে যায় (Clubbing of fingers)।
ফুসফুসের ক্যানসার: ফুসফুসের ম্যালিগন্যান্ট নিওপ্লাষ্টিক গ্রোথ (Malignant Neoplastic growth)-কে ফুসফুসের ক্যানসার বলে।
ক্লিনিক্যাল ফিচার
১ । শ্বাসকষ্ট (Dyspnea) যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকে । ২। বুকে চাপ, অস্বস্থি বোধ ও ব্যাথা ।
৩ । কাশির সহিত পুঁজ ও রক্ত (হিমোপিটিসিস ) ।
৪ । জ্বর।
৫ । ক্ষুধাহীনতা (Anorexia)।
৬ । শীর্ণতা ।
৭ । মুখগহ্বরের প্রদাহ (Dysphagia)।
৮ । স্বরলোপ (Hoarseness)।
৯ । ফিংগার ক্লাবিং (Clubbing)।
ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় চারটি ঔষধের ব্যবহার :
ফুসফুস ক্যানসারে ব্যবহৃত ঔষধগুলি হল আর্সেনিক এলবাম, কার্সিনোসিন, কোনিয়াম, হাইড্রাসটিস, ফসফরাস, থুজা, কার্বোভেজ, ফাইটোলক্কা, ব্যারাইটা কার্ব, হিপার সালফার, ইউফর্বিয়াম ।
ফসফরাস– রোগী বর্হিমুখী চিন্তাধারার (Extroverted),সহানুভূতিশীল, লোকসঙ্গ পছন্দ করে, বজ্রপাতে ও অন্ধকারে ভয় পায় । রোগী দেখতে ছিপছিপে, লম্বা ও সুন্দর অবয়ব । প্রচুর ঠান্ডা পানি পান করে । লবন বেশী খায় । গলার স্বর বসে যায়, স্বর কর্কশ বা ফ্যাসফ্যাসে হয়ে যায়। জ্বালাজনক ব্যথা, ঠান্ডা পানে উপশম, কিন্তু ঠান্ডা পানি পেটে গিয়ে গরম হলেই বমি হয়ে যায় । বাম পাশ চাপিয়া শয়ন করিতে পারে না ।
ফাইটোলক্কা— শালীনতার অভাব, জীবন সম্বন্ধে উদাসীনতা, আক্রান্ত অঙ্গ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। উপুড় হইয়া পেট চাপিয়া শয়নে উপশম । বৃদ্ধি রাত্রে । ফুসফুসে ক্যানসারের সহিত স্তনের বিকৃতি যেমন স্তনে প্রদাহ, স্তন শক্ত ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। স্বরভঙ্গ, কষ্টকর নিঃশ্বাস। কাশি রাতে বাড়ে। বুকে ব্যথা, চিড়িকমারা ব্যথা, খোচানোর মত ব্যথা, স্থান পরিবর্তনশীল ব্যথা। জিহ্বা ম্যাপের মত তালি তালি ।
কোনিয়ম– ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, লোক সমাজে যেতে চায় না, আবার একাকী থাকতেও ভয় করে, কোন কিছুতেই উৎসাহ বোধ করে না। মানসিক পরিশ্রম করিতে অসমর্থ । সহজেই বিরক্ত হয়, প্রতিবাদ সহ্য হয় না । ফুসফুসের ক্যানসারের সহিত কোন স্থানে শক্ত টিউমার বা গ্লান্ড ফুলে শক্ত হয়ে যায় ৷ চিরকুমার, চিরকুমারী বা বালবিধবা বা যৌন জীবনে যারা সংযম পালন করে । শুইলে এবং বিছানায় পাশ পরিবর্তন করিলে মাথা ঘোরে । থেমে থেমে প্রস্রাব নির্গত হয় । শুকনো কাশি সন্ধ্যায় ও রাতে বৃদ্ধি । স্বরযন্ত্রের কোন একস্থানে শুকনো বোধ হয় এবং সেই স্থান থেকেই কাশির উদ্রেক! ঋতুকালে স্তন ফুলে উঠে ও ব্যথা করে ।
ব্যারাইটা কার্ব— খর্বাকৃতি, অকাল বার্ধক্য। বয়সের তুলনায় শিশুর দৈহিক পুষ্টি ও মানসিক উন্নতির অভাব। শিশু অপরিচিত লোক দেখিয়া ভয় পায়, সেই জন্য ঘরের কোনে দরজা বা পর্দার আড়ালে বা মায়ের পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। প্রায়ই সর্দি লাগে । মুখ দিয়া লালা পড়ে। পায়ের তলায় দুর্গন্ধ ঘাম । বৃদ্ধরা শিশুর মত আচরণ করে, আত্ম বিশ্বাসের অভাব, কেহ তার দিকে তাকাইয়া হাসিলে মনে করে তাকে উপহাস করিয়া হাঁসিতেছে । অত্যন্ত লাজুক, অপরিচিত লোকের সঙ্গে অস্বস্থি বোধ করে । শুষ্ক শ্বাসরোধকর কাশি, ঋতু পরিবর্তনে বাড়ে। মনে হয় শ্বাসযন্ত্রে ধূয়া প্রবেশ করেছে, বুকে কাঠি ভরা বোধ, নিঃশ্বাস নেবার সময় বাড়ে ।
ফুসফুস ক্যান্সারের জটিলতা:
মেটাসটেসিস (Metastasis) – ক্যান্সারে আক্রান্ত অসুস্থ্য কোষ রক্তপ্রবাহ বা লিম্ফনালী দ্বারা দূরবর্তী সুস্থ্য কোষে ছড়াইয়া পড়ে ৷
ভাবীফল– খারাপ
ল্যাং ক্যানসারের কারণতত্ত্ব:
(ক) প্রকৃত কারণ অজানা ।
(খ) বংশগত ।
(গ) ধুমপান ।
(ঘ) তেজক্রিয় বিকিরণ হয় এমন কোন খনিতে কাজ করিলে ।
(ঙ) রাসায়নিক কারখানায় কাজ করিলে ।
হাৰ্নিয়া (Hernia): হার্ণিয়া (Hernia) দেহের যে কোন যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ তার নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে কোন দুর্বল অংশ বরাবর ঠেলে উঁচু হয়ে উঠা অবস্থাকে বলা হয় ।
হায়াটাস হার্নিয়া: হায়াটাস ( Hiatus) দেহের কোন অংশের কোন ছিদ্র পথকে বুঝায় । যেমন ডায়াফ্রামের যে ছিদ্র পথে এওরটা ও ইসোফেগাস পেটের ভিতর প্রবেশ করে তাদের যথাক্রমে এওরটিক হায়াটাস ও ইসোফেজিয়াল হায়েটাস বলে ।
হার্ণিয়া (Hernia) দেহের যে কোন যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ তার নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে কোন দুর্বল অংশ বরাবর ঠেলে উঁচু হয়ে উঠা অবস্থাকে বলা হয় ।
সুতরাং বলা যায় দেহ যন্ত্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত কোন গহবরের বস্তু যদি তাহার নিজ আবরনী ভেদ করিয়া কোন দুর্বল অংশ দিয়া অর্বুতদাকারে ঠেলিয়া বাহির হয় তাকে হায়াটাস হার্নিয়া বলে ।
হার্নিয়ার প্রকারভেদ :
হার্নিয়ার শ্রেণী বিভাগ ‘এনাটমিক্যাল শ্রেণী বিভাগ
১। ইপিগ্যাসট্রিক (Epigastric )
২। প্যারা-আমবিলিক্যাল (Para-umbilical)
৩ । আমবিলিক্যাল (umbilical)
৪ । স্পাইজিলিয়ান (Spigelian)
৫ । ইনগুইনাল (inguinal)
৬। ফেমোরাল (Femoral)
৭ । অবটুরেটর (Obturator) ৮। লাম্বার (Lumbar).
৯। গুটিয়াল (Gluteal )
১০ । হায়াটাস হার্নিয়া (Hiatus hernia)
হার্নিয়ার ক্লিনিক্যাল শ্ৰেণী বিভাগ -১। রিডিউসিবল (Reducible) ২। ইররিডিসিবল (Irreducible) ৩ । অবস্ট্রাকটেক (Obstructed) ৪ ।.স্ট্রানগুলেটেড (Strangulated) ৫ । ইনফ্লামড (Inflamed )
হায়াটাস হার্নিয়ার কারণ:
১ । জন্মগত ত্রুটি ।
২। মাংস পেশীর জিজেনারেশন (Degeneration ) ৩ । অবিসিটি (স্থূলকায়ত্ব) ।
৪ । গর্ভবস্থার ফলে ।
৫ । দেহের কোন অংশে পানি জমিলে ।
৬ । পেটে কোন টিউমার হলে ।
৭ । পেটে আঘাত লাগিলে ।
হায়াটাস হার্নিয়ার জটিলতা :
১ । স্ট্রাসুলেশন (strangulation) অন্ত্রের কোন অংশ পেচিয়ে নালীপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ।
২। এক অঙ্গের সঙ্গে অন্য অঙ্গের ঘর্ষণে ঘা হয় এবং রক্তপাত হতে পারে ।
৩ । অন্ত্রনালী ফুটো হয়ে যেতে পারে ।’
হায়াটাস হার্ণিয়ার লক্ষণাবলী:
১ । পেটের ব্যথা কাঁধ পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে
২ । জ্বালাজনক ব্যথা ।
৩। ব্যথার বৃদ্ধি
(ক) সামনের দিকে ঝুকিলে ।
(খ) খাওয়ার পর পরই শয়ন করিলে । (গ) অতিরিক্ত আহার করিলে । (ঘ) গরম পাণীয়ে ।
(ঙ) অতিরিক্ত মসল্লাযুক্ত খাবার খেলে ।
(চ) এলকোহল পান করিলে ।
৪ । ব্যথার উপশম ।
(ক) সোজা হইয়া বসিলে ।
(খ) এন্টাসিড জাতীয় ঔষধ খেলে ।
৫ ৷ হিক্কা
হায়াটাস হার্নিয়ার ভাবীফল:
১ । রোগের পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল ।
২ । সাধারণতঃ তত মারাত্মক নয় ।
৩ । ঔষধে আরোগ্য না হলে অস্ত্রপচারের দরকার হয় ।
৪ । অন্ত্রনালী ফুটো হয়ে গেলে অনেক সময় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারন করে রোগীর মৃত্যু ঘটাতে পারে ।
হায়াটাস হার্ণিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি ঃ
১। যদি স্থূলকায়ত্ব থাকে তা হলে ওজন কমাতে হবে ।
২ । খাওয়ার পর সোজা ভাবে বসে থাকতে হবে ।
৩। বার বার অল্প অল্প করে খেতে হবে ।
৪ । ধুমপান, এলকোহল, চা, কফি বর্জন করিতে হইবে ।
৫ । সকল প্রকার NSAIDs জাতীয় ঔষধ বন্ধ করে দিতে হবে । ৬। ভারী জিনিস উঠানো, কঠিন কাজ, সামনের দিকে ঝুকে বসে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে ।
৭। হার্নিয়ার আক্রমন বুঝিতে পারিলে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পাঠাতে হবে। রোগীকে চিৎভাবে শোয়াইয়া কোমরের নীচে বালিশ দিয়া উঁচু করিয়া ফোলা স্থানে হাত দিয়া ধীরে ধীরে চাপ দিয়া নাড়ীটি ভিতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করিতে হইবে। অস্ত্রটি প্রবেশ করানো না গেলে অন্ত কোষ ও কুচকির স্ফীত স্থানে উপর আইস ব্যাগ দিতে হবে । রোগীকে বিছানায় পূর্ন বিশ্রামে থাকতে হবে। সুনির্বাচিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করিলে অস্ত্রপচারের প্রয়োজন হয় না ।
প্রয়োজনীয় হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলি হল- এন্টিম-ক্রড, ক্যাল-কার্ব, কার্বোভেজ, চায়না, গ্রাফাইটিস, লাইকোপোডিয়াম, নেট্রাম-মিউর, নেট্রাম-ফস, নাক্স-ভমিকা, ফসফরাস, পালসেটিলা, রোবিনিয়া, সালফিউরিক এসিড, সালফার, থুজা ।
আর্সেনিক বিষক্রিয়ার লক্ষণাবলী:
আর্সেনিক এক প্রকার বিষাক্ত খনিজ পদার্থ যার বিষক্রিয়ায় গা- বমি বমি, বমি, উদরাময় এবং দেহের বিভিন্ন মাংস পেশীতে খিচুনি হয় । ইহার বিষক্রিয়া দুইভাবে হয়, যথা-
একিউট বিষক্রিয়া-
১। গ্যাসট্রো এন্টারাইটিসের সহিত বমি বমি ভাব, বমি এবং ডায়রিয়া দেখা দেয় ।
২ । প্রচন্ড পেটব্যথা থাকে ।
৩ । রোগী অজ্ঞান হইয়া যায় ।
৪ । প্রস্রাবের পরিমান কমে যায় । বার বার মুত্রত্যাগের ইচ্ছা ।
৫ । যারা আর্সেনিক ঔষধ হিসাবে গ্রহন করে তাদের চোখের নীচে ফোলে যায় ।
৬ । হজমের গোলযোগ দেখা দেয় ।
৭ । এনিমিয়া দেখা দেয় ৷
ক্রনিক বিষক্রিয়া-
১। উপরের লক্ষণগুলির সাথে চামড়ায় উদ্ভেদ দেখা দেয় বিশেষতঃ হাতের তালুতে ।
২ । নানা প্রকার স্নায়ু প্রদাহ দেখা দেয় ।
৩ । রোগীর দেহ শীর্ণ হয়ে পড়ে ।
টিনিয়াসিস (ছুলি): ইহা এক ধরনের চর্ম রোগ । মাইক্রোস্পোরাস ফারফার নামক ছত্রাকের আক্রমনে এই চর্মরোগ হয় । ইহার ফলে চামড়াতে লাল, কাল বা সাদা বর্ণের দাগের সৃষ্টি হয় । বাংলায় ইহার নাম ছুলি ৷
টিনিয়াসিসের শ্রেণী বিভাগ:
ছুলি নানা প্রকারের হয়, যেমন-
১ । লাল বর্ণের হলে বলে টিনিয়া রোজিয়া
২। পাটকিলে বর্ণের হলে বলে টিনিয়া নাইগ্রা
৩। সাদা বর্ণের হলে বলে টিনিয়া ফ্লাভা
টিনিয়াসিসের লক্ষণাবলী লিখ:
এই পীড়া সাধারণতঃ গালে, চোখের চারদিকে, চোখের পাতায়, কপালে, মুখের দুইধারে, ঘাড়ে, হাতে, উরুতে, লিঙ্গে, অন্তকোষে এমনকি হাতের চেটোতে হইয়া থাকে । গ্রীষ্মকালে ইহা স্পষ্ট দেখা দেয় । গ্রীষ্মকালে পীড়ার বৃদ্ধি ঘটে। সাধারণতঃ ১০ বছরের অধিক বয়সে ছুলি হয় ৷
টিনিয়াসিসের কারণতত্ত্ব:
মাইক্রোস্পোরাস, ফারফার নাম ছত্রাকের সংক্রামনের ফলে ছুলি হয় । ইহা ছোঁয়াচে রোগ ।
টিনিয়াসিসের চিকিৎসা:
শরীর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নিয়মিত ভাবে ব্যবহৃত জামা, কাপড়, চাদর ইত্যাদি সাবান দিয়ে ভালমত ধূয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে । অলিভ অয়েল, ইউক্যালিপটাস ইত্যাদি নিয়মিত মাখলে উপকার হয় ।
সদৃশ বিধান মতে নিম্নোক্ত ঔষধ হতে রিমেডি নির্বাচন করতে হবে । যথা সালফার, সোরিনাম, গ্রাফাইটিস, এসিড-নাই, নে-মি, নে- সালফ, থুজা, আর্সেনিক-এ ইত্যাদি ।
দাদ (রিং ওয়ার্ম)
দাদ বা দদ্রু বা রিং ওয়ার্ম বা টিনিয়া এর কারণ:
(ক) উহা এক ধরনের ফাঙ্গাস বা উদ্ভিদজাত প্যারা-সাইটের আক্রমণে হয় যা অত্যন্ত ছোয়াছে ।
(খ) এই জীবানুর নাম ট্রাইকোফাইটন (Tricophyton)
(গ) সোরা চিররোগ উপবিষের প্রভাবে ইহা হয় ।
রিং ওয়ার্মের লক্ষনাবলী:
(ক) প্রথমে চর্মে গোলকার ছোট ছোট উদ্ভেদ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয় । তারপর আক্রান্ত অংশ হতে চতুদিকে’ গোল -হইয়া ছড়াইয়া পড়ে। পরে গোলাকার অংশের কেন্দ্রে কোন উদ্ভেদ বা চুলকানি থাকে না ।
(খ) ইহাতে কোন পূঁজ হয় না । চুলকানির পর রস ঝরে
(গ) উদ্ভেদের চতুরদিকে স্ফীত থাকে এবং মধস্থল সামান্য নীচু থাকে ।
রিং ওয়ার্মের ভাবীফল-যদিও ইহা একটি কষ্টদায়ক চুলকানিযুক্ত রোগ এবং চর্ম দেখতে বিশ্রী, তবুও উপযুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সম্পূর্নরূপে আরোগ্য হয়।
রিং ওয়ার্মের চিকিৎসা পদ্ধতি:
ব্যবহৃত জমা কাপড় সাবান ও গরম পানিতে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে । ঢিলে ঢালা হালকা জাম-কাপড় পড়তে হবে । আক্রান্ত অংশ খাঁটি এলকোহল দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে । লক্ষন অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। যেমন গ্রাফাইটিস, মার্কসল, সালফার, ব্যাসিলিনাম, টেলুউরিয়াম, সিপিয়া, সালফার, টিউবারকুলিনাম, আর্সেনিক, ক্লিমেটিস, নে-মি, নে-কার্ব, কষ্টিকাম, ডলকামারা ইত্যাদি ।
দাঁদের ঔষধ:
সদৃশ লক্ষণ অনুসারে নিম্নোক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধু দাঁদের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন গ্রাফাইটিস, মার্কসল, সালফার, ব্যাসিলিনাম, টেলুউরিয়াম, সিপিয়া, সালফার, টিউবারকুলিনাম, আর্সেনিক, ক্লিমেটিস, নে-মি, নে-কার্ব, কষ্টিকাম, ডলকামারা ইত্যাদি ।
একজিমায় ব্যবহৃত গ্রাফাইটিস এবং পেট্রোলিয়ামের তুলনামূলক পার্থক্য:
গ্রাফাইটিস-
১| গ্রীষ্মকালে বৃদ্ধি ।
২|গরমে এবং রাতে বৃদ্ধি
৩|দেহ ঢেকে রাখলে উপশম ।
৪|ক্ষত থেকে চটচটে’ ও তরল, পাতল৷ এবং মধুরমত আঠাবৎ রস বের হয় ।
৫| চর্ম খসখসে, কঠিন, যে সকল অংশে একজিমা নাই সেখানে শুকনো ।
পেট্রোলিয়াম-
১| শীতকালে বৃদ্ধি ।
২| রাতে বৃদ্ধি ।
৩| গরম বাতাসে উপশম ।
৪ | চামড়া ফাটা ফাটা সহজে রক্তপাত হয় ।
৫| চামড়া শুকনো, কুচকানো, তীব্র স্পর্শকাতর ।
নিউমোনিয়ার মূল কারণ:
মূল কারণ- নিউমোকক্কাস নামক জীবাণু দ্বারা শ্বাসনালী, ফুসফুসের প্রধান নালীগুলি, ফুসফুসের লোব বা এয়ার স্যাক আক্রান্ত হয় ।
স্ক্যাবিসের সংক্রমণ প্রক্রিয়া (Mode of infection) : স্ক্যাবিসের সংক্রমণের কারণ সারকপটিস স্ক্যাবিআই নামক একটি অতি ক্ষুদ্র প্যারাসাইট । ইহা একটি ভীষণ ছোয়াছে চর্ম রোগ । পরিবারের একজনের হলে অন্যরাও আক্রান্ত হয়ে পড়ে ৷ প্যারাসাইটগুলি চামড়ার নীচে ফোস্কার মত উদ্ভেদ সৃষ্টি করে ও পূজভরা বটিকায় পরিণত হয় । আক্রান্ত রোগীর স্পর্শে কেউ আসলে ঐ জীবাণুগুলি সুস্থ দেহে ছড়াইয়া পড়ে ।
খোস পাঁচড়ায় ব্যবহৃত মার্ক-সল এবং রাস টক্সের লক্ষণাবলির তুলনামূলক আলোচনা:
খোস পাচড়ায় মার্ক-সল এবং রাস টক্সের তুলনামূলক পার্থক্য
মার্ক-সল-
১। অতিরিক্ত গরম, অতিরিক্ত ঠান্ডা অসহ্য ।
২। রাতে ও বিছানার গরমে বৃদ্ধি ।
৩। ক্ষতের তলদেশে চর্বি মত পদার্থ ।
৪ |হাজাকারক ।
৫ | ডানদিকে অধিক ক্ৰিয়া প্রকাশ করে ।
৬ | উদ্ভেদ থেকে রক্ত পড়ে ।
রাস-টক্স-
১। গরম প্রয়োগে উপশম ।
২। বর্ষকালে বৃদ্ধি, ঠান্ডাতে বৃদ্ধি ।
৩। উদ্ভেদ ফোস্কার মত, উহা হতে মাংস ধোয়ার পানির মত কষ বের হয় ।
৪ | উদ্ভেদের উপর ফোস্কা পড়ে ।
৫ | বামদিকে অধিক ক্রিয়া প্ৰকাশ করে । বাম দিক থেকে ডান দিকে যায় ।
৬ | উদ্ভেদে পূজ জমে ।
ব্রঙ্কোজেনিক কারসিনোমার ছয়টি লক্ষণ:
ক) বুকে ব্যথা ।
খ) শ্বাস কষ্ট ।
গ) কাশির সহিত কফ নির্গত হয় । ঘ) রক্ত বমি ।
ঙ) ক্ষুধাহীনতা ।
চ) ওজন কমে যায় ৷
হেপাটাইটিসের প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
ক) হেপাটাইটিসের ভ্যাকসিন নিতে হবে ।
খ) হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগীর সহিত’ যৌন সংযোগের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ।
গ) মদ পান ছেড়ে দিতে হবে।
ঘ) অন্যের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সতর্ক হতে হবে । ঙ) অতিরিক্ত I. V. ঔষধের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে । চ) উল্কি আঁকা থেকে সতর্ক হতে হবে ।
ছ) আকুপাংচারের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ।
ডায়াবেটিস মেলিটাসের ইনভেসটিগেশন:
·ক) গত 2-3 মাসের ব্লাড সুগার লেভেল (A-1 C test ) । খ) খালি পেটে ব্লাড সুগার টেস্ট (FPG)।
গ) গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট ।
ঘ) রেনডম প্লাজমা গুকোজ (RPG)।
নেফ্রাইটিসের রোগানুসন্ধান:
১ । প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় । ২ । মূত্রের রঙ হয় খড়ের মত । ৩ । আপেক্ষিক গুরুত্ব বেড়ে যায় । ৪ । মাইক্রোসকপিক টেস্ট –
ক) হায়ালাইন, ফ্যাট, গ্রানুলার কাষ্ট ।
৫। রক্ত পরীক্ষা- ক) হিমোগ্লোবিন কমে যায় ।
খ) সিরাম প্রোটিন কমে যায় ৷
গ) সিরাম এলবুমিন কমে যায় ৷ ঘ) সিরাম কোলেসস্টোরেল বেড়ে যায়
